সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশু-কিশোরদের অতিরিক্ত আসক্তি তৈরি এবং তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতির অভিযোগে বিশ্বের অন্যতম বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে চলা আইনি লড়াই আরও জোরালো হলো। যুক্তরাষ্ট্রের নবম সার্কিট কোর্ট অব আপিলসের সাম্প্রতিক রায়ে Meta, Google, TikTok ও Snap-এর বিরুদ্ধে হাজার হাজার মামলা এগিয়ে যাওয়ার পথ কার্যত পরিষ্কার হয়েছে।
মামলাগুলোর কেন্দ্রীয় অভিযোগ হলো, এসব প্রযুক্তি কোম্পানি তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এমনভাবে নকশা করেছে, যাতে ব্যবহারকারীরা বিশেষ করে শিশু ও কিশোর-কিশোরীরা দীর্ঘ সময় ধরে প্ল্যাটফর্মে আটকে থাকে। সীমাহীন স্ক্রল, ব্যক্তিকেন্দ্রিক অ্যালগরিদম, নোটিফিকেশন, লাইক এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন কনটেন্ট দেখানোর মতো ফিচার নিয়ে এখন আদালতে প্রশ্ন উঠছে।
তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আদালতের এই রায় এখনই Meta, TikTok বা অন্য কোনো কোম্পানিকে শিশুদের ক্ষতির জন্য দায়ী সাব্যস্ত করেনি। বরং আদালত বলেছে, এসব অভিযোগ নিয়ে মামলাগুলো আইনি প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবে।
সান ফ্রান্সিসকো-ভিত্তিক নবম সার্কিট কোর্ট অব আপিলস Meta ও TikTok-এর এমন একটি আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে, যার মাধ্যমে কোম্পানিগুলো নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্তকে তাৎক্ষণিকভাবে চ্যালেঞ্জ করে মামলাগুলো থামিয়ে দিতে চেয়েছিল।
ফেডারেল আদালতে ৩ হাজারের বেশি মামলা একসঙ্গে চলমান রয়েছে। এসব মামলায় অভিভাবক, তরুণ ব্যবহারকারী, স্কুল ডিস্ট্রিক্ট, স্থানীয় প্রশাসনসহ বিভিন্ন পক্ষ অভিযোগ করেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পণ্য ও ফিচার পরিকল্পিতভাবেই ব্যবহারকারীদের অতিরিক্ত সময় প্ল্যাটফর্মে ধরে রাখার জন্য তৈরি করা হয়েছে।
আদালতের সিদ্ধান্তে মূলত বলা হয়েছে, Meta ও TikTok যে পর্যায়ে এসে এই আপিল করতে চেয়েছিল, তখন সেটি আইনি দিক থেকে যথাযথ সময় ছিল না।
এর ফলে মামলাগুলো এখন প্রমাণ, সাক্ষ্য এবং কোম্পানিগুলোর অভ্যন্তরীণ নথি নিয়ে আরও এগোতে পারবে।
এই আইনি লড়াইয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো যুক্তরাষ্ট্রের Section 230। ১৯৯৬ সালে পাস হওয়া Communications Decency Act-এর এই ধারা অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোকে তাদের ব্যবহারকারীদের তৈরি করা কনটেন্টের জন্য অনেক ধরনের আইনি দায় থেকে সুরক্ষা দেয়।
Meta ও TikTok যুক্তি দিয়েছিল, এই আইনি সুরক্ষা তাদের বিরুদ্ধে চলা মামলাগুলোর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হওয়া উচিত।
কোম্পানিগুলোর অবস্থান ছিল, প্ল্যাটফর্মে ব্যবহারকারীদের তৈরি কনটেন্ট বা সেই কনটেন্ট ঘিরে সম্ভাব্য ক্ষতির জন্য তাদের দায়ী করা যায় না।
কিন্তু মামলাকারীদের অভিযোগ একটু ভিন্ন। তারা শুধু কোনো পোস্ট, ভিডিও বা কমেন্টের জন্য কোম্পানিকে দায়ী করছে না। বরং অভিযোগের কেন্দ্র হলো প্ল্যাটফর্মের ডিজাইন।
অর্থাৎ প্রশ্ন হচ্ছে, কোম্পানি এমন কোনো প্রযুক্তিগত কাঠামো তৈরি করেছে কি না, যা ব্যবহারকারীকে বারবার ফিরে আসতে উৎসাহিত করে এবং বিশেষ করে অপ্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ব্যবহারের ঝুঁকি বাড়ায়।
নবম সার্কিট আদালতের সিদ্ধান্তে Section 230-কে সম্পূর্ণ মামলা-প্রতিরোধী ‘ইমিউনিটি’ হিসেবে দেখার পরিবর্তে এটিকে একটি প্রতিরক্ষা হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। ফলে এই পর্যায়ে কোম্পানিগুলো শুধু Section 230 দেখিয়ে পুরো মামলা বন্ধ করে দিতে পারবে না।
এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার করা জরুরি।
আদালতের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের অর্থ এই নয় যে Meta, TikTok, Google বা Snap শিশুদের ক্ষতি করেছে—এমন চূড়ান্ত রায় হয়ে গেছে।
বরং আদালত বলেছে, অভিযোগগুলো নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলতে পারবে।
এর অর্থ হলো, মামলাকারীদের এখন আদালতে প্রমাণ করতে হবে যে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর পণ্য নকশা, অ্যালগরিদম বা অন্যান্য ফিচার সত্যিই ক্ষতির সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল এবং কোম্পানিগুলো সেই ঝুঁকি সম্পর্কে কী জানত বা কী ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছিল।
অন্যদিকে কোম্পানিগুলোও নিজেদের অবস্থান তুলে ধরার সুযোগ পাবে।
এই কারণেই সাম্প্রতিক রায়কে চূড়ান্ত রায়ের চেয়ে বড় আইনি লড়াইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শুধু ব্যক্তিগত মামলাই নয়, Meta-র বিরুদ্ধে ২৯টি অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলদের করা পৃথক মামলাও রয়েছে।
সেই মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, Meta শিশুদের তথ্য বেআইনিভাবে সংগ্রহ ও ব্যবহারের পাশাপাশি এমন কিছু ফিচার তৈরি করেছে, যা তরুণ ব্যবহারকারীদের দীর্ঘ সময় প্ল্যাটফর্মে ধরে রাখে।
এছাড়া কোম্পানিটি তাদের প্ল্যাটফর্মের নিরাপত্তা নিয়ে গ্রাহকদের বিভ্রান্ত করেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
Meta এই মামলার বিচারপ্রক্রিয়া পিছিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু নবম সার্কিট আদালত সেই আবেদনও প্রত্যাখ্যান করেছে। ফলে এই মামলার কার্যক্রমও এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছে।
এই মামলাগুলোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো শিশু-কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য।
মামলাকারীদের অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অতিরিক্ত ব্যবহার উদ্বেগ, হতাশা, শরীর নিয়ে নেতিবাচক ধারণা এবং অন্যান্য মানসিক সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
তাদের দাবি, প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো এসব ঝুঁকি সম্পর্কে জানত কিংবা জানার মতো যথেষ্ট তথ্য তাদের হাতে ছিল। তারপরও ব্যবহারকারীদের প্ল্যাটফর্মে ধরে রাখার ব্যবসায়িক স্বার্থে অনেক ফিচার চালু রাখা হয়েছে।
বিশেষ করে শিশু ও কিশোরদের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ এই বয়সে ব্যক্তিত্ব, আত্মপরিচয় ও সামাজিক সম্পর্কের ধারণা এখনও বিকশিত হচ্ছে।
একজন কিশোর যদি প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা এমন কনটেন্ট দেখতে থাকে, যেখানে অন্যদের জীবন, চেহারা, জনপ্রিয়তা বা সাফল্যের সঙ্গে নিজেকে তুলনা করতে হয়, তাহলে তার ওপর সামাজিক ও মানসিক চাপ তৈরি হতে পারে—এমন আশঙ্কা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই গবেষণা ও জনপরিসরে আলোচনা চলছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সবচেয়ে আলোচিত ফিচারগুলোর একটি হলো ইনফিনিট স্ক্রল।
একটি ভিডিও বা পোস্ট শেষ হওয়ার পর ব্যবহারকারীকে থামতে বলা হয় না। বরং সঙ্গে সঙ্গে পরবর্তী কনটেন্ট চলে আসে।
ফলে ব্যবহারকারী চাইলে কয়েক মিনিটের জন্য অ্যাপ খুলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সেখানে থাকতে পারেন।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ব্যক্তিকেন্দ্রিক অ্যালগরিদম। ব্যবহারকারী কোন ভিডিও দেখলেন, কতক্ষণ দেখলেন, কোন পোস্টে থামলেন—এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে প্ল্যাটফর্ম তার জন্য পরবর্তী কনটেন্ট নির্বাচন করে।
আইনি মামলাগুলোতে প্রশ্ন উঠছে, এই ধরনের প্রযুক্তি শুধু ব্যবহারকারীর সুবিধার জন্য তৈরি, নাকি ব্যবহারকারীর মনোযোগ যতটা সম্ভব দীর্ঘ সময় ধরে রাখাও এর গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য ছিল।
সাম্প্রতিক এই আইনি চাপের আগে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটেছে।
মার্চে লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি মামলায় জুরি Meta ও Google-এর বিরুদ্ধে রায় দেয় এবং এক তরুণীর পক্ষে মোট ৬ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করে। ওই তরুণীর অভিযোগ ছিল, ছোটবেলা থেকে Instagram ও YouTube ব্যবহারের পর তিনি প্ল্যাটফর্ম দুটির প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েন এবং মানসিক সমস্যার মুখোমুখি হন।
কোম্পানিগুলো অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং রায়ের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে।
এই মামলাটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি দেখিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ‘পণ্য নকশা’ নিয়ে কোনো মামলায় জুরি কোম্পানির বিরুদ্ধে যেতে পারে।
ফলে বর্তমান হাজার হাজার মামলার ক্ষেত্রেও এই ধরনের বিচারের ফল নিয়ে প্রযুক্তি শিল্পে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এর মধ্যেই Meta-র জন্য আরও বড় আইনি ধাক্কা এসেছে নিউ মেক্সিকো থেকে।
সেখানে একটি আদালত Meta-কে ৫৬৭ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। অর্থের বড় অংশ কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা কার্যক্রমে ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে শিশু ও কিশোরদের সুরক্ষায় Facebook ও Instagram-এ একাধিক পরিবর্তনের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
আদালত Meta-র প্ল্যাটফর্মকে জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর ‘public nuisance’ হিসেবে বিবেচনা করেছে।
এই রায়ের পর Meta জানিয়েছে, তারা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করবে।
এর আগে একই মামলার আরেক ধাপে Meta-র বিরুদ্ধে ৩৭৫ মিলিয়ন ডলারের আর্থিক দায় নির্ধারণ করা হয়েছিল। ফলে নিউ মেক্সিকোর মামলা প্রযুক্তি কোম্পানির বিরুদ্ধে শিশু সুরক্ষা নিয়ে চলমান আইনি লড়াইয়ের অন্যতম বড় উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
এই আইনি লড়াইয়ে শুধু অভিভাবক বা ব্যক্তিগত ব্যবহারকারীরাই নেই।
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্কুল ডিস্ট্রিক্টও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা করেছে।
তাদের অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম-সম্পর্কিত মানসিক ও আচরণগত সমস্যার কারণে স্কুল কর্তৃপক্ষকে বাড়তি সহায়তা, কাউন্সেলিং ও অন্যান্য ব্যবস্থা নিতে হচ্ছে।
অর্থাৎ বিষয়টি শুধু একজন ব্যবহারকারী কতক্ষণ Instagram বা TikTok ব্যবহার করছেন—সেখানে সীমাবদ্ধ নেই।
এর প্রভাব পরিবার, স্কুল, স্বাস্থ্যব্যবস্থা এবং বৃহত্তর সমাজ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ছে কি না, সেটিও আদালতগুলোকে বিবেচনা করতে হচ্ছে।
ফেডারেল মামলার পাশাপাশি ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের আদালতেও একই ধরনের বিপুলসংখ্যক মামলা রয়েছে।
প্রায় ৩ হাজার ৩০০ মামলা সেখানে একত্রিত করা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ফলে Meta, Google, TikTok এবং Snap-এর সামনে একসঙ্গে একাধিক আইনি ফ্রন্ট তৈরি হয়েছে।
একদিকে ফেডারেল আদালত, অন্যদিকে অঙ্গরাজ্য আদালত; আবার কোথাও অভিভাবক, কোথাও স্কুল ডিস্ট্রিক্ট, কোথাও অঙ্গরাজ্যের সরকার—সব মিলিয়ে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর জন্য পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে।
এই মামলাগুলোর ফল শুধু কয়েকটি কোম্পানির আর্থিক ক্ষতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না।
যদি আদালত শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত দেয় যে নির্দিষ্ট কিছু ডিজাইন বা ফিচার শিশুদের ক্ষতির জন্য দায়ী, তাহলে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে তাদের পণ্য তৈরির পদ্ধতিই বদলাতে হতে পারে।
বয়স যাচাই আরও শক্তিশালী করা, শিশুদের অ্যাকাউন্টে ডিফল্ট সুরক্ষা বাড়ানো, নোটিফিকেশন সীমিত করা এবং অভিভাবকদের নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর মতো ব্যবস্থা ভবিষ্যতে আরও ব্যাপক হতে পারে।
নিউ মেক্সিকোর সাম্প্রতিক রায় ইতিমধ্যেই এমন কিছু পরিবর্তনের নির্দেশ দিয়েছে। সেখানে কিশোরদের ব্যবহারের সময় সীমিত করা, নোটিফিকেশন নিয়ন্ত্রণ এবং প্রাপ্তবয়স্কদের সঙ্গে অপ্রাপ্তবয়স্কদের যোগাযোগে অতিরিক্ত সুরক্ষার মতো ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ এসেছে।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন সম্ভবত Section 230 নিয়েই।
এই আইন দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারনেট অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আইনি ভিত্তি।
কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে প্ল্যাটফর্ম শুধু ব্যবহারকারীর লেখা বা ভিডিও প্রকাশ করে না। অ্যালগরিদম ব্যবহার করে তারা ঠিক করে দেয় কোন কনটেন্ট কার সামনে যাবে, কোন ভিডিও পরের ভিডিও হিসেবে আসবে এবং কোন ব্যবহারকারীকে কী ধরনের নোটিফিকেশন দেওয়া হবে।
ফলে ভবিষ্যতের মামলায় প্রশ্ন হতে পারে—কোম্পানি কি শুধু অন্যের বক্তব্য প্রকাশ করছে, নাকি নিজেরাই একটি নির্দিষ্ট পণ্য তৈরি করছে?
বর্তমান মামলাগুলোতে এই পার্থক্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
Meta, TikTok, Google ও Snap-এর বিরুদ্ধে চলমান হাজার হাজার মামলা এখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি শিল্পের জন্য বড় পরীক্ষা।
নবম সার্কিট আদালতের সর্বশেষ সিদ্ধান্তে এসব মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি। তবে মামলাগুলোকে প্রাথমিক পর্যায়েই থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। ফলে এখন আদালতে আরও প্রমাণ, গবেষণা, কোম্পানির অভ্যন্তরীণ তথ্য এবং প্ল্যাটফর্ম ডিজাইনের নানা দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
একই সময়ে নিউ মেক্সিকোর ৫৬৭ মিলিয়ন ডলারের রায় এবং লস অ্যাঞ্জেলেসের ৬ মিলিয়ন ডলারের জুরি সিদ্ধান্ত দেখাচ্ছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নকশা ও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে আইনি ঝুঁকি ইতিমধ্যে বাস্তব রূপ নিয়েছে।
শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর জন্যই—একটি প্ল্যাটফর্ম যদি ব্যবহারকারীর মনোযোগ ধরে রাখাকে ব্যবসার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য করে তৈরি হয়, তাহলে সেই ডিজাইনের কারণে ক্ষতি হলে কোম্পানির দায় কোথায় শুরু হবে?
যুক্তরাষ্ট্রের আদালতগুলোর চলমান রায়গুলো সেই প্রশ্নের উত্তরই ধীরে ধীরে তৈরি করছে।

