দেশের চলমান বিদ্যুৎ সংকটকে কেন্দ্র করে কেউ যেন অস্থিরতা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, কোনো বড় সংকট রাতারাতি সমাধান করা সম্ভব নয়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ধৈর্য ধরে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে এবং ধাপে ধাপে এগিয়ে যেতে হবে।
রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার মির্জাপুর চেয়ারম্যান বাড়িঘাট এলাকায় জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়। একই সঙ্গে স্থানীয় জেলেদের মধ্যে মাছের পোনা বিতরণ এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ বর্তমানে বিদ্যুৎ সংকটের কারণে দুর্ভোগে রয়েছেন। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও এই সংকটের প্রভাব দেখা যাচ্ছে।
তারেক রহমানের দাবি, বিদ্যুৎ সংকটের পেছনে আগের সরকারের অপরিকল্পিত সিদ্ধান্ত ও পরিকল্পনার বড় ভূমিকা রয়েছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ঘাটতির কারণে বর্তমান সরকারকে কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, আগের সরকারের সময় নেওয়া বিভিন্ন অপরিকল্পিত পদক্ষেপের প্রভাব এখন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে পড়ছে। সেই পরিস্থিতি থেকে দেশকে বের করে আনতে সরকার পরিকল্পিতভাবে কাজ করছে।
বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, আগামী ২৭ আগস্ট জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হবে। ওই অধিবেশনে আগামী ১০ বছরে দেশের বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধানে সরকারের পরিকল্পনা জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে।
সরকারের লক্ষ্য শুধু বর্তমান সংকট মোকাবিলা করা নয়, বরং ভবিষ্যতে যেন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে বড় ধরনের সমস্যা তৈরি না হয়, সে জন্য দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা গড়ে তোলা। এজন্য বিদ্যুৎ উৎপাদন, জ্বালানি ব্যবস্থাপনা এবং সরবরাহ ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক নিয়ে পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে জনগণকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, যেকোনো সংকট মোকাবিলায় উত্তেজিত না হয়ে ঠান্ডা মাথায় সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
তারেক রহমানের ভাষায়, সংকট দেখা দিলে দ্রুত সমাধানের প্রত্যাশা স্বাভাবিক। তবে বড় ধরনের সমস্যা সমাধানের জন্য সময়, পরিকল্পনা এবং ধারাবাহিক উদ্যোগ প্রয়োজন। তাই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সবাইকে ধৈর্য ধারণ করতে হবে।
তিনি বলেন, পরিকল্পনা গ্রহণ করে ধীরে ধীরে এগিয়ে গেলেই সংকট থেকে স্থায়ীভাবে বেরিয়ে আসা সম্ভব।
চলমান বিদ্যুৎ সংকটকে কেন্দ্র করে একটি পক্ষ রাজপথে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, সংকটের সুযোগ নিয়ে কিছু ব্যক্তি রাস্তায় ও রাজপথে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছেন। এ ধরনের কর্মকাণ্ড পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজপথে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েন। যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বাধাগ্রস্ত হয় এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশের বিভিন্ন খাতে সংকটাপন্ন পরিস্থিতি দেখতে পেয়েছে বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তার দাবি, আগের সরকার দেশের অর্থনীতি, পররাষ্ট্রনীতি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন খাতকে দুর্বল অবস্থায় রেখে গেছে।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান কাজ হচ্ছে এসব খাতকে পুনর্গঠন করা। ধ্বংসপ্রাপ্ত বা দুর্বল অবস্থান থেকে দেশকে আবার শক্তিশালী কাঠামোর ওপর দাঁড় করাতে সরকার কাজ করছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের জন্য শুধু তাৎক্ষণিক সমস্যা সমাধান করলেই হবে না। অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জ্বালানি ও অবকাঠামোসহ প্রতিটি খাতকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নিতে হবে।
দেশের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থেকেও আগের সরকার জনগণের প্রয়োজন অনুযায়ী কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারেনি। তার দাবি, যারা আগে দেশের শাসনভার দখল করে রেখেছিল, তারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত ছিল না। এ কারণে তারা জনগণের প্রত্যাশা ও প্রয়োজনকে যথাযথ গুরুত্ব দেয়নি।
বর্তমান সরকার জনগণের চাহিদাকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে বলেও জানান তিনি। বিশেষ করে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে স্থায়ী সমাধানের দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন। পাশাপাশি স্থানীয় জেলেদের মধ্যে মাছের পোনা বিতরণ করা হয়।
মৎস্য খাত দেশের অর্থনীতি ও গ্রামীণ জীবিকার গুরুত্বপূর্ণ অংশ উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট খাতের উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে আসে অনুষ্ঠানে। স্থানীয় পর্যায়ে মাছের উৎপাদন বাড়ানো এবং মৎস্যজীবীদের সহায়তা করার মাধ্যমে দেশের খাদ্যনিরাপত্তা ও অর্থনীতিতে আরও অবদান রাখার সুযোগ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।
অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি ও বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম , জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিনসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, মৎস্যজীবী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে মির্জাপুর চেয়ারম্যান বাড়িঘাট এলাকায় প্রধানমন্ত্রী পৌঁছালে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ তাকে স্বাগত জানান।
বর্তমানে বিদ্যুৎ সংকট দেশের মানুষের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে দ্রুত সংকট সামাল দেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্য টেকসই বিদ্যুৎ ব্যবস্থা তৈরি করা।
Discover more from News Bangla24x7
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

