খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img
Homeআবহাওয়াজোড়া ঘূর্ণাবর্তের প্রভাবে বাংলাজুড়ে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা, কলকাতাসহ একাধিক জেলায় দুর্যোগের আশঙ্কা

জোড়া ঘূর্ণাবর্তের প্রভাবে বাংলাজুড়ে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা, কলকাতাসহ একাধিক জেলায় দুর্যোগের আশঙ্কা

আবহাওয়ার এই পরিবর্তনের ফলে দিনের তাপমাত্রায় বড় কোনও পরিবর্তন না হলেও আর্দ্রতার মাত্রা অনেক বেশি থাকবে। রবিবার কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৮.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ১.৫ ডিগ্রি বেশি। সোমবারও তাপমাত্রা প্রায় একই রকম থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

বঙ্গোপসাগর থেকে ক্রমাগত জলীয় বাষ্প প্রবেশ এবং পরপর দুটি ঘূর্ণাবর্ত সক্রিয় হয়ে ওঠায় পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়ায় ফের বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহজুড়েই উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় বৃষ্টি, বজ্রবিদ্যুৎ এবং দমকা হাওয়ার প্রভাব বজায় থাকবে। বিশেষ করে কলকাতা, মুর্শিদাবাদ, পূর্ব বর্ধমানসহ একাধিক জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

গত সপ্তাহের টানা বর্ষণে কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তা এখনও পুরোপুরি কাটেনি। এরই মধ্যে নতুন করে বৃষ্টির পূর্বাভাস শহরবাসীর উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

আবহাওয়াবিদদের মতে, বর্তমানে উত্তর বাংলাদেশ ও তার সংলগ্ন অঞ্চলে একটি ঘূর্ণাবর্ত অবস্থান করছে। এটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১.৫ কিলোমিটার উচ্চতায় সক্রিয় রয়েছে। একই সময়ে হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, বিহার হয়ে অসমের দক্ষিণাংশ পর্যন্ত একটি অক্ষরেখা বিস্তৃত হয়েছে।

এছাড়া উত্তর-পূর্ব বিহার ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় আরও একটি ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হয়েছে, যা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩.১ কিলোমিটার উচ্চতায় অবস্থান করছে। এই দুটি আবহাওয়াগত ব্যবস্থার সম্মিলিত প্রভাবে বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর আর্দ্রতা রাজ্যে প্রবেশ করছে। ফলে মেঘ সঞ্চার বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং বৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

সোমবার কলকাতায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। মঙ্গলবার পর্যন্ত দফায় দফায় বৃষ্টি চলতে পারে। এর পাশাপাশি ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে, যা শহরের স্বাভাবিক জনজীবনে প্রভাব ফেলতে পারে।

আরও পড়ুন :  Heatwave Horror: উত্তরপ্রদেশে ৮ হাজার মৃত্যুর আশঙ্কা, আতঙ্কে বিশেষজ্ঞরা!

আবহাওয়ার এই পরিবর্তনের ফলে দিনের তাপমাত্রায় বড় কোনও পরিবর্তন না হলেও আর্দ্রতার মাত্রা অনেক বেশি থাকবে। রবিবার কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৮.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ১.৫ ডিগ্রি বেশি। সোমবারও তাপমাত্রা প্রায় একই রকম থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

দক্ষিণবঙ্গের বেশিরভাগ জেলাতেই আগামী কয়েকদিন বজ্রবিদ্যুৎসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে কয়েকটি জেলায় ভারী ও অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা থাকায় বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনায় কমলা সতর্কতা জারি হয়েছে—

  • মুর্শিদাবাদ
  • পূর্ব বর্ধমান

ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনায় হলুদ সতর্কতা রয়েছে—

  • কলকাতা
  • উত্তর ২৪ পরগনা
  • দক্ষিণ ২৪ পরগনা
  • হাওড়া
  • হুগলি
  • নদিয়া
  • বীরভূম

এই জেলাগুলিতে দিনের বিভিন্ন সময়ে বিক্ষিপ্তভাবে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি বজ্রপাত এবং দমকা হাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। অন্যদিকে দক্ষিণবঙ্গের বাকি জেলাগুলিতেও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকছে।

কলকাতা ও শহরতলির বহু এলাকায় আগের সপ্তাহের বৃষ্টিতে জল জমে যাওয়ার ঘটনা এখনও মানুষের মনে তাজা। নতুন করে ভারী বৃষ্টি হলে নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অফিসযাত্রী, স্কুল-কলেজ পড়ুয়া এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতে বিঘ্ন ঘটতে পারে।

আরও পড়ুন :  তৃণমূলে বড় ভাঙন! মমতা নাকি বিদ্রোহীরা—কার হাতে যাবে দলের আসল অধিকার?

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বল্প সময়ে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত হলে শহরের নিকাশি ব্যবস্থা চাপের মুখে পড়ে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও আবাসিক এলাকায় জল জমে যাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

শুধু দক্ষিণবঙ্গ নয়, উত্তরবঙ্গের সব জেলাতেও সোমবার বৃষ্টি ও ঝড়ের সম্ভাবনা রয়েছে। দার্জিলিং থেকে মালদা পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকায় হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী—

  • দার্জিলিং
  • কালিম্পং
  • জলপাইগুড়ি
  • আলিপুরদুয়ার
  • কোচবিহার
  • উত্তর দিনাজপুর
  • দক্ষিণ দিনাজপুর
  • মালদা

সব জেলাতেই বজ্রবিদ্যুৎসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে।

মঙ্গলবার দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ারে ভারী বৃষ্টির জন্য হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। তবে বুধবার ও বৃহস্পতিবার উত্তরবঙ্গে ভারী বৃষ্টির কোনও বিশেষ সতর্কতা নেই।

অন্যদিকে শুক্রবার আবারও কালিম্পংসহ কয়েকটি পার্বত্য এলাকায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তাই সপ্তাহের শেষভাগেও আবহাওয়ার দিকে নজর রাখার পরামর্শ দিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।

আরও পড়ুন :  অমিত শাহের নাম টেনে মমতার চাঞ্চল্যকর বক্তব্য! বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে নতুন বিতর্ক

বৃষ্টির পাশাপাশি বজ্রবিদ্যুৎ এবং ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। খোলা মাঠ, নদী বা জলাশয়ের পাশে অবস্থান না করা, বড় গাছের নিচে আশ্রয় না নেওয়া এবং প্রয়োজনে নিরাপদ স্থানে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

মৎস্যজীবীদেরও সমুদ্র বা বড় জলাশয়ে যাওয়ার আগে সর্বশেষ আবহাওয়ার খবর জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার সময় কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখা জরুরি—

  • অপ্রয়োজনীয় বাইরে বের হওয়া এড়িয়ে চলুন।
  • বজ্রপাতের সময় খোলা জায়গায় অবস্থান করবেন না।
  • জলাবদ্ধ রাস্তা পার হওয়ার সময় সতর্ক থাকুন।
  • বৈদ্যুতিক খুঁটি ও ছেঁড়া তার থেকে দূরে থাকুন।
  • স্থানীয় প্রশাসন ও আবহাওয়া দপ্তরের নির্দেশিকা অনুসরণ করুন।

বঙ্গোপসাগর থেকে প্রবল জলীয় বাষ্প প্রবেশ এবং দুটি সক্রিয় ঘূর্ণাবর্তের প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গজুড়ে আবারও বর্ষার দাপট বাড়তে চলেছে। কলকাতাসহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলা এবং উত্তরবঙ্গের প্রায় সব এলাকায় বৃষ্টি, বজ্রবিদ্যুৎ ও দমকা হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে মুর্শিদাবাদ ও পূর্ব বর্ধমানে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা পরিস্থিতিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। তাই আগামী কয়েকদিন আবহাওয়ার সর্বশেষ পূর্বাভাসের দিকে নজর রাখা এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা মেনে চলাই হবে সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

আর্কাইভ