খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img

ঢাকায় বিনামূল্যে দেখা যাবে প্রশংসিত চলচ্চিত্র ‘দেলুপি’

দেশের তরুণ ও আলোচিত নির্মাতা মোহাম্মদ তাওকীর ইসলামের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘দেলুপি’ এবার ঢাকার দর্শকদের জন্য উন্মুক্তভাবে প্রদর্শিত হতে যাচ্ছে। চলচ্চিত্রপ্রেমীদের জন্য এটি হতে...
Homeবিনোদনঢাকায় বিনামূল্যে দেখা যাবে প্রশংসিত চলচ্চিত্র ‘দেলুপি’

ঢাকায় বিনামূল্যে দেখা যাবে প্রশংসিত চলচ্চিত্র ‘দেলুপি’

‘দেলুপি’র অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ প্রভাবকে বাস্তবধর্মীভাবে তুলে ধরা। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই নদীভাঙন, লবণাক্ততা, ঘূর্ণিঝড় এবং বন্যার মতো নানা সংকটে ভুগছে।

দেশের তরুণ ও আলোচিত নির্মাতা মোহাম্মদ তাওকীর ইসলামের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘দেলুপি’ এবার ঢাকার দর্শকদের জন্য উন্মুক্তভাবে প্রদর্শিত হতে যাচ্ছে। চলচ্চিত্রপ্রেমীদের জন্য এটি হতে পারে একটি বিশেষ সুযোগ,’ দেলুপি’ সেনেমা দেখতে কোনো ধরনের টিকিটের প্রয়োজন হবে না। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে আগামী ২৮ জুলাই (মঙ্গলবার) বিকেল সাড়ে ৫টায় অনুষ্ঠিত হবে এই বিশেষ চলচিত্রটি ।

চলচ্চিত্রটির পরিচালক মোহাম্মদ তাওকীর ইসলাম নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, এই প্রদর্শনী সবার জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে এবং দর্শকদের কোনো প্রবেশমূল্য দিতে হবে না। তবে মিলনায়তনের আসনসংখ্যা সীমিত হওয়ায় ‘আগে আসলে আগে পাবেন’ ভিত্তিতে দর্শকদের প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হবে। ফলে আগ্রহীদের নির্ধারিত সময়ের আগেই উপস্থিত হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

শুধু সিনেমা প্রদর্শনীই নয়, আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে থাকছে একটি উন্মুক্ত সংলাপ। প্রদর্শনী শেষে ‘জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান ও চলচ্চিত্রের রাজনৈতিক ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। এতে চলচ্চিত্র নির্মাতা, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, গবেষক এবং দর্শকরা অংশ নিয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরতে পারবেন।

এই আলোচনায় সাম্প্রতিক সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে চলচ্চিত্রের সম্পর্ক, গণআন্দোলনের নানামাত্রিক উপস্থাপন এবং শিল্পের সামাজিক দায়বদ্ধতা নিয়ে মতবিনিময় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে এটি শুধু একটি চলচ্চিত্র প্রদর্শনী নয়, বরং সংস্কৃতি ও সমাজ নিয়ে চিন্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিসর হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

মোহাম্মদ তাওকীর ইসলাম ইতোমধ্যেই ওয়েব কনটেন্ট নির্মাণে নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করেছেন। জনপ্রিয় ওয়েব সিরিজ ‘শাটিকাপ’ এবং ‘সিনপাট’ নির্মাণের মাধ্যমে তিনি দর্শকদের নজর কাড়েন। বাস্তবধর্মী গল্প, সমাজের প্রান্তিক মানুষের জীবনচিত্র এবং সমসাময়িক বিষয়কে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিতে তুলে ধরার জন্য তিনি বিশেষভাবে পরিচিত।

আরও পড়ুন :  সচিবালয় অভিমুখে শিক্ষার্থীদের লং মার্চ: শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি

‘দেলুপি’ তাঁর ক্যারিয়ারের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। শুরু থেকেই ছবিটি নিয়ে দর্শক এবং চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়। কারণ, এটি শুধুমাত্র বিনোদনের জন্য নির্মিত নয়; বরং বাস্তব জীবনের এক কঠিন সংকট ও মানবিক সংগ্রামকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে।

চলচ্চিত্রটির কাহিনির মূল ভিত্তি খুলনার দেলুটি ইউনিয়নের মানুষের জীবন। ২০২৪ সালে ভয়াবহ বন্যার পর ওই অঞ্চলের মানুষের যে দুর্বিষহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, সেই বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকেই ছবির চিত্রনাট্য নির্মাণ করা হয়েছে।

প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর মানুষের জীবন কীভাবে বদলে যায়, কীভাবে পরিবার, জীবিকা এবং স্বপ্ন এক মুহূর্তে ভেঙে পড়ে সেই কঠিন বাস্তবতাকে চলচ্চিত্রে তুলে ধরেছেন নির্মাতা। এতে কেবল বন্যার ক্ষয়ক্ষতির চিত্রই নয়, বরং দুর্যোগ-পরবর্তী পুনর্গঠন, টিকে থাকার সংগ্রাম এবং মানুষের অদম্য মানসিক শক্তিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

‘দেলুপি’র অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ প্রভাবকে বাস্তবধর্মীভাবে তুলে ধরা। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই নদীভাঙন, লবণাক্ততা, ঘূর্ণিঝড় এবং বন্যার মতো নানা সংকটে ভুগছে। এসব সমস্যা কেবল পরিবেশগত নয়, মানুষের সামাজিক ও অর্থনৈতিক জীবনেও গভীর প্রভাব ফেলে।

চলচ্চিত্রটিতে দেখানো হয়েছে কীভাবে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কৃষি, বসতভিটা, শিক্ষা ও কর্মসংস্থান হুমকির মুখে পড়ে। একই সঙ্গে দুর্যোগের কারণে মানুষকে কীভাবে বারবার নতুন করে জীবন শুরু করতে হয়, সেটিও সংবেদনশীলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

শুধু প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, চলচ্চিত্রে স্থানীয় এবং জাতীয় রাজনীতির বিভিন্ন দিকও স্থান পেয়েছে। ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, প্রভাবশালী গোষ্ঠীর আধিপত্য এবং সাধারণ মানুষের অসহায় অবস্থান গল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

আরও পড়ুন :  ২-০ পিছিয়ে থেকেও অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন! মেসির ম্যাচ দেখে আবেগঘন বার্তা অপরাজিতা আঢ্যের

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রায় রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত কীভাবে প্রভাব ফেলে, ত্রাণ ও উন্নয়ন কার্যক্রমে কী ধরনের জটিলতা তৈরি হয় এবং ক্ষমতার কাঠামোর বাইরে থাকা মানুষ কীভাবে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করে এসব বিষয়ও চলচ্চিত্রে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে।

ফুটপ্রিন্ট ফিল্ম প্রোডাকশনের ব্যানারে নির্মিত এই চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন চিরঞ্জিৎ বিশ্বাস, অদিতি রায়, রুদ্র রায় এবং জাকির হোসেনসহ একঝাঁক শিল্পী। বিশেষ বিষয় হলো, ছবির অধিকাংশ অভিনয়শিল্পীই খুলনার স্থানীয় বাসিন্দা।

স্থানীয় মানুষকে যুক্ত করার ফলে চলচ্চিত্রটির ভাষা, উচ্চারণ, সংস্কৃতি এবং জীবনযাত্রা আরও বাস্তব ও বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠেছে। নির্মাতা কৃত্রিমতার পরিবর্তে বাস্তব পরিবেশ ও বাস্তব মানুষের অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিয়েছেন, যা চলচ্চিত্রটির শক্তিকে আরও বাড়িয়েছে।

চলচ্চিত্রটির আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো এর চিত্রায়ণ। পুরো সিনেমাটি বাস্তব লোকেশনে ধারণ করা হয়েছে। বন্যাকবলিত অঞ্চল, নদী, গ্রামীণ জনপদ এবং মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে খুব কাছ থেকে ক্যামেরাবন্দি করা হয়েছে।

এর ফলে দর্শক কেবল একটি গল্পই দেখেন না, বরং সেই অঞ্চলের বাস্তব পরিবেশ এবং মানুষের জীবনযাত্রাকেও অনুভব করতে পারেন। প্রাকৃতিক আলো, বাস্তব পরিবেশ এবং স্বাভাবিক অভিনয়ের সমন্বয়ে চলচ্চিত্রটি একটি ডকুড্রামার অনুভূতি তৈরি করে।

গত বছরের ৭ নভেম্বর দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার পর ‘দেলুপি’ দর্শকদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পায়। একই সঙ্গে চলচ্চিত্র সমালোচকরাও এর গল্প, নির্মাণশৈলী, চিত্রগ্রহণ এবং অভিনয়ের প্রশংসা করেন।

আরও পড়ুন :   আওয়ামী লীগের  পরিকল্পনা ভেস্তে দিয়েছে পুলিশ : ডিএমপি কমিশনার

বিশেষ করে সমাজের বাস্তব সংকটকে অতিরঞ্জন ছাড়াই পর্দায় তুলে ধরার জন্য ছবিটি প্রশংসিত হয়। অনেকেই এটিকে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক চলচ্চিত্র হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন।

দেশীয় মুক্তির পর চলচ্চিত্রটি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও জায়গা করে নেয়। বিভিন্ন স্বনামধন্য আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ‘দেলুপি’ প্রদর্শিত হয়েছে এবং বিদেশি দর্শকদের কাছ থেকেও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেয়েছে।

বাংলাদেশের প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম, জলবায়ু সংকট এবং মানবিক গল্প আন্তর্জাতিক দর্শকদের কাছেও আগ্রহের বিষয় হয়ে ওঠে। ফলে চলচ্চিত্রটি দেশের বাইরেও বাংলাদেশের সমসাময়িক বাস্তবতাকে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছে।

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত এই বিশেষ প্রদর্শনী চলচ্চিত্রপ্রেমীদের জন্য যেমন আনন্দের, তেমনি সমাজ ও সংস্কৃতি নিয়ে ভাবনারও একটি সুযোগ তৈরি করবে। বিনামূল্যে চলচ্চিত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে আরও বেশি দর্শককে অর্থবহ সিনেমার সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশেষ করে প্রদর্শনীর পর আয়োজিত উন্মুক্ত সংলাপ দর্শকদের চলচ্চিত্রকে নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে মূল্যায়নের সুযোগ করে দেবে। এতে সিনেমা শুধু বিনোদনের মাধ্যম হিসেবেই নয়, বরং সমাজ পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পমাধ্যম হিসেবেও আলোচনায় উঠে আসবে।

সব মিলিয়ে বাস্তব জীবনের সংগ্রাম, জলবায়ু সংকট, প্রান্তিক মানুষের গল্প এবং রাজনৈতিক বাস্তবতাকে কেন্দ্র করে নির্মিত ‘দেলুপি’ ইতোমধ্যেই দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনে আলোচিত একটি সংযোজন। বিনামূল্যে এই বিশেষ প্রদর্শনীর মাধ্যমে যারা এখনো সিনেমাটি দেখার সুযোগ পাননি, তাদের জন্য এটি একটি উল্লেখযোগ্য সুযোগ হতে যাচ্ছে। একই সঙ্গে চলচ্চিত্র-পরবর্তী আলোচনা দর্শকদের মধ্যে নতুন ভাবনার দ্বার খুলে দেবে বলেও আশা করা হচ্ছে।