খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img

বিদ্যুত চুক্তি বাতিল হচ্ছেনা,দাম কমাতে চলছে আলোচনা: জ্বালানিমন্ত্রী

বিগত সরকারের সময় বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি এখনই বাতিল করার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে সরকার। কারণ এসব চুক্তির সঙ্গে যুক্ত রয়েছে...
Homeআবহাওয়াঢাকার বাতাস আজ ‘সহনীয়’, দূষণের তালিকায় ১৭তম

ঢাকার বাতাস আজ ‘সহনীয়’, দূষণের তালিকায় ১৭তম

আইকিউএয়ারের মানদণ্ড অনুযায়ী, শূন্য থেকে ৫০ পর্যন্ত AQI হলে বাতাসকে ‘ভালো’ হিসেবে ধরা হয়। এই পর্যায়ে বাতাস সাধারণত স্বাস্থ্যঝুঁকির দিক থেকে নিরাপদ বলে বিবেচিত।

রাজধানী ঢাকার বায়ুর মান আজ তুলনামূলকভাবে স্বস্তিদায়ক অবস্থানে রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন শহরের বায়ুদূষণের মাত্রা বিবেচনায় ঢাকার অবস্থান আজ ১২৬টি দেশের মধ্যে ১৭তম। বায়ুর মান পর্যবেক্ষণকারী আন্তর্জাতিক সংস্থা আইকিউএয়ারের প্রকাশিত সূচকে ঢাকার বাতাসকে ‘মাঝারি’ বা ‘সহনীয়’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে আইকিউএয়ারের বায়ুমান সূচকে ঢাকার দূষণ স্কোর ৯১ রেকর্ড করা হয়। এই মাত্রা অনুযায়ী রাজধানীর বাতাস বর্তমানে ‘মাঝারি’ পর্যায়ে রয়েছে। অর্থাৎ সাধারণ মানুষের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি না করলেও সংবেদনশীল কিছু মানুষের ক্ষেত্রে দূষণের প্রভাব পড়তে পারে।

বায়ুদূষণের ক্ষেত্রে ঢাকার অবস্থান প্রতিদিনই আবহাওয়া, বাতাসের গতি, যানবাহনের ধোঁয়া, নির্মাণকাজ, শিল্পকারখানার নির্গমনসহ বিভিন্ন কারণে পরিবর্তিত হয়। কোনো দিন শহরের বাতাস তুলনামূলকভাবে পরিষ্কার থাকে, আবার কোনো দিন দূষণের মাত্রা দ্রুত বেড়ে গিয়ে তা অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ে পৌঁছে যায়। ফলে একটি নির্দিষ্ট দিনের সূচক দিয়ে ঢাকার সামগ্রিক বায়ুদূষণ পরিস্থিতি বিচার করা যায় না। তবে আজকের ৯১ স্কোর সাম্প্রতিক সময়ের তুলনায় রাজধানীবাসীর জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর বলেই মনে করা হচ্ছে।

আইকিউএয়ারের বায়ুমান সূচক বা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (AQI) সাধারণ মানুষের কাছে বায়ুর মান বোঝানোর একটি বহুল ব্যবহৃত সূচক। এই সূচকে বাতাসের দূষণের মাত্রা নির্দিষ্ট স্কোরের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। স্কোর যত বাড়তে থাকে, বায়ুর মান তত খারাপ এবং স্বাস্থ্যঝুঁকিও তত বেশি বলে বিবেচিত হয়।

আইকিউএয়ারের মানদণ্ড অনুযায়ী, শূন্য থেকে ৫০ পর্যন্ত AQI হলে বাতাসকে ‘ভালো’ হিসেবে ধরা হয়। এই পর্যায়ে বাতাস সাধারণত স্বাস্থ্যঝুঁকির দিক থেকে নিরাপদ বলে বিবেচিত।

৫১ থেকে ১০০ পর্যন্ত স্কোরকে ‘মাঝারি’ বা ‘সহনীয়’ বলা হয়। আজ দুপুরে ঢাকার বায়ুর স্কোর ৯১ হওয়ায় রাজধানীর বাতাস এই শ্রেণির মধ্যেই পড়েছে। অর্থাৎ বাতাস পুরোপুরি নির্মল নয়, তবে সাধারণভাবে তাৎক্ষণিকভাবে গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকির পর্যায়েও নেই।

এর পরের ধাপ ১০১ থেকে ১৫০। এই মাত্রায় বাতাস ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়। শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং যাদের আগে থেকেই শ্বাসতন্ত্র বা হৃদ্‌যন্ত্রের সমস্যা রয়েছে, তারা এ ধরনের দূষিত বাতাসে তুলনামূলক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।

১৫১ থেকে ২০০ পর্যন্ত AQI হলে বাতাসকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয়। এ পর্যায়ে শহরের বড় একটি অংশের মানুষের স্বাস্থ্যগত সমস্যা দেখা দিতে পারে। দূষণের মাত্রা আরও বেড়ে ২০১ থেকে ৩০০ হলে সেটি ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়। আর AQI ৩০১-এর ওপরে উঠলে বাতাসকে ‘দুর্যোগপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

এই হিসাব অনুযায়ী, আজ ঢাকার ৯১ স্কোর সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ পর্যায় থেকে বেশ দূরে রয়েছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে শহরের বাতাস সম্পূর্ণ নিরাপদ বা দূষণমুক্ত।

আইকিউএয়ারের তালিকায় আজ ১২৬টি দেশের বিভিন্ন শহরের বায়ুমান তুলনা করা হয়েছে। সেখানে ঢাকার অবস্থান ১৭তম। অর্থাৎ তালিকায় থাকা অনেক শহরের তুলনায় ঢাকার বাতাস আজ কম দূষিত হলেও বিশ্বের সবচেয়ে পরিষ্কার শহরগুলোর তালিকায় রাজধানীর অবস্থান নেই।

বায়ুদূষণের এই বৈশ্বিক তালিকায় আজ সবচেয়ে ওপরে রয়েছে উগান্ডার রাজধানী কামপালা। শহরটির AQI স্কোর ১৭৪। এই স্কোর অনুযায়ী কামপালার বাতাস ‘অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে রয়েছে।

ঢাকার ৯১ এবং কামপালার ১৭৪ স্কোরের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। ফলে আজকের হিসাবে কামপালার বাসিন্দারা ঢাকার তুলনায় অনেক বেশি দূষিত বাতাসের মধ্যে অবস্থান করছেন।

তবে বৈশ্বিক বায়ুমান সূচক একটি নির্দিষ্ট সময়ের পরিস্থিতি তুলে ধরে। দিনের বিভিন্ন সময়ে বাতাসের গতি, তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, বৃষ্টিপাত এবং দূষণের উৎসের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে একটি শহরের AQI স্কোরও পরিবর্তিত হতে পারে।

ঢাকার বায়ুদূষণের পেছনে একাধিক কারণ কাজ করে। রাজধানী একটি ঘনবসতিপূর্ণ ও ব্যস্ত মহানগর। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যানবাহন সড়কে চলাচল করে। এসব যানবাহন থেকে নির্গত ধোঁয়া ও ক্ষুদ্র কণিকা শহরের বায়ুর মানের ওপর প্রভাব ফেলে।

এর পাশাপাশি রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় চলমান নির্মাণকাজও বায়ুদূষণের অন্যতম উৎস। ভবন নির্মাণ, সড়ক সংস্কার, মাটি খোঁড়াখুঁড়ি কিংবা নির্মাণসামগ্রী খোলা অবস্থায় রাখার কারণে বাতাসে ধুলার পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে।

ইটভাটা, শিল্পকারখানা এবং বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি পোড়ানোর কারণেও বাতাসে ক্ষতিকর কণিকার পরিমাণ বাড়ে। বিশেষ করে বাতাসের গতি কম থাকলে এসব দূষিত কণা সহজে ছড়িয়ে যেতে পারে না। তখন তা শহরের ওপরের বায়ুস্তরে জমা হয়ে দূষণের মাত্রা বাড়াতে পারে।

অন্যদিকে বৃষ্টি হলে অনেক সময় বাতাসে থাকা ধুলা ও ক্ষুদ্র কণিকার একটি অংশ মাটিতে নেমে আসে। এতে সাময়িকভাবে বায়ুর মানের উন্নতি হতে পারে। আবার বৃষ্টির পর যানবাহনের চলাচল ও রাস্তার ধুলার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে দূষণের মাত্রা পুনরায় বাড়তেও পারে।

ঢাকার AQI আজ ৯১ হওয়ায় বাতাসকে ‘সহনীয়’ বলা হলেও বিষয়টিকে সম্পূর্ণ স্বস্তির কারণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ ৯১ স্কোর এখনো ‘ভালো’ পর্যায়ে পৌঁছায়নি। শূন্য থেকে ৫০ পর্যন্ত AQI হলে তবেই বাতাসকে ভালো বা তুলনামূলকভাবে পরিষ্কার বলা হয়।

‘মাঝারি’ পর্যায়ের বাতাসে অধিকাংশ মানুষের জন্য বড় ধরনের তাৎক্ষণিক স্বাস্থ্যঝুঁকি না থাকলেও সংবেদনশীল মানুষেরা সমস্যায় পড়তে পারেন। বিশেষ করে শিশু, প্রবীণ ব্যক্তি এবং শ্বাসকষ্ট বা অন্যান্য সংবেদনশীলতা রয়েছে এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে দূষিত বাতাসের প্রভাব বেশি হতে পারে।

তাই ঢাকার বাতাস আজ তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থায় থাকলেও দীর্ঘ সময় বাইরে অবস্থানের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা জরুরি। বিশেষ করে বায়ুদূষণ বেড়ে গেলে খোলা জায়গায় অতিরিক্ত সময় কাটানো থেকে বিরত থাকা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়া উপকারী হতে পারে।

বায়ুদূষণের মাত্রা কোনো স্থির বিষয় নয়। সকালে যে শহরের AQI এক রকম থাকে, দুপুর বা সন্ধ্যায় সেটি পরিবর্তিত হতে পারে। যানবাহনের চাপ, মানুষের চলাচল, আবহাওয়ার পরিবর্তন এবং বাতাসের গতির ওপর নির্ভর করে দূষণের মাত্রায় ওঠানামা দেখা যায়।

এ কারণে আইকিউএয়ারের মতো প্ল্যাটফর্মে নিয়মিত বায়ুর মান পর্যবেক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যাদের বায়ুদূষণের কারণে বেশি সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, তারা বাইরে বের হওয়ার আগে স্থানীয় বায়ুমান সম্পর্কে ধারণা নিতে পারেন।

ঢাকার মতো বড় শহরে বায়ুর মান পর্যবেক্ষণ শুধু একটি সংখ্যা জানার বিষয় নয়। এর মাধ্যমে শহরের পরিবেশগত পরিস্থিতি সম্পর্কে একটি ধারণা পাওয়া যায়। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে বায়ুদূষণ কমাতে কী ধরনের পদক্ষেপ প্রয়োজন, সেটিও বোঝা সম্ভব।

রাজধানীর বাতাসকে স্থায়ীভাবে ভালো রাখতে হলে শুধু সাময়িক কিছু পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়। দূষণের উৎসগুলো চিহ্নিত করে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে সেগুলো নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন।

যানবাহন থেকে নির্গত ধোঁয়া কমাতে পুরোনো ও অতিরিক্ত দূষণকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি গণপরিবহন ব্যবস্থা উন্নত করা হলে ব্যক্তিগত গাড়ির ওপর মানুষের নির্ভরতা কমানো সম্ভব হতে পারে।

নির্মাণকাজের ক্ষেত্রেও পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থাপনা জরুরি। নির্মাণসামগ্রী খোলা অবস্থায় না রাখা, নিয়মিত পানি ছিটানো এবং নির্মাণস্থল থেকে ধুলা ছড়িয়ে পড়া নিয়ন্ত্রণের মতো পদক্ষেপ বায়ুদূষণ কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে।

শিল্পকারখানা ও অন্যান্য দূষণকারী উৎসের ক্ষেত্রেও নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন। শুধু আইন থাকলেই হবে না, সেগুলো বাস্তবায়নও নিশ্চিত করতে হবে।

আজকের ৯১ AQI স্কোর ঢাকার জন্য এক ধরনের সাময়িক স্বস্তির বার্তা। কারণ বাতাস বর্তমানে ‘অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে নেই। তবে শহরটির অবস্থান এখনো ‘ভালো’ বায়ুর মানের মধ্যে পড়ছে না।

বিশ্বের ১২৬টি দেশের মধ্যে ১৭তম অবস্থানে থাকা এবং ৯১ AQI স্কোর—দুটিই দেখাচ্ছে যে রাজধানীর বাতাসে দূষণ এখনো বিদ্যমান। শুধু আগের কোনো দিনের তুলনায় পরিস্থিতি ভালো হলেই সমস্যাটি শেষ হয়ে যায় না।

ঢাকার বায়ুর মান দীর্ঘমেয়াদে উন্নত করতে হলে পরিবহন, নির্মাণ, শিল্প, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নগর পরিকল্পনা সব ক্ষেত্রেই সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। একই সঙ্গে নাগরিকদের সচেতনতাও গুরুত্বপূর্ণ।

আজকের পরিস্থিতিতে সবচেয়ে ইতিবাচক দিক হলো, ঢাকার বাতাস ‘মাঝারি’ বা ‘সহনীয়’ পর্যায়ে রয়েছে। তবে এই অবস্থাকে ধরে রাখা এবং ভবিষ্যতে AQI স্কোর আরও কমিয়ে ‘ভালো’ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়াই হওয়া উচিত মূল লক্ষ্য।

রাজধানীর প্রায় দুই কোটির মানুষের দৈনন্দিন জীবন বায়ুর মানের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তাই বায়ুদূষণকে শুধু পরিবেশগত সমস্যা হিসেবে না দেখে জনস্বাস্থ্য ও নগরজীবনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, দূষণের উৎস নিয়ন্ত্রণ এবং কার্যকর পরিবেশনীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে ঢাকার বাতাসকে আরও বাসযোগ্য করে তোলা সম্ভব।

আর্কাইভ