বাংলাদেশের স্বর্ণবাজারে আবারও সুখবর পেলেন ক্রেতারা। স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য কমে যাওয়ায় বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) নতুন করে স্বর্ণ ও রূপার দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে। নতুন এই মূল্য বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে দেশের সব জুয়েলারি দোকানে কার্যকর হয়েছে। এর ফলে প্রতি ভরি ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম কমেছে ৩ হাজার ৩২৪ টাকা, যা সাম্প্রতিক সময়ে ক্রেতাদের জন্য বড় ধরনের স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের বৈঠকে সর্বশেষ বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে সংগঠনটির পক্ষ থেকে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে নতুন মূল্যতালিকা জানানো হয়।
বাজুস জানায়, আন্তর্জাতিক বাজারের প্রবণতা এবং দেশের স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের দাম কমে যাওয়ায় নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিয়মিতভাবে এই মূল্য সমন্বয় করা হয়।
নতুন মূল্য অনুযায়ী, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের হলমার্ককৃত স্বর্ণালংকারের প্রতি গ্রাম বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৯ হাজার ৩০ টাকা। আগের দামের তুলনায় প্রতি গ্রামে ২৮৫ টাকা কমেছে।
এর ফলে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের নতুন দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২১ হাজার ৯৫১ টাকা। আগের মূল্যের তুলনায় প্রতি ভরিতে ৩ হাজার ৩২৪ টাকা কম দিতে হবে ক্রেতাদের।
শুধু ২২ ক্যারেট নয়, অন্যান্য ক্যারেটের স্বর্ণের দামও কমানো হয়েছে। নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী—
২১ ক্যারেট হলমার্ককৃত স্বর্ণ: প্রতি গ্রাম ১৮ হাজার ১৭৫ টাকা।
১৮ ক্যারেট স্বর্ণ: প্রতি গ্রাম ১৫ হাজার ৬১০ টাকা।
সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ: প্রতি গ্রাম ১২ হাজার ৭৫৫ টাকা।
ফলে বিভিন্ন মানের স্বর্ণ কেনার ক্ষেত্রেও গ্রাহকরা আগের তুলনায় কিছুটা কম খরচ করবেন।
স্বর্ণের পাশাপাশি রূপার অলংকারের দামেও পরিবর্তন এনেছে বাজুস। নতুন মূল্য অনুযায়ী—
২২ ক্যারেট রূপা: প্রতি গ্রাম ৩৯৫ টাকা।
২১ ক্যারেট রূপা: প্রতি গ্রাম ৩৭৫ টাকা।
১৮ ক্যারেট রূপা: প্রতি গ্রাম ৩২৫ টাকা।
সনাতন পদ্ধতির রূপা: প্রতি গ্রাম ২৪৫ টাকা।
রূপার বাজারেও এই মূল্যছাড় সাধারণ ক্রেতাদের জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাজুস স্পষ্ট করেছে যে, নতুন নির্ধারিত বিক্রয়মূল্যের মধ্যেই ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ফলে ক্রেতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভ্যাট আদায় করা যাবে না।
তবে অলংকারের নকশা, ওজন এবং কারুকাজের ধরন অনুযায়ী মজুরি আলাদাভাবে প্রযোজ্য হবে। এছাড়া স্বর্ণ ও রূপার অলংকার এক্সচেঞ্জ কিংবা পারচেজের ক্ষেত্রে বাজুসের বিদ্যমান নীতিমালাই কার্যকর থাকবে।
এর আগে গত ৬ জুলাইও স্বর্ণের দাম কমিয়েছিল বাজুস। তখন ২২ ক্যারেট হলমার্ককৃত স্বর্ণের প্রতি গ্রাম বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৯ হাজার ৩১৫ টাকা।
সেই সময় প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ২৫ হাজার ২৭৫ টাকা। অর্থাৎ মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে আবারও দাম কমায় ক্রেতাদের জন্য এটি বড় ধরনের স্বস্তির খবর।
বাজুসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে মোট ৮৭ বার স্বর্ণের মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।
এর মধ্যে—
৪৩ বার দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে।
৪৩ বার দাম কমানো হয়েছে।
১ বার ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে।
এতে বোঝা যায়, আন্তর্জাতিক বাজার এবং দেশীয় বাজারের পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রায় নিয়মিতভাবেই স্বর্ণের দাম পরিবর্তিত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বর্ণের দাম নির্ধারণে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ভূমিকা রাখে। এর মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের মূল্য, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের দাম, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার, আমদানি ব্যয় এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি।
এসব বিষয়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাজুস সময়ে সময়ে নতুন মূল্য নির্ধারণ করে, যাতে বাজারে ভারসাম্য বজায় থাকে এবং ক্রেতা ও ব্যবসায়ী উভয় পক্ষই বাস্তবসম্মত দামে লেনদেন করতে পারেন।
স্বর্ণ কেনার সময় অবশ্যই হলমার্কযুক্ত অলংকার কিনতে হবে। একই সঙ্গে বিক্রয় রসিদ সংগ্রহ করা জরুরি। নির্ধারিত মূল্যের বাইরে অতিরিক্ত ভ্যাট দাবি করা হলে সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। এছাড়া অলংকারের ডিজাইনভেদে মজুরি ভিন্ন হতে পারে, তাই কেনার আগে মজুরির পরিমাণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

