খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img
Homeস্পোটস ওয়ার্ল্ডফিফা বিশ্বকাপ স্পেশালমেসির হ্যাটট্রিকে উড়ল আর্জেন্টিনা, ক্লোজ়ের বিশ্বকাপ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করে ইতিহাস গড়লেন...

মেসির হ্যাটট্রিকে উড়ল আর্জেন্টিনা, ক্লোজ়ের বিশ্বকাপ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করে ইতিহাস গড়লেন লিওনেল মেসি

গোলের পরও ম্যাচ সহজ ছিল না। আলজেরিয়া মাঝমাঠে বেশ কয়েকবার আর্জেন্টিনার কাছ থেকে বল কেড়ে নেয়। ফলে শুরুতে কিছুটা চাপে পড়তে হয় স্কালোনির দলকে।

বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও নিজের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিলেন লিওনেল মেসি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক করে আর্জেন্টিনাকে ৩-০ গোলের জয় এনে দেন তিনি। শুধু দলকে এগিয়েই দেননি, বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা ১৬-তে পৌঁছে জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোজ়ের রেকর্ডও স্পর্শ করেছেন। ম্যাচের ৭৮ মিনিটে মাঠ ছাড়ার আগে নিজের কাজ নিখুঁতভাবে শেষ করে গেছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক।

বিশ্বকাপে মেসির আরেকটি অবিস্মরণীয় রাত

বিশ্বকাপের প্রতিটি আসরেই লিওনেল মেসির দিকে থাকে কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর নজর। এই ম্যাচেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে দেখা যায় আর্জেন্টিনাকে। কোচ লিওনেল স্কালোনি শুরু থেকেই মেসিকে মাঠে নামিয়ে স্পষ্ট বার্তা দেন যে দল দ্রুত গোলের সন্ধানে নামছে।

মেসিও কোচের আস্থার মর্যাদা রাখেন। ম্যাচের শুরু থেকেই প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে ব্যস্ত রাখেন তিনি। কখনও মাঝমাঠে নেমে খেলা তৈরি করেছেন, আবার কখনও সামনে উঠে গিয়ে গোলের সুযোগ সৃষ্টি করেছেন।

দূরপাল্লার শটে প্রথম গোল, এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা

ম্যাচের প্রথম দিকে আলজেরিয়া মেসিকে আটকাতে বিশেষ পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামে। তার জন্য আলাদা দুই ডিফেন্ডারকে নজরদারির দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলারের জন্য এসব কৌশল নতুন কিছু নয়।

১৭ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে বল পেয়ে দ্রুত এগিয়ে যান মেসি। বক্সে ঢোকার চেষ্টা না করে প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে বাঁ পায়ের দুর্দান্ত শট নেন তিনি। আলজেরিয়ার গোলরক্ষক লুকা জিদান বল ছুঁতে পারলেও সেটি জালে জড়িয়ে যায়। সেই গোলেই ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা।

মাঝমাঠে লড়াই, তবে নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে আর্জেন্টিনা

গোলের পরও ম্যাচ সহজ ছিল না। আলজেরিয়া মাঝমাঠে বেশ কয়েকবার আর্জেন্টিনার কাছ থেকে বল কেড়ে নেয়। ফলে শুরুতে কিছুটা চাপে পড়তে হয় স্কালোনির দলকে।

তবে ধীরে ধীরে নিজেদের ছন্দ ফিরে পায় আর্জেন্টিনা। ওয়ান-টাচ ফুটবল খেলে তারা প্রতিপক্ষকে চাপে রাখে। দ্রুত পাস আদান-প্রদান এবং ফাঁকা জায়গা তৈরি করার কৌশলে আলজেরিয়ার রক্ষণভাগ বারবার বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে।

ফাঁকা জায়গা খুঁজে বেড়ানো মেসির মাস্টারক্লাস

মেসির অন্যতম বড় শক্তি হলো খেলার পরিস্থিতি পড়ে নেওয়ার ক্ষমতা। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে আলজেরিয়ার কোচ তার ওপর বিশেষ নজর রাখছেন। তাই এক জায়গায় না থেকে পুরো মাঠজুড়ে ঘুরে বেড়িয়েছেন।

কখনও ডানদিকে, কখনও বাঁদিকে, আবার কখনও মাঝমাঠে নেমে এসে খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করেছেন। এর ফলে তার সতীর্থদের জন্যও আক্রমণ সাজানো সহজ হয়েছে।

বিরতির আগে আর্জেন্টিনার নিয়ন্ত্রিত ফুটবল

প্রথম গোলের পর আর্জেন্টিনা খেলার গতি কিছুটা কমিয়ে দেয়। তারা জানত, আলজেরিয়া সমতায় ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে উঠবে। তাই বলের দখল ধরে রেখে প্রতিপক্ষকে সুযোগ না দেওয়ার কৌশল নেয় স্কালোনির দল।

প্রথমার্ধে আলজেরিয়া আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগ ভাঙতে ব্যর্থ হয়। অন্যদিকে মেসিকে দেখে কোথাও ক্লান্ত মনে হয়নি। বরং প্রতিটি আক্রমণে তার উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

দ্বিতীয় গোলে সুযোগসন্ধানী মেসি

দ্বিতীয়ার্ধে আর্জেন্টিনা আরও আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলতে শুরু করে। এক আক্রমণে বাঁদিক থেকে বল বাড়ানো হয়। সেই বল পৌঁছে যায় অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের কাছে। তার জোরালো শট গোলরক্ষক লুকা জিদান ফিরিয়ে দিলেও বল গিয়ে পড়ে মেসির সামনে।

এমন সুযোগ খুব কমই নষ্ট করেন তিনি। দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে ডান পায়ের শটে বল জালে পাঠান মেসি। তাতে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা।

এই গোলটি ছিল একজন প্রকৃত স্ট্রাইকারের গোল। আক্রমণ শুরু করেছিলেন তিনি নিজেই, আবার সেটি শেষও করলেন নিজের পায়ে।

স্কালোনির কৌশলগত পরিবর্তন

ম্যাচের ৫৫ মিনিটে আক্রমণভাগে পরিবর্তন আনেন স্কালোনি। লাউতারো মার্তিনেজ ও থিয়াগো আলমাডার পরিবর্তে মাঠে নামানো হয় ইউলিয়ান আলভারেজ এবং নিকোলাস গঞ্জালেজকে।

এই পরিবর্তনের মূল উদ্দেশ্য ছিল মেসির ওপর চাপ কমানো। কোচ চাইছিলেন তার অধিনায়ককে যতক্ষণ সম্ভব সতেজ রাখতে। কারণ ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ তখন পুরোপুরি আর্জেন্টিনার হাতে।

হ্যাটট্রিকে ইতিহাস স্পর্শ

ম্যাচের ৭০ মিনিটে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। আবারও বক্সের বাইরে বল পেয়ে যান মেসি। আলজেরিয়ার রক্ষণভাগ আগের ভুল থেকেই শিক্ষা নিতে পারেনি।

ফাঁকা জায়গা পেয়ে বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে বল জালে জড়িয়ে দেন তিনি। গোলরক্ষকের কোনো সুযোগই ছিল না। সেই গোলের মাধ্যমে পূর্ণ হয় তার হ্যাটট্রিক এবং আর্জেন্টিনা ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

এই গোলের বিশেষ গুরুত্ব ছিল আরও একটি কারণে। বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা ১৬-তে নিয়ে গিয়ে জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোজ়ের রেকর্ড স্পর্শ করেন মেসি। ফলে বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোলদাতাদের তালিকায় আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করেন তিনি।

৭৮ মিনিটে মাঠ ছাড়লেন মেসি

হ্যাটট্রিক সম্পূর্ণ করার কিছুক্ষণ পরই মেসিকে মাঠ থেকে তুলে নেন স্কালোনি। ম্যাচ তখন কার্যত আর্জেন্টিনার নিয়ন্ত্রণে।

কোচ জানতেন, সামনে আরও গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ রয়েছে। তাই অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি নিতে চাননি। ৭৮ মিনিটে মাঠ ছাড়ার সময় দর্শকদের দাঁড়িয়ে অভিবাদন পেয়েছেন মেসি। তার বদলি নামলেও মাঠজুড়ে তখনও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন তিনিই।

লুকা জিদানকে ঘিরেও ছিল বাড়তি আগ্রহ

এই ম্যাচে আলজেরিয়ার গোলপোস্টে দাঁড়িয়েছিলেন লুকা জিদান। তিনি ফরাসি ফুটবল কিংবদন্তি জিনেদিন জিদানের ছেলে। যদিও তার বাবা ফ্রান্সের হয়ে বিশ্বকাপ জিতেছেন, লুকা নিজের মায়ের দেশের প্রতিনিধিত্ব করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তবে এই ম্যাচে তাকে কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হয়। বিশেষ করে মেসির দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ের সামনে বারবার অসহায় দেখিয়েছে তাকে।

আর্জেন্টিনার শিরোপা স্বপ্ন আরও উজ্জ্বল

এই জয়ের মাধ্যমে আর্জেন্টিনা শুধু তিন পয়েন্টই পায়নি, বরং নিজেদের শক্তিরও বড় প্রমাণ দিয়েছে। দলগত ফুটবল, মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ এবং আক্রমণভাগের কার্যকারিতা—সব ক্ষেত্রেই তারা ছিল এগিয়ে।

আর সেই সাফল্যের কেন্দ্রে ছিলেন লিওনেল মেসি। তার হ্যাটট্রিক, রেকর্ড স্পর্শ এবং অসাধারণ পারফরম্যান্স ফুটবলপ্রেমীদের মনে দীর্ঘদিন জায়গা করে নেবে। বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও তিনি দেখিয়ে দিলেন, বড় ম্যাচের নায়ক হতে এখনও তিনিই যথেষ্ট।