খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img

স্বর্ণের দাম কমছে কেন? আরও কমবে নাকি আবার বাড়বে?

চলতি বছরের শুরুতে বাংলাদেশসহ আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। সেই সময় দেশের বাজারে এক ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের গহনার দাম প্রায়...
Homeঅর্থ-বানিজ্যস্বর্ণের দাম কমছে কেন? আরও কমবে নাকি আবার বাড়বে?

স্বর্ণের দাম কমছে কেন? আরও কমবে নাকি আবার বাড়বে?

বাংলাদেশে স্বর্ণের দাম অনেকটাই নির্ভর করে আন্তর্জাতিক বাজারে বিশুদ্ধ স্বর্ণের দামের ওপর। বিশ্ববাজারে দাম কমলে তার প্রভাব কিছুটা সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারেও পড়ে।

চলতি বছরের শুরুতে বাংলাদেশসহ আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। সেই সময় দেশের বাজারে এক ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের গহনার দাম প্রায় তিন লাখ টাকার কাছাকাছি চলে যায়, যা সাধারণ ক্রেতাদের জন্য বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছিল। তবে কয়েক মাসের ব্যবধানে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওঠানামা এবং স্থানীয় বাজারের পরিবর্তনের কারণে এখন স্বর্ণের দাম ধীরে ধীরে কমছে। তথ্য সূত্র: বিবিসি বাংলা

সম্প্রতি বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) আবারও স্বর্ণের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে। সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি ভরিতে দুই হাজার টাকারও বেশি দাম কমানো হয়েছে। ফলে অনেকেই জানতে চাইছেন স্বর্ণের দাম কি আরও কমবে, নাকি আবার বাড়তে শুরু করবে?

বাজুস নির্ধারিত নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী বর্তমানে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ১৯ হাজার ৮০৮ টাকা।

এছাড়া—

২১ ক্যারেট স্বর্ণের দাম প্রতি ভরি ২ লাখ ৯ হাজার ৮৯৪ টাকা।
১৮ ক্যারেট স্বর্ণের দাম প্রতি ভরি ১ লাখ ৮০ হাজার ২৬৭ টাকা।
সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম প্রতি ভরি ১ লাখ ৪৭ হাজার ৩১৬ টাকা।

এই মূল্য হ্রাসের ফলে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও স্বর্ণ এখনো সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে রয়েছে।

স্বর্ণের দাম নির্ধারণে একক কোনো কারণ কাজ করে না। বরং একাধিক আন্তর্জাতিক ও দেশীয় অর্থনৈতিক সূচকের সমন্বয়ে এর মূল্য ওঠানামা করে।

বাংলাদেশে স্বর্ণের দাম অনেকটাই নির্ভর করে আন্তর্জাতিক বাজারে বিশুদ্ধ স্বর্ণের দামের ওপর। বিশ্ববাজারে দাম কমলে তার প্রভাব কিছুটা সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারেও পড়ে।

বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। যদিও প্রতিদিনই দামের ওঠানামা হচ্ছে, তবুও সামগ্রিকভাবে বাজার কিছুটা দুর্বল অবস্থায় রয়েছে।

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের লেনদেন মূলত মার্কিন ডলারে হয়। ডলারের মান শক্তিশালী হলে অনেক সময় স্বর্ণের চাহিদা কমে যায়, ফলে দামও নিম্নমুখী হতে পারে। আবার ডলার দুর্বল হলে বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণের দিকে ঝুঁকলে দাম বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়।

মুদ্রাস্ফীতি, সুদের হার, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চয়তা স্বর্ণের দামের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা থাকলে অনেক বিনিয়োগকারী স্বর্ণের পরিবর্তে অন্য খাতে বিনিয়োগ করেন, যা স্বর্ণের চাহিদা কমিয়ে দিতে পারে।

বিয়ের মৌসুম, উৎসব কিংবা বিনিয়োগের প্রবণতা বাড়লে স্বর্ণের চাহিদা বৃদ্ধি পায়। বিপরীতে চাহিদা কমে গেলে দামও কিছুটা কমতে পারে।

স্বর্ণের দাম কমতে শুরু করার পর অনেক সম্ভাব্য ক্রেতার মধ্যে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। যারা কয়েক মাস আগে উচ্চমূল্যের কারণে গহনা কেনার পরিকল্পনা স্থগিত করেছিলেন, তারা এখন বাজার পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছেন।

গাজীপুরের বাসিন্দা জান্নাতুল মাওয়ার মতো অনেকেই মনে করছেন, কয়েক মাস আগের তুলনায় দাম কমলেও তা এখনো অনেক বেশি। তাই অনেকের প্রশ্ন, আরও কিছুদিন অপেক্ষা করলে কি দাম আরও কমতে পারে?

বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের চেয়ারম্যান দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন জানান, স্বর্ণের দাম নির্ভুলভাবে আগাম বলা সম্ভব নয়। কারণ এই বাজার অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হয়।

তার মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে যদি নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকে, তাহলে দেশের বাজারেও স্বর্ণের দাম কিছুটা কমতে পারে। তবে এটি নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়, কারণ প্রতিদিনের বৈশ্বিক পরিস্থিতি দামের গতিপথ বদলে দিতে পারে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, বর্তমান মূল্য হ্রাস দীর্ঘমেয়াদি নাও হতে পারে। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে রাজনৈতিক অস্থিরতা, যুদ্ধ বা অর্থনৈতিক সংকট দেখা দিলে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদ হিসেবে আবারও স্বর্ণের দিকে ঝুঁকতে পারেন।

এ ধরনের পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের চাহিদা বেড়ে যায় এবং তার সঙ্গে দামও বাড়তে শুরু করে। ফলে বর্তমানে দাম কমলেও ভবিষ্যতে আবার ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

বিশ্বে যুদ্ধ বা রাজনৈতিক সংঘাত বাড়লে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। তখন শেয়ারবাজার বা ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগ থেকে অনেকেই অর্থ সরিয়ে স্বর্ণে বিনিয়োগ করেন।

অর্থনীতিবিদ ড. ফাহমিদা খাতুনের মতে, যদি আন্তর্জাতিক সংঘাত আরও তীব্র হয়, তাহলে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ঝুঁকি বাড়বে। সেই পরিস্থিতিতে স্বর্ণের দাম আবারও বৃদ্ধি পেতে পারে। তার ধারণা, বর্তমান মূল্য হ্রাস দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি নয়।

স্বর্ণের মূল্য পরিবর্তনের ক্ষেত্রে কয়েকটি প্রধান বিষয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে—

আন্তর্জাতিক বাজারে বিশুদ্ধ স্বর্ণের দাম।
মার্কিন ডলারের বিনিময় হার।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সুদের হার।
আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি।
দেশীয় বাজারে চাহিদা ও সরবরাহ।
বাজুসের মূল্য সমন্বয় সিদ্ধান্ত।

এই সব বিষয় একসঙ্গে কাজ করায় স্বর্ণের দাম আগাম নির্ভুলভাবে অনুমান করা অত্যন্ত কঠিন।

যারা ব্যক্তিগত প্রয়োজন, বিয়ে বা উপহার দেওয়ার জন্য স্বর্ণ কিনতে চান, তাদের জন্য বর্তমান দাম আগের তুলনায় কিছুটা সুবিধাজনক বলা যায়। তবে শুধুমাত্র বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে স্বর্ণ কেনার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাজার, ডলারের গতিপ্রকৃতি এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বল্পমেয়াদে কিছুটা ওঠানামা থাকলেও দীর্ঘমেয়াদে স্বর্ণ এখনও একটি গুরুত্বপূর্ণ নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত হয়।