খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img

বিদ্যুত চুক্তি বাতিল হচ্ছেনা,দাম কমাতে চলছে আলোচনা: জ্বালানিমন্ত্রী

বিগত সরকারের সময় বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি এখনই বাতিল করার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে সরকার। কারণ এসব চুক্তির সঙ্গে যুক্ত রয়েছে...
Homeজাতীয়বিদায়ী বক্তব্যে কাঁদতে কাঁদতে ভোট চাইলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম

বিদায়ী বক্তব্যে কাঁদতে কাঁদতে ভোট চাইলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম

বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এবং দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মির্জা ফখরুল।

আগামীকাল ২০ আগস্ট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। এ নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও দলের সদ্য সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ভোট দেওয়ার জন্য দলের সংসদ সদস্যদের প্রতি আবেগঘন আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। একই সঙ্গে মির্জা ফখরুল নিজেও দলীয় সংসদ সদস্যদের কাছে তার পক্ষে ভোট দেওয়ার অনুরোধ করেছেন।

বুধবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের সরকারি দলীয় সভাকক্ষে বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় এ আহ্বান জানানো হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভাটি দুপুর ২টায় শুরু হয়ে প্রায় দেড় ঘণ্টা চলে। সভায় বিএনপির সংসদ সদস্য এবং দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বলে উপস্থিত কয়েকজন সংসদ সদস্য জানিয়েছেন। বক্তব্যের শুরুতেই তিনি কয়েকবার কান্নায় ভেঙে পড়েন। তার আবেগঘন বক্তব্যে সভাকক্ষেও তৈরি হয় আবেগময় পরিবেশ। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বলে জানা গেছে।

দলের সঙ্গে নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার কথা স্মরণ করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং পরে মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করার বিষয়টি তুলে ধরেন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে দায়িত্ব পালনের সময় কোনো ভুল বা অনিচ্ছাকৃতভাবে কারও মনে কষ্ট দিয়ে থাকলে তার জন্য ক্ষমা চান বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, দলের দেওয়া দায়িত্ব ও সম্মান তিনি সবসময় গুরুত্বের সঙ্গে বহন করেছেন এবং ভবিষ্যতেও সেই সম্মান অক্ষুণ্ন রাখার চেষ্টা করবেন।

বক্তব্যে বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এবং দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মির্জা ফখরুল।

দলের প্রতি তাদের অবদান স্মরণ করে তিনি বলেন, বিএনপির দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রায় তারা যে ভূমিকা রেখেছেন, তা দলের নেতাকর্মীদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে বছরের পর বছর তার ওপর আস্থা রেখে বিভিন্ন দায়িত্ব দেওয়ার জন্য বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি তাকে যে সম্মান ও দায়িত্ব দিয়েছে, তার মূল্য তিনি সারা জীবন ধরে রাখবেন। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে তিনি কোনো ধরনের আপস করবেন না বলেও অঙ্গীকার করেন।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পাওয়ার পর দলীয় সংসদ সদস্যদের কাছে নিজের পক্ষে ভোট চেয়েছেন মির্জা ফখরুল। তিনি সংসদ সদস্যদের কাছে দোয়া কামনা করেন এবং আগামীকালের নির্বাচনে তাকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

সম্ভাব্যভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করে বঙ্গভবনে যাওয়ার প্রসঙ্গও বক্তব্যে তুলে ধরেন তিনি। এ ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহকর্মীদের ছেড়ে যেতে হবে উল্লেখ করে আবেগ প্রকাশ করেন মির্জা ফখরুল।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে গেলে তিনি তার রাজনৈতিক সহকর্মীদের মিস করবেন। একই সঙ্গে তাদের দোয়া ও শুভকামনা চান তিনি।

সভায় শুরুতেই অংশগ্রহণকারী সংসদ সদস্যদের স্বাগত জানান প্রধান হুইপ মো. নুরুল ইসলাম মনি। তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট দেওয়ার পদ্ধতি সম্পর্কে সংসদ সদস্যদের বিস্তারিতভাবে অবহিত করেন।

প্রধান হুইপও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পক্ষে ভোট দেওয়ার জন্য বিএনপির সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান।

সভায় তিনি জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ২০ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে। মির্জা ফখরুল নিজেও ওই নির্বাচনে ভোট দেবেন। নির্বাচনে তিনি জয়ী হয়ে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করলে তার বর্তমান সংসদীয় আসন ঠাকুরগাঁও-৩ শূন্য হবে।

মির্জা ফখরুলের বক্তব্যের পর সভায় বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনিও দলের সংসদ সদস্যদের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

দলীয় সংসদীয় দলের এই বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলের অবস্থান ও ভোটদানের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করা হয়। সভায় উপস্থিত সংসদ সদস্যরা দলীয় প্রার্থীর প্রতি সমর্থন জানানোর বিষয়েও একমত হন বলে জানা গেছে।

ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন সংসদীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিজয়ী হলে সাংবিধানিক দায়িত্বের কারণে তাকে সংসদ সদস্য পদ ছাড়তে হবে এবং আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হবে।

বিএনপির সংসদীয় দলের এ সভায় দলের স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্যসহ সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমেদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ, সেলিমা রহমান এবং এজেডএম জাহিদ হোসেনসহ অন্যরা।

আগামীকাল বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সংসদ সদস্যদের ভোটেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন।


Discover more from News Bangla24x7

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Table of contents [hide]

আর্কাইভ