খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img

নবম পে স্কেল ২০২৬: এক ধাপে মূল বেতন

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম পে স্কেল এখন চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায়। অর্থ বিভাগ ইতোমধ্যে প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন করেছে। মন্ত্রিসভার...
Homeবাংলা নিউজ স্পেশালজাতীয়নবম পে স্কেল ২০২৬: এক ধাপে মূল বেতন

নবম পে স্কেল ২০২৬: এক ধাপে মূল বেতন

নবম পে স্কেলের সুপারিশ আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যেই মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অর্থমন্ত্রীর সম্মতি পাওয়ার পর অর্থ বিভাগ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভার বিবেচনার জন্য পাঠাবে।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম পে স্কেল এখন চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায়। অর্থ বিভাগ ইতোমধ্যে প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন করেছে। মন্ত্রিসভার অনুমোদন মিললে নতুন বেতন কাঠামো, বিভিন্ন ভাতা, বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট, পেনশন সুবিধা এবং বাস্তবায়নের পূর্ণাঙ্গ নির্দেশনা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে।

তবে সরকার স্পষ্ট করেছে, চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের আগে কোনো গ্রেডের নির্দিষ্ট বেতন, ভাতার পরিমাণ কিংবা বর্ধিত বেতন কবে থেকে হাতে পাওয়া যাবে এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়। বর্তমানে প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রস্তুতি সম্পন্ন করাই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, নবম পে স্কেলের সুপারিশ আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যেই মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অর্থমন্ত্রীর সম্মতি পাওয়ার পর অর্থ বিভাগ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভার বিবেচনার জন্য পাঠাবে।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এ বিষয়ে দ্রুত অগ্রসর হওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যদি আগামী মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রস্তাবটি উপস্থাপন সম্ভব না হয়, তাহলে পরবর্তী বৈঠকে এটি উপস্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নবম পে স্কেল বাস্তবায়নসংক্রান্ত কমিটির সুপারিশ প্রায় চূড়ান্ত। তবে বেসামরিক, সামরিক এবং বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের বেতন কাঠামোর মধ্যে সামঞ্জস্য বজায় রাখা এবং কিছু কারিগরি বিষয় নিষ্পত্তির জন্য সর্বশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এসব বিষয় চূড়ান্ত হওয়ার পরই প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় পাঠানো হবে।

শুরুতে নবম পে স্কেল তিন ধাপে বাস্তবায়নের একটি পরিকল্পনা বিবেচনায় ছিল। সেখানে প্রথম বছরে নতুন মূল বেতনের ৫০ শতাংশ, পরবর্তী অর্থবছরে অবশিষ্ট ৫০ শতাংশ এবং তারও পরে বিভিন্ন ভাতা কার্যকর করার প্রস্তাব আলোচনা হয়েছিল।

কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, এ ধরনের ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করলে কয়েকটি জটিলতা তৈরি হতে পারে।

এর মধ্যে রয়েছে—
কর্মচারীদের প্রত্যাশিত আর্থিক সুবিধা কমে যাওয়ার আশঙ্কা।
বিদ্যমান ইনক্রিমেন্টের সঙ্গে নতুন বেতন সমন্বয়ে জটিলতা।
কিছু ক্ষেত্রে মোট আয় কমে যাওয়ার সম্ভাবনা।
সফটওয়্যারভিত্তিক বেতন হিসাব ও বকেয়া নির্ধারণে অতিরিক্ত সমস্যা সৃষ্টি হওয়া।

এসব কারণ বিবেচনায় এখন একবারেই নতুন মূল বেতন কার্যকর করার প্রস্তাব অধিক গুরুত্ব পাচ্ছে।

বর্তমানে আলোচনায় থাকা বিকল্প পরিকল্পনা অনুযায়ী নবম পে স্কেল কার্যকর হতে পারে দুই ধাপে।

প্রথম ধাপে কার্যকর হবে নতুন মূল বেতন।

দ্বিতীয় ধাপে, অর্থাৎ ২০২৭-২৮ অর্থবছরে পুনর্নির্ধারণ করা হতে পারে—

বাড়িভাড়া ভাতা
চিকিৎসা ভাতা
যাতায়াত ভাতা
অন্যান্য প্রাপ্য সুবিধা

তবে এটি এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। মন্ত্রিসভার অনুমোদন এবং সরকারি প্রজ্ঞাপন জারির পরই বাস্তবায়নের নির্দিষ্ট কাঠামো জানা যাবে।

নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের অন্যতম বড় কাজ হলো ইন্টিগ্রেটেড বাজেট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টিং সিস্টেম (iBAS++) হালনাগাদ করা।

এই সফটওয়্যারের মাধ্যমেই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের—

বেতন প্রদান
ইনক্রিমেন্ট
বকেয়া হিসাব
পেনশন
অন্যান্য আর্থিক সুবিধা

পরিচালিত হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি বেতন ধাপে ধাপে কার্যকর করা হয়, তাহলে সফটওয়্যারে বেতন নির্ধারণ, ইনক্রিমেন্ট সমন্বয় এবং ভাতা হিসাব আরও জটিল হয়ে উঠবে। এজন্যই এক ধাপে মূল বেতন কার্যকর করার পরিকল্পনা বেশি গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠছে।

মন্ত্রিসভা অনুমোদনের পরও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হাতে নতুন বেতন পৌঁছাতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।

কারণ প্রতিটি কর্মচারীর—

বর্তমান মূল বেতন
ইনক্রিমেন্ট
গ্রেড
পদ
বিদ্যমান সুবিধা

যাচাই করে নতুন বেতন নির্ধারণ করতে হবে। এরপর হিসাব অফিসে তথ্য যাচাই, ডেটা এন্ট্রি এবং নতুন বেতন বিল প্রস্তুতের কাজ সম্পন্ন করতে হবে।

ফলে কার্যকারিতা ১ জুলাই থেকে ধরা হলেও বর্ধিত বেতন ব্যাংক হিসাবে জমা হতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।

চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের আগে নির্দিষ্ট বেতন ঘোষণা করা সম্ভব নয়।

তবে সম্ভাব্য সুপারিশ অনুযায়ী—

১ থেকে ১০ গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতন প্রায় ১০০ শতাংশ বা তার কিছু কম বৃদ্ধি পেতে পারে।
১১ থেকে ২০ গ্রেডের কর্মচারীদের মূল বেতন গড়ে প্রায় ১৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।

আগের কমিশনের সুপারিশে বিভিন্ন গ্রেডে মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব ছিল।

তবে রাজস্ব আয়, বাজেট সক্ষমতা এবং বাস্তবায়ন ব্যয়ের বিষয় বিবেচনায় চূড়ান্ত অনুমোদনের আগে এসব হারে পরিবর্তন আসতে পারে।

বর্তমানে সরকারি কর্মচারীরা মূল বেতনের সঙ্গে—

১০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা
৫ শতাংশ বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট

পেয়ে থাকেন।

নতুন পে স্কেল কার্যকর হলে এসব সুবিধা নতুন কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় করা হবে বলে অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

তবে এখনো নিশ্চিত নয়—

মহার্ঘ ভাতা আলাদা সুবিধা হিসেবে থাকবে কি না।
৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট অপরিবর্তিত থাকবে কি না।
অন্যান্য ভাতার নতুন হার কীভাবে নির্ধারণ করা হবে।

এসব বিষয়ে সরকারি গেজেট প্রকাশের পরই স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।

এর আগে অষ্টম পে স্কেল ২০১৫ সালের জুলাই থেকে কার্যকর ধরা হলেও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বর্ধিত বেতন হাতে পান একই বছরের ডিসেম্বরে।

অর্থাৎ কার্যকারিতা এবং বেতন প্রাপ্তির মধ্যে কয়েক মাসের ব্যবধান ছিল। এবারও একই ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে বকেয়া অর্থ পরবর্তীতে একসঙ্গে সমন্বয় করে দেওয়া হতে পারে।

বর্তমানে প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং প্রায় ৯ লাখ পেনশনভোগীর বেতন ও পেনশন বাবদ সরকারের বছরে প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়।

কমিশনের পূর্ণাঙ্গ সুপারিশ বাস্তবায়িত হলে অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের হিসাব।

এ কারণে সরকার নতুন পে স্কেলের চূড়ান্ত কাঠামো নির্ধারণে কয়েকটি বিষয় গুরুত্ব দিচ্ছে—

রাজস্ব আদায়ের সক্ষমতা
বাজেট ঘাটতি
সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ
দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক স্থিতিশীলতা

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন সংগঠনের নেতারাও জানিয়েছেন, গেজেট প্রকাশের আগে কোনো ধরনের বেতনহার বা বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে নিশ্চিত মন্তব্য করা ঠিক হবে না। তাই সবাই এখন সরকারি প্রজ্ঞাপনের অপেক্ষায় রয়েছেন।