কয়েক দিনের টানা বর্ষণের রেশ কাটতে না কাটতেই রাজধানী ঢাকার আকাশে আবারও জমেছে কালো মেঘ। বুধবার (১৫ জুলাই) সকালে রোদের দেখা মিললেও দুপুর ১টার পর থেকেই ঢাকার অধিকাংশ এলাকার আকাশ মেঘে ঢেকে যায়। এতে নতুন করে ভারী বৃষ্টি এবং জলাবদ্ধতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে রাজধানীবাসী যে দুর্ভোগের মুখোমুখি হয়েছেন, সেই অভিজ্ঞতা থেকেই অনেকের মনে প্রশ্ন আবারও কি পানিতে ডুববে ঢাকা?
আবহাওয়া অধিদফতরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন উত্তর উড়িষ্যা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলীয় এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এই লঘুচাপের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি এবং ঝোড়ো হাওয়ার প্রবণতা বাড়তে পারে।
বিশেষ করে উপকূলীয় এলাকা, উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং সমুদ্রবন্দরগুলোর ওপর দিয়ে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।
বৈরী আবহাওয়ার সম্ভাবনা বিবেচনায় দেশের চারটি গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা কে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
এই সংকেতের অর্থ হলো, সমুদ্রে আবহাওয়া অস্থির থাকতে পারে এবং মাঝারি মাত্রার ঝোড়ো হাওয়া সৃষ্টি হতে পারে। তাই সমুদ্রপথে চলাচলকারী জাহাজ ও নৌযানগুলোকে অতিরিক্ত সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে গভীর সমুদ্রে না গিয়ে উপকূলের কাছাকাছি থেকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়া দ্রুত পরিবর্তিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় যেকোনো সময় ঝোড়ো হাওয়া বা বৃষ্টির পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। তাই জেলেদের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা কিংবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
এর সঙ্গে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। এ কারণে এসব অঞ্চলের নদীবন্দরগুলোকে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গত শুক্রবার ও শনিবার কয়েক ঘণ্টার টানা বর্ষণে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ও নিম্নাঞ্চলে ব্যাপক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছিল। অনেক এলাকায় হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে যায়। এতে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী এবং সাধারণ নগরবাসীকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, অপর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা, খাল দখল, ড্রেনেজ সংকট এবং দ্রুত নগরায়ণের কারণে ঢাকায় অল্প সময়ের ভারী বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। তাই নতুন করে ভারী বৃষ্টি হলে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আবারও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
আবহাওয়ার বর্তমান পরিস্থিতিতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে অপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়া, বজ্রপাতের সময় খোলা স্থানে অবস্থান না করা এবং আবহাওয়ার সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুসরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
উপকূলীয় অঞ্চল, নদীপথ এবং সমুদ্রগামী নৌযানগুলোকে আবহাওয়ার পরিবর্তনের দিকে নজর রেখে চলাচল করতে হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলাও জরুরি।

