খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img
Homeআবহাওয়াভারতে বর্ষা সংকটে! এল নিনোর প্রভাবে ৪৩% কম বৃষ্টি, কৃষিতে বড় বিপদের...

ভারতে বর্ষা সংকটে! এল নিনোর প্রভাবে ৪৩% কম বৃষ্টি, কৃষিতে বড় বিপদের আশঙ্কা

ভারত বিশ্বের অন্যতম কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীর জীবিকা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে যুক্ত। মৌসুমি বৃষ্টিপাত কম হলে ধান, ডাল, ভুট্টা, তুলা, আখসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ফসলের উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে।

ভারতে ২০২৬ সালের জুন মাস জলবায়ুর ইতিহাসে এক উদ্বেগজনক অধ্যায় হিসেবে স্থান করে নিয়েছে। গত ১২৬ বছরের আবহাওয়া রেকর্ড বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, চলতি বছরের জুন মাস দেশের অন্যতম শুষ্ক জুন হিসেবে চিহ্নিত হতে চলেছে। মৌসুমি বৃষ্টিপাতের বড় ধরনের ঘাটতি শুধু আবহাওয়াবিদদের নয়, কৃষক, অর্থনীতিবিদ এবং সাধারণ মানুষের মধ্যেও নতুন করে দুশ্চিন্তার জন্ম দিয়েছে।

বর্ষার মৌসুমের সূচনা সাধারণত জুন মাস থেকেই হয়। কিন্তু এ বছর সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। বরং বর্ষার প্রথম মাসেই বৃষ্টির ঘাটতি রেকর্ড মাত্রায় পৌঁছে যাওয়ায় কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা আরও বেড়েছে।

ভারতে ১৯০১ সাল থেকে নিয়মিতভাবে বৃষ্টিপাতের তথ্য সংরক্ষণ করা হচ্ছে। সেই দীর্ঘ সময়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মাত্র কয়েকটি জুন মাসেই বৃষ্টিপাত ১০০ মিলিমিটারের নিচে নেমেছিল। সেই তালিকায় আগে ছিল ১৯০৫, ১৯২৬, ২০০৯ এবং ২০১৪ সাল।

এবার সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছে ২০২৬ সাল। চলতি বছরের জুনে বৃষ্টিপাত হয়েছে মাত্র ৮৫ মিলিমিটারের সামান্য বেশি, যা গত এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের অন্যতম সর্বনিম্ন। তুলনামূলকভাবে ২০০৯ সালের জুনে বৃষ্টিপাত হয়েছিল প্রায় ৮৭ মিলিমিটারের কিছু বেশি। ফলে শেষ মুহূর্তে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টি না হলে ২০২৬ সাল ইতিহাসের সবচেয়ে শুষ্ক জুন মাসগুলোর একটি হিসেবেই নথিভুক্ত হবে।

আরও পড়ুন :  আইপিএলে ক্রিস গেলের রেকর্ড ভেঙে ইতিহাস বৈভব সূর্যবংশীর, ‘নিউ সিক্স মেশিন’ তকমা দিলেন ইউনিভার্স বস

ভারতের জন্য জুন মাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই সময় থেকেই দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু সক্রিয় হয়ে দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে বৃষ্টি নিয়ে আসে। কৃষিকাজের বড় অংশও এই মৌসুমের ওপর নির্ভরশীল।

কিন্তু এ বছর বর্ষার শুরু থেকেই প্রত্যাশিত বৃষ্টিপাত দেখা যায়নি। বরং মৌসুমি বৃষ্টির ঘাটতি দ্রুত বাড়তে থাকে। ফলে কৃষিজমিতে চাষাবাদ শুরু করা অনেক কৃষক সমস্যায় পড়েছেন। অনেক এলাকায় বীজ বপনের কাজও বিলম্বিত হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা আগেই সতর্ক করেছিলেন যে, এ বছর প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সক্রিয় হওয়া এল নিনো ভারতের মৌসুমি বৃষ্টিপাতকে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করতে পারে।

সাধারণত এল নিনোর সময় সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায় এবং এর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে আবহাওয়ার স্বাভাবিক চক্রে পরিবর্তন আসে। ভারতের ক্ষেত্রে এর অন্যতম বড় প্রভাব পড়ে বর্ষার ওপর। ফলে অনেক সময় স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টি হয়।

যদিও আবহাওয়াবিদরা আগে থেকেই বৃষ্টির ঘাটতির পূর্বাভাস দিয়েছিলেন, তবে জুন মাসেই এত বড় ঘাটতি তৈরি হবে বলে অনেকেই ধারণা করেননি।

সরকারি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, জুন মাসে সারাদেশে গড় বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৪৩ শতাংশ কম হয়েছে। এটি সাম্প্রতিক দশকগুলোর অন্যতম বড় ঘাটতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আরও পড়ুন :  বেনাপোল সীমান্তে বিএসএফের পুশইন অভিযোগ, শূন্যরেখায় অনিশ্চয়তায় নারী-শিশুসহ ১০-১৩ জন

এত বড় বৃষ্টির ঘাটতি শুধু বর্তমান পরিস্থিতিকেই নয়, বর্ষার পরবর্তী মাসগুলোকেও অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। যদি জুলাই ও আগস্টেও পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হয়, তাহলে কৃষি উৎপাদনের ওপর তার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে।

ভারত বিশ্বের অন্যতম কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীর জীবিকা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে যুক্ত। মৌসুমি বৃষ্টিপাত কম হলে ধান, ডাল, ভুট্টা, তুলা, আখসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ফসলের উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে।

বিশেষ করে যেসব অঞ্চলে সেচব্যবস্থা সীমিত, সেখানে কৃষকরা পুরোপুরি বর্ষার পানির ওপর নির্ভরশীল। ফলে বৃষ্টির ঘাটতি তাদের জন্য বড় আর্থিক সংকট তৈরি করতে পারে।

কৃষি উৎপাদন কমে গেলে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে বাজারে। খাদ্যশস্যের সরবরাহ কমে গেলে দাম বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি বর্ষার বাকি সময়েও পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হয়, তাহলে খাদ্য মূল্যস্ফীতি নতুন করে বাড়তে পারে। একই সঙ্গে কৃষকদের আয় কমে যাওয়ার ঝুঁকিও বাড়বে।

কম বৃষ্টিপাত শুধু কৃষিকেই নয়, জলাধার, নদী, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনকেও প্রভাবিত করতে পারে। অনেক অঞ্চলে পানীয় জলের সংকটও দেখা দিতে পারে।

আরও পড়ুন :  অবশেষে বাঁচলো প্রাণ! শূন্যরেখা থেকে সরানো হলো দুই শিশুসহ সেই পরিবার

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব আরও বাড়লে এ ধরনের চরম আবহাওয়া পরিস্থিতি ঘন ঘন দেখা যেতে পারে। তাই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, উন্নত জলসংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার এখন সময়ের দাবি।

২০২৬ সালের জুন মাস ভারতের আবহাওয়ার ইতিহাসে একটি ব্যতিক্রমী অধ্যায় হয়ে উঠেছে। গত ১২৬ বছরের অন্যতম শুষ্ক জুন হিসেবে এই মাস ইতোমধ্যেই আলোচনায় এসেছে। এল নিনোর প্রভাবে মৌসুমি বৃষ্টির বড় ঘাটতি দেশের কৃষি, অর্থনীতি এবং খাদ্য নিরাপত্তার জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

এখন সবার নজর বর্ষার পরবর্তী মাসগুলোর দিকে। জুলাই ও আগস্টে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হলে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে। তবে যদি বৃষ্টির ঘাটতি অব্যাহত থাকে, তাহলে কৃষি উৎপাদন থেকে শুরু করে বাজারদর—সব ক্ষেত্রেই এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।


Discover more from News Bangla24x7

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Table of contents [hide]

আর্কাইভ