খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img

বাংলাদেশে নতুন পররাষ্ট্রনীতি বুঝতে ঢাকায় আসছেন মার্কিন বিশেষ দূত

বাংলাদেশের নতুন সরকারের পররাষ্ট্রনীতি এবং বদলে যাওয়া ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান সম্পর্কে সরাসরি ধারণা নিতে চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে ঢাকা সফরে আসছেন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য...
Homeবাংলা নিউজ স্পেশালজাতীয়বাংলাদেশে নতুন পররাষ্ট্রনীতি বুঝতে ঢাকায় আসছেন মার্কিন বিশেষ দূত

বাংলাদেশে নতুন পররাষ্ট্রনীতি বুঝতে ঢাকায় আসছেন মার্কিন বিশেষ দূত

এটি কেবল একটি নিয়মিত কূটনৈতিক সফর নয়; বরং দক্ষিণ এশিয়ার পরিবর্তিত ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায় বাংলাদেশের অবস্থান মূল্যায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। কারণ, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি হবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ পর্যায়ের কোনো কর্মকর্তার প্রথম ঢাকা সফর।

বাংলাদেশের নতুন সরকারের পররাষ্ট্রনীতি এবং বদলে যাওয়া ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান সম্পর্কে সরাসরি ধারণা নিতে চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে ঢাকা সফরে আসছেন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গোর। একই সঙ্গে তিনি ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতের দায়িত্বও পালন করছেন। কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির বাস্তব প্রয়োগ, আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের নতুন ভারসাম্য এবং বৈশ্বিক কূটনীতিতে ঢাকার ভবিষ্যৎ অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা নেওয়াই হবে তার এই সফরের মূল উদ্দেশ্য। তথ্য সূত্র: সারাবাংলা

বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল একটি নিয়মিত কূটনৈতিক সফর নয়; বরং দক্ষিণ এশিয়ার পরিবর্তিত ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায় বাংলাদেশের অবস্থান মূল্যায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। কারণ, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি হবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ পর্যায়ের কোনো কর্মকর্তার প্রথম ঢাকা সফর।

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তারেক রহমান। ক্ষমতায় আসার পর থেকেই সরকার পররাষ্ট্রনীতিতে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ দর্শনের ওপর জোর দিয়ে আসছে। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ ও পারস্পরিক সম্মানভিত্তিক সম্পর্ক গড়ে তোলাই এই নীতির মূল লক্ষ্য।

ক্ষমতা গ্রহণের পাঁচ মাস পর যুক্তরাষ্ট্রের একজন প্রভাবশালী বিশেষ দূতের ঢাকা সফরকে তাই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কূটনৈতিক মহলের মতে, ওয়াশিংটন বাংলাদেশের নতুন নীতিগত অবস্থানকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং এই সফরের মাধ্যমে সেই অবস্থান সম্পর্কে সরাসরি ধারণা নিতে চায়।

সার্জিও গোর কেবল একজন অভিজ্ঞ কূটনীতিক নন। তিনি দীর্ঘদিন মার্কিন কংগ্রেসের হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস ও সিনেটে কাজ করেছেন। পরে তিনি হোয়াইট হাউসের বিভিন্ন দায়িত্বেও যুক্ত ছিলেন। রাজনৈতিক অঙ্গনে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত। বর্তমানে তিনি দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক বিশেষ দূতের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ভারতে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এমন একজন কর্মকর্তার ঢাকা সফর যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ আগ্রহেরই প্রতিফলন। কারণ, সাধারণত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের রুটিন আলোচনা পরিচালনার জন্য বিশেষ দূত পাঠানো হয় না। বরং কোনো দেশের কৌশলগত অবস্থান, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কিংবা আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে তার ভূমিকা মূল্যায়নের প্রয়োজন দেখা দিলেই এ ধরনের সফরের আয়োজন করা হয়।

সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই পররাষ্ট্রনীতিতে নতুন দৃষ্টিভঙ্গির কথা তুলে ধরছে। সরকারের দাবি, কোনো নির্দিষ্ট শক্তি বলয়ের সঙ্গে একচেটিয়া সম্পর্ক নয়; বরং জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলাই তাদের লক্ষ্য।

এই নীতির অংশ হিসেবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বাংলাদেশ চীন, মালয়েশিয়া, রাশিয়া, তুরস্ক, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়িয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও বাণিজ্য, নিরাপত্তা, বিনিয়োগ এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার বিষয়গুলোতে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটন জানতে চাইবে এই নতুন পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবে কতটা স্বাধীন, কতটা ভারসাম্যপূর্ণ এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থান কোন দিকে এগোতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফর দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। ওই সফরে মোংলা সমুদ্রবন্দর আধুনিকায়ন, তিস্তা নদী উন্নয়ন প্রকল্প, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং চট্টগ্রামে একটি চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠাসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সমঝোতা হয়।

এসব চুক্তি শুধু বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ককেই নতুন মাত্রা দেয়নি, বরং আঞ্চলিক শক্তিগুলোর মধ্যেও নতুন আলোচনা সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে সফরটি নিয়ে ব্যাপক বিশ্লেষণ প্রকাশিত হয়।

ধারণা করা হচ্ছে ভারতে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্র্রর রাষ্ট্রদূত হিসেবে সার্জিও গোরও এসব বিষয় নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন। ঢাকা সফরে সার্জিও গোর এসব উদ্যোগের অগ্রগতি এবং সরকারের পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইতে পারেন।

চীনের পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার সঙ্গেও বাংলাদেশের কূটনৈতিক যোগাযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান সম্প্রতি মস্কো সফর করে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা, জ্বালানি, বাণিজ্য এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়।

অন্যদিকে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানও সম্প্রতি ঢাকা সফর করেন। একই সময়ে প্রধানমন্ত্রী মালয়েশিয়া সফর সম্পন্ন করেছেন এবং সৌদি আরব ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকেও উচ্চপর্যায়ের সফরের আমন্ত্রণ এসেছে।

বিশ্লেষকদের ধারনা এ ধরনের কূটনৈতিক যোগাযোগ বাংলাদেশ এখন একাধিক বৈশ্বিক শক্তির সাথে সম গুরুত্ব দিয়ে সু-সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চাই।
এসব কারনেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের বর্তমান কূটনৈতিক অগ্রাধিকার সম্পর্কে ধারণা নিতে চাই।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সফরকালে সার্জিও গোর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। এছাড়া তার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠকেরও সম্ভাবনা রয়েছে।

এর পাশাপাশি তিনি কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করবেন। সেখানে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন বলেও জানা গেছে।

ঢাকায় অবস্থানকালে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, সুশীল সমাজের সদস্য, গবেষক এবং নীতিনির্ধারকদের সঙ্গেও তার মতবিনিময়ের সম্ভাবনা রয়েছে। এসব বৈঠকের মাধ্যমে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবেশ, গণতন্ত্র, মানবাধিকার এবং ভবিষ্যৎ নীতিগত দিকগুলো সম্পর্কেও ধারণা নেওয়ার চেষ্টা করবেন তিনি।

বাংলাদেশকে ঘিরে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত আগ্রহ গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন সিনেটে তার মনোনয়ন শুনানিতে বলেছিলেন, দায়িত্ব পেলে তিনি বাংলাদেশকে চীনের সঙ্গে সামরিক ও কৌশলগত সহযোগিতার বিষয়ে সতর্ক করবেন।

এই বক্তব্যের পরপরই ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাস প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলে, বাংলাদেশ ও চীনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক কোনো তৃতীয় দেশকে লক্ষ্য করে নয় এবং এ ধরনের মন্তব্য থেকে বিরত থাকা উচিত।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনাই প্রমাণ করে যে বাংলাদেশ এখন বড় শক্তিগুলোর কৌশলগত প্রতিযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ফলে সার্জিও গোরের সফরেও এই বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে।

দুই দেশের আলোচনায় রোহিঙ্গা সংকট অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উঠে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার মানবিক সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্র অন্যতম বড় দাতা দেশ।

ওয়াশিংটন দীর্ঘদিন ধরেই রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও টেকসই প্রত্যাবাসনের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছে। ফলে বর্তমান পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক সহায়তা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিশেষ দূতের আগ্রহ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ দূত হিসেবে সার্জিও গোরের আলোচনায় ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কও গুরুত্বপূর্ণ স্থান পাবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। পাশাপাশি পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক, সীমান্ত সহযোগিতা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক কৌশল এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের ভবিষ্যৎ নিয়েও মতবিনিময় হতে পারে।

এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত, ইরান পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা সম্পর্কেও আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী বর্তমানে মালদ্বীপ সফরে রয়েছেন এবং ২৮ জুলাই দেশে ফেরার কথা রয়েছে। তার সফরসূচির সঙ্গে সমন্বয় করেই সার্জিও গোরের পূর্ণাঙ্গ কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হচ্ছে।

মন্ত্রণালয় সূত্রের ভাষ্য, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে আগ্রহী। একই সঙ্গে সরকার চায়, দেশের স্বাধীন ও ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির বিষয়ে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের কাছে পরিষ্কার বার্তা পৌঁছে দিতে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় বাংলাদেশ এমন এক অবস্থানে রয়েছে যেখানে একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ভারত, রাশিয়া, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির সফলতা অনেকটাই নির্ভর করবে এই ভারসাম্য রক্ষার ওপর। তাইসার্জিও গোরের ঢাকা সফর শুধুএকটি আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সফর নয়; বরং এটি হবে বাংলাদেশের নতুন পররাষ্ট্রনীতির কার্যকারিতা, কৌশলগত অগ্রাধিকার এবং ভবিষ্যৎ আন্তর্জাতিক অবস্থান মূল্যায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।