বর্ষাকালের সক্রিয় আবহাওয়ার প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আবারও ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরের মধ্যেই দেশের আটটি অঞ্চলে দমকা কিংবা ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকার অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে নদীপথে চলাচলকারী নৌযান এবং সংশ্লিষ্টদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। বিশেষ করে যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী নৌযানগুলোকে আবহাওয়ার সর্বশেষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে চলাচল করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর সোমবার ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য বিশেষ পূর্বাভাস প্রকাশ করেছে। এই পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়ার সঙ্গে বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, দক্ষিণ কিংবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতও হতে পারে, যা নদীপথে চলাচলকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, নিম্নোক্ত আটটি অঞ্চলে বৈরী আবহাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট।
এসব এলাকায় দুপুরের মধ্যে বজ্রসহ বৃষ্টি এবং দমকা বা ঝোড়ো হাওয়ার প্রবণতা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে উপকূলীয় ও নদীবেষ্টিত এলাকায় আবহাওয়ার পরিবর্তন দ্রুত ঘটতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
বৈরী আবহাওয়ার সম্ভাবনার কারণে সংশ্লিষ্ট আট অঞ্চলের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত প্রদর্শনের নির্দেশ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
১ নম্বর সতর্কসংকেতের অর্থ হলো, নদীপথে ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তাই নৌযান পরিচালনার সময় বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। বিশেষ করে ছোট নৌকা, ট্রলার ও মাছ ধরার নৌযানকে আবহাওয়ার পরিস্থিতি বিবেচনা করে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে, বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এই ধরনের ঝোড়ো হাওয়া নদীপথে ঢেউয়ের উচ্চতা বৃদ্ধি করতে পারে এবং ছোট নৌযানের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
বজ্রপাতের সম্ভাবনাও থাকায় খোলা স্থানে অবস্থানকারী মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। কৃষিজমিতে কাজ করা শ্রমিক, জেলে এবং নদীপথ ব্যবহারকারীদের আবহাওয়ার সর্বশেষ তথ্য অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়ার এমন পরিস্থিতিতে নৌপরিবহন সংশ্লিষ্টদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
প্রথমত, আবহাওয়ার সর্বশেষ পূর্বাভাস নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, অতিরিক্ত যাত্রী বা পণ্য বহন করা থেকে বিরত থাকতে হবে। তৃতীয়ত, ঝড়ের লক্ষণ দেখা দিলে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার প্রস্তুতি রাখতে হবে। এছাড়া লাইফ জ্যাকেটসহ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জাম নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বরিশাল, পটুয়াখালী ও নোয়াখালীর মতো উপকূলীয় অঞ্চলে বর্ষাকালে আবহাওয়ার দ্রুত পরিবর্তন নতুন নয়। তবে দমকা হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির সময় নদী ও সমুদ্রের পরিস্থিতি দ্রুত বৈরী হয়ে উঠতে পারে।
স্থানীয় প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করলে সম্ভাব্য দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। পাশাপাশি অপ্রয়োজনে নদীপথে যাতায়াত এড়িয়ে চলার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
বজ্রপাতের সময় নিরাপদ স্থানে অবস্থান করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। খোলা মাঠ, উঁচু গাছের নিচে বা জলাশয়ের আশপাশে অবস্থান না করাই ভালো। মোবাইল ফোন ব্যবহার বা বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি স্পর্শ করার ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।
যদি বাইরে অবস্থান করেন, তাহলে যত দ্রুত সম্ভব কোনো পাকা ভবনে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করতে হবে। নদীতে বা নৌযানে থাকলে নিরাপদ স্থানে পৌঁছানোর উদ্যোগ নিতে হবে।
বর্ষাকালে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে স্বল্প সময়ের ব্যবধানে আবহাওয়ার পরিবর্তন ঘটতে পারে। তাই যেসব এলাকায় ঝড়-বৃষ্টি ও বজ্রপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, সেসব অঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
বিশেষ করে নদীপথ ব্যবহারকারী, জেলে, কৃষক এবং উপকূলীয় এলাকার মানুষকে পরিস্থিতির প্রতি সজাগ থাকতে হবে। সময়মতো সতর্কতা মেনে চললে সম্ভাব্য দুর্ঘটনা ও ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে এড়ানো সম্ভব।

