খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img
Homeবাংলা নিউজ স্পেশালরিয়াদের সোফা কারখানায় আগুন, প্রাণ গেল ১৬ বাংলাদেশির; ভাগ্যক্রমে বেঁচে গেলেন হাবিবুর

রিয়াদের সোফা কারখানায় আগুন, প্রাণ গেল ১৬ বাংলাদেশির; ভাগ্যক্রমে বেঁচে গেলেন হাবিবুর

অগ্নিকাণ্ডের সময় কারখানাটিতে মোট ১৭ জন বাংলাদেশি কর্মী ছিলেন বলে জানা গেছে। তাঁদের মধ্যে একমাত্র হাবিবুর রহমান হাবিব বাইরে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান। ঘটনার কিছুক্ষণ আগে তিনি চুল কাটার জন্য একটি সেলুনে গিয়েছিলেন। ফিরে এসে তিনি দেখতে পান, যে কারখানায় তাঁর সহকর্মীরা ছিলেন, সেটি ভয়াবহ আগুনে জ্বলছে।

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছেন ১৬ বাংলাদেশি। রিয়াদের শিফা থানা এলাকার মুসা সানাইয়া শিল্প এলাকায় একটি সোফা তৈরির কারখানায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। আগুনে পুড়ে এবং ধোঁয়ায় শ্বাসরোধ হয়ে প্রাণ হারান সেখানে কর্মরত ১৬ বাংলাদেশি।

অগ্নিকাণ্ডের সময় কারখানাটিতে মোট ১৭ জন বাংলাদেশি কর্মী ছিলেন বলে জানা গেছে। তাঁদের মধ্যে একমাত্র হাবিবুর রহমান হাবিব বাইরে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান। ঘটনার কিছুক্ষণ আগে তিনি চুল কাটার জন্য একটি সেলুনে গিয়েছিলেন। ফিরে এসে তিনি দেখতে পান, যে কারখানায় তাঁর সহকর্মীরা ছিলেন, সেটি ভয়াবহ আগুনে জ্বলছে।

এই মর্মান্তিক ঘটনায় বাংলাদেশে নিহতদের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। ইতিমধ্যে রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাস ১৬ জন বাংলাদেশির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা এবং পরিবারগুলোর জন্য সরকারি সহায়তা ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রোববার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার দিকে রিয়াদের শিফা থানা এলাকার মুসা সানাইয়া শিল্প এলাকায় আগুনের সূত্রপাত হয়। ওই এলাকায় বিভিন্ন ধরনের শিল্প ও কারখানা রয়েছে।

আগুন লাগার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় সৌদি আরবের ফায়ার সার্ভিস। শুরু হয় উদ্ধার অভিযান। কারখানার ভেতরে আটকে থাকা কর্মীদের উদ্ধারের চেষ্টা করেন উদ্ধারকর্মীরা।

তবে আগুনের তীব্রতা এবং ঘন কালো ধোঁয়ার কারণে উদ্ধারকাজ অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে সমন্বয় করে বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারাও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।

রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের লেবার উইং জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযান শেষে কারখানা থেকে মোট ১৬টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় সময় রাত ১১টার দিকে উদ্ধার অভিযান শেষ হয়।

প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে পাঠানো তথ্যের ভিত্তিতে এই ধারণার কথা জানানো হয়েছে।

তবে আগুনের প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রয়োজন। আগুন লাগার পর দ্রুত তা ছড়িয়ে পড়ার কারণ কী ছিল, কারখানাটিতে অগ্নিনিরাপত্তার ব্যবস্থা কেমন ছিল এবং জরুরি পরিস্থিতিতে বের হওয়ার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল কি না—এসব বিষয়ও তদন্তে উঠে আসতে পারে।

আরও পড়ুন :  রোনাল্ডো কি সত্যিই ‘বিসমিল্লাহ’ বলেছিলেন? ভাইরাল ভিডিওর আসল রহস্য!

কারখানায় একসঙ্গে এতজন বাংলাদেশি কর্মী থাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার মধ্যে বেঁচে যাওয়া একমাত্র বাংলাদেশি কর্মী হাবিবুর রহমান হাবিবের ঘটনাটি আরও হৃদয়বিদারক।

ঘটনার সময় তিনি কারখানায় ছিলেন না। দুপুর দেড়টার দিকে তিনি চুল কাটার জন্য একটি সেলুনে গিয়েছিলেন।

কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে তিনি দেখতে পান, কারখানায় ভয়াবহ আগুন জ্বলছে। ভেতরে থাকা তাঁর ১৬ সহকর্মী আর বের হতে পারেননি।

হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন, তাঁরা শুধু কর্মী ছিলেন না। ওই কারখানাটির মালিকানার সঙ্গেও তাঁরা যুক্ত ছিলেন। নিজেরাই আসবাবপত্র তৈরি করতেন এবং পরে সেগুলো বিক্রি করতেন।

ফলে নিহত ১৬ জনের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের পরিচয় ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। কয়েক মিনিটের ব্যবধানেই একটি স্বাভাবিক কর্মদিবস পরিণত হয় ভয়াবহ ট্র্যাজেডিতে।

স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, নিহত ১৬ জনের মধ্যে আটজন সরাসরি আগুনে পুড়ে মারা গেছেন।

অন্যদিকে বাকি আটজনের মৃত্যু হয়েছে কালো ধোঁয়ায় শ্বাস বন্ধ হয়ে।

কারখানার মতো আবদ্ধ জায়গায় আগুন লাগলে ধোঁয়া দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অনেক সময় আগুনের চেয়েও ধোঁয়া বেশি প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে। এই দুর্ঘটনাতেও সেটিই ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে।

আগুন লাগার পর ভেতরে আটকে পড়া ব্যক্তিরা দ্রুত বের হতে না পারায় পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে।

সৌদি আরবের রিয়াদে অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাংলাদেশিদের মধ্যে রয়েছেন ফরিদ, শুভ, মো. রুবেল প্রামাণিক, সুমন, মো. কলিম উদ্দিন, মো. মোহন, মো. সুমন, মিনহাজ, হৃদয়, শাহিন, আব্দুল জলিল, মজিদুল, সাগর, শামিম, সাব্বির ও শ্যামল।

নিহতদের মধ্যে কয়েকজন উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা ছিলেন।

জানা গেছে, সাব্বির ও শামিম নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার বাসিন্দা। অন্যদিকে শ্যামল রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার বাসিন্দা ছিলেন।

নিহতদের অধিকাংশের বাড়ি নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় বলে প্রাথমিকভাবে জানা যায়। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বিষয়টি নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

নিহতদের মধ্যে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার বাসিন্দার সংখ্যা নিয়ে সরকারি দুই সূত্রে কিছুটা পার্থক্য দেখা গেছে।

আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে ১১ জনের বাড়ি ওই উপজেলায় বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

অন্যদিকে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী, আত্রাইয়ের বাসিন্দা নিহতের সংখ্যা ১৩ জন।

আরও পড়ুন :  সীমান্তে টানটান উত্তেজনা! পুশইন ঠেকাতে বিজিবির কঠোর অবস্থান, কী বললেন প্রতিমন্ত্রী?

চূড়ান্ত যাচাই-বাছাই ও পরিচয় নিশ্চিত করার পর এই সংখ্যা পরিষ্কার হতে পারে।

একসঙ্গে এতজন প্রবাসীর মৃত্যুর খবরে আত্রাইসহ নওগাঁর বিভিন্ন এলাকায় শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। পরিবারগুলো অপেক্ষা করছে প্রিয়জনের মরদেহ দেশে ফেরার জন্য।

এই দুর্ঘটনার পর নিহতদের মরদেহ দ্রুত বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

সরকারি বার্তা সংস্থা বাসস জানিয়েছে, নিহতদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে পরিবারের কাছে হস্তান্তর এবং ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে, নিহতদের পরিচয় শনাক্তকরণ এবং মরদেহ দেশে ফেরানোর আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে বাংলাদেশ দূতাবাস সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে।

মরদেহ দেশে আনার ক্ষেত্রে সৌদি আরবের স্থানীয় আইন ও প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। দূতাবাস সেই প্রক্রিয়াগুলো এগিয়ে নিচ্ছে।

অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার পরই রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের একটি প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।

দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রতিনিধি দল সেখানে গিয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ শুরু করে। নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করা, আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার বিষয়ে কাজ চলছে।

দূতাবাস সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা দেওয়া হবে।

সৌদি আরবে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নওগাঁ, নাটোর ও রাজশাহীর ১৬ বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

এক শোকবার্তায় তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।

মন্ত্রী জানিয়েছেন, সৌদি আরবে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে দুর্ঘটনাস্থল এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

নিহতদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি তাঁদের পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

বাংলাদেশের জন্য সৌদি আরব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি শ্রমবাজার। প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মসংস্থানের জন্য দেশটিতে যান।

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বাংলাদেশ থেকে ১১ লাখেরও বেশি মানুষ কর্মসংস্থানের জন্য বিদেশে গেছেন। তাঁদের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি সৌদি আরবে গেছেন।

আরও পড়ুন :  লুক্সেমবার্গে রোমান যুগের বিরল স্বর্ণমুদ্রার খোঁজ, ইতিহাসবিদদের মধ্যে তুমুল উচ্ছ্বাস

এই বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি প্রবাসীর কারণে সৌদি আরবের কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তার বিষয়টি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কারখানা, নির্মাণক্ষেত্র, দোকান, রেস্টুরেন্টসহ বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশিরা কাজ করছেন। তাঁদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা শুধু সংশ্লিষ্ট নিয়োগকর্তার দায়িত্ব নয়, দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষেরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে।

রিয়াদের এই দুর্ঘটনা ফের প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন সামনে এনেছে।

বিশেষ করে যেসব কারখানায় দাহ্য পদার্থ, কাঠ, ফোম, কাপড় বা সোফা তৈরির সামগ্রী থাকে, সেখানে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে।

এ ধরনের কর্মস্থলে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, জরুরি বহির্গমন পথ, ধোঁয়া শনাক্তকারী যন্ত্র এবং কর্মীদের নিয়মিত অগ্নিনিরাপত্তা প্রশিক্ষণ থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

রিয়াদের এই কারখানায় এসব ব্যবস্থা কতটা কার্যকর ছিল, সেটি এখন তদন্তের বিষয়।

সৌদি আরবের এই অগ্নিকাণ্ড শুধু ১৬ জন মানুষের প্রাণ কেড়ে নেয়নি। এর সঙ্গে ভেঙে দিয়েছে ১৬টি পরিবারকে।

বিদেশের মাটিতে কাজ করে পরিবারের জন্য অর্থ পাঠানোই ছিল তাঁদের মূল লক্ষ্য। কেউ হয়তো সন্তানদের পড়াশোনার খরচ চালাতেন, কেউ বাড়ি নির্মাণের স্বপ্ন দেখতেন, আবার কেউ পরিবারের আর্থিক সংকট কাটানোর জন্য সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন।

একটি অগ্নিকাণ্ডে সেই সব স্বপ্ন থেমে গেছে।

এখন পরিবারগুলোর সামনে সবচেয়ে বড় প্রয়োজন মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা, সরকারি সহায়তা পাওয়া এবং ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।

এই দুর্ঘটনার পর প্রথম কাজ হলো নিহতদের পরিচয় ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা। এরপর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে এনে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করতে হবে।

একই সঙ্গে নিহতদের পরিবার যাতে ঘোষিত সরকারি সহায়তা ও ক্ষতিপূরণ পায়, সেটিও নিশ্চিত করা জরুরি।

এর পাশাপাশি দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং কারখানার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের তদন্তের ফলাফলও গুরুত্বপূর্ণ।

কারণ শুধু ক্ষতিপূরণ দিলেই এই ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি শেষ হয় না। ভবিষ্যতে যেন আর কোনও বাংলাদেশি কর্মী একই ধরনের ঘটনায় প্রাণ না হারান, সেই জন্য কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও জরুরি।

রিয়াদের ভয়াবহ আগুন তাই শুধু একটি দুর্ঘটনার খবর নয়। এটি বিদেশে কর্মরত লাখ লাখ বাংলাদেশি শ্রমিকের নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে ভাবার বার্তা দিয়ে গেল।

আর্কাইভ