খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img

বিদ্যুত চুক্তি বাতিল হচ্ছেনা,দাম কমাতে চলছে আলোচনা: জ্বালানিমন্ত্রী

বিগত সরকারের সময় বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি এখনই বাতিল করার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে সরকার। কারণ এসব চুক্তির সঙ্গে যুক্ত রয়েছে...
Homeজাতীয়ভারতীয় ভিসা নিয়ে প্রতারণা, সতর্কবার্তা হাইকমিশনের

ভারতীয় ভিসা নিয়ে প্রতারণা, সতর্কবার্তা হাইকমিশনের

সরকারি কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে তারা আবেদনকারীদের কাছে অর্থ দাবি করছে এবং দ্রুত ভিসা অনুমোদনের নিশ্চয়তা দেওয়ার চেষ্টা করছে। বাস্তবে ভারতীয় হাইকমিশনের কোনো কর্মকর্তা এ ধরনের যোগাযোগ করেন না এবং ব্যক্তিগতভাবে কারও কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ বা ভিসা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন না।

বাংলাদেশে ভারতীয় ভিসা ও বিভিন্ন কনস্যুলার সেবার নামে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ নাগরিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক সতর্কবার্তায় হাইকমিশন জানায়, একটি অসাধু চক্র নিজেদের ভারতীয় হাইকমিশনের কর্মকর্তা বা প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করছে এবং অর্থের বিনিময়ে দ্রুত ভিসা কিংবা অন্যান্য কনস্যুলার সেবা পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখাচ্ছে। এসব দাবি সম্পূর্ণ ভুয়া ও প্রতারণামূলক বলে জানিয়ে নাগরিকদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকার অনুরোধ করা হয়েছে।

ভারতীয় হাইকমিশনের মতে, প্রতারকরা বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করছে। তারা কখনও ফোনকল, কখনও হোয়াটসঅ্যাপ, কখনও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মেসেজ, আবার কখনও ই-মেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করছে। নিজেদের সরকারি কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে তারা আবেদনকারীদের কাছে অর্থ দাবি করছে এবং দ্রুত ভিসা অনুমোদনের নিশ্চয়তা দেওয়ার চেষ্টা করছে। বাস্তবে ভারতীয় হাইকমিশনের কোনো কর্মকর্তা এ ধরনের যোগাযোগ করেন না এবং ব্যক্তিগতভাবে কারও কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ বা ভিসা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন না।

হাইকমিশন স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, ভারতীয় ভিসা পাওয়ার জন্য নির্ধারিত সরকারি প্রক্রিয়াই একমাত্র বৈধ উপায়। আবেদন জমা দেওয়া, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই এবং ভিসা অনুমোদনের পুরো প্রক্রিয়া নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী পরিচালিত হয়। এখানে কোনো ব্যক্তি বা কর্মকর্তা বিশেষ সুবিধা দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন না। ফলে কেউ যদি অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে দ্রুত ভিসা পাইয়ে দেওয়ার দাবি করেন, তাহলে সেটিকে প্রতারণা হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

আরও পড়ুন :  পেদ্রির এক পোস্টে লুকিয়ে ছিল বিশ্বকাপের স্বপ্ন! ফ্রান্সকে হারিয়ে সত্যি করল স্পেন

এ ধরনের প্রতারণা শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণ নয়, অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত তথ্যও অপরাধীদের হাতে চলে যায়। জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য কিংবা ওটিপি শেয়ার করলে পরবর্তীতে আরও বড় ধরনের আর্থিক জালিয়াতির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

ভারতীয় হাইকমিশনের সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, তাদের কোনো কর্মকর্তা কখনও ফোন, হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক, এক্স (সাবেক টুইটার), টেলিগ্রাম বা ই-মেইলের মাধ্যমে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করে অর্থ দাবি করেন না। একইভাবে কোনো কর্মকর্তা আবেদনকারীর ব্যাংক হিসাব, মোবাইল ব্যাংকিং নম্বর বা ব্যক্তিগত আর্থিক তথ্যও চান না।

তাই কেউ যদি নিজেকে হাইকমিশনের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে যোগাযোগ করেন এবং দ্রুত ভিসা, সাক্ষাৎকারের তারিখ এগিয়ে দেওয়া, কনস্যুলার সেবা নিশ্চিত করা বা অন্য কোনো সুবিধার বিনিময়ে অর্থ চান, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে সেই যোগাযোগ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে সাইবার প্রতারণা অনেক কৌশলী হয়ে উঠছে। এখন প্রতারকরা অনেক সময় সরকারি, বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের নাম, লোগো ও কর্মকর্তাদের পরিচয় ব্যবহার করে ভুয়া ই-মেইল পাঠায়। এসব ই-মেইলে ব্যক্তিগত তথ্য, পাসপোর্ট নম্বর, ব্যাংকের তথ্য কিংবা ওটিপি চাইতে পারে।

ভারতীয় হাইকমিশন জানিয়েছে, কোনো অবস্থাতেই এসব তথ্য অপরিচিত ব্যক্তির কাছে দেওয়া উচিত নয়। কারণ একবার এসব তথ্য প্রতারকদের হাতে চলে গেলে তা ব্যবহার করে পরিচয় জালিয়াতি, ব্যাংক জালিয়াতি কিংবা অন্যান্য অপরাধ সংঘটিত হতে পারে।

হাইকমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, কেউ যদি এ ধরনের সন্দেহজনক ফোনকল, বার্তা বা ই-মেইল পান, তাহলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট নম্বর, স্ক্রিনশট, ই-মেইল বা কথোপকথনের অন্যান্য প্রমাণ সংরক্ষণ করতে হবে।

আরও পড়ুন :  ১০ দিনে ১০০ গোল! বিশ্বকাপে গোলের ঝড়—কেন ভাঙছে ৭০ বছরের রেকর্ড?

এরপর যত দ্রুত সম্ভব পুরো বিষয়টি ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনকে জানাতে বলা হয়েছে। অভিযোগের সঙ্গে ফোন নম্বর, স্ক্রিনশট, মেসেজের কপি অথবা অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য সংযুক্ত করে visa.dhaka@mea.gov.in ঠিকানায় পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে। এতে প্রতারণাকারীদের শনাক্ত করা এবং ভবিষ্যতে এমন অপরাধ প্রতিরোধে কর্তৃপক্ষের জন্য ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদেশ ভ্রমণ, চিকিৎসা, শিক্ষা, ব্যবসা কিংবা আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করার জন্য প্রতিবছর বিপুল সংখ্যক মানুষ ভিসার আবেদন করেন। অনেক আবেদনকারী দ্রুত ভিসা পাওয়ার আশায় শর্টকাট পথ খোঁজেন। এই সুযোগটিই কাজে লাগায় প্রতারক চক্র।

তারা দাবি করে যে তাদের সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিশেষ যোগাযোগ রয়েছে অথবা অতিরিক্ত অর্থ দিলেই খুব অল্প সময়ের মধ্যে ভিসা নিশ্চিত করা সম্ভব। বাস্তবে এসব দাবি ভিত্তিহীন। আবেদনকারীদের দুর্বলতা ও তাড়াহুড়োর সুযোগ নিয়ে তারা অর্থ আত্মসাৎ করে এবং পরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়।

সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ব্যবহার করে প্রতারণার প্রবণতা বেড়েছে। ফেসবুক পেজ, হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ, টেলিগ্রাম চ্যানেল কিংবা ভুয়া ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনেকেই নিজেদের ভিসা বিশেষজ্ঞ বা সরকারি প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন।

এসব পেজে আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন দিয়ে বলা হয়, কোনো সাক্ষাৎকার ছাড়াই ভিসা পাওয়া যাবে অথবা নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ দিলেই দ্রুত অনুমোদন নিশ্চিত করা হবে। এসব বিজ্ঞাপনের বেশিরভাগই প্রতারণামূলক। তাই শুধুমাত্র সরকারি ও নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করার পরামর্শ দিয়েছে ভারতীয় হাইকমিশন।

আরও পড়ুন :  বিশ্বকাপ থেকে কোন ক্লাব কত টাকা পেল? ম্যান সিটি, বার্সেলোনা, বায়ার্নের বিশাল আয়!

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতারণা প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো সচেতনতা। অচেনা নম্বর থেকে আসা ফোনকল, সন্দেহজনক লিংক, ভুয়া ই-মেইল কিংবা অস্বাভাবিক আর্থিক প্রস্তাব সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে।

কোনো ব্যক্তি যদি দাবি করেন যে তিনি সরকারি কর্মকর্তা এবং অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে বিশেষ সুবিধা দিতে পারবেন, তাহলে সেই দাবির সত্যতা যাচাই না করে কোনো ধরনের লেনদেন করা উচিত নয়। সরকারি প্রতিষ্ঠানের পরিচয় ব্যবহার করে অর্থ দাবি করা নিজেই একটি বড় ধরনের সতর্ক সংকেত।

ভারতীয় ভিসার আবেদনকারীদের প্রতি হাইকমিশন কয়েকটি বিষয় মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। প্রথমত, শুধুমাত্র নির্ধারিত সরকারি প্রক্রিয়ায় আবেদন করতে হবে। দ্বিতীয়ত, কোনো অবস্থাতেই অচেনা ব্যক্তির কাছে অর্থ পাঠানো যাবে না। তৃতীয়ত, পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র, ব্যাংক তথ্য কিংবা ওটিপির মতো সংবেদনশীল তথ্য কাউকে দেওয়া যাবে না। চতুর্থত, সন্দেহজনক যোগাযোগ পেলে সঙ্গে সঙ্গে প্রমাণ সংরক্ষণ করে কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে।

ভারতীয় হাইকমিশন বলেছে, প্রতারণা প্রতিরোধে শুধু নিজে সতর্ক থাকলেই হবে না; পরিবার, বন্ধু, সহকর্মী এবং পরিচিতদেরও এ বিষয়ে সচেতন করতে হবে। বিশেষ করে যারা প্রথমবার বিদেশ ভ্রমণের জন্য ভিসার আবেদন করছেন, তারা সহজেই প্রতারকদের টার্গেটে পরিণত হতে পারেন। তাই সঠিক তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া এবং ভুয়া প্রচারণা সম্পর্কে মানুষকে সতর্ক করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আর্কাইভ