১০ আগস্ট এস. এম. সুলতানের জন্মদিন। ১৯২৩ সালের এই দিনে নড়াইলের মাছিমদিয়ার এক দরিদ্র কৃষক পরিবারে জন্ম নিয়েছিলেন শেখ মোহাম্মদ সুলতান—আমাদের লাল মিয়া। ১০৩ বছর পরও সুলতানকে নিয়ে কথা বলতে হয়। কারণ তিনি শুধু ছবি এঁকে যাননি; তিনি শিল্পের প্রচলিত ক্ষমতার কাঠামোর সামনে একটি প্রশ্ন রেখে গেছেন—শিল্প কার জন্য? কার জীবন শিল্পের বিষয় হবে? কার সৌন্দর্যকে সুন্দর বলা হবে? আর কে ঠিক করবে—কোনটি আধুনিক শিল্প? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে গেলে সুলতানকে শুধু ‘পল্লীশিল্পী’ বা ‘কৃষকের চিত্রকর’ বলে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।
তিনি ছিলেন শিল্পের অভিজাত ধারণার বিরুদ্ধে দাঁড়ানো এক স্বতন্ত্র শিল্পী। প্রচলিত শিল্পে কৃষক বহু সময় এসেছে করুণার বিষয় হয়ে। দরিদ্র, ক্ষুধার্ত, ক্লান্ত, পরাজিত—এভাবেই শোষিত মানুষকে দেখানো হয়েছে। সুলতান সেখানে সম্পূর্ণ ভিন্ন পথ নিলেন। তিনি কৃষককে করুণা করেননি; তিনি কৃষককে শক্তিশালী করেছেন। তাঁর কৃষকের পেশি শুধু শরীরের পেশি নয়। তা শ্রমের প্রতীক, উৎপাদনের প্রতীক, টিকে থাকার প্রতীক, প্রতিরোধের সম্ভাবনার প্রতীক। মার্কসবাদী দৃষ্টিতে শ্রমজীবী মানুষ সমাজের উৎপাদনশীল শক্তির প্রধান অংশ। সুলতানের ক্যানভাসে সেই শ্রমশক্তিই যেন দৃশ্যমান হয়ে ওঠে।
তিনি যেন ঘোষণা করেন—যে কৃষককে সমাজের নিচে ঠেলে রাখা হয়েছে, সেই কৃষকই আসলে সমাজের ভিত্তি। এটাই সুলতানের শিল্পের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক বক্তব্য। শিল্প কখনোই সম্পূর্ণ শ্রেণিনিরপেক্ষ কোনো শূন্যস্থানে জন্ম নেয় না। শিল্পী কোন সমাজে বাস করছেন, কার জীবন দেখছেন, কার দুঃখ-সুখ অনুভব করছেন, কোন শ্রেণির মানুষকে কেন্দ্র করছেন—এসবের মধ্যেই শিল্পের সামাজিক অবস্থান প্রকাশ পায়। সুলতান শহরের অভিজাত জীবনকে শিল্পের একমাত্র বিষয় করেননি। তিনি গ্রামে গেছেন, কৃষকের কাছে গেছেন, শ্রমের কাছে গেছেন, মাটির কাছে গেছেন। তাঁর ক্যানভাসে তাই শ্রেণিসমাজের বাস্তবতা এসে পড়েছে।
জমি এসেছে, উৎপাদন এসেছে, দখল এসেছে, সংঘাত এসেছে, হিংসা এসেছে, টিকে থাকার সংগ্রাম এসেছে। এই জায়গা থেকেই ‘চরদখল’ বা ‘হত্যাযজ্ঞ’-এর মতো কাজকে পড়তে হবে। এসব শুধু ছবি নয়—এসবের মধ্যে বাংলার গ্রামীণ সমাজের অন্তর্নিহিত সংঘাতের চিহ্ন রয়েছে। একটি চর মানে শুধু নদীর বুকে জেগে ওঠা ভূমি নয়। চর মানে জমি। জমি মানে মালিকানা। মালিকানা মানে ক্ষমতা। আর ক্ষমতার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে শ্রেণিস্বার্থ। সুতরাং ‘চরদখল’কে শুধু রঙ, রেখা ও অবয়বের আলোচনায় সীমাবদ্ধ করলে ছবিটির সামাজিক অন্তর্নিহিত অর্থ হারিয়ে যায়। সুলতান জানতেন—বাংলার গ্রামীণ জীবন কোনো শান্তির পোস্টকার্ড নয়।
এই মাটিতে কৃষক চাষ করে, কিন্তু জমির ওপর তার অধিকার সবসময় নিশ্চিত নয়। সে উৎপাদন করে, কিন্তু উৎপাদনের ফলের ওপর তার নিয়ন্ত্রণ সবসময় থাকে না। এই বাস্তবতাই শ্রেণিসমাজের বাস্তবতা। এখানে ‘পড়াশোনা জানা’ শিল্পী কথাটির অর্থ কোনো ব্যক্তিকে অপমান করা নয়। বরং প্রশ্নটি শিল্পের একটি শ্রেণিগত কাঠামো নিয়ে। যে শিল্পচর্চা দীর্ঘদিন ধরে শহর, প্রতিষ্ঠান, গ্যালারি, একাডেমি, সমালোচক ও অভিজাত রুচির মধ্য দিয়ে পরিচালিত হয়েছে, সেখানে সুলতান ছিলেন অস্বস্তিকর এক উপস্থিতি। কারণ তিনি প্রতিষ্ঠানের ভাষায় কথা বলেননি; তিনি নিজের ভাষায় কথা বলেছেন। তিনি ইউরোপীয় শিল্পের অনুকরণ করে নিজের আধুনিকতা তৈরি করেননি।
তিনি নিজের মাটির মধ্য থেকে আধুনিকতার সংজ্ঞা তৈরি করেছেন। তাই তাঁকে বোঝার জন্য শুধু শিল্পের তত্ত্ব জানলেই চলত না; জানতে হতো কৃষকের জীবন, বুঝতে হতো শ্রম, বুঝতে হতো জমির প্রশ্ন, বুঝতে হতো শোষণ, বুঝতে হতো মানুষের সংগ্রাম। এই জায়গাতেই সুলতান তাঁর সময়ের অনেক প্রাতিষ্ঠানিক শিল্পরুচির চেয়ে এগিয়ে ছিলেন। আধুনিকতার নামে উপনিবেশিক মানসিকতার অনুকরণ সুলতান গ্রহণ করেননি।
তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন—বাংলার মানুষের নিজস্ব জীবন, শ্রম ও ইতিহাস কি আধুনিক শিল্পের বিষয় হতে পারে না? অবশ্যই পারে। আর সেখানেই তাঁর শিল্পের মৌলিকতা। তিনি ইউরোপকে অস্বীকার করে ইউরোপীয় শিল্প সম্পর্কে অজ্ঞ ছিলেন না। বরং আন্তর্জাতিক শিল্পজগত দেখেও তিনি ফিরে এসেছেন নিজের মাটিতে। এটি পশ্চাৎপদতার লক্ষণ নয়; বরং নিজের সমাজের বাস্তবতার ওপর দাঁড়িয়ে নিজের শিল্পভাষা নির্মাণের সাহস। সুলতানের কৃষাণীকে দেখলেও একই বিষয় স্পষ্ট হয়। তাঁর নারী শুধু সৌন্দর্যের বস্তু নয়। তিনি শ্রম করেন, উৎপাদনের অংশ, শক্তিশালী এবং তাঁর শরীরেও রয়েছে জীবনধারণের সংগ্রামের ছাপ।
এই কারণে সুলতানের নারীচরিত্রকে নিছক সৌন্দর্যচর্চা দিয়ে বিচার করলে তাঁর শিল্পের গভীরতা ধরা পড়ে না। সুলতানের সৌন্দর্য হলো শ্রমের সৌন্দর্য। সুলতানের আরেকটি বড় শিক্ষা হলো—শিল্পকে জনগণের জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন করা যাবে না। তিনি শিশুদের নিয়ে কাজ করেছেন। নড়াইলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিল্পচর্চার উদ্যোগ নিয়েছেন। ‘শিশুস্বর্গ’ ও ‘চারুপীঠ’-এর মতো উদ্যোগের মধ্য দিয়ে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন—শিল্প কোনো বিশেষ শ্রেণির একচেটিয়া সম্পত্তি নয়। শিশুরও অধিকার আছে শিল্পে, গ্রামের মানুষেরও অধিকার আছে সংস্কৃতিতে, শ্রমজীবী মানুষেরও অধিকার আছে সৌন্দর্য নির্মাণে।
এটি ছিল তাঁর মানবিক ও গণমুখী শিল্পচিন্তার গুরুত্বপূর্ণ দিক। কিন্তু এখানেই আসে সবচেয়ে কঠিন প্রশ্ন—এস. এম. সুলতানকে আমরা কি সত্যিই ভালোবাসি, নাকি তাঁর নাম ও শিল্পকে ব্যবহার করি? এস. এম. সুলতানের জীবদ্দশায় তিনি যে মর্যাদা, নিরাপত্তা ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা পাওয়ার কথা ছিল, তা কি আমরা দিতে পেরেছি? জীবিত সুলতান ছিলেন অনেকটাই নিঃসঙ্গ। তিনি নিজের মতো করে জীবন কাটিয়েছেন, ছবি এঁকেছেন, শিশুদের নিয়ে কাজ করেছেন।
অথচ তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর শিল্পকর্মের মূল্য, তাঁর নাম ও তাঁর পরিচিতি বহুগুণে বেড়ে গেল। তাঁর ছবিকে ঘিরে তৈরি হলো সংগ্রাহকের আগ্রহ, বাজারমূল্য এবং নানা ধরনের বাণিজ্যিক লেনদেন। এখানেই আমাদের বিবেকের প্রশ্ন—শিল্পী বেঁচে থাকতে অবহেলিত, শিল্পী মারা গেলে তাঁর ছবি মূল্যবান—এ কেমন সংস্কৃতি? আমার দৃষ্টিতে, আমরা সুলতানকে যতটা ভালোবাসার কথা বলি, বাস্তবে তাঁকে ততটা ভালোবাসিনি। বরং তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর নাম, তাঁর ছবি ও তাঁর শিল্পকর্মকে ঘিরে আমরা অনেকেই নিজেদের স্বার্থ তৈরি করেছি।
এই অভিযোগ শুধু কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নয়; এটি আমাদের সামগ্রিক সাংস্কৃতিক ব্যর্থতার প্রশ্ন। তাহলে কারা ব্যর্থ? শুধু সরকার নয়। শুধু শিল্পীসমাজ নয়। শুধু নড়াইলের মানুষ নয়। শুধু শিল্প-সমালোচক নয়। এখানে দায় রয়েছে রাষ্ট্রের, সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠানগুলোর, শিল্প-সংগঠনের, শিল্প-সমালোচকদের, সংগ্রাহকদের এবং বৃহত্তর সমাজের। রাষ্ট্র যদি একজন জাতীয় শিল্পীর গুরুত্বপূর্ণ শিল্পকর্ম সংরক্ষণের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা না নেয়, সেটি রাষ্ট্রের ব্যর্থতা। শিল্প প্রতিষ্ঠান যদি তাঁর কাজের পূর্ণাঙ্গ আর্কাইভ তৈরি করতে না পারে, সেটি প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতা। শিল্পীসমাজ যদি তাঁর শিল্পের উত্তরাধিকারকে সঠিকভাবে সংরক্ষণ ও গবেষণার উদ্যোগ না নেয়, সেটি সাংস্কৃতিক ব্যর্থতা।
আর যারা তাঁর শিল্পকর্ম সংগ্রহ করেছেন, তাঁদের মধ্যেও যদি কেউ শিল্পের ঐতিহাসিক মূল্যকে পাশ কাটিয়ে শুধু বাজারমূল্যকে প্রাধান্য দেন, সেটি নৈতিক প্রশ্ন তৈরি করে। এখানে আরও একটি মৌলিক প্রশ্ন আছে—একজন শিল্পীর ছবি ব্যক্তিগত সম্পত্তি হতে পারে। কিন্তু একজন ঐতিহাসিক শিল্পীর গুরুত্বপূর্ণ শিল্পকর্ম কি শুধু বাজারের পণ্য হয়ে থাকবে? এস. এম. সুলতানের একটি ছবি শুধু একটি ক্যানভাস নয়।
সেটি বাংলাদেশের শিল্প-ইতিহাসের দলিল, কৃষকের ইতিহাসের দলিল, বাংলার গ্রামীণ সমাজের দলিল এবং একটি সময়ের সামাজিক বাস্তবতার দলিল। তাহলে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ শিল্পকর্ম কোথায়? কোন সংগ্রহে আছে? কীভাবে সংরক্ষিত হচ্ছে? গবেষকরা কি সেগুলো দেখতে পারছেন? সাধারণ মানুষ কি তাঁর শিল্পকর্মের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে? এর পূর্ণাঙ্গ তালিকা, ছবি, তথ্য ও প্রামাণ্য ইতিহাস কি জাতীয়ভাবে সুরক্ষিত?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর আমাদের দিতে হবে। আমার সবচেয়ে বড় আপত্তি এখানেই—আমরা সুলতানের ছবি নিয়ে ব্যবসা করতে শিখেছি, কিন্তু সুলতানের শিল্পদর্শন নিয়ে গভীরভাবে কাজ করতে পারিনি। আমরা তাঁর ছবির দাম নিয়ে কথা বলেছি, কিন্তু তাঁর কৃষক নিয়ে কতটা কথা বলেছি? আমরা তাঁর ক্যানভাসের মূল্য নির্ধারণ করেছি, কিন্তু তাঁর শিল্পের সামাজিক মূল্য কতটা নির্ধারণ করেছি? আমরা তাঁর নাম ব্যবহার করে অনুষ্ঠান করেছি, কিন্তু তাঁর শিল্পের অন্তর্নিহিত প্রশ্নগুলো সমাজের সামনে কতটা তুলেছি? এটাই আমাদের ব্যর্থতা।
সুলতানকে সত্যিকারের সম্মান জানাতে হলে তাঁর শিল্পকর্মকে ব্যক্তিগত সংগ্রহ ও বাজারের অনিশ্চয়তার ওপর ছেড়ে না দিয়ে জাতীয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। তাঁর জীবিত ও মৃত অবস্থার সব শিল্পকর্মের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করতে হবে। উচ্চমানের ডিজিটাল আর্কাইভ তৈরি করতে হবে। প্রতিটি শিল্পকর্মের সময়কাল, মাধ্যম, মাপ, মালিকানা ও ইতিহাস নথিবদ্ধ করতে হবে। নড়াইলে তাঁর স্মৃতি ও শিল্পকর্মকে কেন্দ্র করে একটি শক্তিশালী গবেষণা ও সংরক্ষণ প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবে। ব্যক্তিগত সংগ্রহে থাকা গুরুত্বপূর্ণ সুলতান-চিত্রের তথ্য নথিবদ্ধ করতে হবে। তাঁর শিল্পকর্মের সত্যতা যাচাই, সংরক্ষণ ও গবেষণার জন্য বিশেষজ্ঞদের নিয়ে স্বাধীন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। সুলতান ছিলেন একজন মানুষ।
তিনি নিঃসঙ্গ ছিলেন। তিনি শিশুদের ভালোবাসতেন। প্রাণীদের আশ্রয় দিতেন। গ্রামের মানুষের সঙ্গে থেকেছেন। নিজের মতো করে জীবন কাটিয়েছেন। এই মানুষটিকে আমরা তাঁর মৃত্যুর পর ধীরে ধীরে একটি ‘ব্র্যান্ড’-এ পরিণত করেছি। ‘এস. এম. সুলতান’ একটি নাম, ‘এস. এম. সুলতান’ একটি বাজারমূল্য, ‘এস. এম. সুলতান’ একটি প্রদর্শনী, ‘এস. এম. সুলতান’ একটি উৎসব। কিন্তু সুলতান যে মানুষটির জন্য ছবি এঁকেছিলেন—সেই কৃষক, সেই শ্রমজীবী মানুষ, সেই শিশু—তারা কোথায়? এই প্রশ্নটাই সবচেয়ে জরুরি। সুলতানকে শুধু গ্যালারির দেয়ালে ফিরিয়ে আনলেই হবে না।
তাঁকে ফিরিয়ে আনতে হবে কৃষকের কাছে, শ্রমিকের কাছে, শিশুর কাছে, নড়াইলের মানুষের কাছে, বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের কাছে। তাঁর শিল্প নিয়ে গবেষণা করতে হবে, তাঁর ছবি সংরক্ষণ করতে হবে, তাঁর জীবনকে প্রামাণ্যভাবে নথিবদ্ধ করতে হবে এবং তাঁর শিল্পের সামাজিক-রাজনৈতিক তাৎপর্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে। সুলতানকে ঘিরে ব্যবসা নয়—সুলতানের শিল্পকে ঘিরে জনগণের সাংস্কৃতিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এস. এম. সুলতানকে আমরা যথাযথ সম্মান জানাতে ব্যর্থ হয়েছি—এ কথা স্বীকার করার সাহস আমাদের থাকতে হবে। আমরা তাঁর নামে কথা বলেছি, কিন্তু তাঁর শিল্পের যথাযথ সংরক্ষণ করতে পারিনি। আমরা তাঁর ছবি নিয়ে ব্যবসার সুযোগ তৈরি করেছি, কিন্তু তাঁর শিল্পদর্শনকে জনগণের কাছে যথেষ্টভাবে পৌঁছে দিতে পারিনি।
আমরা তাঁর জন্মদিন পালন করেছি, কিন্তু তাঁর শিল্পের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পারিনি। এখনও সময় আছে। সুলতানের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পকর্মের সন্ধান করতে হবে। হারিয়ে যাওয়া ও নষ্ট হয়ে যাওয়া কাজের তালিকা তৈরি করতে হবে। তাঁর শিল্পের পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল আর্কাইভ করতে হবে। তাঁর জীবন ও শিল্প নিয়ে নিরপেক্ষ ও গভীর গবেষণা করতে হবে। আর সবচেয়ে বড় কথা—সুলতানকে তাঁর ছবির দামের মধ্যে নয়, তাঁর মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতার মধ্যে খুঁজতে হবে। ১০ আগস্ট তাঁর ১০৩তম জন্মবার্ষিকীতে তাই শুধু ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নয়। আজ আমাদের প্রশ্ন করতে হবে—সুলতানের শিল্পকর্ম কোথায়?
কার কাছে আছে? কীভাবে সংরক্ষিত হচ্ছে? কে এর দায়িত্ব নিয়েছে? আর এত বছর পরও কেন তাঁর শিল্পের একটি পূর্ণাঙ্গ জাতীয় আর্কাইভ আমরা তৈরি করতে পারিনি? এই প্রশ্নগুলোর জবাব রাষ্ট্রকে দিতে হবে। জবাব দিতে হবে শিল্প-প্রতিষ্ঠানকে।
জবাব দিতে হবে আমাদের সাংস্কৃতিক সমাজকে। কারণ সুলতানের ছবি যদি কারও ব্যবসার সম্পদ হয়, তবে তাঁর শিল্পের ইতিহাস জনগণের সম্পদ। আর সেই জনগণের সম্পদ সংরক্ষণের দায়িত্ব আমাদের সবার। এস. এম. সুলতানের প্রতি সত্যিকারের শ্রদ্ধা মানে তাঁর ছবির বাজারমূল্য বাড়ানো নয়; তাঁর শিল্পের মর্যাদা, ইতিহাস ও উত্তরাধিকারকে রক্ষা করা।
লেখক: কাইয়ুম শিকদার
sikderkhobir520@gmail.com

