খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img

বিদ্যুত চুক্তি বাতিল হচ্ছেনা,দাম কমাতে চলছে আলোচনা: জ্বালানিমন্ত্রী

বিগত সরকারের সময় বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি এখনই বাতিল করার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে সরকার। কারণ এসব চুক্তির সঙ্গে যুক্ত রয়েছে...
Homeবিশ্ব সংবাদবাংলাদেশসৌদি আরবে সোফা কারখানায় ভয়াবহ আগুনে প্রাণ গেল ৭ বাংলাদেশির

সৌদি আরবে সোফা কারখানায় ভয়াবহ আগুনে প্রাণ গেল ৭ বাংলাদেশির

সাতজন প্রবাসী শ্রমিকের একসঙ্গে মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতার আশায় বিদেশে পাড়ি জমানো এসব মানুষের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে স্বজনরা এখন অনেকটা দিশেহারা।

সৌদি আরবে একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ হয়ে সাত বাংলাদেশি শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের সবাই বাংলাদেশের নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলার বাসিন্দা বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন। রোববার (৯ আগস্ট) সৌদি আরবের ওই কারখানায় আগুন লাগার পর তাদের মৃত্যু হয়।

একই উপজেলার সাতজন প্রবাসী শ্রমিকের একসঙ্গে মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতার আশায় বিদেশে পাড়ি জমানো এসব মানুষের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে স্বজনরা এখন অনেকটা দিশেহারা।

আত্রাই উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে সাত বাংলাদেশির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তবে অগ্নিকাণ্ডে আরও কেউ হতাহত হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে তখনও পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের ওই সোফা কারখানায় নিহত সাত বাংলাদেশির বাড়িই নওগাঁর আত্রাই উপজেলায়। তাদের মধ্যে চারজন উপজেলার গন্ডগোহালী গ্রামের বাসিন্দা। আরও দুজন বিষা গ্রামের এবং একজন পারকাসুন্দা গ্রামের বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

একই এলাকার এতজন মানুষ বিদেশের একটি কর্মস্থলে একসঙ্গে প্রাণ হারানোর ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। অনেক পরিবারই এখনো বিশ্বাস করতে পারছেন না যে জীবিকার প্রয়োজনে বিদেশে যাওয়া তাদের প্রিয় মানুষ আর কখনো দেশে ফিরবেন না।

নিহতদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে চলছে আহাজারি। স্বজনরা বলছেন, পরিবারের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার আশায় তারা সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। নিয়মিত আয় করে পরিবারের খরচ চালানো এবং স্বজনদের আর্থিকভাবে সহযোগিতা করাই ছিল তাদের প্রধান লক্ষ্য। কিন্তু একটি অগ্নিকাণ্ড সেই স্বপ্নকে মুহূর্তের মধ্যে শেষ করে দিয়েছে।

আরও পড়ুন :  বিশ্বকাপ লাইভ স্ট্রিমিংয়ের নামে ভয়ংকর ফাঁদ! জানুন কীভাবে বাঁচবেন

প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, রোববার সৌদি আরবের একটি সোফা তৈরির কারখানায় আগুনের সূত্রপাত হয়। সোফা তৈরির কারখানায় বিভিন্ন ধরনের দাহ্য উপকরণ ও ফোমজাতীয় সামগ্রী থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। তবে এই ঘটনায় ঠিক কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।

অগ্নিকাণ্ডের পর সৌদি আরবের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উদ্ধার ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করে বলে জানা গেছে। তবে ঘটনাস্থলের বিস্তারিত পরিস্থিতি, আগুন নিয়ন্ত্রণে কত সময় লেগেছে এবং কারখানায় সে সময় মোট কতজন শ্রমিক ছিলেন এসব বিষয়ে এখনো পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

দুর্ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে কি না বা তদন্তের অগ্রগতি কতদূর, সে বিষয়েও বিস্তারিত তথ্যের অপেক্ষা রয়েছে।

তবে এসব সংখ্যার কোনোটি নির্ভরযোগ্যভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যের ওপর নির্ভর না করে স্থানীয় প্রশাসনের নিশ্চিত করা তথ্যকেই আপাতত গ্রহণ করা হচ্ছে।

আত্রাই উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত সাত বাংলাদেশির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। তাই প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত অতিরিক্ত কোনো সংখ্যা প্রচার না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সৌদি আরব থেকে স্বজনের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর নিহতদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে শোক নেমে এসেছে। কেউ হারিয়েছেন স্বামীকে, কেউ ভাইকে, আবার কোনো পরিবার হারিয়েছে পরিবারের প্রধান উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে।

নিহতদের পরিবারের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা এখন স্বজনদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা। পরিবারের সদস্যরা সরকারের সহযোগিতা কামনা করছেন, যাতে সৌদি আরবের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা যায়।

আরও পড়ুন :  বিশ্বকাপের শেষ আটে মহারণ! আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড নাকি স্পেন—কে যাবে সেমিফাইনালে?

প্রবাসী কোনো শ্রমিক বিদেশে মারা গেলে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে বিভিন্ন প্রশাসনিক ও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। এর মধ্যে মরদেহ শনাক্তকরণ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত, স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অনুমোদন এবং দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা অন্যতম।

নিহতদের পরিচয় ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর মরদেহ দেশে পাঠানোর বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যেতে পারে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে পরিবারগুলো।

সাত বাংলাদেশির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার পর স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে। নিহতদের পরিচয়, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ এবং মরদেহ দেশে ফেরানোর বিষয়ে পরবর্তী তথ্যের জন্য প্রশাসনও অপেক্ষা করছে।

একই উপজেলার সাতজনের মৃত্যুর ঘটনা হওয়ায় বিষয়টি স্থানীয়ভাবে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। নিহতদের পরিবারের পাশে প্রশাসনিকভাবে কী ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে, সে বিষয়েও পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

এদিকে সৌদি আরবের বাংলাদেশ দূতাবাস বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অগ্নিকাণ্ডের বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার পর ঘটনার প্রকৃত চিত্র আরও পরিষ্কার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সৌদি আরবের এই অগ্নিকাণ্ডের ক্ষেত্রেও সাতজন বাংলাদেশির মৃত্যুর বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন নিশ্চিত করেছে। কিন্তু এর বাইরে আরও কতজন নিহত বা আহত হয়েছেন, তা এখনো নির্ভরযোগ্যভাবে নিশ্চিত হয়নি।

একই সঙ্গে কারখানায় অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা যথাযথ ছিল কি না, জরুরি সময়ে শ্রমিকদের বের হওয়ার পর্যাপ্ত সুযোগ ছিল কি না এবং কোনো ধরনের অবহেলা ছিল কি না এসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় আসতে পারে।

যদি নিরাপত্তাজনিত কোনো ঘাটতি থেকে থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে একই ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

আরও পড়ুন :  মাতারবাড়ি সমুদ্রবন্দর পরিদর্শনে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

নওগাঁর আত্রাই উপজেলার একই এলাকার সাত বাংলাদেশির একসঙ্গে মৃত্যুর ঘটনা নিঃসন্দেহে অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। প্রবাসে কর্মরত মানুষের জন্য পরিবারের প্রত্যাশা থাকে একদিন তারা নিরাপদে দেশে ফিরে আসবেন। কিন্তু সৌদি আরবের এই অগ্নিকাণ্ড সেই অপেক্ষাকে চিরস্থায়ী শোকে পরিণত করেছে।

নিহতদের স্বজনরা এখন শেষবারের মতো প্রিয় মানুষগুলোর মুখ দেখতে চান। তাদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে এনে পারিবারিকভাবে দাফনের ব্যবস্থা করাই এখন পরিবারের প্রধান আকাঙ্ক্ষা।

স্থানীয় মানুষের মধ্যেও এই ঘটনায় গভীর শোক বিরাজ করছে। একই এলাকার এতজন মানুষের একসঙ্গে মৃত্যু পুরো সম্প্রদায়ের জন্যই বড় ক্ষতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বর্তমানে নিশ্চিত তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের একটি সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার সাত বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে গন্ডগোহালী গ্রামের চারজন, বিষা গ্রামের দুজন এবং পারকাসুন্দা গ্রামের একজন রয়েছেন।

তবে অগ্নিকাণ্ডে মোট কতজন হতাহত হয়েছেন, আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, কারখানায় তখন কতজন শ্রমিক ছিলেন এবং অন্য কোনো বাংলাদেশি সেখানে ছিলেন কি না এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো পুরোপুরি পাওয়া যায়নি।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও পরবর্তী আনুষ্ঠানিক তথ্যের ভিত্তিতেই দুর্ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র সামনে আসবে। আপাতত সবচেয়ে বড় বিষয় হলো নিহত সাত বাংলাদেশির পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া এবং তাদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা।

সৌদি আরবের এই অগ্নিকাণ্ড তাই শুধু সাতটি পরিবারের জন্য নয়, পুরো আত্রাইবাসী এবং দেশের মানুষের জন্যই গভীর বেদনার একটি ঘটনা। ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে কর্মস্থলের নিরাপত্তা জোরদার করা এবং প্রবাসী শ্রমিকদের সুরক্ষায় আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।

আর্কাইভ