খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img

বিদ্যুত চুক্তি বাতিল হচ্ছেনা,দাম কমাতে চলছে আলোচনা: জ্বালানিমন্ত্রী

বিগত সরকারের সময় বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি এখনই বাতিল করার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে সরকার। কারণ এসব চুক্তির সঙ্গে যুক্ত রয়েছে...
Homeজাতীয়মাতারবাড়ি সমুদ্রবন্দর পরিদর্শনে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

মাতারবাড়ি সমুদ্রবন্দর পরিদর্শনে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

তিনি মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্পের বিভিন্ন অংশ পরিদর্শন করবেন। প্রকল্পের বর্তমান অগ্রগতি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং বন্দরকে ঘিরে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য নেবেন।

কক্সবাজারের মহেশখালীতে আজ রবিবার সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তিনি মহেশখালীর মাতারবাড়ীতে দেশের অন্যতম বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্প গভীর সমুদ্রবন্দর পরিদর্শন করবেন। পাশাপাশি মাতারবাড়ি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প এবং মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (মিডা) বিভিন্ন কার্যক্রমও সরেজমিনে দেখবেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তর ও রাজনৈতিক পর্যায়ে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। যদিও সফরে কোনো জনসভা বা রাজনৈতিক সমাবেশের কর্মসূচি রাখা হয়নি, তারপরও প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে মহেশখালী ও কক্সবাজারের স্থানীয় মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

সফরকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার পাশাপাশি প্রশাসনিক প্রস্তুতিও শেষ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রটোকল অফিসার-১ মো. উজ্জ্বল হোসেনের স্বাক্ষর করা গত ৪ আগস্টের সরকারি চিঠিতে সফরের বিস্তারিত কর্মসূচির বিষয়টি জানানো হয়েছে।

সরকারি সফরসূচি অনুযায়ী, আজ ৯ আগস্ট সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মহেশখালীর মাতারবাড়ীতে পৌঁছাবেন। সেখানে প্রায় দেড় ঘণ্টা অবস্থান করার কথা রয়েছে তার।

এই সময়ের মধ্যে তিনি মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্পের বিভিন্ন অংশ পরিদর্শন করবেন। প্রকল্পের বর্তমান অগ্রগতি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং বন্দরকে ঘিরে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য নেবেন।

এ ছাড়া মাতারবাড়ি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প এবং মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (মিডা) কার্যক্রমও পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী। সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলোর সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তা, প্রকৌশলী ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময়েরও কথা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর এই সরেজমিন পরিদর্শনকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ, মাতারবাড়িকে কেন্দ্র করে কক্সবাজারের মহেশখালী এলাকায় সমুদ্রবন্দর, বিদ্যুৎ, শিল্প, যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে পুরো অঞ্চলটি ভবিষ্যতে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

প্রধানমন্ত্রীর মহেশখালী সফরে কোনো জনসভা বা বড় ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচি নেই। সফরটি মূলত সরকারি ও উন্নয়ন প্রকল্পকেন্দ্রিক। তারপরও প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে।

কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরটি সম্পূর্ণ অফিসিয়াল। এখানে কোনো জনসভার আয়োজন করা হয়নি।

তবে প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে আগ্রহ রয়েছে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে মহেশখালী এলাকার দীর্ঘদিনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার সমাধানের বিষয়েও প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণের প্রত্যাশা করছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

বিশেষ করে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং কক্সবাজারের সঙ্গে মহেশখালীর সরাসরি ও উন্নত সড়ক যোগাযোগ গড়ে তোলার দাবি স্থানীয়দের অন্যতম প্রধান দাবি হিসেবে উঠে এসেছে।

মহেশখালী একটি উপকূলীয় এলাকা হওয়ায় এখানকার মানুষের জীবন ও অর্থনীতি অনেকটাই নির্ভর করে বেড়িবাঁধ ও যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও অতিরিক্ত জোয়ারের সময় উপকূলীয় মানুষের নিরাপত্তায় বেড়িবাঁধ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

স্থানীয়দের মতে, শুধু উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করলেই হবে না, এর পাশাপাশি বসবাসরত মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও জরুরি। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উপকূলীয় অঞ্চলে দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়তে থাকায় দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়েছে।

অন্যদিকে মহেশখালী-কক্সবাজার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হলে স্থানীয় অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। উন্নত সড়ক যোগাযোগ থাকলে বন্দর, শিল্পকারখানা ও অন্যান্য অবকাঠামো প্রকল্পের সুফল স্থানীয় জনগণের কাছে দ্রুত পৌঁছানো সম্ভব হবে।

প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক আবদুল মান্নান।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি অনুযায়ী নিরাপত্তা, যাতায়াত, প্রটোকল এবং সংশ্লিষ্ট প্রকল্প এলাকায় প্রস্তুতির বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়েছে। সরকারি বিভিন্ন সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করছেন।

প্রধানমন্ত্রীর মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সফরে সাধারণত নিরাপত্তা ও প্রটোকলের বিষয়গুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়। তাই সফরের আগে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে।

স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও প্রধানমন্ত্রীর পরিদর্শনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছেন। প্রকল্পের অগ্রগতি, বাস্তবায়নের বর্তমান অবস্থা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর বাংলাদেশের বড় অবকাঠামো প্রকল্পগুলোর একটি। বঙ্গোপসাগরের উপকূলে এই বন্দরকে ঘিরে দেশের সমুদ্রবাণিজ্যের সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের বড় একটি অংশ সমুদ্রপথের ওপর নির্ভরশীল। বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যও এর ব্যতিক্রম নয়। তাই বড় জাহাজ সরাসরি দেশের বন্দরে প্রবেশের সুযোগ তৈরি করা এবং পণ্য পরিবহনের সময় ও ব্যয় কমানো দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর সেই লক্ষ্য পূরণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বন্দরটি পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর হলে বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের পরিধি আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক বাণিজ্য ও লজিস্টিকস ব্যবস্থায় বাংলাদেশের অবস্থানও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এর সঙ্গে যুক্ত হবে পরিবহন, গুদামজাতকরণ, পণ্য খালাস, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং শিল্পকারখানাভিত্তিক বিভিন্ন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। ফলে শুধু বন্দর নয়, পুরো মহেশখালী-মাতারবাড়ি অঞ্চলেই অর্থনৈতিক কার্যক্রম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দরকে কেন্দ্র করে মহেশখালী এলাকায় শিল্পায়নের সম্ভাবনাও রয়েছে। বড় ধরনের অবকাঠামো প্রকল্প সাধারণত আশপাশের এলাকায় নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করে।

বন্দর থাকলে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো কাঁচামাল আমদানি এবং উৎপাদিত পণ্য বিদেশে পাঠানোর ক্ষেত্রে সুবিধা পেতে পারে। এতে সময় ও পরিবহন ব্যয় কমানোর সুযোগ তৈরি হয়। একই সঙ্গে গড়ে উঠতে পারে লজিস্টিকস সেন্টার, গুদাম, পরিবহন প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন সহায়ক শিল্প।

এই ধরনের বিনিয়োগ বাড়লে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হতে পারে। দক্ষ ও অদক্ষ—দুই ধরনের শ্রমিকের পাশাপাশি প্রকৌশলী, প্রযুক্তিবিদ, পরিবহনকর্মী এবং বিভিন্ন পেশাজীবীর চাহিদা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ফলে মাতারবাড়ি শুধু একটি বন্দর প্রকল্প নয়, বরং একটি বড় অর্থনৈতিক অঞ্চলের ভিত্তি হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো মাতারবাড়ি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প পরিদর্শন। এই প্রকল্পটি মাতারবাড়ির সামগ্রিক উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত।

বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি প্রকল্পকে কেন্দ্র করে যে অবকাঠামো তৈরি হয়েছে, তা মাতারবাড়ি এলাকার সামগ্রিক যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে প্রভাব ফেলেছে। গভীর সমুদ্রবন্দর এবং বিদ্যুৎ প্রকল্প পাশাপাশি থাকায় এই অঞ্চলে বড় ধরনের অবকাঠামোগত পরিবর্তন এসেছে।

প্রধানমন্ত্রী পরিদর্শনের সময় প্রকল্পের বর্তমান পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম সম্পর্কে কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। প্রকল্পের ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন নিয়েও মতবিনিময় হতে পারে।

মাতারবাড়ি সফরে মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বা মিডার কার্যক্রমও পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী। মহেশখালী ও আশপাশের অঞ্চলের বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে এই প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ।

একটি অঞ্চলে যখন একই সঙ্গে বন্দর, বিদ্যুৎকেন্দ্র, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, সড়ক ও অন্যান্য অবকাঠামো তৈরি হয়, তখন সেগুলোর মধ্যে সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়ে। পরিকল্পিত নগরায়ণ, পরিবেশ সংরক্ষণ, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং মানুষের জীবনযাত্রার বিষয়গুলোও তখন বিবেচনায় রাখতে হয়।

মিডার কার্যক্রমের মাধ্যমে এসব উন্নয়ন প্রকল্পের মধ্যে সমন্বয় তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী সরেজমিনে এসব কার্যক্রম দেখার ফলে ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনায় নতুন দিকনির্দেশনা আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রধানমন্ত্রীর সফরে শুধু প্রকল্প পরিদর্শন নয়, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা, অগ্রগতি এবং সমস্যাগুলো সম্পর্কে সরাসরি জানতে এই মতবিনিময় গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সময়মতো কাজ শেষ করা, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, পরিবেশগত বিষয়, যোগাযোগ অবকাঠামো এবং ভবিষ্যৎ রক্ষণাবেক্ষণ—সবকিছুই গুরুত্বপূর্ণ। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে সরাসরি এসব তথ্য পাওয়া গেলে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেও তা সহায়ক হতে পারে।

মাতারবাড়িকে কেন্দ্র করে ভবিষ্যতে আরও বড় উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ রয়েছে। সে কারণে প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে অনেকেই শুধু একটি আনুষ্ঠানিক পরিদর্শন হিসেবে দেখছেন না; বরং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনার ক্ষেত্রেও এর গুরুত্ব রয়েছে বলে মনে করছেন।

সফরসূচি অনুযায়ী, মহেশখালীতে নির্ধারিত কর্মসূচি শেষে দুপুর ১২টার দিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হেলিকপ্টারে করে চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের উদ্দেশে যাত্রা করবেন।

অর্থাৎ মহেশখালীতে তার অবস্থান দীর্ঘ সময়ের জন্য নয়। অল্প সময়ের এই সফরের মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মেগাপ্রকল্প সরেজমিনে পরিদর্শন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়ের কর্মসূচি রাখা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে কক্সবাজার ও মহেশখালীতে সাধারণ মানুষের আগ্রহের পাশাপাশি উন্নয়ন প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের মধ্যেও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বড় প্রকল্পগুলোর পাশাপাশি এলাকার দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত সমস্যাগুলোর দিকেও সরকার গুরুত্ব দেবে।

মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর, বিদ্যুৎ প্রকল্প, শিল্পায়ন, সড়ক যোগাযোগ এবং সমন্বিত উন্নয়ন—সবকিছু একসঙ্গে বাস্তবায়িত হলে মহেশখালীর অর্থনৈতিক চিত্রে বড় পরিবর্তন আসতে পারে।

একসময় উপকূলীয় ও অপেক্ষাকৃত পিছিয়ে থাকা অঞ্চল হিসেবে পরিচিত মহেশখালী এখন জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পরিণত হয়েছে। বড় বড় প্রকল্পের কারণে এখানে নতুন কর্মসংস্থান, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবেশ, স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রা এবং দুর্যোগঝুঁকির বিষয়গুলোও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা প্রয়োজন। বিশেষ করে উপকূলীয় এলাকায় শিল্পায়নের সঙ্গে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

স্থানীয় মানুষের দাবি, বড় প্রকল্পের সুফল যেন শুধু জাতীয় অর্থনীতিতে সীমাবদ্ধ না থাকে। বরং স্থানীয় জনগণ যেন কর্মসংস্থান, যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অন্যান্য নাগরিক সুবিধার মাধ্যমে এসব উন্নয়ন প্রকল্পের সরাসরি সুফল পান।

সব মিলিয়ে আজকের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মাতারবাড়ি সফরকে ঘিরে কক্সবাজারের মহেশখালীতে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সফরের সময় গভীর সমুদ্রবন্দর, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প এবং মিডার কার্যক্রম পরিদর্শনের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে তিনি উন্নয়ন অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করবেন।

দীর্ঘমেয়াদে মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর বাংলাদেশের বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নির্ভর করবে প্রকল্পের কার্যকর বাস্তবায়ন, বন্দর ব্যবস্থাপনা, যোগাযোগ অবকাঠামো এবং এর সঙ্গে যুক্ত শিল্প ও লজিস্টিকস ব্যবস্থার ওপর। একই সঙ্গে স্থানীয় জনগণের জীবনমান উন্নয়ন ও পরিবেশগত ভারসাম্য নিশ্চিত করাও হবে গুরুত্বপূর্ণ।

প্রধানমন্ত্রীর আজকের সফর তাই শুধু একটি প্রকল্প পরিদর্শনের কর্মসূচি নয়; বরং দেশের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলীয় অঞ্চলের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সম্ভাবনা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং স্থানীয় মানুষের প্রত্যাশার সঙ্গে যুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সফর হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আর্কাইভ