বেনারসি শাড়ি মানেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে ঐতিহ্যবাহী সাজ। সঙ্গে মানানসই ব্লাউজ, গয়না আর সুন্দর করে পরা আঁচল—সব মিলিয়েই যেন বাঙালি ও ভারতীয় ফ্যাশনের চেনা ছবি। কিন্তু সেই চেনা ধারণাকেই এবার নতুনভাবে উপস্থাপন করলেন শচীন তেন্ডুলকরের মেয়ে সারা তেন্ডুলকর।
বেনারসি শাড়ির সঙ্গে সাধারণ ব্লাউজের বদলে করসেট! এমন ফ্যাশন ভাবনা যে নজর কাড়বে, সেটাই স্বাভাবিক। সারার নতুন সাজের ছবি প্রকাশ্যে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে আলোচনা। কেউ তাঁর সাহসী ফ্যাশন সেন্সের প্রশংসা করছেন, আবার কেউ তুলছেন অন্য প্রশ্ন—“আঁচল কোথায়?”
শাড়ির সঙ্গে ক্রপ টপ কিংবা জিন্স পরার ট্রেন্ড নতুন নয়। আধুনিক ফ্যাশনে শাড়িকে নানা ধরনের পোশাকের সঙ্গে মেলানোর প্রবণতা ইতিমধ্যেই জনপ্রিয়।
কিন্তু বেনারসির সঙ্গে করসেটের সমন্বয় নিঃসন্দেহে আলাদা। সারা তেন্ডুলকর সেই পরীক্ষাই করেছেন নিজের সাজে।
হালকা সবুজ রঙের বেনারসি শাড়ির সঙ্গে তিনি বেছে নিয়েছেন অফ-হোয়াইট রঙের করসেট। করসেটটি তৈরি হয়েছে পিওর স্যাটিন ও অর্গ্যানজা সিল্ক দিয়ে। এর সুইটহার্ট নেকলাইন এবং বডি-ফিট কাট পুরো সাজে আধুনিকতার ছোঁয়া দিয়েছে।
সারার পরনে থাকা বেনারসির রংও তাঁর সাজের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। হালকা সবুজ রঙের শাড়িতে রয়েছে সরু পাড়। সেখানে রুপোলি জরি এবং লাল সুতোর কাজ শাড়িটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
ঐতিহ্যবাহী বেনারসির সঙ্গে আধুনিক করসেটের এই মিশেলই সারার লুককে আলাদা করে তুলেছে।
সাধারণত বেনারসি পরলে ব্লাউজের নকশা এবং শাড়ির পাড়ের সঙ্গে মিল রেখে সাজ সম্পূর্ণ করা হয়। কিন্তু সারা সেই চেনা ছক থেকে বেরিয়ে গিয়ে একেবারে ভিন্ন স্টাইল বেছে নিয়েছেন।
শুধু পোশাকেই নয়, গয়না বাছাইয়েও সারার সাজ ছিল বেশ পরিমিত।
গলায় ছিল নজরকাড়া নেকলেস। তার সঙ্গে হাতে পরেছিলেন ম্যাচিং হিরের কাফ ব্রেসলেট। ভারী গয়নায় নিজেকে সাজানোর পরিবর্তে পোশাকের আধুনিক সৌন্দর্যকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
ফলে বেনারসির ঐতিহ্য এবং করসেটের আধুনিকতা—দুটিই আলাদা করে ফুটে উঠেছে।
সারার মেকআপও ছিল বেশ স্বাভাবিক। চোখের সাজ খুব বেশি ভারী করা হয়নি। ঠোঁটে ছিল মিউটেড রোজি শেডের লিপস্টিক।
মুখের চারপাশে কিছুটা স্বাভাবিক ও অবিন্যস্তভাবে রাখা চুল তাঁর পুরো লুককে আরও সহজ এবং আধুনিক করে তুলেছে।
অর্থাৎ, পোশাক ছিল নজরকাড়া হলেও মেকআপ এবং হেয়ারস্টাইলে অতিরিক্ত সাজের পথে হাঁটেননি সারা।
সারার এই সাজ নিয়ে প্রশংসার পাশাপাশি সমালোচনাও শুরু হয়েছে। বিশেষ করে তাঁর শাড়ি পরার ধরন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।
সাধারণ বেনারসি শাড়ির সঙ্গে যে আঁচলটি সাজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ, সারার এই লুকে সেটি প্রচলিতভাবে চোখে পড়েনি। তাই সোশ্যাল মিডিয়ায় কেউ কেউ সরাসরি প্রশ্ন করেছেন—“আঁচল কোথায়?”
অবশ্য আধুনিক ফ্যাশনের ক্ষেত্রে শাড়ি পরার ধরনে এমন পরিবর্তন নতুন কিছু নয়। ডিজাইনার ও ফ্যাশনপ্রেমীরা নিয়মিতই ঐতিহ্যবাহী পোশাককে নতুন আঙ্গিকে উপস্থাপন করছেন।
সারার এই লুকের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য সম্ভবত এখানেই। তিনি বেনারসির মতো একটি ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় পোশাককে আধুনিক পোশাকের সঙ্গে মিশিয়েছেন।
এর ফলে একই সাজে একদিকে রয়েছে ভারতীয় সংস্কৃতির ছোঁয়া, অন্যদিকে রয়েছে সমকালীন ফ্যাশনের সাহসী পরীক্ষা।
ফ্যাশন দুনিয়ায় এই ধরনের পরীক্ষাই অনেক সময় নতুন ট্রেন্ডের জন্ম দেয়। তাই সারার সাজ নিয়ে এত আলোচনা হওয়াও অস্বাভাবিক নয়।
সোশ্যাল মিডিয়ায় সারার নতুন সাজের ছবি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। ফ্যাশনপ্রেমীদের একাংশ তাঁর নতুন ভাবনার প্রশংসা করছেন।
তাঁদের মতে, একই ধরনের চেনা শাড়ির সাজের বাইরে গিয়ে সারা নতুন কিছু করার চেষ্টা করেছেন। বিশেষ করে করসেটের সঙ্গে বেনারসির সমন্বয়কে তাঁরা সাহসী ফ্যাশন স্টেটমেন্ট হিসেবে দেখছেন।
অন্যদিকে, সমালোচকদের একাংশ মনে করছেন, বেনারসির ঐতিহ্যবাহী সৌন্দর্য বজায় রাখতে আরও প্রচলিত স্টাইল ব্যবহার করা যেত।
সব মিলিয়ে সারার এই সাজ প্রশংসা এবং বিতর্ক—দুইয়েরই জন্ম দিয়েছে।
শচীন তেন্ডুলকরের মেয়ে সারা তেন্ডুলকর এর আগেও নিজের ফ্যাশন সেন্সের কারণে আলোচনায় এসেছেন। তবে এবারের লুকের বিশেষত্ব হলো, ভারতীয় ঐতিহ্যবাহী বেনারসিকে তিনি একেবারে সমকালীন পোশাকের সঙ্গে জুড়ে দিয়েছেন।
ফলে এটি শুধু একটি পোশাকের পরিবর্তন নয়, বরং ঐতিহ্যবাহী ফ্যাশনকে নতুনভাবে দেখার একটি উদাহরণও বলা যায়।
শেষ পর্যন্ত সারা তেন্ডুলকরের এই সাজ নতুন ট্রেন্ড তৈরি করবে কি না, তা সময়ই বলবে। তবে একটি বিষয় ইতিমধ্যেই স্পষ্ট—করসেটের সঙ্গে বেনারসি পরে সারা তেন্ডুলকর যে নেটপাড়ার নজর কেড়েছেন, তা নিয়ে সন্দেহ নেই।

