খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img

বিদ্যুত চুক্তি বাতিল হচ্ছেনা,দাম কমাতে চলছে আলোচনা: জ্বালানিমন্ত্রী

বিগত সরকারের সময় বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি এখনই বাতিল করার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে সরকার। কারণ এসব চুক্তির সঙ্গে যুক্ত রয়েছে...
Homeজাতীয়গুপ্তবাহিনী’ অতিতের মতো বিশৃঙ্খলা ও বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

গুপ্তবাহিনী’ অতিতের মতো বিশৃঙ্খলা ও বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

একটি মহল পরিকল্পিতভাবে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। বিভিন্ন ধরনের গুজব, মিথ্যা তথ্য ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্যের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে ভুল পথে পরিচালিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। অতীতেও এ ধরনের তৎপরতা দেখা গেছে এবং বর্তমানে আবারও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা চলছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

অতীতের মতো আবারও একটি ‘গুপ্তবাহিনী’ সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি, বিশৃঙ্খলা ছড়ানো এবং মিথ্যা তথ্য প্রচারের চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দেশের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট করে জনগণকে বিভ্রান্ত করার যেকোনো প্রচেষ্টা মোকাবিলায় দেশের মানুষকেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।

রোববার (৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের হাটহাজারী কলেজ মাঠে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে তিনি সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ, তাদের পুনর্বাসন এবং চট্টগ্রামের উন্নয়ন নিয়ে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন। জনগণের কল্যাণকে রাজনীতির মূল লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। কিন্তু এর বিপরীতে কিছু রাজনৈতিক শক্তি বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যের উন্নয়নের জন্য কোনো রাজনৈতিক দল যদি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে থাকে, তাহলে সেই দলটির নাম বিএনপি। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা, দেশের উন্নয়ন এবং মানুষের জীবনমানের পরিবর্তনের বিষয়কে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে রাখতে হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, একটি মহল পরিকল্পিতভাবে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। বিভিন্ন ধরনের গুজব, মিথ্যা তথ্য ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্যের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে ভুল পথে পরিচালিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। অতীতেও এ ধরনের তৎপরতা দেখা গেছে এবং বর্তমানে আবারও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা চলছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, জনগণকে বিভ্রান্ত করার মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করা হলে এর নেতিবাচক প্রভাব সরাসরি সাধারণ মানুষের ওপর পড়ে। ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, যোগাযোগ এবং দৈনন্দিন জীবনেও এর প্রভাব দেখা দিতে পারে।

এ কারণে কোনো তথ্য যাচাই না করে বিশ্বাস না করার জন্যও জনগণের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। বিশেষ করে রাজনৈতিক বক্তব্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন দাবি এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণার ক্ষেত্রে সবাইকে সতর্ক থাকার প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষের মধ্যে বিভেদ তৈরি করে কিংবা মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে কোনোভাবেই দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করা উচিত নয়। জনগণের স্বার্থকে সামনে রেখে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে হবে।

বক্তব্যে রাজপথ বন্ধ করে দেওয়া এবং সাধারণ মানুষের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করার বিষয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, যারা মানুষের চলাচলের পথ বন্ধ করতে চায় কিংবা বিভিন্নভাবে জনজীবনকে বাধাগ্রস্ত করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের চেষ্টা করে, তাদের ব্যাপারে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সেটি শেষ পর্যন্ত দেশের জনগণই নির্ধারণ করবে।

তিনি বলেন, রাজনীতি করার অধিকার সবার রয়েছে। তবে সেই রাজনীতির কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা যেন ব্যাহত না হয়, সে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। মানুষের দৈনন্দিন চলাচল, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং স্বাভাবিক জীবনযাপন বাধাগ্রস্ত করে কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি পরিচালনা করা উচিত নয়।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসে জনগণের মতামত ও সিদ্ধান্তের গুরুত্বও। তিনি মনে করেন, দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে জনগণের ইচ্ছা ও প্রত্যাশাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যারা জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে, তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে মানুষ সচেতনভাবে সিদ্ধান্ত নেবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের মানুষ নানা ধরনের রাজনৈতিক অস্থিরতা, সংকট ও অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে গেছে। এখন মানুষের ভাগ্য নিয়ে আর ছিনিমিনি খেলার সুযোগ দেওয়া যাবে না।

তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ উন্নত জীবন চায়। তারা নিরাপদ পরিবেশে বসবাস করতে চায়, সন্তানদের ভালো শিক্ষা দিতে চায় এবং নিজের পরিশ্রমের মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে চায়। জনগণের এসব প্রত্যাশাকে বাস্তবে রূপ দিতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন অব্যাহত রাখা জরুরি।

দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে। কিন্তু জাতীয় স্বার্থ ও মানুষের কল্যাণের প্রশ্নে সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।

তার মতে, উন্নয়ন শুধু অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বাড়ানো এবং দুর্যোগের সময় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোও উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

হাটহাজারীর অনুষ্ঠানে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। বন্যার কারণে অনেক পরিবার ঘরবাড়ি, কৃষি ও জীবিকার বিভিন্ন উৎসে ক্ষতির মুখে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে আনতে পুনর্বাসন কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, দুর্যোগের পর শুধু তাৎক্ষণিক সহায়তা দিলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ যাতে আবার নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে পারে, সেই ব্যবস্থা করাও প্রয়োজন। ঘরবাড়ি পুনর্নির্মাণ, জীবিকা পুনরুদ্ধার এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো পুনর্বাসনের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিতে হবে।

বন্যা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় নিম্নআয়ের মানুষ। অনেক পরিবার সামান্য সঞ্চয় দিয়ে জীবন চালায়। একটি বড় ধরনের দুর্যোগ তাদের পুরো অর্থনৈতিক কাঠামোকে নষ্ট করে দিতে পারে। তাই পুনর্বাসন পরিকল্পনায় এসব পরিবারের প্রয়োজনকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন তিনি।

চট্টগ্রামের উন্নয়ন নিয়েও অনুষ্ঠানে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতি ও বাণিজ্যের ক্ষেত্রে চট্টগ্রামের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। এই অঞ্চলের উন্নয়নের সঙ্গে জাতীয় অর্থনীতির অগ্রগতিও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত।

চট্টগ্রামে মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন তিনি। স্থানীয় জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা, যোগাযোগব্যবস্থা, অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন খাতে প্রয়োজনীয় উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামের উন্নয়নকে একটি সমন্বিত পরিকল্পনার আওতায় এগিয়ে নিতে হবে। একটি এলাকার উন্নয়ন শুধু একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে সম্ভব নয়। এর সঙ্গে যোগাযোগব্যবস্থা, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং নাগরিক সুবিধার বিষয়গুলোও যুক্ত।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, যেসব উন্নয়নকাজ চট্টগ্রামের জন্য প্রয়োজনীয়, সেগুলো অগ্রাধিকার ও প্রয়োজনের ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। এতে স্থানীয় জনগণের জীবনযাত্রার মান আরও উন্নত হবে এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

দেশের চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ড যাতে কোনো রাজনৈতিক বিভ্রান্তি বা বিশৃঙ্খলার কারণে বাধাগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, উন্নয়নের সুফল শেষ পর্যন্ত জনগণই ভোগ করবে। তাই উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে রাজনৈতিক বিরোধ থাকলেও জনগণের স্বার্থকে ক্ষতিগ্রস্ত করা উচিত নয়।

তার বক্তব্যে উঠে আসে রাজনৈতিক দায়িত্বশীলতার বিষয়টিও। তিনি মনে করেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক। তবে সেই মতপার্থক্য যেন দেশের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে, তা নিশ্চিত করা জরুরি।

তিনি বলেন, জনগণের সামনে সত্য তুলে ধরার পরিবর্তে যদি মিথ্যা তথ্য ও গুজব ছড়িয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা করা হয়, তাহলে এর ক্ষতি সবাইকেই বহন করতে হবে। তাই রাজনৈতিক কর্মসূচি ও বক্তব্যের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতা প্রয়োজন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষ এখন অনেক বেশি সচেতন। তারা কোনটি সত্য এবং কোনটি বিভ্রান্তিকর তথ্য, তা বোঝার সক্ষমতা রাখে। কোনো রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠী জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে মানুষই তার মূল্যায়ন করবে।

রাজপথে বিশৃঙ্খলা কিংবা মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় বাধা সৃষ্টি করার পরিবর্তে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে রাজনৈতিক মতামত প্রকাশের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

তিনি বলেন, জনগণের অধিকার ও মতামতকে সম্মান করেই দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের লক্ষ্য সামনে রেখে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এগিয়ে নেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, নানা ধরনের বাধা ও সংকট থাকলেও বাংলাদেশকে সামনে এগিয়ে নিতে হবে। মানুষের জীবনমান উন্নত করার জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পাশাপাশি তাৎক্ষণিক সমস্যাগুলোরও সমাধান করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে হলে মানুষের আস্থা ও অংশগ্রহণ সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হলে কোনো অপপ্রচার বা বিভ্রান্তি দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারবে না।

তথ্য সূত্র; ইত্তেফাক

আর্কাইভ