ফুটবল মাঠে রেকর্ড গড়া যেন লিওনেল মেসির কাছে নিত্যদিনের ঘটনা। তবে বিশ্বরেকর্ড গড়ার পরও বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছে না আর্জেন্টাইন মহাতারকার। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে গোল করে নতুন ইতিহাস তৈরি করলেও সেই গোল ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা। অনেক ফুটবল সমর্থক এবং বিশ্লেষকের দাবি, গোলটি হওয়ার আগে ফাউল হয়েছিল। এমনকি ফিফা ও ম্যাচ কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে শুরুতেই পেনাল্টি মিস করেন লিওনেল মেসি। তবে তাতে দমে যাননি তিনি। প্রথমার্ধেই গোল করে তিনি ভেঙে দেন জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোজের দীর্ঘদিনের রেকর্ড। এই গোলের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ফুটবলে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক।
কিন্তু ঐতিহাসিক এই গোলের আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। গোল হওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে শুরু হয় নতুন বিতর্ক।
বিতর্কের সূত্রপাত হয় গোলের আগের একটি মুহূর্তকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ উঠেছে, অস্ট্রিয়ার মিডফিল্ডার জাভের শ্লাগারের কাছ থেকে বল ছিনিয়ে নেওয়ার সময় আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার ফাউল করেছিলেন।
সমালোচকদের মতে, ম্যাক অ্যালিস্টার ফাউল করার পর বলটি মেসির কাছে পৌঁছায়। এরপর মেসি বল বাড়ান ফাকুন্দো মেদিনাকে। মেদিনা বাম প্রান্ত থেকে বক্সে ক্রস করলে চলতি বলে গোল করেন মেসি।
অস্ট্রিয়ার খেলোয়াড়রা সঙ্গে সঙ্গে ফাউলের দাবি জানালেও ম্যাচের রেফারি খেলা থামাননি। শুধু তাই নয়, ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (VAR) থেকেও কোনও হস্তক্ষেপ দেখা যায়নি। ফলে গোলটি বৈধ হিসেবে গণ্য করা হয়।
এই ঘটনার পর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাবেক ফুটবলার ও বিশ্লেষকদের অনেকে। বিশেষ করে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও ডেনমার্কের সাবেক গোলরক্ষক পিটার শ্মেইকেল প্রকাশ্যে রেফারিং নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
তার মতে, ম্যাক অ্যালিস্টারের ট্যাকলটি স্পষ্ট ফাউল ছিল এবং মেসির কাছে বল পৌঁছানোর আগেই রেফারির বাঁশি বাজানো উচিত ছিল। তিনি অভিযোগ করেন, ম্যাচ কর্মকর্তারা বিষয়টি উপেক্ষা করেছেন এবং এতে আর্জেন্টিনা বাড়তি সুবিধা পেয়েছে।
শ্মেইকেলের মন্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা। অনেক সমর্থক তার বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেন।
শুধু এই ম্যাচ নয়, চলমান প্রতিযোগিতার শুরু থেকেই মেসি ও আর্জেন্টিনাকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলছেন ফুটবলপ্রেমীদের একাংশ।
সমালোচকদের দাবি, ম্যাচ পরিচালনায় ধারাবাহিকভাবে এমন কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা আর্জেন্টিনার পক্ষে গেছে। এর ফলে ফিফার নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত ফিফা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
এটাই প্রথম নয়, এর আগেও মেসিকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে প্রতিপক্ষ অধিনায়ক আইসা মান্ডিকে পিছন থেকে ফাউল করেছিলেন মেসি। রেফারি ফাউল দিলেও তাকে কোনও কার্ড দেখাননি।
অনেক বিশ্লেষকের মতে, ওই ঘটনায় মেসিকে অন্তত হলুদ কার্ড, এমনকি লাল কার্ডও দেখানো যেতে পারত। বিষয়টি নিয়ে আলজেরিয়া ফুটবল কর্তৃপক্ষ ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগও জানিয়েছিল বলে জানা যায়।
অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে আরেকটি বিতর্কিত ঘটনা ঘটে আর্জেন্টিনার স্ট্রাইকার লাউতারো মার্তিনেজকে ঘিরে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি অস্ট্রিয়ার মিডফিল্ডার কনরাড লাইমারকে পিছন থেকে আঘাত করেছিলেন।
অস্ট্রিয়ার খেলোয়াড়রা ওই ঘটনার জন্য লাল কার্ডের আবেদন জানালেও রেফারি কোনও কার্ড দেখাননি। VAR-ও নীরব ছিল। ফলে আবারও আর্জেন্টিনাকে অতিরিক্ত সুবিধা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
লিওনেল মেসির মতো কিংবদন্তি ফুটবলারের প্রতিটি অর্জনই বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়। তবে যখন সেই অর্জনকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়, তখন তা আরও বেশি মনোযোগ আকর্ষণ করে।
অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে বিশ্বরেকর্ড গড়ার আনন্দের পাশাপাশি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে রেফারির সিদ্ধান্ত, VAR-এর ভূমিকা এবং ফিফার নিরপেক্ষতা। ভবিষ্যতে এ ধরনের বিতর্ক এড়াতে প্রযুক্তির আরও কার্যকর ব্যবহার ও স্বচ্ছ সিদ্ধান্ত গ্রহণের দাবি তুলছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।


