খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img
Homeআবহাওয়াআবহাওয়াই ভিলেন! দিল্লিতে বিপজ্জনক হারে বাড়ছে সোয়াইন ফ্লু, আক্রান্ত ১,৩৪৯

আবহাওয়াই ভিলেন! দিল্লিতে বিপজ্জনক হারে বাড়ছে সোয়াইন ফ্লু, আক্রান্ত ১,৩৪৯

ইনফ্লুয়েঞ্জা এ ভাইরাসের এইচ১এন১ স্ট্রেনের সংক্রমণকে সাধারণভাবে সোয়াইন ফ্লু বলা হয়। আক্রান্ত ব্যক্তির কাশি, হাঁচি বা শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে ভাইরাস ছড়াতে পারে। ভিড়ের জায়গায় দীর্ঘ সময় থাকা এবং অসুস্থ অবস্থায় অন্যদের সংস্পর্শে আসার কারণে সংক্রমণের ঝুঁকি আরও বাড়ে।

দিল্লিতে ফের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ। রাজধানীতে দ্রুত বাড়ছে এইচ১এন১ ভাইরাসের সংক্রমণ, যা সাধারণভাবে সোয়াইন ফ্লু নামে পরিচিত। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরে এখনও পর্যন্ত দিল্লিতে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ১,৩৪৯ জন। অথচ গত বছরের একই সময়ে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল মাত্র ২২৯ জন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে সংক্রমণের সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়েছে।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, দিল্লির দীর্ঘস্থায়ী আর্দ্র আবহাওয়া এবং ঘন ঘন আবহাওয়ার পরিবর্তন শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হতে পারে। বর্ষাকালে এমনিতেই বিভিন্ন ধরনের ভাইরাসজনিত সংক্রমণের প্রকোপ বাড়ে। তার সঙ্গে বাতাসে অতিরিক্ত আর্দ্রতা ও তাপমাত্রার ওঠানামা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

ইনফ্লুয়েঞ্জা এ ভাইরাসের এইচ১এন১ স্ট্রেনের সংক্রমণকে সাধারণভাবে সোয়াইন ফ্লু বলা হয়। আক্রান্ত ব্যক্তির কাশি, হাঁচি বা শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে ভাইরাস ছড়াতে পারে। ভিড়ের জায়গায় দীর্ঘ সময় থাকা এবং অসুস্থ অবস্থায় অন্যদের সংস্পর্শে আসার কারণে সংক্রমণের ঝুঁকি আরও বাড়ে।

চিকিৎসকদের বক্তব্য, পরিবর্তনশীল আবহাওয়ায় শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ওপরও প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে বর্ষাকালে যখন একসঙ্গে বিভিন্ন শ্বাসযন্ত্রের ভাইরাস সক্রিয় থাকে, তখন ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো সংক্রমণ দ্রুত ছড়ানোর সুযোগ পায়।

দিল্লির বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের বিষয় হল গত বছরের তুলনায় আক্রান্তের সংখ্যার বড়সড় বৃদ্ধি। গত বছর একই সময়ে যেখানে এইচ১এন১ আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২২৯, সেখানে এবার সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,৩৪৯।

সোয়াইন ফ্লুর উপসর্গ অনেক সময় সাধারণ ফ্লু বা ভাইরাল জ্বরের মতোই হতে পারে। ফলে শুরুতেই অনেকে বিষয়টিকে খুব একটা গুরুত্ব দেন না। সাধারণত হঠাৎ জ্বর, শুকনো কাশি, গলা ব্যথা, মাথাব্যথা, শরীরে ব্যথা, কাঁপুনি এবং অতিরিক্ত ক্লান্তি দেখা দিতে পারে।

কিছু রোগীর ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্টও হতে পারে। সংক্রমণ গুরুতর হলে রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই শুধু জ্বর বা কাশি হয়েছে বলে বিষয়টি অবহেলা না করে পরিস্থিতির দিকে নজর রাখা জরুরি।

বিশেষ করে যাঁদের আগে থেকেই বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে উপসর্গ গুরুতর আকার নিতে পারে।

সাধারণ ফ্লুর মতো উপসর্গ দেখা দিলে অনেক ক্ষেত্রেই বিশ্রাম ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসায় রোগী সুস্থ হয়ে ওঠেন। কিন্তু কিছু লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

শ্বাস নিতে সমস্যা হওয়া, বুকে ব্যথা বা চাপ অনুভব করা, দীর্ঘ সময় ধরে বেশি জ্বর থাকা, অস্বাভাবিক আচরণ বা বিভ্রান্তি, অতিরিক্ত দুর্বলতা এবং ঠোঁট বা মুখ নীলচে হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।

শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, গর্ভবতী নারী এবং যাঁদের দীর্ঘদিনের কোনো শারীরিক সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা জরুরি। এই ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের মধ্যে সংক্রমণ গুরুতর হওয়ার আশঙ্কা তুলনামূলক বেশি হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংক্রমণ প্রতিরোধে দৈনন্দিন কিছু অভ্যাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাইরে থেকে বাড়িতে ফেরার পর ভালোভাবে হাত পরিষ্কার করা উচিত। অপরিষ্কার হাতে চোখ, নাক বা মুখে হাত দেওয়ার অভ্যাস এড়িয়ে চলাও জরুরি।

কাশি বা হাঁচির সময় মুখ ও নাক রুমাল বা টিস্যু দিয়ে ঢেকে রাখা উচিত। প্রয়োজনে মাস্ক ব্যবহার করা যেতে পারে। ব্যবহৃত টিস্যু যথাযথ জায়গায় ফেলে দিয়ে পরে হাত পরিষ্কার করতে হবে।

কেউ অসুস্থ থাকলে অযথা ভিড়ের মধ্যে যাওয়া বা অন্যদের খুব কাছাকাছি থাকা এড়ানো ভালো। একইভাবে জ্বর, কাশি বা অন্যান্য সংক্রমণের উপসর্গ থাকলে নিজে বিশ্রামে থাকা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

সোয়াইন ফ্লু বা অন্য কোনো শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ হলে অসুস্থ ব্যক্তি বাইরে ঘোরাফেরা করলে খুব সহজেই অন্যদের মধ্যে ভাইরাস ছড়াতে পারে। অফিস, স্কুল, গণপরিবহণ বা ভিড়ের জায়গায় যাতায়াতের ফলে সংক্রমণের পরিধি আরও বাড়তে পারে।

তাই উপসর্গ দেখা দিলে যতটা সম্ভব বাড়িতে থেকে বিশ্রাম নেওয়া এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চলা গুরুত্বপূর্ণ। এতে আক্রান্ত ব্যক্তির শরীর দ্রুত সুস্থ হওয়ার সুযোগ পায়। একই সঙ্গে পরিবারের সদস্য, সহকর্মী এবং আশপাশের মানুষের মধ্যেও সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি কমে।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা ইনফ্লুয়েঞ্জা টিকা নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করার পরামর্শ দিচ্ছেন। বিশেষ করে যাঁরা সংক্রমণের ঝুঁকিতে রয়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে টিকাকরণ নিয়ে চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করা যেতে পারে।

তবে টিকা নেওয়ার পরও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা জরুরি। কারণ শ্বাসযন্ত্রের বিভিন্ন ধরনের ভাইরাস থেকে সুরক্ষার জন্য শুধু একটি পদক্ষেপের ওপর নির্ভর না করে একাধিক সতর্কতা একসঙ্গে মেনে চলাই বেশি কার্যকর।

বর্ষাকালে আর্দ্রতা বৃদ্ধি, আবহাওয়ার দ্রুত পরিবর্তন এবং মানুষের ঘন ঘন বদ্ধ জায়গায় অবস্থান করার কারণে শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে। দিল্লিতে বর্তমানে এইচ১এন১ আক্রান্তের সংখ্যা যেভাবে বেড়েছে, তাতে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

গত বছরের ২২৯ জনের তুলনায় চলতি বছরে আক্রান্তের সংখ্যা ১,৩৪৯-এ পৌঁছানো নিঃসন্দেহে উদ্বেগের বিষয়। তবে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

জ্বর, কাশি বা শরীরে ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিলে নিজের মতো করে ওষুধ না খেয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। পাশাপাশি হাত পরিষ্কার রাখা, কাশি-হাঁচির সময় সতর্কতা অবলম্বন করা, অসুস্থ অবস্থায় বাড়িতে থাকা এবং ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের বিশেষভাবে সুরক্ষিত রাখার মাধ্যমে সংক্রমণের বিস্তার অনেকটাই কমানো সম্ভব।


Discover more from News Bangla24x7

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Table of contents [hide]

আর্কাইভ