খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img

টাঙ্গাইলের এলেঙ্গায় গ্যাসের প্রধান পাইপলাইনে ফাটল, এলাকায় আতঙ্ক

টাঙ্গাইলের কালিহাতী এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে নির্মাণাধীন ফ্লাইওভারের পাইলিংয়ের সময় তিতাস গ্যাসের প্রধান সঞ্চালন পাইপলাইনে ফাটল দেখা দিয়েছে। এদে এলাকাজুড়ে চরম আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। উচ্চ চাপের...
Homeবাংলা নিউজ স্পেশালজাতীয়গণমাধ্যমের নীতিমালা প্রণয়নে সম্পাদকদের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

গণমাধ্যমের নীতিমালা প্রণয়নে সম্পাদকদের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা যেমন গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে, তেমনি সরকারের ইতিবাচক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডও বস্তুনিষ্ঠভাবে জনগণের সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন। তিনি মনে করেন, দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা রাষ্ট্র, সমাজ ও জনগণের মধ্যে আস্থা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

বাংলাদেশে স্বাধীন, দায়িত্বশীল ও পেশাদার গণমাধ্যম গড়ে তুলতে সাংবাদিক ও সম্পাদকদের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, স্বাধীন গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের জন্য একটি যুগোপযোগী নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলমান রয়েছে। এই নীতিমালা প্রণয়নের ক্ষেত্রে দেশের সম্পাদকদের অভিজ্ঞতা, মতামত ও পরামর্শ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই তিনি এ কাজে সম্পাদকদের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেছেন।

একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী সংবাদপত্রের সম্পাদকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা যেমন গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে, তেমনি সরকারের ইতিবাচক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডও বস্তুনিষ্ঠভাবে জনগণের সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন। তিনি মনে করেন, দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা রাষ্ট্র, সমাজ ও জনগণের মধ্যে আস্থা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের নেতাদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ) বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বৈঠকে দেশের গণমাধ্যমের বর্তমান পরিস্থিতি, সাংবাদিকতার স্বাধীনতা, দায়িত্বশীল সংবাদ প্রকাশ, গণমাধ্যমের উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ নীতিমালা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে স্বাধীন গণমাধ্যম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জনগণের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমের স্বাধীন পরিবেশ বজায় রাখা প্রয়োজন। তবে স্বাধীনতার পাশাপাশি দায়িত্বশীলতাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ হিসেবে কাজ করেন। তাই তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে সত্যতা, নিরপেক্ষতা এবং জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। ভুয়া তথ্য, গুজব কিংবা বিভ্রান্তিকর সংবাদ যেন সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি না করে, সে বিষয়েও সাংবাদিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার এমন একটি নীতিমালা প্রণয়ন করতে চায়, যা সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করবে এবং একই সঙ্গে গণমাধ্যমের পেশাদারিত্ব ও জবাবদিহিতা আরও শক্তিশালী করবে।

সরকারের মতে, নীতিমালা প্রণয়নের ক্ষেত্রে সম্পাদকদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং বাস্তবধর্মী মতামত কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। সংবাদ সংগ্রহ, সম্পাদনা, প্রকাশনা ও গণমাধ্যম পরিচালনার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকায় সম্পাদকরা মাঠপর্যায়ের নানা সমস্যা সম্পর্কে অবগত।

এই বাস্তব অভিজ্ঞতা নতুন নীতিমালা প্রণয়নে সহায়ক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকার কোনো একতরফা সিদ্ধান্ত নিতে চায় না। বরং সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের মতামত নিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য ও কার্যকর নীতিমালা তৈরি করতে আগ্রহী।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী সম্পাদকদের উদ্দেশে বলেন, সরকারের ভুলত্রুটি কিংবা সীমাবদ্ধতা নিয়ে গঠনমূলক সমালোচনা অবশ্যই প্রয়োজন। কারণ সমালোচনার মাধ্যমে সরকার নিজের কার্যক্রম মূল্যায়নের সুযোগ পায়।

তবে একই সঙ্গে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড, জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ এবং ইতিবাচক পরিবর্তনের বিষয়গুলোও যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তার ভাষায়, জনগণ যেন সরকারের ভালো ও খারাপ উভয় দিক সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানতে পারে, সেটিই দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার অন্যতম লক্ষ্য হওয়া উচিত।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার ও গণমাধ্যম একে অপরের প্রতিপক্ষ নয়। বরং উভয়ের লক্ষ্য দেশের উন্নয়ন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা।

তিনি উল্লেখ করেন, তথ্যভিত্তিক সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে গণমাধ্যম যেমন সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে, তেমনি রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

এ কারণে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহযোগিতা ও পেশাদার সম্পর্ক বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বৈঠকে ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের আহ্বায়ক এবং যায়যায়দিন পত্রিকার সম্পাদক শফিক রেহমানের নেতৃত্বে আট সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল অংশ নেয়।

প্রতিনিধিদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান।

এ ছাড়া প্রতিনিধিদলে ছিলেন দৈনিক প্রতিদিনের বাংলাদেশ সম্পাদক মারুফ কামাল খান সোহেল, দৈনিক নয়া দিগন্ত সম্পাদক সালাহউদ্দিন মুহাম্মদ বাবর, যুগান্তর সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, ওয়াদা সম্পাদক শফিকুল আলম এবং মানবকণ্ঠ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম।

সূত্র জানায়, বৈঠকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, সংবাদ প্রকাশে নৈতিকতা, ডিজিটাল যুগের সাংবাদিকতার চ্যালেঞ্জ, সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ নীতিমালার বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় হয়।

এ সময় সম্পাদকরা গণমাধ্যমের বিভিন্ন বাস্তব সমস্যা, সাংবাদিকদের কর্মপরিবেশ এবং সংবাদপত্র শিল্পের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কেও নিজেদের মতামত তুলে ধরেন।