খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img
Homeলাইফস্টাইলসাধারণ কিশমিশ নয়, কেন কালো কিশমিশ বেশি স্বাস্থ্যকর? বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যা

সাধারণ কিশমিশ নয়, কেন কালো কিশমিশ বেশি স্বাস্থ্যকর? বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যা

কালো কিশমিশে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আয়রন এবং বি-কমপ্লেক্স ভিটামিন থাকে। এই দুটি উপাদান শরীরে লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে সাহায্য করে এবং রক্তাল্পতার ঝুঁকি কমাতে ভূমিকা রাখে।

সুস্থ জীবনযাপনের প্রতি সচেতনতা যত বাড়ছে, ততই খাদ্যতালিকায় জায়গা করে নিচ্ছে বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক খাবার। তার মধ্যে কালো কিশমিশ এখন বেশ জনপ্রিয়। অনেকেই সকালে খালি পেটে ভেজানো কালো কিশমিশ কিংবা সেই জল পান করার অভ্যাস গড়ে তুলেছেন। সমাজমাধ্যমে পুষ্টিবিদ, ফিটনেস বিশেষজ্ঞ এবং স্বাস্থ্যসচেতন ব্যক্তিদের কাছ থেকেও এই অভ্যাসের প্রশংসা শোনা যায়।

তবে প্রশ্ন থেকেই যায়—সাধারণ সোনালি কিশমিশের তুলনায় কালো কিশমিশ কি সত্যিই বেশি উপকারী? আর যাঁদের ডায়াবেটিস রয়েছে, তাঁদের জন্য এটি কতটা নিরাপদ? চলুন, পুষ্টিবিদদের মতামত এবং পুষ্টিগুণের ভিত্তিতে বিষয়টি বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।

কিশমিশ মূলত শুকনো আঙুর। আঙুরের জাত, শুকানোর পদ্ধতি এবং প্রক্রিয়াজাতকরণের উপর নির্ভর করে কিশমিশের রং পরিবর্তিত হয়। বাজারে সাধারণত সোনালি, সবুজ ও কালো—এই তিন ধরনের কিশমিশ পাওয়া যায়।

কালো আঙুর থেকে তৈরি কালো কিশমিশে আঙুরের খোসার অনেক প্রাকৃতিক উপাদান বজায় থাকে। সেই কারণেই এতে অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদানের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি বলে মনে করা হয়।

কালো কিশমিশে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আয়রন এবং বি-কমপ্লেক্স ভিটামিন থাকে। এই দুটি উপাদান শরীরে লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে সাহায্য করে এবং রক্তাল্পতার ঝুঁকি কমাতে ভূমিকা রাখে।

বিশেষ করে যাঁদের শরীরে আয়রনের ঘাটতি রয়েছে, তাঁদের জন্য পরিমিত পরিমাণে কালো কিশমিশ উপকারী হতে পারে।

কালো কিশমিশে থাকা পলিফেনল, অ্যান্থোসায়ানিন এবং অন্যান্য অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট শরীরের কোষকে ক্ষতিকর ফ্রি-র‌্যাডিক্যালের হাত থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে।

এর ফলে—

  • প্রদাহ কমতে পারে।
  • কোষের ক্ষয় ধীর হতে পারে।
  • দীর্ঘমেয়াদি কিছু রোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে।

কালো কিশমিশে থাকা প্রি-বায়োটিক ফাইবার অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি ঘটাতে সাহায্য করে।

এর ফলে—

  • হজম ভালো হয়।
  • গ্যাস ও অস্বস্তি কমতে পারে।
  • অন্ত্রের স্বাস্থ্য উন্নত হয়।
  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা পরোক্ষভাবে শক্তিশালী হতে পারে।

যাঁরা দীর্ঘদিন কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় ভোগেন, তাঁদের জন্য কালো কিশমিশ উপকারী হতে পারে।

ডায়েটারি ফাইবার মল নরম রাখতে সাহায্য করে এবং নিয়মিত মলত্যাগে সহায়তা করে। অনেকেই রাতে ভিজিয়ে রাখা কিশমিশ সকালে খেয়ে উপকার পান।

কালো কিশমিশে থাকা অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট এবং খনিজ উপাদান ত্বকের কোষকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

এছাড়াও কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, এর পুষ্টি উপাদান হরমোনের স্বাভাবিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে। ফলে ত্বক উজ্জ্বল রাখা এবং চুলের স্বাস্থ্য রক্ষায়ও এর ভূমিকা থাকতে পারে।

কালো কিশমিশে প্রাকৃতিক শর্করা যেমন গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজ থাকে। এগুলো শরীরে দ্রুত শক্তি জোগায়।

যাঁরা নিয়মিত ব্যায়াম করেন বা সারাদিন প্রচুর শারীরিক পরিশ্রম করেন, তাঁদের জন্য সীমিত পরিমাণে কালো কিশমিশ একটি ভালো প্রাকৃতিক শক্তির উৎস হতে পারে।

অনেকেই রাতে পানিতে ভিজিয়ে সকালে কিশমিশ খান। এতে কিশমিশ নরম হয়ে যায় এবং হজমে সুবিধা হতে পারে।

তবে ভিজিয়ে খেলে পুষ্টিগুণ নাটকীয়ভাবে বেড়ে যায়—এমন শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনও নেই। তাই ভিজিয়ে বা শুকনো—দুইভাবেই খাওয়া যায়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ।

সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রতিদিন অল্প পরিমাণ অর্থাৎ প্রায় ১৫ থেকে ২০ গ্রাম বা এক ছোট মুঠো কালো কিশমিশ যথেষ্ট।

অতিরিক্ত খেলে শরীরে অতিরিক্ত ক্যালোরি ও চিনি প্রবেশ করতে পারে, যা ওজন বৃদ্ধি এবং রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে।

এটাই সবচেয়ে বেশি জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন।

পুষ্টিবিদদের মতে, কালো কিশমিশে অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট, আয়রন ও ফাইবার বেশি থাকলেও এর প্রাকৃতিক চিনির পরিমাণ কম নয়।

অর্থাৎ, কালো কিশমিশ ও সাধারণ কিশমিশ—দুই ক্ষেত্রেই মোট শর্করার পরিমাণ প্রায় একই ধরনের।

তাই ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য এটি প্রতিদিনের খাবার হিসেবে উপযুক্ত নয়।

পুষ্টিবিদ শ্রেয়া চক্রবর্তীর মতে, কিশমিশ খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বেড়ে যেতে পারে। তাই ডায়াবেটিস থাকলে নিয়মিত নয়, বরং চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী খুব সীমিত পরিমাণে মাঝেমধ্যে খাওয়া যেতে পারে।

নিম্নলিখিত ব্যক্তিদের কালো কিশমিশ খাওয়ার আগে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন—

  • ডায়াবেটিস রোগী
  • ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন যাঁরা
  • ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স রয়েছে এমন ব্যক্তি
  • ফ্যাটি লিভারের রোগী (চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী)
  • যাঁদের রক্তে শর্করার ওঠানামা বেশি হয়

সর্বোচ্চ উপকার পেতে কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখুন—

  • পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করুন।
  • অতিরিক্ত চিনি মেশানো কিশমিশ এড়িয়ে চলুন।
  • বাদাম বা আখরোটের সঙ্গে খেলে গ্লাইসেমিক প্রভাব কিছুটা কম হতে পারে।
  • খালি পেটে বেশি পরিমাণে খাবেন না।
  • ডায়াবেটিস থাকলে রক্তে শর্করা নিয়মিত পরীক্ষা করুন।

কালো কিশমিশ নিঃসন্দেহে একটি পুষ্টিকর শুকনো ফল। এতে আয়রন, অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট, ফাইবার এবং বিভিন্ন উপকারী উদ্ভিজ্জ যৌগ থাকায় এটি সাধারণ সোনালি কিশমিশের তুলনায় কিছু ক্ষেত্রে বেশি স্বাস্থ্যকর বলে বিবেচিত হয়। এটি রক্তাল্পতা প্রতিরোধ, হজমশক্তি উন্নত করা, ত্বক ও চুলের যত্ন এবং শরীরে শক্তি জোগাতে সহায়ক হতে পারে।

তবে মনে রাখতে হবে, কালো কিশমিশেও প্রাকৃতিক চিনির পরিমাণ যথেষ্ট বেশি। তাই ডায়াবেটিস রোগী বা যাঁদের রক্তে শর্করার সমস্যা রয়েছে, তাঁদের এটি প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখা উচিত নয়। চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী সীমিত পরিমাণে খাওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।