খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img

বিদ্যুত চুক্তি বাতিল হচ্ছেনা,দাম কমাতে চলছে আলোচনা: জ্বালানিমন্ত্রী

বিগত সরকারের সময় বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি এখনই বাতিল করার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে সরকার। কারণ এসব চুক্তির সঙ্গে যুক্ত রয়েছে...
Homeদেশজুড়েএসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ, পাসের হার ৬২.২৫ শতাংশ

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ, পাসের হার ৬২.২৫ শতাংশ

এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। তাদের মধ্যে ছাত্রের সংখ্যা ছিল ৯ লাখ ৩০ হাজার ৩০৫ জন। আর ছাত্রী পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৯ লাখ ২৭ হাজার ৩৯ জন। দেশের ৩০ হাজার ৬৬৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ৩ হাজার ৮৮৫টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেন।

চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এ বছর দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে মোট ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন। সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১০টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশের কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ফল হাতে পাওয়ার সুযোগ পেলেন দেশের লাখো শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা।

ফল প্রকাশের আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন উপস্থিত ছিলেন। এ সময় দেশের বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানরা নিজ নিজ বোর্ডের ফলাফল শিক্ষামন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করেন। পরে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশের প্রক্রিয়া শুরু হয়।

এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। তাদের মধ্যে ছাত্রের সংখ্যা ছিল ৯ লাখ ৩০ হাজার ৩০৫ জন। আর ছাত্রী পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৯ লাখ ২৭ হাজার ৩৯ জন। দেশের ৩০ হাজার ৬৬৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ৩ হাজার ৮৮৫টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেন।

ফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ অপেক্ষারও অবসান হয়েছে। পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর থেকেই ফলাফল নিয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের মধ্যে নানা ধরনের আগ্রহ ও উৎকণ্ঠা ছিল। বিশেষ করে যারা উচ্চশিক্ষার পরবর্তী ধাপে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাদের জন্য এবারের ফলাফল ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় দেশের সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। এর মধ্যে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩১৮ জন।

মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেন ৩ লাখ ৩ হাজার ২৮৬ জন। অন্যদিকে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি ভোকেশনাল ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেন ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন।

সব মিলিয়ে এবারের পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের সংখ্যা ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন। বিশাল এই সংখ্যক পরীক্ষার্থীর ফল প্রকাশকে কেন্দ্র করে শিক্ষা প্রশাসন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়।

চলতি বছরের ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ পাসের হার নিয়ে শিক্ষাঙ্গনে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোর ফলাফল পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার পাসের হার একেক বছর একেক রকম ছিল। কখনো তা ৮০ শতাংশের ওপরে উঠেছে, আবার কোনো কোনো বছরে তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

গত বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ। ওই বছর পাসের হার এবং জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যা দুই ক্ষেত্রেই আগের তুলনায় পতন দেখা গিয়েছিল। দীর্ঘ সময়ের মধ্যে সেটি ছিল তুলনামূলকভাবে কম ফলাফলগুলোর একটি।

এর আগের বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালে মাধ্যমিক পর্যায়ের পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৮৩ দশমিক ৪ শতাংশ। ২০২৩ সালে এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৮০ দশমিক ৩৯ শতাংশ। আর ২০২২ সালে পাসের হার ছিল ৮৭ দশমিক ৪৪ শতাংশ।

২০২১ সালে সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে অনুষ্ঠিত এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৯৩ দশমিক ৬ শতাংশ। এটি ছিল সাম্প্রতিক সময়ের সর্বোচ্চ পাসের হারগুলোর একটি। সে সময় পরিস্থিতি বিবেচনায় পরীক্ষার পাঠ্যসূচি ও মূল্যায়ন পদ্ধতিতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।

পরবর্তী সময়ে শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক ধারায় ফিরে আসার সঙ্গে সঙ্গে পরীক্ষার কাঠামোও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়েছে। ফলে পাসের হারেও পরিবর্তন দেখা গেছে।

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলের দিকে তাকালে গত দেড় দশকে পাসের হারে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যায়। ২০১০ সালে গড় পাসের হার ছিল ৭৮ দশমিক ৯১ শতাংশ। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন বছর এই হার কখনো বেড়েছে, আবার কখনো কমেছে।

২০১৮ সালে পাসের হার ছিল ৭৭ দশমিক ৮ শতাংশ। ২০১০ সালের পরবর্তী সময়ের মধ্যে সেটিও ছিল তুলনামূলকভাবে কম পাসের হার। তবে চলতি বছরের ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশের তুলনায় ২০১৮ সালের হারও অনেক বেশি।

এর আগে ২০০৯ সালে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গড় পাসের হার ছিল ৬৭ দশমিক ৪১ শতাংশ। সেই সময়ের ফলাফলের সঙ্গেও বর্তমান বছরের ফলাফলের তুলনা করা হচ্ছে।

তবে শুধু পাসের হার দিয়ে একটি বছরের শিক্ষাব্যবস্থার সামগ্রিক চিত্র নির্ধারণ করা যায় না। পরীক্ষার প্রশ্নের ধরন, মূল্যায়ন পদ্ধতি, শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি, শিক্ষা কার্যক্রমের পরিবেশ এবং পাঠ্যক্রমের পরিবর্তনের মতো বিষয়গুলোও ফলাফলের ওপর প্রভাব ফেলে।

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আগ্রহ থাকে ফল প্রকাশের তারিখ নিয়ে। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়ে থাকে।

সেই হিসাবে এবারের ফল ২০ জুলাইয়ের মধ্যে প্রকাশের প্রত্যাশা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের তুলনায় পরে ফল প্রকাশ করা হয়েছে। ফলে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অপেক্ষার সময়ও কিছুটা বেড়েছে।

এবারের পরীক্ষায় ছাত্র ও ছাত্রী পরীক্ষার্থীর সংখ্যার মধ্যে খুব বেশি পার্থক্য ছিল না। মোট ৯ লাখ ৩০ হাজার ৩০৫ জন ছাত্র পরীক্ষায় অংশ নেন। বিপরীতে ছাত্রী পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৯ লাখ ২৭ হাজার ৩৯ জন।

অর্থাৎ দুই পক্ষের অংশগ্রহণের হার প্রায় কাছাকাছি। গত কয়েক বছর ধরেই বাংলাদেশের মাধ্যমিক পর্যায়ে ছাত্রীদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ ও ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। শিক্ষা বিস্তারের ক্ষেত্রে এটি একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হয়।

ফল প্রকাশের পর শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন মাধ্যমে তাদের ফলাফল জানতে পারবেন। মোবাইল ফোনের এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট থেকেও ফলাফল দেখা যাবে।

অনলাইনে ফল দেখার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। সাধারণত রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, বোর্ডের নাম এবং পরীক্ষার বছরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য ব্যবহার করে ফলাফল জানা যায়।

আর্কাইভ