খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img

কনসার্টের মঞ্চেই বাগদানের ঘোষণা গায়িকা জেসমিন স্যান্ডলাস’র

ভারতের জনপ্রিয় পাঞ্জাবি গায়িকা জেসমিন স্যান্ডলাস আবারও আলোচনার কেন্দ্রে। সাম্প্রতিক সময়ে ‘ধুরন্ধর’ সিনেমার ‘শরারত’ ও ‘যাইয়ে সজনা’ গানের সাফল্যের পর তিনি নতুন করে দর্শক-শ্রোতাদের...
Homeবাংলা নিউজ স্পেশালজাতীয়ঢাকার বর্জ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন:২৮ সালের মধ্যে গ্রিডে যুক্ত হবে জ্বালানি

ঢাকার বর্জ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন:২৮ সালের মধ্যে গ্রিডে যুক্ত হবে জ্বালানি

নতুন এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে শুধু বর্জ্য ব্যবস্থাপনাই উন্নত হবে না, একই সঙ্গে সেই বর্জ্য থেকেই উৎপাদিত হবে বিদ্যুৎ।

ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তরের লক্ষ্যে বড় উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। রাজধানীর প্রতিদিনের বিপুল পরিমাণ বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে ২০২৮ সালের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে প্রকল্প দুটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করতে এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

রোববার (১২ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টায় বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে রাজধানীর আমিনবাজার ও মাতুয়াইলে বাস্তবায়নাধীন দুটি ‘ওয়েস্ট-টু-এনার্জি’ (Waste-to-Energy) প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। বৈঠকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার কর্মকর্তারা প্রকল্পের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

ঢাকায় প্রতিদিন হাজার হাজার টন বর্জ্য উৎপন্ন হয়। দীর্ঘদিন ধরে এসব বর্জ্য অপসারণ, পরিবেশ দূষণ এবং দুর্গন্ধ নগরবাসীর অন্যতম বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নতুন এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে শুধু বর্জ্য ব্যবস্থাপনাই উন্নত হবে না, একই সঙ্গে সেই বর্জ্য থেকেই উৎপাদিত হবে বিদ্যুৎ।

এ উদ্যোগ রাজধানীর পরিচ্ছন্নতা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

বৈঠকে জানানো হয়, চীনের CMEC Group ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের আমিনবাজার এলাকায় একটি আধুনিক বর্জ্যভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে বিনিয়োগ করবে।

এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার টন নগর বর্জ্য ব্যবহার করা হবে। এসব বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে ৪২ দশমিক ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে, যা সরাসরি জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৮ সালের আগস্ট মাস থেকে এই কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পর টানা ২৫ বছর বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হবে বলে জানানো হয়েছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মাতুয়াইলে দক্ষিণ কোরিয়ার B&F Company একটি সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে।

এই প্রকল্পের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো বর্জ্য থেকে বছরে প্রায় ১৫ হাজার টন মিথেন গ্যাস উৎপাদন করা হবে। সেই গ্যাস ব্যবহার করে বছরে প্রায় ৮১ হাজার মেগাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। দৈনিক হিসেবে এর উৎপাদন সক্ষমতা হবে প্রায় ২২১ মেগাওয়াট-ঘণ্টা।

এ প্রকল্পে প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ৫০০ টন বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করা হবে। ফলে একদিকে যেমন নগরীর বর্জ্যের চাপ কমবে, অন্যদিকে জ্বালানি উৎপাদনের নতুন উৎস তৈরি হবে।

মাতুয়াইল প্রকল্পের মাধ্যমে শুধু বিদ্যুৎ নয়, আরও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশবান্ধব পণ্য উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে।

এর মধ্যে রয়েছে—

সৌরবিদ্যুৎ
জৈব সার
পশুখাদ্য
পরিবেশবান্ধব ইকো-ব্রিকস (Eco Bricks)

ফলে একটি প্রকল্প থেকেই একাধিক অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত সুবিধা পাওয়া সম্ভব হবে। এটি বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তরের একটি আধুনিক উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণায়ন এখন অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। খোলা স্থানে বর্জ্য ফেলে রাখলে সেখান থেকে প্রচুর মিথেন গ্যাস নির্গত হয়, যা কার্বন ডাই-অক্সাইডের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী গ্রিনহাউস গ্যাস।

নতুন এই প্রকল্পগুলোতে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে বর্জ্য থেকে উৎপন্ন মিথেন সংগ্রহ করে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহার করা হবে। ফলে ক্ষতিকর গ্যাসের নিঃসরণ কমবে এবং পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাবও হ্রাস পাবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের প্রকল্প নগর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় টেকসই সমাধান দেওয়ার পাশাপাশি দেশের জলবায়ু অভিযোজন কর্মসূচিকেও শক্তিশালী করবে।

প্রকল্প দুটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন।

তিনি স্থানীয় সরকার, বিদ্যুৎ এবং পরিবেশ মন্ত্রণালয়কে নিয়ে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক আয়োজনের নির্দেশ দেন, যাতে প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে থাকা সব ধরনের জটিলতা দ্রুত সমাধান করা যায়।

সরকারের লক্ষ্য হলো প্রশাসনিক সমন্বয় বাড়িয়ে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই প্রকল্পগুলো চালু করা।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানের পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে কাজের গুণগত মান, নিরাপত্তা এবং নির্ধারিত সময়সীমা কঠোরভাবে অনুসরণ করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন, যাতে প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা, দক্ষতা এবং কার্যকারিতা বজায় থাকে।

উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

দুটি ওয়েস্ট-টু-এনার্জি প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ঢাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় একটি বড় পরিবর্তন আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রতিদিনের বিপুল পরিমাণ বর্জ্য কার্যকরভাবে ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে দেশের জ্বালানি খাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

একই সঙ্গে পরিবেশ দূষণ কমানো, গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন হ্রাস, বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং টেকসই নগর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে উঠতে পারে। যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প দুটি সম্পন্ন হয়, তবে ২০২৮ সাল থেকেই রাজধানীর বর্জ্য জাতীয় বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি কার্যকর সম্পদে পরিণত হবে।