খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img

পুরান ঢাকার বংশালে ভয়াবহ বিস্ফোরণ! দেয়াল ধসে ব্যবসায়ীর মৃত্যু, কীভাবে ঘটল এই দুর্ঘটনা?

পুরান ঢাকার বংশাল এলাকার মুকিম বাজারে মোটরসাইকেলের যন্ত্রাংশের একটি গুদামে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এক ব্যবসায়ীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় গুদামের একটি...
Homeবাংলা নিউজ স্পেশালরাজধানীপুরান ঢাকার বংশালে ভয়াবহ বিস্ফোরণ! দেয়াল ধসে ব্যবসায়ীর মৃত্যু, কীভাবে ঘটল এই...

পুরান ঢাকার বংশালে ভয়াবহ বিস্ফোরণ! দেয়াল ধসে ব্যবসায়ীর মৃত্যু, কীভাবে ঘটল এই দুর্ঘটনা?

বংশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম মাহফুজুল হক জানান, প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে গুদামের ভেতরে গ্যাসের পাইপলাইন থেকে দীর্ঘ সময় ধরে গ্যাস জমে ছিল। দরজা খোলার পর কোনো উৎস থেকে আগুনের স্ফুলিঙ্গ সৃষ্টি হলে সেই জমে থাকা গ্যাসে বিস্ফোরণ ঘটে এবং দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে।

পুরান ঢাকার বংশাল এলাকার মুকিম বাজারে মোটরসাইকেলের যন্ত্রাংশের একটি গুদামে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এক ব্যবসায়ীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় গুদামের একটি দেয়াল ধসে পড়লে তার নিচে চাপা পড়ে প্রাণ হারান দেলোয়ার হোসেন (৩৫)। একই ঘটনায় গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন তাঁর মামাতো ভাই নাজমুল হোসেন (৩৩), যিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

শুক্রবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে তিনতলা একটি ভবনের নিচতলায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, গ্যাসের পাইপলাইনের লিকেজ থেকে জমে থাকা গ্যাসে বিস্ফোরণের পর আগুন ছড়িয়ে পড়ে। তবে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ভবনটির নিচতলায় ছিল দেলোয়ার হোসেনের মোটরসাইকেলের যন্ত্রাংশ সংরক্ষণের গুদাম। একই ভবনের তৃতীয় তলায় তিনি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বসবাস করতেন।

ভোরে গুদামের দিক থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখে দেলোয়ার তাঁর মামাতো ভাই নাজমুলকে সঙ্গে নিয়ে নিচে নামেন। গুদামের দরজা খোলার কিছুক্ষণের মধ্যেই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তেই আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিস্ফোরণের তীব্রতায় নিচতলার একটি দেয়াল ভেঙে পড়ে।

দেয়ালের নিচে চাপা পড়ে গুরুতর আহত হন দেলোয়ার। অন্যদিকে আগুনে মারাত্মকভাবে দগ্ধ হন নাজমুল হোসেন।

দুর্ঘটনার পরপরই আশপাশের বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। স্থানীয় দোকানকর্মী হামিদুল জানান, ধোঁয়া দেখতে পেয়ে সবাই দ্রুত এগিয়ে গিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি আহত দুইজনকে উদ্ধার করেন।

উদ্ধারকৃতদের দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা সকাল সাড়ে ৬টার দিকে দেলোয়ার হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন। নাজমুল এখনও চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।

বংশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম মাহফুজুল হক জানান, প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে গুদামের ভেতরে গ্যাসের পাইপলাইন থেকে দীর্ঘ সময় ধরে গ্যাস জমে ছিল। দরজা খোলার পর কোনো উৎস থেকে আগুনের স্ফুলিঙ্গ সৃষ্টি হলে সেই জমে থাকা গ্যাসে বিস্ফোরণ ঘটে এবং দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় একজন নিহত এবং একজন দগ্ধ হয়েছেন। আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে অপমৃত্যুর মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণকক্ষের কর্মকর্তা রাশেদ বিন খালিদ জানান, সদর দপ্তরের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে কাজ করার পর আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।

তিনি বলেন, অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, বিস্ফোরণের উৎস এবং মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত শেষে নিশ্চিতভাবে জানানো হবে। বিশেষজ্ঞদের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করছে।

নিহত দেলোয়ার হোসেন মোটরসাইকেলের যন্ত্রাংশ আমদানির ব্যবসার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত ছিলেন। মুকিম বাজার জামে মসজিদের পাশেই ছিল তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও গুদাম।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তাঁর গ্রামের বাড়ি যশোর জেলার বেনাপোল এলাকায়। ব্যবসায়িক কারণে দীর্ঘদিন ধরে তিনি ঢাকায় বসবাস করছিলেন এবং পরিবারের সঙ্গে একই ভবনে থাকতেন।

এই আকস্মিক দুর্ঘটনায় তাঁর পরিবার, স্বজন এবং সহকর্মীদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. ফারুক জানিয়েছেন, দেলোয়ার হোসেনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

এদিকে আহত নাজমুল হোসেনের চিকিৎসা চলছে। তাঁর শারীরিক অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন চিকিৎসকরা।

বংশালের এই দুর্ঘটনা রাজধানীতে গ্যাস লিকেজজনিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরোনো ভবন, অপর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণ এবং নিয়মিত গ্যাসলাইন পরীক্ষা না করার কারণে এ ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

তারা মনে করেন, ভবনের গ্যাসলাইন নিয়মিত পরিদর্শন, লিকেজ শনাক্তে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার এবং নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চললে এমন দুর্ঘটনা অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব।

যদিও প্রাথমিকভাবে গ্যাস লিকেজকে বিস্ফোরণের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, তবুও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখছে।

তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই জানা যাবে বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে কী ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।