খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img
Homeঅর্থ-বানিজ্যবয়লার আমদানিতে পূর্বানুমোদন বাধ্যতামূলক: বাংলাদেশ ব্যাংক

বয়লার আমদানিতে পূর্বানুমোদন বাধ্যতামূলক: বাংলাদেশ ব্যাংক

ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ পলিসি ডিপার্টমেন্ট এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করে। এতে উল্লেখ করা হয়, শিল্প মন্ত্রণালয়ের বয়লার শাখা গত ২৮ জুন যে নির্দেশনা জারি করেছিল, তার আলোকে নতুন বিধান কার্যকর করা হয়েছে।

বাংলাদেশে বয়লার ও বয়লার কম্পোনেন্ট আমদানির ক্ষেত্রে নতুন নীতিমালা কার্যকর করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে যে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে বয়লার কিংবা এর যন্ত্রাংশ আমদানির আগে প্রধান বয়লার পরিদর্শকের পূর্বানুমোদন নিতে হবে। শিল্প মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার ভিত্তিতে জারি করা এই সিদ্ধান্ত দেশের বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনে নিয়োজিত সব অনুমোদিত ডিলার (এডি) শাখার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই উদ্যোগের মাধ্যমে বয়লার আমদানি প্রক্রিয়ায় আরও বেশি স্বচ্ছতা আসবে। একই সঙ্গে নিম্নমানের যন্ত্রপাতি আমদানি রোধ, শিল্পকারখানার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনগত তদারকি জোরদার করা সম্ভব হবে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ পলিসি ডিপার্টমেন্ট এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করে। এতে উল্লেখ করা হয়, শিল্প মন্ত্রণালয়ের বয়লার শাখা গত ২৮ জুন যে নির্দেশনা জারি করেছিল, তার আলোকে নতুন বিধান কার্যকর করা হয়েছে।

এর ফলে বয়লার বা বয়লার কম্পোনেন্ট আমদানির আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়া এখন বাধ্যতামূলক। এই অনুমোদন ছাড়া আমদানি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যাবে না।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, আমদানিকারককে নির্ধারিত ফরমে আবেদন করে প্রধান বয়লার পরিদর্শকের দপ্তরে জমা দিতে হবে। আবেদন পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, প্রযুক্তিগত তথ্য এবং অন্যান্য শর্ত যাচাই করবেন।

যাচাই শেষে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন তৈরি করা হবে। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রধান বয়লার পরিদর্শক সিদ্ধান্ত নেবেন আবেদন অনুমোদন করা হবে কি না।

আরও পড়ুন :  ইরানের বড় সিদ্ধান্ত! আবারও বন্ধ হরমুজ প্রণালী, বিশ্ববাজারে নতুন সংকট

যদি সব শর্ত পূরণ হয়, তাহলে আমদানির অনুমোদন দেওয়া হবে। আর কোনো ঘাটতি বা অসঙ্গতি থাকলে আবেদন বাতিল করা হতে পারে।

নতুন নির্দেশনায় আবেদনকারীদের জন্য পুনরায় আবেদন করার সুযোগও রাখা হয়েছে।

যদি কোনো আবেদন নামঞ্জুর করা হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সাত কার্যদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে আবেদনকারীকে কারণ জানাবে। এরপর আবেদনকারী প্রয়োজনীয় ত্রুটি সংশোধন করে নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে আবার আবেদন করতে পারবেন।

এতে করে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় থাকবে এবং আবেদনকারীও স্পষ্টভাবে জানতে পারবেন কেন তার আবেদন গ্রহণ করা হয়নি।

প্রধান বয়লার পরিদর্শক অনুমোদন দিলে আনুষ্ঠানিক অনুমোদনপত্র ইস্যুর দায়িত্ব পালন করবেন উপ-প্রধান বয়লার পরিদর্শক।

এর মাধ্যমে অনুমোদন প্রক্রিয়াকে আরও সুশৃঙ্খল ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে আনা হয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে কোনো ধরনের প্রশাসনিক জটিলতা বা বিভ্রান্তি কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নতুন বিধানে শুধু আমদানিই নয়, বয়লার নির্মাণের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, ড্রয়িং ও ডিজাইন অনুমোদনের তারিখ থেকে সর্বোচ্চ ১২ মাসের মধ্যে বয়লার নির্মাণ সম্পন্ন করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবে।

এই সময়সীমা নির্ধারণের ফলে দীর্ঘসূত্রতা কমবে এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন আরও গতিশীল হবে।

আরও পড়ুন :  এ মাসে বিদ্যুৎ বিল কত বাড়বে? সহজ হিসাব ও খরচ কমানোর কার্যকর উপায়

বয়লার সরবরাহ বা বিক্রির পর নির্মাতাকে নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র, সনদপত্র এবং প্রযুক্তিগত তথ্য ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর করতে হবে।

এর পাশাপাশি ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের নাম ও ঠিকানা লিখিতভাবে প্রধান বয়লার পরিদর্শককে জানানোও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

এই ব্যবস্থার ফলে প্রতিটি বয়লারের তথ্য সরকারি রেকর্ডে সংরক্ষিত থাকবে এবং প্রয়োজনে সহজেই তা যাচাই করা সম্ভব হবে।

শুধু আমদানি বা নিবন্ধন নয়, কারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের নিরাপত্তার বিষয়েও নতুন নির্দেশনায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে শ্রমিকদের পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে প্রচলিত শ্রম আইন এবং সংশ্লিষ্ট বিধিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে।

শিল্পকারখানায় দুর্ঘটনা প্রতিরোধ এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই নির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বয়লার নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের কারখানা সরেজমিনে পরিদর্শন করতে পারবেন।

এ সময় উৎপাদন প্রক্রিয়া, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা খতিয়ে দেখা হবে। যদি কোনো অনিয়ম বা নিম্নমানের উৎপাদনের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ধরনের পরিদর্শন ব্যবস্থা চালু থাকলে আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা সহজ হবে এবং নিম্নমানের যন্ত্রপাতি বাজারে প্রবেশের সুযোগ কমে যাবে।

শিল্প বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই নীতিমালা দেশের শিল্পখাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। এতদিন বয়লার আমদানির ক্ষেত্রে তদারকি তুলনামূলকভাবে সীমিত ছিল। ফলে অনেক সময় নিম্নমানের বা নিরাপত্তাহীন বয়লার শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতো।

আরও পড়ুন :  বেনাপোল কাস্টমস হাউসে ৪ হাজার ৭৩১ কোটি টাকা রাজস্ব ঘাটতি

এখন পূর্বানুমোদন, নথি যাচাই, নির্মাতা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন এবং নিবন্ধন বাধ্যতামূলক হওয়ায় পুরো প্রক্রিয়া আরও নিয়ন্ত্রিত হবে।

এর ফলে শিল্প দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমবে, শ্রমিকদের নিরাপত্তা বাড়বে এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বয়লার ব্যবহারে প্রতিষ্ঠানগুলো আরও উৎসাহিত হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এই পদক্ষেপ শুধু শিল্প নিরাপত্তার জন্য নয়, বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

কারণ, আমদানির আগে যথাযথ অনুমোদন নিশ্চিত হলে অপ্রয়োজনীয় বা অনিয়ন্ত্রিত আমদানি কমবে। একই সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রার ব্যবহার আরও কার্যকর ও পরিকল্পিত হবে।

এতে দেশের আমদানি ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পাবে এবং সরকারি তদারকি আরও শক্তিশালী হবে।

নতুন এই নির্দেশনার মাধ্যমে সরকার মূলত চারটি বিষয় নিশ্চিত করতে চায়—বয়লার আমদানিতে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, শিল্পকারখানায় নিরাপত্তা জোরদার, নিম্নমানের যন্ত্রপাতি আমদানি প্রতিরোধ এবং বিদ্যমান আইন ও বিধিমালার কার্যকর বাস্তবায়ন।

সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, এসব বিধান যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের শিল্পখাত আরও নিরাপদ, সুশৃঙ্খল এবং আন্তর্জাতিক মানসম্মত হবে। একই সঙ্গে বয়লার আমদানির প্রতিটি ধাপে জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে শিল্প উৎপাদন ও কর্মপরিবেশ উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

আর্কাইভ