খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img

আদ্-দ্বীন হাসপাতাল পুনরায় পরিদর্শনের পরই সিদ্ধান্ত: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে বেসরকারি হাসপাতালগুলোর সেবার মান, নিরাপত্তা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে আদ্-দ্বীন হাসপাতালকে ঘিরে। হাসপাতালটির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং ছয়...
Homeবাংলা নিউজ স্পেশালজাতীয়আদ্-দ্বীন হাসপাতাল পুনরায় পরিদর্শনের পরই সিদ্ধান্ত: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আদ্-দ্বীন হাসপাতাল পুনরায় পরিদর্শনের পরই সিদ্ধান্ত: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ছয়টি শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় সরকার যদি কোনো ব্যবস্থা না নিত, তাহলে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হতো এবং ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়তে হতো।

বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে বেসরকারি হাসপাতালগুলোর সেবার মান, নিরাপত্তা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে আদ্-দ্বীন হাসপাতালকে ঘিরে। হাসপাতালটির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং ছয় শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের পর এবার নতুন করে আশার ইঙ্গিত মিলেছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের চিহ্নিত ত্রুটিগুলো সংশোধনের দাবি করে পুনরায় পরিদর্শনের আবেদন করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা পরিদর্শন শেষে পরিস্থিতি সন্তোষজনক মনে করলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সোমবার (১৩ জুলাই) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বন্যাকবলিত এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক জানতে চান, আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত থেকে সরকার সরে আসছে কি না। জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ছয়টি শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় সরকার যদি কোনো ব্যবস্থা না নিত, তাহলে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হতো এবং ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়তে হতো।

তিনি বলেন, মানুষের জীবন রক্ষার দায়িত্ব সরকারের। তাই অভিযোগ সামনে আসার পরই সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এটি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নয়; বরং রোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্যই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, হাসপাতালটির আইসিইউসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে অবকাঠামোগত ও কারিগরি ত্রুটি চিহ্নিত হয়েছিল। এসব সমস্যা দ্রুত সমাধানের জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ শুরু করেছে এবং তারা দাবি করেছে যে অধিকাংশ ত্রুটি সংশোধনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এসব পরিবর্তনের বাস্তব চিত্র যাচাই করতেই তারা নতুন করে সরকারি পরিদর্শনের আবেদন করেছে।

সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা হাসপাতালটি পুনরায় পরিদর্শন করবেন। তারা সরেজমিনে গিয়ে হাসপাতালের বর্তমান অবস্থা, চিকিৎসা সরঞ্জাম, আইসিইউ সুবিধা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয় যাচাই করবেন।

পরিদর্শন প্রতিবেদনে যদি দেখা যায় যে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত সব ত্রুটি যথাযথভাবে সংশোধন করেছে এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের পরিবেশ সন্তোষজনক হয়েছে, তাহলে সরকার পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এখনই হাসপাতালকে কোনো ধরনের চূড়ান্ত ছাড় দেওয়া হয়নি। সরকারি মূল্যায়নের পরই পরবর্তী প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে পরিষ্কার হয়েছে যে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বিষয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি এবং বাস্তব পরিস্থিতির মধ্যে মিল রয়েছে কি না, সেটিই যাচাই করবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

সরকারের অবস্থান হলো, হাসপাতালটি যদি সব শর্ত পূরণ করতে সক্ষম হয় এবং রোগীদের নিরাপদ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে পারে, তাহলে আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অন্যদিকে, যদি পরিদর্শনে বড় ধরনের ঘাটতি পাওয়া যায়, তাহলে আগের প্রশাসনিক অবস্থান বহাল থাকতে পারে।

ছয় শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন।

তবে তিনি স্পষ্ট করেন, আর্থিক সহায়তা দেওয়া হলেও বিষয়টি এখানেই শেষ হয়ে যায়নি। ঘটনাটি নিয়ে একটি মামলা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। ফলে মামলার বিষয়ে আদালত এবং প্রচলিত আইন অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত হবে।

তিনি বলেন, বিচারিক প্রক্রিয়ায় সরকার কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করবে না। আদালতই প্রমাণ ও আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় রায় প্রদান করবে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় বরাবরই বলে আসছে, দেশের সরকারি ও বেসরকারি—উভয় ধরনের হাসপাতালেই মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, কোনো হাসপাতালই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। রোগীর নিরাপত্তা, চিকিৎসার মান এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নিশ্চিত করা প্রতিটি হাসপাতালের দায়িত্ব। এসব বিষয়ে অবহেলা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতেও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়মিত তদারকি অব্যাহত থাকবে। যাতে রোগীরা নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পান এবং স্বাস্থ্যখাতে জনগণের আস্থা আরও শক্তিশালী হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো হাসপাতালের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর শুধু প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়াই যথেষ্ট নয়; সংশোধনের সুযোগ দিয়ে পুনর্মূল্যায়ন করাও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। এতে একদিকে যেমন স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নত হয়, অন্যদিকে রোগীদের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের ক্ষেত্রেও একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের ত্রুটি সংশোধনের দাবি করেছে। এখন সেই দাবির সত্যতা যাচাই করবেন সরকারি কর্মকর্তারা।

বর্তমানে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে পুনরায় পরিদর্শনের ফলাফলের ওপর। পরিদর্শন প্রতিবেদনে যদি সন্তোষজনক অগ্রগতি উঠে আসে, তাহলে সরকার হাসপাতালটির বিষয়ে নতুন সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তবে কোনো ধরনের ঘাটতি বা অনিয়ম অব্যাহত থাকলে কঠোর অবস্থানও বহাল থাকতে পারে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, সরকার এখনই কোনো সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করছে না। বরং নিরপেক্ষ মূল্যায়ন, আইন এবং জনস্বার্থকে গুরুত্ব দিয়েই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ফলে হাসপাতালটির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানতে হলে পুনরায় পরিদর্শনের ফলাফল প্রকাশ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।