খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img

বিদ্যুত চুক্তি বাতিল হচ্ছেনা,দাম কমাতে চলছে আলোচনা: জ্বালানিমন্ত্রী

বিগত সরকারের সময় বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি এখনই বাতিল করার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে সরকার। কারণ এসব চুক্তির সঙ্গে যুক্ত রয়েছে...
Homeস্পোটস ওয়ার্ল্ডক্রিকেটঅস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক টেস্ট জয়

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক টেস্ট জয়

নাজমুল হোসেন শান্ত ও মেহেদী হাসান মিরাজও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। দুজনই অর্ধশতকের ইনিংস খেলেন। ফলে বাংলাদেশের ইনিংস শুধু ব্যক্তিনির্ভর থাকেনি; বরং পুরো ব্যাটিং ইউনিটই সম্মিলিতভাবে দলকে এগিয়ে নেয়।

ডারউইনের বাইশ গজে যে ইতিহাস রচনা করল বাংলাদেশ, তা দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে বহুদিন উজ্জ্বল হয়ে থাকবে। শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তাদেরই মাটিতে এমন দাপুটে জয় শুধু একটি টেস্ট ম্যাচের ফল নয়, এটি বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের আত্মবিশ্বাস ও সামর্থ্যের এক অসাধারণ প্রমাণ।

টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ে অনেক পিছিয়ে থাকা বাংলাদেশ যখন শীর্ষ সারির অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হয়েছিল, তখন স্বাভাবিকভাবেই আলোচনায় ছিল দুই দলের শক্তির ব্যবধান। কিন্তু মাঠে নামার পর সেই ব্যবধানের কোনো ছাপ দেখা যায়নি। বরং ম্যাচের শুরু থেকেই বাংলাদেশের বোলার ও ব্যাটাররা দারুণ নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখেন। চার দিনের লড়াই শেষে অস্ট্রেলিয়াকে ৫৭ রানের লক্ষ্য দিয়ে সেটিও অনায়াসে পেরিয়ে যায় বাংলাদেশ।

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জয় যে কোনো দলের জন্যই বড় অর্জন। আর বাংলাদেশের জন্য এই সাফল্যের গুরুত্ব আরও বেশি। কারণ অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে সাধারণত স্বাগতিক দলের পেস আক্রমণ ও ব্যাটিং শক্তি প্রতিপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।

বাংলাদেশ সেই চ্যালেঞ্জকে শুধু মোকাবিলা করেনি, বরং পুরো ম্যাচেই নিজেদের পরিকল্পনা কার্যকর করেছে। প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে দুইশ রানের আগেই গুটিয়ে দিয়ে শুরুতেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় বাংলাদেশ। এরপর ব্যাট হাতে বড় লিড নিয়ে স্বাগতিকদের ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে দেয়।

এই জয় তাই বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে বিশেষ একটি অধ্যায় হয়ে থাকবে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এসে এমন সাফল্য অর্জন নিঃসন্দেহে লাল-সবুজের ক্রিকেটের জন্য বড় মাইলফলক।

ম্যাচের প্রথম দিন থেকেই বাংলাদেশের পেসাররা যে আগ্রাসী ক্রিকেট উপহার দিয়েছেন, সেটিই জয়ের ভিত্তি তৈরি করে। অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপে অভিজ্ঞ ও তারকা ক্রিকেটারের অভাব ছিল না। কিন্তু বাংলাদেশের বোলারদের সামনে তারা নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দ খুঁজে পায়নি।

দুই সেশনের বেশি সময় ধরে চলে বাংলাদেশের বোলিং আধিপত্য। একের পর এক উইকেট হারিয়ে অস্ট্রেলিয়া দ্রুত চাপে পড়ে যায়। শেষ পর্যন্ত দুইশ রানের আগেই তাদের প্রথম ইনিংস শেষ হয়ে যায়।

এমন পারফরম্যান্স ছিল অনেকটা প্রত্যাশার বাইরে। কারণ অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে স্বাগতিক ব্যাটারদের বিপক্ষে এতটা নিয়ন্ত্রিত বোলিং করা সহজ নয়। বাংলাদেশের বোলাররা সেই কঠিন কাজটিই করে দেখান।

বোলারদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর ব্যাট হাতেও বাংলাদেশ নিজেদের সামর্থ্য দেখায়। ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম অসাধারণ ব্যাটিং করে তুলে নেন গুরুত্বপূর্ণ সেঞ্চুরি।

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের ব্যাটারদের কাছ থেকে বড় ইনিংসের প্রয়োজন ছিল। তানজিদ সেই দায়িত্ব দারুণভাবে পালন করেন। তার ধৈর্য, শট নির্বাচনের দক্ষতা এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যাটিং বাংলাদেশকে বড় স্কোরের পথে এগিয়ে দেয়।

তার সঙ্গে নাজমুল হোসেন শান্ত ও মেহেদী হাসান মিরাজও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। দুজনই অর্ধশতকের ইনিংস খেলেন। ফলে বাংলাদেশের ইনিংস শুধু ব্যক্তিনির্ভর থাকেনি; বরং পুরো ব্যাটিং ইউনিটই সম্মিলিতভাবে দলকে এগিয়ে নেয়।

তানজিদ তামিমের সেঞ্চুরি, শান্ত ও মিরাজের অর্ধশতক এবং নিচের সারির ব্যাটারদের কার্যকর অবদানে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২২৮ রানের লিড নেয়।

বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে এত বড় প্রথম ইনিংসের লিড ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই লিড অস্ট্রেলিয়াকে বড় চাপের মধ্যে ফেলে দেয়।

কারণ প্রথম ইনিংসে এত বড় ব্যবধানে পিছিয়ে যাওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের সামনে ম্যাচ বাঁচানোর পাশাপাশি বাংলাদেশকে বড় লক্ষ্য দেওয়ার চ্যালেঞ্জও ছিল। কিন্তু বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণ তাদের সেই সুযোগ খুব একটা দেয়নি।

দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমেও অস্ট্রেলিয়া শুরুতে স্বস্তি পায়নি। বাংলাদেশের পেসার হাসান ধারাবাহিকভাবে আঘাত হেনে স্বাগতিকদের ব্যাটিং অর্ডারে চাপ তৈরি করেন।

স্টিভ স্মিথ প্রথম ইনিংসে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েছিলেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ক্যামেরন গ্রিন দায়িত্বশীল ব্যাটিং করে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসকে কিছুটা এগিয়ে নেন। নিজের মাটিতে গুরুত্বপূর্ণ সেঞ্চুরি করে তিনি দলকে লিড এনে দেওয়ার চেষ্টা করেন।

তবে বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণের সামনে সেই লিড শেষ পর্যন্ত বড় হয়নি। বিশেষ করে মেহেদী হাসান মিরাজ বল হাতে অসাধারণ নিয়ন্ত্রণ দেখান। তার স্পিনে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটাররা বারবার সমস্যায় পড়েন।

মেহেদী হাসান মিরাজের স্পিন ছিল বাংলাদেশের জয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে স্পিনারদের কার্যকর হওয়া নিয়ে অনেক প্রশ্ন থাকলেও মিরাজ সেই ধারণাকে ভুল প্রমাণ করেন।

তিনি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট তুলে নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বড় লিড নেওয়ার সম্ভাবনা কমিয়ে দেন। ফলে বাংলাদেশের সামনে জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় রানও নাগালের মধ্যেই থাকে।

ম্যাচের শেষ দিকে পরিস্থিতি বাংলাদেশের পক্ষে এতটাই চলে আসে যে অস্ট্রেলিয়ার জন্য লড়াইটা হয়ে দাঁড়ায় শুধু হার এড়ানোর। অন্যদিকে বাংলাদেশের সামনে তখন অপেক্ষা করছিল ইতিহাস।

প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করা তানজিদ হাসান তামিম দ্বিতীয় ইনিংসে কোনো রান না করেই ফিরে যান। ফলে কিছুটা চাপ তৈরি হলেও সেটি সামলে নেন সাদমান ইসলাম ও মুমিনুল হক।

দুজন মিলে ধৈর্য ধরে ব্যাট করে বাংলাদেশের জয়ের বাকি আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। মাত্র ৫৭ রানের লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশের সামনে। সেই লক্ষ্য পূরণ করতে খুব বেশি সময়ও লাগেনি।

শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ৫৭ রানের লক্ষ্য পেরিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে স্মরণীয় টেস্ট জয় নিশ্চিত করে। ম্যাচের আগে প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশকে মাত্র ৫৪ রানে অলআউট করার যে আত্মবিশ্বাস অস্ট্রেলিয়া পেয়েছিল, মূল লড়াইয়ে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি।

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের আগের সফরের স্মৃতি ছিল হতাশার। ২৩ বছর আগে ডারউইন ও কেয়ার্নসে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ। সেই সময়ের তুলনায় দুই দশকেরও বেশি সময় পরের বাংলাদেশ সম্পূর্ণ ভিন্ন এক দল হিসেবে নিজেদের তুলে ধরেছে।

এই জয় দেখিয়ে দিয়েছে, টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশ এখন শুধু অংশগ্রহণের জন্য মাঠে নামে না। পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে বিশ্বের সেরা দলগুলোর বিরুদ্ধেও জয়ের জন্য লড়াই করার সামর্থ্য তাদের রয়েছে।

ডারউইনের এই সাফল্য তাই শুধু একটি ম্যাচের জয় নয়। এটি বাংলাদেশের ক্রিকেটের মানসিক শক্তি, পরিকল্পনা এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নতিরও প্রতিচ্ছবি।

অস্ট্রেলিয়ার মতো দলের বিপক্ষে বিদেশের মাটিতে জয় বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। বিশেষ করে পেসারদের পারফরম্যান্স প্রমাণ করেছে, বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণ এখন বিদেশি কন্ডিশনেও প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে পারে।

অন্যদিকে ব্যাটারদের বড় ইনিংসও আশাবাদী করে তুলেছে সমর্থকদের। তানজিদের সেঞ্চুরি, শান্ত ও মিরাজের অর্ধশতক এবং নিচের সারির ব্যাটারদের লড়াকু মানসিকতা পুরো দলকে এগিয়ে নিয়েছে।


Discover more from News Bangla24x7

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Table of contents [hide]

আর্কাইভ