আফ্রিকার উত্তর উপকূলে অবস্থিত স্পেনশাসিত শহর সেউতায় সমুদ্রপথে প্রবেশের পর খাবার, আশ্রয় ও নিরাপত্তা সংকটের মুখে পড়ে আবার মরক্কোয় ফিরে যাচ্ছেন হাজার হাজার অভিবাসী। সীমান্ত পেরিয়ে নতুন জীবনের আশায় আসা অনেকেই ২৪ ঘণ্টাও সেখানে থাকতে পারেননি।
স্থানীয় সূত্র ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার থেকে হাজার হাজার মানুষ সমুদ্র সাঁতরে কিংবা সীমান্ত অতিক্রম করে সেউতায় প্রবেশ করেন। প্রায় ৮৫ হাজার জনসংখ্যার ছোট এই শহরে হঠাৎ বিপুলসংখ্যক মানুষের আগমনে খাবার ও থাকার ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। ক্ষুধার্ত শিশুদের কান্না এবং খোলা আকাশের নিচে রাত কাটানোর মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
অভিবাসীদের অভিযোগ, সেউতায় পৌঁছানোর পর নিরাপত্তা বাহিনী জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে তাদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। তবে সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায় খাদ্য ও আশ্রয়ের সংকট। অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘুরেও খাবার বা থাকার জায়গা পাননি। ফলে বাধ্য হয়ে তারা আবার মরক্কোয় ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন করে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে মরক্কো সীমান্তে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। সীমান্তজুড়ে সাঁজোয়া যান মোতায়েন করা হয়েছে, ফলে নতুন করে কেউ সহজে সেউতায় প্রবেশ করতে পারছেন না।
তাঞ্জিয়ারের এক তরুণ অভিবাসী জানান, অন্যদের উৎসাহে তিনি সেউতায় এসেছিলেন। সঙ্গে কিছু টাকা থাকলেও শুক্রবার দুপুরের পর আর কোনো খাবার জোটেনি। তাই তিনি আবার মরক্কোয় ফিরে যাচ্ছেন। তাঁর ভাষায়,এভাবে সেউতায় চলে আসাটা ঠিক হয়নি।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার থেকে শুক্রবারের মধ্যে প্রায় ৬০ হাজার মানুষ সেউতায় প্রবেশ করেন। এর মধ্যে প্রায় ৪৫ হাজার জন ইতোমধ্যেই মরক্কোয় ফিরে গেছেন।
সেউতার আঞ্চলিক প্রশাসনের মতে, গত জুলাই মাসে স্পেনের সর্বোচ্চ আদালতের একটি রায়ের পর এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ওই রায়ে বলা হয়, সমুদ্রপথে এসে আটক হওয়া অভিবাসীদের তাৎক্ষণিকভাবে ফেরত পাঠানো যাবে না। ধারণা করা হচ্ছে, এই সিদ্ধান্তের সুযোগ নেওয়ার আশায় বহু মানুষ সমুদ্রপথে সেউতায় প্রবেশ করেছিলেন। কিন্তু পর্যাপ্ত খাদ্য, আশ্রয় ও নিরাপত্তার অভাবে তাদের বড় একটি অংশ শেষ পর্যন্ত ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছেন।

