ফুটবল বিশ্বে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোকে ঘিরে আলোচনা নতুন কিছু নয়। মাঠে তাঁর প্রতিটি গোল, উদযাপন কিংবা ছোট্ট একটি অঙ্গভঙ্গিও মুহূর্তেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। এবারও ব্যতিক্রম হয়নি। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে পেনাল্টি নেওয়ার আগে রোনাল্ডো ঠিক কী বলেছিলেন, সেটি নিয়েই শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। একটি ভাইরাল ভিডিও ক্লিপকে কেন্দ্র করে নেটিজেনদের মধ্যে চলছে নানা ধরনের ব্যাখ্যা ও মতামত।
ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে পেনাল্টি থেকে গোল করে পর্তুগালকে সমতায় ফেরান ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। ম্যাচের ৬৮ মিনিটে নেওয়া সেই স্পটকিক ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে গোলের চেয়েও বেশি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়ায় পেনাল্টি নেওয়ার ঠিক আগের কয়েক সেকেন্ড।
ভিডিওতে দেখা যায়, শট নেওয়ার আগে রোনাল্ডো নিজের মুখে কিছু একটা বলছেন। কিন্তু শব্দটি স্পষ্ট না হওয়ায় শুরু হয় নানা জল্পনা। অনেক দর্শকের দাবি, তিনি ফিসফিস করে “বিসমিল্লাহ” উচ্চারণ করেছিলেন। অন্যদিকে, অনেকেই মনে করেন তিনি নিজের মাতৃভাষা পর্তুগিজে নিজেকেই উৎসাহ দিচ্ছিলেন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় সবচেয়ে বেশি আলোচিত প্রশ্ন ছিল—রোনাল্ডো কি সত্যিই “বিসমিল্লাহ” বলেছিলেন?
মধ্যপ্রাচ্যের অনেক ব্যবহারকারী মনে করছেন, ভিডিওতে শোনা শব্দটি “বিসমিল্লাহ”-এর মতো শোনায়। তাদের মতে, চাপের মুহূর্তে গুরুত্বপূর্ণ কাজের আগে এই শব্দ উচ্চারণ করা অনেক মুসলিমের সাধারণ অভ্যাস। সেই কারণেই অনেকে ধরে নিয়েছেন, রোনাল্ডোও হয়তো একই কাজ করেছেন।
অন্যদিকে, পর্তুগালের কিছু সমর্থক ও ভাষাবিদ ভিন্ন মত দিয়েছেন। তাদের ধারণা, রোনাল্ডো হয়তো “Vamos lá” অর্থাৎ “চলো এগিয়ে যাই” অথবা “Vai marcar” অর্থাৎ “তুমি গোল করবে” ধরনের কোনও শব্দ বলেছেন। ফুটবলাররা ম্যাচের সময় নিজেদের মানসিকভাবে প্রস্তুত করতে এমন কথা প্রায়ই বলে থাকেন।
রোনাল্ডোর ক্যারিয়ারের সাম্প্রতিক অধ্যায়ে মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে। ২০২৩ সালে সৌদি আরবের ক্লাবে যোগ দেওয়ার পর তিনি সেখানে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। এর পর থেকে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ও সাক্ষাৎকারে তাঁকে কয়েকটি প্রচলিত আরবি শব্দ ব্যবহার করতেও দেখা গেছে।
তিনি বিভিন্ন সময় “আসসালামু আলাইকুম” এবং “শুকরান” শব্দ ব্যবহার করেছেন, যা অনেক ভক্তের নজর কাড়ে। ফলে অনেকের ধারণা, আরবি সংস্কৃতির সঙ্গে তাঁর পরিচিতি বাড়ার কারণে “বিসমিল্লাহ” বলার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
তবে শুধুমাত্র অনুমানের ভিত্তিতে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছানো কঠিন।
“বিসমিল্লাহ” ইসলাম ধর্মে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি শব্দ। এটি “বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম”-এর সংক্ষিপ্ত রূপ। এর অর্থ হলো, “পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।”
মুসলমানরা সাধারণত কোনও গুরুত্বপূর্ণ কাজ শুরু করার আগে এই বাক্যাংশ উচ্চারণ করেন। দৈনন্দিন জীবনের ছোট কাজ থেকে শুরু করে বড় সিদ্ধান্ত কিংবা বিশেষ মুহূর্তেও এই শব্দ ব্যবহারের প্রচলন রয়েছে।
এই কারণেই ভিডিওটি দেখার পর অনেক মানুষ সেটিকে আবেগের সঙ্গে গ্রহণ করেছেন এবং দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছেন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই ঘটনার কোনও সরকারি নিশ্চিত তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি। পর্তুগাল দলের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। রোনাল্ডো নিজেও বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলেননি।
ভিডিও ক্লিপে শব্দ পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। তাই শুধুমাত্র একটি ভাইরাল ভিডিও দেখে নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন যে তিনি “বিসমিল্লাহ” বলেছেন।
বর্তমানে এটি মূলত সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি আলোচনার বিষয় হিসেবেই দেখা হচ্ছে। বাস্তবতা হলো, প্রমাণ ছাড়া কোনও দাবি নিশ্চিত সত্য হিসেবে গ্রহণ করা ঠিক নয়।
বর্তমান সময়ে কয়েক সেকেন্ডের একটি ভিডিও পুরো বিশ্বে আলোড়ন তুলতে পারে। অনেক সময় অসম্পূর্ণ তথ্যও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং সেটি নিয়ে নানা ধরনের ব্যাখ্যা তৈরি হয়।
রোনাল্ডোর এই ভিডিওও একই উদাহরণ তৈরি করেছে। একজন তারকার ছোট একটি মুহূর্ত কীভাবে বৈশ্বিক আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে, সেটি আবারও প্রমাণ হলো।
শেষ পর্যন্ত রোনাল্ডো আসলে কী বলেছিলেন, তার স্পষ্ট উত্তর হয়তো ভবিষ্যতে পাওয়া যেতে পারে। কিন্তু এখন পর্যন্ত এটি রহস্য হিসেবেই রয়ে গেছে। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত, ফুটবল মাঠের বাইরেও রোনাল্ডো মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে থাকছেন।
Discover more from News Bangla24x7
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

