খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img
Homeবিশ্ব সংবাদইন্ডিয়া নিউজস্বল্পবসনা ছবি ভাইরাল করে অপপ্রচার! সাইবার সেলে অভিযোগ জানালেন রিয়া আহির

স্বল্পবসনা ছবি ভাইরাল করে অপপ্রচার! সাইবার সেলে অভিযোগ জানালেন রিয়া আহির

রিয়া আহির দীর্ঘদিন ধরেই মডেলিং জগতের সঙ্গে যুক্ত। বিভিন্ন ফ্যাশন ব্র্যান্ডের হয়ে কাজ করেছেন তিনি। একাধিক লাইফস্টাইল ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদেও তাঁকে দেখা গেছে। আধুনিক পোশাক থেকে শুরু করে ঐতিহ্যবাহী শাড়ি—সব ধরনের ফটোশুটেই অংশ নিয়েছেন তিনি।

NEET প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে হওয়া আন্দোলনের সময় সাহসী ভূমিকার জন্য রাতারাতি আলোচনায় উঠে এসেছিলেন তরুণী রিয়া আহির। পুলিশের একটি গাড়ির সামনে একা দাঁড়িয়ে আন্দোলনকারীদের আটকানো রুখে দেওয়ার সেই দৃশ্য কোটি মানুষের নজর কেড়েছিল। অনেকেই তাঁকে নারী সাহস ও প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে দেখেছিলেন। কিন্তু সেই পরিচিতির পরই শুরু হয়েছে তাঁর জীবনের এক নতুন লড়াই।

রিয়ার অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁর ব্যক্তিগত ও মডেলিং জীবনের ছবি ছড়িয়ে তাঁকে হেনস্তা করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন ছবি বিকৃত করে আপত্তিকর মন্তব্য ছড়ানো হচ্ছে এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদেরও কটূক্তির শিকার হতে হচ্ছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে শেষ পর্যন্ত তিনি মহারাষ্ট্র পুলিশের সাইবার সেলের দ্বারস্থ হয়েছেন।

দেশজুড়ে NEET প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ সামনে আসার পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। দিল্লি থেকে শুরু হওয়া প্রতিবাদের ঢেউ ছড়িয়ে যায় দেশের বিভিন্ন রাজ্যে। মুম্বইতেও বহু পড়ুয়া রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখান।

সেই সময় পুলিশ কয়েকজন আন্দোলনকারীকে আটক করে একটি গাড়িতে তুলছিল। ঠিক তখনই রিয়া আহির পুলিশের গাড়ির সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে পড়েন। সাদা হুডি পরে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে থাকা তাঁর সেই মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি হয়। ভিডিওটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায় এবং দেশের নানা প্রান্তে প্রশংসা কুড়োয়।

প্রতিবাদের সেই দৃশ্য অনেকের কাছে গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রতীক হয়ে ওঠে। সামাজিক মাধ্যমে হাজার হাজার মানুষ তাঁর সাহসিকতার প্রশংসা করেন। পরে রাজনৈতিক মহলেও ভিডিওটি নিয়ে আলোচনা শুরু হয় এবং বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব সেটি শেয়ার করেন।

আরও পড়ুন :  বেনাপোল বন্দরে ৩৬৭৫ কেজি ভায়াগ্রা আটক! পাচারের শঙ্কায় কড়া নিরাপত্তা

জনপ্রিয়তা যেমন দ্রুত আসে, তেমনি সামাজিক মাধ্যমে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়াও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। রিয়ার দাবি, আন্দোলনের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পরই কিছু ব্যক্তি তাঁর সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট ঘেঁটে পুরনো ছবি সংগ্রহ করতে শুরু করেন।

তিনি পেশাগত কারণে মডেলিং ও অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত। ফলে তাঁর ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইলে বিভিন্ন ফ্যাশন ফটোশুট, লাইফস্টাইল ও গ্ল্যামার সংক্রান্ত ছবি রয়েছে। সেই ছবিগুলিকেই প্রসঙ্গের বাইরে এনে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

রিয়ার মতে, ব্যক্তিগত পছন্দ বা পেশাগত ছবিকে হাতিয়ার করে একজন নারীর চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলা অত্যন্ত উদ্বেগজনক প্রবণতা।

রিয়া আহির দীর্ঘদিন ধরেই মডেলিং জগতের সঙ্গে যুক্ত। বিভিন্ন ফ্যাশন ব্র্যান্ডের হয়ে কাজ করেছেন তিনি। একাধিক লাইফস্টাইল ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদেও তাঁকে দেখা গেছে। আধুনিক পোশাক থেকে শুরু করে ঐতিহ্যবাহী শাড়ি—সব ধরনের ফটোশুটেই অংশ নিয়েছেন তিনি।

২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘দিলবারা’ মিউজিক ভিডিওতেও অভিনয় করেছিলেন রিয়া। বিনোদন জগতে ধীরে ধীরে নিজের জায়গা তৈরি করছিলেন তিনি।

কিন্তু আন্দোলনের পর তাঁর এই পেশাগত ছবিগুলোকেই অনেকেই ভিন্নভাবে ব্যবহার করতে শুরু করেন। অভিযোগ, ছবিগুলি সম্পাদনা করে বিভ্রান্তিকর পোস্ট তৈরি করা হচ্ছে এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁর ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা চলছে।

বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মানুষের মত প্রকাশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হলেও একই সঙ্গে এটি সাইবার হেনস্তার ক্ষেত্রেও পরিণত হয়েছে।

রিয়ার অভিযোগ অনুযায়ী, শুধু সমালোচনা নয়, তাঁকে লক্ষ্য করে অশালীন ভাষা ব্যবহার করা হচ্ছে। বিভিন্ন পোস্টে ব্যক্তিগত আক্রমণ করা হচ্ছে। এমনকি তাঁর পরিবারের সদস্যদের নিয়েও কুরুচিকর মন্তব্য ছড়ানো হচ্ছে।

আরও পড়ুন :  ‘এক গ্লাস বিয়ার পান করুন’—আবেগঘন বার্তা কোচ সেবাস্তিয়ান বেকাসেসের

তিনি দাবি করেছেন, কিছু ছবি বিকৃত করে এমনভাবে ছড়ানো হয়েছে যাতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি হয়। এর ফলে মানসিকভাবে তিনি এবং তাঁর পরিবার চাপে পড়েছেন।

ক্রমাগত অনলাইন হেনস্তার মুখে শেষ পর্যন্ত আইনের আশ্রয় নেন রিয়া আহির। তিনি জানিয়েছেন, মহারাষ্ট্র পুলিশের সাইবার সেলে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দিয়েছেন।

অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ তাঁর সঙ্গে বিস্তারিত কথা বলেছে এবং প্রাথমিক তদন্তও শুরু হয়েছে। কোন কোন সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট বা ব্যক্তি এই অপপ্রচারের সঙ্গে জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তবে সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত কারও বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তদন্ত শেষ হওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক মাধ্যমে মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকলেও কাউকে অপমান, মানহানি বা ব্যক্তিগত আক্রমণ করার অধিকার কারও নেই।

বিশেষ করে কোনও নারীর পোশাক, পেশা বা ব্যক্তিগত ছবিকে কেন্দ্র করে চরিত্র নিয়ে মন্তব্য করা সমাজে নেতিবাচক বার্তা দেয়। এতে শুধু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নন, তাঁর পরিবারও মানসিক চাপে পড়ে।

সাইবার অপরাধ বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ছবি বিকৃত করা, ভুয়া তথ্য ছড়ানো বা মানহানিকর পোস্ট প্রকাশ করা তথ্যপ্রযুক্তি আইনের আওতায় অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তাই এমন ঘটনার ক্ষেত্রে দ্রুত অভিযোগ জানানোই সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ।

বর্তমানে কোনও ঘটনা ভাইরাল হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ব্যক্তিগত জীবনও সহজেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে যায়। অনেক সময় জনপ্রিয়তার সুযোগ নিয়ে অসাধু ব্যক্তিরা ব্যক্তিগত তথ্য বা ছবি ব্যবহার করে অপপ্রচার চালায়।

আরও পড়ুন :  আইনস্টাইন কেন ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট হতে রাজি হননি? ইতিহাসের এক বিস্ময়কর রাজনৈতিক প্রস্তাবের অজানা গল্প

রিয়ার ঘটনাও সেই বাস্তবতারই একটি উদাহরণ। একজন আন্দোলনকারী হিসেবে তাঁর ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হওয়ার পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও অযাচিত বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামাজিক মাধ্যমে কোনও ব্যক্তির ছবি বা তথ্য শেয়ার করার আগে তার সত্যতা যাচাই করা এবং অন্যের ব্যক্তিগত মর্যাদাকে সম্মান করা অত্যন্ত জরুরি।

রিয়া আহিরকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—কোনও নারী প্রতিবাদের মুখ হয়ে উঠলেই কি তাঁর ব্যক্তিগত জীবনকে টার্গেট করা হবে?

সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, বহু ক্ষেত্রেই দেখা যায় জনসমক্ষে পরিচিত হওয়া নারীদের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আক্রমণের প্রবণতা বেড়ে যায়। তাঁদের পোশাক, জীবনযাপন বা পেশাকে কেন্দ্র করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচার চালানো হয়, যা প্রকৃত বিতর্ক থেকে মানুষের দৃষ্টি অন্যদিকে সরিয়ে দেয়।

এই ধরনের প্রবণতা শুধু একজন ব্যক্তির ক্ষতি করে না, বরং সমাজে নারীদের অংশগ্রহণ ও মতপ্রকাশের পরিবেশকেও প্রভাবিত করে।

NEET আন্দোলনে সাহসিকতার জন্য আলোচনায় আসা রিয়া আহির এখন অন্য এক লড়াইয়ের মুখোমুখি। তাঁর অভিযোগ, সামাজিক মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে ব্যক্তিগত ছবি ব্যবহার করে চরিত্রহননের চেষ্টা চলছে এবং পরিবারের সদস্যদেরও অপমান করা হচ্ছে। সেই কারণেই তিনি আইনের দ্বারস্থ হয়েছেন।

তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য সামনে আসবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সেটাই এখন দেখার। তবে এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল, সামাজিক মাধ্যমে দায়িত্বশীল আচরণ এবং ব্যক্তিগত মর্যাদার প্রতি সম্মান আজ আগের যেকোনও সময়ের তুলনায় অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।