নাশতা কিংবা হালকা খাবার হিসেবে নুডলসের জনপ্রিয়তা বরাবরই বেশি। অল্প সময়ে রান্না করা যায়, উপকরণও খুব বেশি লাগে না তাই ব্যস্ত দিনে এটি হয়ে উঠতে পারে দারুণ একটি খাবার। তবে প্রতিদিন ডিম, সবজি কিংবা সাধারণ মসলা দিয়ে নুডলস রান্না করতে করতে অনেকের কাছেই স্বাদটা একঘেয়ে মনে হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে নুডলসে গরুর মাংস যোগ করে তৈরি করতে পারেন মজাদার বিফ নুডলস।
গরুর মাংস, রঙিন সবজি ও সসের সমন্বয়ে তৈরি এই নুডলস স্বাদে যেমন ভিন্ন, তেমনি দেখতেও বেশ আকর্ষণীয়। সবচেয়ে ভালো বিষয় হলো, আগে থেকে রান্না করা বা সেদ্ধ গরুর মাংস থাকলে খুব অল্প সময়েই এই পদটি তৈরি করা যায়। তাই সন্তানের স্কুলের টিফিন, বিকেলের নাশতা, পরিবারের সদস্যদের জন্য দ্রুত খাবার কিংবা হঠাৎ আসা অতিথিদের আপ্যায়ন সব ক্ষেত্রেই এটি হতে পারে চমৎকার একটি আয়োজন।
বিফ নুডলস তৈরির জন্য খুব বেশি উপকরণের প্রয়োজন নেই। রান্নাঘরে থাকা সাধারণ কিছু উপকরণ দিয়েই সুস্বাদু এই খাবার তৈরি করা সম্ভব।
প্রথমে প্রয়োজন হবে ২৫০ গ্রাম স্টিক নুডলস। এর সঙ্গে নিতে হবে আগে থেকে রান্না করা বা সেদ্ধ গরুর মাংস ২০০ গ্রাম। মাংস ছোট কিংবা মাঝারি আকারের টুকরো করে রাখলে নুডলসের সঙ্গে ভালোভাবে মিশে যায়।
স্বাদ বাড়াতে লাগবে ২ টেবিল চামচ সয়া সস এবং ২ টেবিল চামচ টমেটো সস। সবজির জন্য আধা কাপ পেঁয়াজ কুচি, ১ চা চামচ রসুন কুচি, আধা কাপ গাজর কুচি এবং আধা কাপ ক্যাপসিকাম কুচি নিতে পারেন। প্রয়োজন অনুযায়ী সয়াবিন তেল ও লবণ ব্যবহার করতে হবে।
চাইলে নিজের পছন্দ অনুযায়ী আরও কিছু সবজি যোগ করা যায়। তবে খুব বেশি সবজি দিলে নুডলসের মূল স্বাদ কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে। তাই পরিমাণের দিকে খেয়াল রাখা ভালো।
বিফ নুডলসের স্বাদ ভালো করার ক্ষেত্রে নুডলস সেদ্ধ করার বিষয়টি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। নুডলস বেশি সেদ্ধ হয়ে গেলে পরে কড়াইয়ে মেশানোর সময় তা নরম হয়ে ভেঙে যেতে পারে। আবার কম সেদ্ধ হলে খাবারে শক্তভাব থেকে যাবে।
প্রথমে একটি বড় পাত্রে পর্যাপ্ত পানি নিয়ে চুলায় বসান। পানি ভালোভাবে ফুটে উঠলে এতে সামান্য তেল দিন। এরপর নুডলস দিয়ে প্যাকেটের নির্দেশনা অনুযায়ী সেদ্ধ করুন। নুডলস পুরোপুরি নরম না করে সামান্য শক্ত থাকা অবস্থায় নামিয়ে নেওয়াই ভালো।
সেদ্ধ হয়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গে নুডলস একটি ছাঁকনিতে ঢেলে পানি ঝরিয়ে নিন। এরপর ঠান্ডা পানি দিয়ে দ্রুত ধুয়ে নিন। এতে নুডলসের অতিরিক্ত স্টার্চ ধুয়ে যাবে এবং একটির সঙ্গে আরেকটি লেগে থাকার সম্ভাবনাও কমবে। পানি ভালোভাবে ঝরিয়ে নুডলস আলাদা করে রেখে দিন।
এবার মূল রান্নার পালা। একটি কড়াই বা বড় ফ্রাইপ্যানে পরিমাণমতো সয়াবিন তেল গরম করুন। তেল গরম হলে প্রথমে রসুন কুচি দিয়ে অল্প সময় ভাজুন। রসুনের সুন্দর গন্ধ বের হলে এতে পেঁয়াজ কুচি যোগ করুন।
পেঁয়াজ হালকা সোনালি এবং নরম হয়ে এলে আগে থেকে রান্না করা গরুর মাংস কড়াইয়ে দিয়ে দিন। মাংস ভালোভাবে নেড়ে পেঁয়াজ ও রসুনের সঙ্গে মিশিয়ে নিন। এরপর এতে সয়া সস ও টমেটো সস যোগ করুন।
সস দেওয়ার পর মাংস কয়েক মিনিট ভালোভাবে কষিয়ে নিন। এতে মাংসের সঙ্গে সসের স্বাদ সুন্দরভাবে মিশে যাবে এবং নুডলসেও পরে সেই স্বাদ ছড়িয়ে পড়বে। এই পর্যায়ে আঁচ মাঝারি রাখলে মাংস পুড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কম থাকে।
মাংসের মিশ্রণ ভালোভাবে কষানো হয়ে গেলে এবার গাজর ও ক্যাপসিকাম কুচি যোগ করুন। সবজি বেশি সময় রান্না করার প্রয়োজন নেই। অল্প আঁচে কয়েক মিনিট নেড়েচেড়ে নিলেই যথেষ্ট।
গাজর ও ক্যাপসিকাম সামান্য নরম হবে, কিন্তু একেবারে নেতিয়ে পড়বে না এমন অবস্থায় রান্না বন্ধ করা ভালো। এতে বিফ নুডলসে সবজির স্বাভাবিক স্বাদ ও হালকা কড়কড়ে ভাব বজায় থাকবে। পাশাপাশি গাজর ও ক্যাপসিকামের রঙ খাবারটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে।
সবজি দেওয়ার পর প্রয়োজন অনুযায়ী লবণ যোগ করুন। তবে সয়া সসেও লবণ থাকে, তাই একসঙ্গে বেশি লবণ না দিয়ে অল্প অল্প করে দেওয়া ভালো। পরে স্বাদ দেখে প্রয়োজন হলে আরও যোগ করতে পারেন।
সবজি ও গরুর মাংসের মিশ্রণ প্রস্তুত হয়ে গেলে আগে থেকে সেদ্ধ করে রাখা নুডলস কড়াইয়ে ঢেলে দিন। এবার বড় চামচ বা দুইটি কাঠের খুন্তি ব্যবহার করে নিচ থেকে ওপরে তুলে নুডলস মেশাতে থাকুন।
খুব জোরে নাড়াচাড়া করা ঠিক হবে না। এতে নুডলস ভেঙে যেতে পারে। বরং ধীরে ধীরে মাংস, সবজি ও সসের সঙ্গে নুডলস মিশিয়ে নিন। কয়েক মিনিট মাঝারি আঁচে রান্না করলেই সব উপকরণের স্বাদ একসঙ্গে মিশে যাবে।
এই পর্যায়ে চাইলে সামান্য গোলমরিচ গুঁড়া বা কাঁচা মরিচ কুচি যোগ করে স্বাদে ঝালভাব আনতে পারেন। তবে স্কুলের টিফিনের জন্য তৈরি করলে ঝাল কম রাখাই ভালো।
সব উপকরণ ভালোভাবে মিশে গেলে চুলা বন্ধ করে দিন। এরপর তৈরি করা বিফ নুডলস একটি সুন্দর পরিবেশন পাত্রে তুলে নিন। গরম গরম পরিবেশন করলে এর স্বাদ সবচেয়ে ভালো পাওয়া যায়।
স্কুলের টিফিনের জন্য তৈরি করলে নুডলস কিছুটা ঠান্ডা করে পরিষ্কার টিফিন বক্সে দিতে পারেন। সঙ্গে শসা, টমেটো বা অন্য কোনো হালকা সালাদ রাখলে টিফিন আরও আকর্ষণীয় হবে। আর অতিথি আপ্যায়নের ক্ষেত্রে সুন্দর একটি প্লেটে নুডলস সাজিয়ে পরিবেশন করলে সাধারণ নাশতাও হয়ে উঠবে বিশেষ আয়োজন।
বিফ নুডলসের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এটি একসঙ্গে কার্বোহাইড্রেট, মাংস ও সবজির সমন্বয় ঘটায়। ফলে এটি শুধু মুখরোচক নয়, পেটও বেশ কিছুটা ভরিয়ে দেয়। আগের দিনের রান্না করা গরুর মাংস ব্যবহার করেও নতুন একটি খাবার তৈরি করা যায়।
এ ছাড়া রান্নার সময়ও তুলনামূলকভাবে কম। নুডলস আগে থেকে সেদ্ধ করে রাখলে পুরো রান্নাটি আরও দ্রুত শেষ করা সম্ভব। ব্যস্ত সকালে সন্তানের টিফিন তৈরি কিংবা বিকেলে হঠাৎ অতিথি এলে এই রেসিপি বেশ কাজে আসতে পারে।
স্বাদে পরিবর্তন আনতে চাইলে সয়া সস ও টমেটো সসের পরিমাণ নিজের পছন্দ অনুযায়ী সামান্য কম-বেশি করা যায়। তবে সস বেশি দিলে খাবার অতিরিক্ত নোনতা বা ঝাল হয়ে যেতে পারে। তাই ধীরে ধীরে সস যোগ করে স্বাদ ঠিক করে নেওয়াই ভালো।

