খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img

বিদ্যুত চুক্তি বাতিল হচ্ছেনা,দাম কমাতে চলছে আলোচনা: জ্বালানিমন্ত্রী

বিগত সরকারের সময় বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি এখনই বাতিল করার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে সরকার। কারণ এসব চুক্তির সঙ্গে যুক্ত রয়েছে...
Homeবিশ্ব সংবাদইরানে সামরিক হামলার ঘোষণা ট্রাম্পের: মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা?

ইরানে সামরিক হামলার ঘোষণা ট্রাম্পের: মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা?

ট্রাম্প তার বক্তব্যে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও স্পষ্ট করেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন করা নয়।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা আরও এক ধাপ বেড়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের ওপর আগের দিনের সামরিক হামলার পর এবার তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, বুধবার রাতেও দেশটির বিরুদ্ধে আরও শক্তিশালী হামলা চালানো হতে পারে। ট্রাম্পের এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে এবং আঞ্চলিক সংঘাতের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে।

তুরস্কে অনুষ্ঠিত ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকে যাওয়ার আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেখানেই তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে আরও একটি বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।

সাংবাদিকদের উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, তিনি আগাম সতর্ক করে দিতে চান যে, বুধবার রাতেই ইরানের ওপর অত্যন্ত জোরালো আঘাত হানা হতে পারে। তার এই মন্তব্য মুহূর্তেই আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় ন্যাটো সম্মেলন ঘিরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতারা একত্রিত হন। এই সম্মেলনের অন্যতম আলোচিত মুহূর্ত হয়ে ওঠে ট্রাম্পের মন্তব্য।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকের আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প ইরান প্রসঙ্গে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি বলেন, ইরানের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডে তিনি সন্তুষ্ট নন এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।

ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানের বর্তমান আচরণ এবং তাদের বিভিন্ন পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার ভাষায়, ইরান যেভাবে পরিস্থিতিকে এগিয়ে নিচ্ছে, তা গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি ইঙ্গিত দেন, যুক্তরাষ্ট্র শুধু বক্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; প্রয়োজনে সামরিক শক্তিও ব্যবহার করবে। এ কারণেই বুধবার রাতের সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে তিনি প্রকাশ্যে সতর্কবার্তা দিয়েছেন।

ট্রাম্প আবারও পরিষ্কার করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মূল উদ্বেগ ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি। তিনি জানান, ওয়াশিংটনের অবস্থান আগের মতোই অপরিবর্তিত রয়েছে ইরানের হাতে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র যেতে দেওয়া হবে না।

তার মতে, ইরান যদি পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জন করে, তাহলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, পুরো বিশ্বের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে। তাই এই ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর অবস্থান বজায় রাখবে।

ট্রাম্প তার বক্তব্যে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও স্পষ্ট করেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন করা নয়।

বরং ওয়াশিংটনের প্রধান উদ্দেশ্য হলো ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা। তিনি মনে করেন, এই লক্ষ্য পূরণে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই ঘোষণার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হতে পারে। ইতোমধ্যেই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরে টানাপোড়েনের মধ্যে রয়েছে। নতুন করে সামরিক হামলার সম্ভাবনা সেই সংকটকে আরও গভীর করতে পারে।

এছাড়া এই পরিস্থিতি জ্বালানি বাজার, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বৈশ্বিক কূটনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে তেলসমৃদ্ধ অঞ্চল হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের যেকোনো সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতির ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।

ট্রাম্পের বক্তব্যের পর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় নিবিড়ভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। বিভিন্ন দেশ সংঘাত এড়িয়ে কূটনৈতিক সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানালেও সামরিক উত্তেজনা কমার কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত এখনো দেখা যাচ্ছে না।

বিশ্বনেতাদের অনেকেই মনে করছেন, উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেলে তা বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে। তাই আগামী কয়েক ঘণ্টা পরিস্থিতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

সূত্র: আল জাজিরা