খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img
Homeবিশ্ব সংবাদইন্ডিয়া নিউজযেখানে সেখানে প্রস্রাব? এবার শহরের বড় পর্দায় ধরা পড়বেন! জানুন কী হচ্ছে

যেখানে সেখানে প্রস্রাব? এবার শহরের বড় পর্দায় ধরা পড়বেন! জানুন কী হচ্ছে

এই অভিনব প্রচারের নাম দেওয়া হয়েছে ‘হল অফ শেম’। নাম থেকেই বোঝা যায়, উদ্দেশ্য কাউকে অপমান করা নয়; বরং সমাজের সামনে অসচেতন আচরণকে তুলে ধরে অন্যদের সতর্ক করা।

পরিচ্ছন্ন শহর গড়ে তোলার লক্ষ্যে নানা ধরনের সচেতনতামূলক প্রচার, জরিমানা এবং প্রশাসনিক উদ্যোগ বহু বছর ধরেই চলছে। তবুও দেশের বিভিন্ন শহরে এখনও প্রকাশ্যে প্রস্রাব করা, রাস্তায় থুতু ফেলা কিংবা পানের পিক ফেলার মতো অসচেতন আচরণ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। এই পরিস্থিতিতে সমস্যার স্থায়ী সমাধান খুঁজতে এক অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে অসমের তিনসুকিয়া পৌরসভা। তাদের এই পদক্ষেপ ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।

রাস্তাঘাট পরিষ্কার রাখা শুধু প্রশাসনের দায়িত্ব নয়, এটি প্রতিটি নাগরিকের সামাজিক দায়িত্বও। কিন্তু অনেকেই সেই দায়িত্ব পালন করেন না। শহরের বিভিন্ন জায়গায় স্পষ্টভাবে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও বহু মানুষ প্রকাশ্যে প্রস্রাব করেন বা যত্রতত্র ময়লা ফেলেন।

এই দীর্ঘদিনের সমস্যার মোকাবিলায় এবার প্রচলিত পদ্ধতির বাইরে গিয়ে নতুন ব্যবস্থা নিয়েছে তিনসুকিয়া পৌরসভা। তাদের বিশ্বাস, শুধুমাত্র জরিমানা বা সতর্কবার্তা নয়, সামাজিক দায়বদ্ধতা তৈরি করলেই মানুষ এমন অভ্যাস থেকে সরে আসবেন।

এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে বড় ডিজিটাল ডিসপ্লে বা এলইডি স্ক্রিন বসানো হয়েছে। একই সঙ্গে শহরের বিভিন্ন এলাকায় স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরাগুলিকে এই ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।

কোনও ব্যক্তি যদি রাস্তার ধারে বা দেওয়ালের পাশে প্রকাশ্যে প্রস্রাব করতে ধরা পড়েন, তাহলে সেই দৃশ্য সরাসরি বড় স্ক্রিনে প্রদর্শিত হয়। ফলে আশপাশের মানুষ সহজেই দেখতে পান ওই ব্যক্তি কী করছেন।

আরও পড়ুন :  ব্রাজিল বনাম মরক্কো: বিশ্বকাপ ২০২৬-এর শুরুতেই হোঁচট, শিরোপার স্বপ্ন কি ধাক্কা খেল?

এই পদ্ধতির মাধ্যমে প্রশাসন আইন ভাঙা ব্যক্তিদের সামাজিকভাবে দায়বদ্ধ করতে চাইছে। তাদের ধারণা, প্রকাশ্যে এমনভাবে ধরা পড়লে ভবিষ্যতে অনেকেই এই ধরনের কাজ করতে দ্বিধা বোধ করবেন।

এই অভিনব প্রচারের নাম দেওয়া হয়েছে ‘হল অফ শেম’। নাম থেকেই বোঝা যায়, উদ্দেশ্য কাউকে অপমান করা নয়; বরং সমাজের সামনে অসচেতন আচরণকে তুলে ধরে অন্যদের সতর্ক করা।

পৌরসভার মতে, বহু বছর ধরে সচেতনতা প্রচার চালিয়েও কাঙ্ক্ষিত ফল মেলেনি। তাই এবার সামাজিক লজ্জাবোধকে কাজে লাগিয়ে মানুষের অভ্যাস পরিবর্তনের চেষ্টা করা হচ্ছে।

প্রশাসনের আশা, এই উদ্যোগ মানুষকে নিজের আচরণ সম্পর্কে আরও সচেতন করবে এবং প্রকাশ্যে প্রস্রাব করার প্রবণতা অনেকটাই কমে আসবে।

দেশের বিভিন্ন শহরে প্রকাশ্যে প্রস্রাব বা থুতু ফেলার বিরুদ্ধে বহুবার অভিযান চালানো হয়েছে। কোথাও জরিমানা করা হয়েছে, কোথাও আবার সচেতনতা শিবির বা প্রচারাভিযান হয়েছে।

তবুও সমস্যাটি পুরোপুরি দূর হয়নি। কারণ অনেকেই মনে করেন, ধরা না পড়লে নিয়ম ভাঙলেও তেমন কোনও ক্ষতি নেই।

এই মানসিকতা বদলাতেই তিনসুকিয়া পৌরসভা এমন ব্যবস্থা নিয়েছে, যাতে নিয়ম ভাঙার ঘটনা গোপন না থেকে সবার সামনে চলে আসে। প্রশাসনের ধারণা, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং জনসমক্ষে পরিচিত হওয়ার ভয় অনেক ক্ষেত্রেই অর্থদণ্ডের চেয়ে বেশি কার্যকর হতে পারে।

আরও পড়ুন :  ব্রাজিলকে চমকে দিল জাপান! কাইশু সানোর গোলে বিশ্বকাপে তোলপাড়

তবে এই উদ্যোগ ঘিরে বিতর্কও শুরু হয়েছে। কিছু মানুষের মতে, কোনও ব্যক্তির ছবি বা ভিডিও জনসমক্ষে প্রদর্শন করা ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।

তাদের প্রশ্ন, অপরাধ দমনের নামে কোনও নাগরিককে প্রকাশ্যে লজ্জিত করা কতটা আইনসঙ্গত বা নৈতিক? এমন ব্যবস্থার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা এবং নাগরিক অধিকারের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা উচিত বলে মত প্রকাশ করেছেন অনেকে।

অন্যদিকে, সমর্থকদের যুক্তি ভিন্ন। তাদের মতে, যিনি প্রকাশ্য রাস্তায় নিয়ম ভাঙছেন, তিনি নিজেই জনসমক্ষে সেই কাজ করছেন। ফলে জনস্বার্থে এমন আচরণ তুলে ধরা হলে তা পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

বিতর্ক থাকলেও স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি বড় অংশ এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, শহর পরিষ্কার রাখতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন ছিল।

অনেকেই মনে করছেন, যদি এই পদ্ধতির ফলে মানুষ প্রকাশ্যে প্রস্রাব করা বন্ধ করেন, তাহলে শহরের পরিবেশ আরও স্বাস্থ্যকর ও পরিচ্ছন্ন হবে। বিশেষ করে বাজার এলাকা, বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন এবং ব্যস্ত মোড়গুলিতে দীর্ঘদিনের দুর্গন্ধ ও নোংরা পরিবেশ কমানো সম্ভব হতে পারে।

কেবল প্রশাসনের উদ্যোগেই একটি শহর পরিষ্কার রাখা সম্ভব নয়। প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব রয়েছে নির্দিষ্ট শৌচাগার ব্যবহার করা, রাস্তায় থুতু বা পানের পিক না ফেলা এবং জনপরিসরকে নিজের সম্পত্তির মতো যত্ন নেওয়া।

আরও পড়ুন :  মেসির রেকর্ড গোল কি অবৈধ ছিল? রেফারি ও ফিফার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ

শহরের সৌন্দর্য, পরিবেশ এবং জনস্বাস্থ্য রক্ষায় নাগরিকদের সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়ম মেনে চললে শুধু প্রশাসনের কাজই সহজ হয় না, বরং শহরের সামগ্রিক জীবনমানও উন্নত হয়।

তিনসুকিয়ার এই উদ্যোগ সফল হলে দেশের অন্য শহরগুলিও একই ধরনের ব্যবস্থা বিবেচনা করতে পারে বলে মনে করছেন অনেকেই। তবে সেই ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার, আইনি কাঠামো, গোপনীয়তার সুরক্ষা এবং মানবাধিকারের বিষয়গুলি সমান গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তি যদি দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহার করা যায়, তাহলে নাগরিক আচরণ পরিবর্তনে তা কার্যকর হাতিয়ার হতে পারে। তবে যেকোনও পদক্ষেপ গ্রহণের আগে আইন ও ব্যক্তিগত অধিকারের ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি।

রাস্তার ধারে প্রকাশ্যে প্রস্রাব করা বা যত্রতত্র ময়লা ফেলা শুধু একটি অসচেতন অভ্যাস নয়, এটি জনস্বাস্থ্য ও নগর পরিচ্ছন্নতার জন্যও বড় সমস্যা। সেই সমস্যা মোকাবিলায় অসমের তিনসুকিয়া পৌরসভার ‘হল অফ শেম’ উদ্যোগ নতুন ধরনের আলোচনা শুরু করেছে।

এই পদক্ষেপ দীর্ঘমেয়াদে কতটা কার্যকর হবে, তা সময়ই বলবে। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে প্রশাসনের পাশাপাশি নাগরিকদের মানসিকতার পরিবর্তনই সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি। যদি মানুষ নিজের দায়িত্ব সম্পর্কে আরও সচেতন হন, তাহলে এমন কঠোর বা ব্যতিক্রমী উদ্যোগের প্রয়োজনই হয়তো একদিন আর থাকবে না।