খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img

বিদ্যুত চুক্তি বাতিল হচ্ছেনা,দাম কমাতে চলছে আলোচনা: জ্বালানিমন্ত্রী

বিগত সরকারের সময় বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি এখনই বাতিল করার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে সরকার। কারণ এসব চুক্তির সঙ্গে যুক্ত রয়েছে...
Homeবাংলা নিউজ স্পেশালজাতীয়এআই, ড্রোন ও স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তি: কৃষিতে নতুন যুগের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

এআই, ড্রোন ও স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তি: কৃষিতে নতুন যুগের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

কৃষকদের জন্য একটি সমন্বিত ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে কৃষক নিবন্ধন কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ করা হয়েছে, যাতে সরকারি সহায়তা ও কৃষিসেবা সরাসরি কৃষকের কাছে পৌঁছানো যায়।

বাংলাদেশের কৃষিকে আরও আধুনিক, লাভজনক এবং টেকসই খাতে রূপান্তরের লক্ষ্য নিয়ে সরকার গবেষণা, উদ্ভাবন, ডিজিটাল প্রযুক্তি এবং কৃষিযান্ত্রিকীকরণের ওপর জোর দিচ্ছে। জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, কৃষির প্রতিটি পর্যায়ে স্মার্ট প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর মাধ্যমে কৃষকদের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, উৎপাদন ব্যয় হ্রাস এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য একাধিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, কৃষি আর শুধু সনাতনী পদ্ধতির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় কৃষিকে এমন একটি খাতে রূপান্তর করা হবে, যেখানে তথ্য, গবেষণা এবং বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনা হবে উন্নয়নের প্রধান ভিত্তি।

মঙ্গলবার (৮ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের ২১তম কার্যদিবসে প্রশ্নোত্তর পর্বে কিশোরগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব তথ্য তুলে ধরেন।

তিনি জানান, বর্তমান সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কৃষিকে প্রযুক্তিনির্ভর ও প্রতিযোগিতামূলক খাতে উন্নীত করতে বাস্তবমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। গবেষণার ফল মাঠপর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া, কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত করা এবং কৃষি ব্যবস্থাপনাকে ডিজিটাল রূপ দেওয়ার কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, কৃষকদের জন্য একটি সমন্বিত ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে কৃষক নিবন্ধন কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ করা হয়েছে, যাতে সরকারি সহায়তা ও কৃষিসেবা সরাসরি কৃষকের কাছে পৌঁছানো যায়।

এই উদ্যোগের আওতায় সারাদেশের প্রায় ২ কোটি ৭৫ লাখ কৃষককে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রমও চলছে, যা ভবিষ্যতে সরকারি প্রণোদনা, ভর্তুকি এবং কৃষি-সংক্রান্ত বিভিন্ন সুবিধা দ্রুত পৌঁছে দিতে সহায়ক হবে।

সরকার কৃষি ব্যবস্থাপনায় তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার আরও বিস্তৃত করতে একাধিক ডিজিটাল সেবা চালু করছে।

এর মধ্যে রয়েছে—

কৃষক নিবন্ধন ও ডিজিটাল ডাটাবেজ
অনলাইন কৃষিসেবা প্ল্যাটফর্ম
মোবাইলভিত্তিক আবহাওয়ার পূর্বাভাস
কৃষিপণ্যের বাজারদরের তথ্য
আধুনিক কৃষি পরামর্শ
ই-এক্সটেনশন সেবা
দ্রুত তথ্য আদান-প্রদানের ডিজিটাল ব্যবস্থা

এসব সেবার মাধ্যমে কৃষকরা ঘরে বসেই প্রয়োজনীয় তথ্য পাবেন। ফলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ হবে এবং উৎপাদন পরিকল্পনাও আরও কার্যকরভাবে করা সম্ভব হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃষিতে শ্রমিক সংকট মোকাবিলা এবং উৎপাদন ব্যয় কমানোর অন্যতম কার্যকর উপায় হলো কৃষিযান্ত্রিকীকরণ।

এই লক্ষ্য সামনে রেখে সরকার কৃষিযন্ত্রের ব্যবহার বাড়াতে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। আধুনিক কৃষিযন্ত্র ব্যবহারের ফলে জমি প্রস্তুত করা, বীজ বপন, ফসল কাটা, মাড়াই এবং পরিবহনসহ বিভিন্ন কাজে সময় ও শ্রম দুটিই কম লাগবে।

এর ফলে কৃষকের উৎপাদন খরচ কমবে এবং লাভের পরিমাণ বাড়বে।

সরকার কৃষিতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারও দ্রুত সম্প্রসারণ করছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, কৃষি ব্যবস্থাপনায় নিম্নোক্ত প্রযুক্তিগুলোর ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে—

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)
ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি)
রিমোট সেন্সিং
ড্রোন প্রযুক্তি
জিপিএস
স্যাটেলাইট তথ্য
বিগ ডাটা বিশ্লেষণ

এসব প্রযুক্তির মাধ্যমে ফসলের বৃদ্ধি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা যাবে। রোগবালাই দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে কোথায় কতটুকু সার কিংবা সেচ প্রয়োজন, তা নির্ভুলভাবে নির্ধারণ করা যাবে। এতে অপ্রয়োজনীয় খরচ কমবে এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাবে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, তথ্যভিত্তিক প্রিসিশন অ্যাগ্রিকালচার চালুর মাধ্যমে কৃষিকে আরও দক্ষ ও আধুনিক করা হচ্ছে।

এই পদ্ধতিতে জমির অবস্থা, আবহাওয়া, মাটির গুণাগুণ এবং ফসলের চাহিদা বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ফলে সঠিক সময়ে সঠিক পরিমাণ সার, সেচ এবং অন্যান্য কৃষি উপকরণ ব্যবহার করা সম্ভব হয়।

এর মাধ্যমে উৎপাদন ব্যয় কমবে এবং কৃষকের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে সরকার আশা করছে।

কৃষকদের জন্য সরকার ‘খামারি অ্যাপ’ চালু করেছে বলে সংসদে জানান প্রধানমন্ত্রী।

এই অ্যাপের মাধ্যমে কৃষকরা জানতে পারবেন—

কোন এলাকায় কোন ফসল সবচেয়ে ভালো হবে
কতটুকু সার প্রয়োজন
আবহাওয়ার পূর্বাভাস
কৃষি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
ফসল ব্যবস্থাপনার আধুনিক তথ্য

ফলে কৃষকদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ আরও সহজ হবে এবং তারা সময়োপযোগী কৃষি ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করতে পারবেন।

সরকার রাসায়নিক সারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পরিবেশবান্ধব কৃষি ব্যবস্থাকে উৎসাহিত করছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জৈব সার, বায়োফার্টিলাইজার এবং পরিবেশবান্ধব কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে মাটির উর্বরতা রক্ষা করা সম্ভব হবে এবং পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাবও কমবে।

এই উদ্যোগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সরকার কৃষিকে আরও অভিযোজনক্ষম করে তুলতে কাজ করছে।

খরা, অতিবৃষ্টি, লবণাক্ততা কিংবা বন্যার মতো প্রাকৃতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জলবায়ু-সহিষ্ণু ফসল, আধুনিক প্রযুক্তি এবং উন্নত কৃষি ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সরকারের লক্ষ্য হলো এমন একটি কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যা পরিবর্তিত জলবায়ুতেও উৎপাদন ধরে রাখতে সক্ষম হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর কৃষির এই উদ্যোগগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশের কৃষি আরও উৎপাদনশীল, লাভজনক এবং টেকসই হবে।

একই সঙ্গে কৃষকের আয় বাড়বে, উৎপাদন খরচ কমবে এবং নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য উৎপাদন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এতে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে এবং জাতীয় অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিতেও কৃষি খাত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

বিশ্বব্যাপী কৃষিতে প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। সেই বাস্তবতায় বাংলাদেশও কৃষিকে আধুনিকায়নের পথে এগিয়ে নিচ্ছে। ডিজিটাল কৃষিসেবা, স্মার্ট প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ড্রোন, আইওটি, কৃষিযান্ত্রিকীকরণ এবং পরিবেশবান্ধব চাষাবাদের সমন্বিত প্রয়োগ দেশের কৃষি খাতকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে।

সরকারের পরিকল্পনা সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে কৃষক যেমন আধুনিক প্রযুক্তির সুবিধা পাবেন, তেমনি দেশের খাদ্য উৎপাদন আরও স্থিতিশীল হবে। প্রযুক্তিনির্ভর, লাভজনক এবং জলবায়ু-সহিষ্ণু কৃষি ব্যবস্থা গড়ে ওঠার মাধ্যমে বাংলাদেশ ভবিষ্যতের কৃষি উন্নয়নে একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করতে সক্ষম হবে।