খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img

এমবাপ্পেকে ক্ষমা চাইতে আলটিমেটাম প্যারাগুয়ের সিনেটরের

ফ্রান্সের তারকা ফুটবলার কিলিয়ান এমবাপ্পেকে ঘিরে নতুন করে আন্তর্জাতিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। প্যারাগুয়ের সিনেটর সেলেস্তে আমারিলা এমবাপ্পের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তার কাছে...
Homeবিশ্ব সংবাদএমবাপ্পেকে ক্ষমা চাইতে আলটিমেটাম প্যারাগুয়ের সিনেটরের

এমবাপ্পেকে ক্ষমা চাইতে আলটিমেটাম প্যারাগুয়ের সিনেটরের

এমবাপ্পেকে "উপনিবেশিত ক্যামেরুনীয়" বলে উল্লেখ করেন এবং অভিযোগ করেন যে তিনি নিজেকে ফরাসি হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছেন। পাশাপাশি তাকে উদ্ধত ও অমার্জিত বলেও মন্তব্য করেন।

ফ্রান্সের তারকা ফুটবলার কিলিয়ান এমবাপ্পেকে ঘিরে নতুন করে আন্তর্জাতিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। প্যারাগুয়ের সিনেটর সেলেস্তে আমারিলা এমবাপ্পের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তার কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা দাবি করেছেন। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ক্ষমা না চাইলে রাজনৈতিক ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার অভিযোগে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হওয়া এই বাকযুদ্ধ এখন আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গন ও রাজনৈতিক মহলে আলোচনার অন্যতম বিষয় হয়ে উঠেছে। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি মন্তব্যের কারণে বিষয়টি আরও বেশি বিতর্কিত হয়ে উঠেছে।

সম্প্রতি সেলেস্তে আমারিলা এক মন্তব্যে এমবাপ্পেকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন। তিনি এমবাপ্পেকে “উপনিবেশিত ক্যামেরুনীয়” বলে উল্লেখ করেন এবং অভিযোগ করেন যে তিনি নিজেকে ফরাসি হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছেন। পাশাপাশি তাকে উদ্ধত ও অমার্জিত বলেও মন্তব্য করেন।

এতেই থেমে থাকেননি প্যারাগুয়ের এই সিনেটর। তার দাবি, ফ্রান্সের জয় ছিল ভাগ্যের সহায়তায় অর্জিত এবং পুরো ম্যাচজুড়ে এমবাপ্পে ও তার সতীর্থদের মধ্যে চাপ ও উদ্বেগ স্পষ্ট ছিল।

আমারিলার মন্তব্যের জবাবে এমবাপ্পেও কঠোর প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি সিনেটরকে “ঘৃণ্য নারী” বলে আখ্যায়িত করেন এবং মন্তব্য করেন যে তিনি তার রাজনৈতিক পদমর্যাদার যোগ্য নন।

এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর বিতর্ক আরও তীব্র হয়ে ওঠে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যেও ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়।

পরবর্তীতে এক্সে দেওয়া দীর্ঘ এক পোস্টে সেলেস্তে আমারিলা স্পষ্ট করেন যে তার আপত্তি শুধুমাত্র এমবাপ্পের বিরুদ্ধে, ফ্রান্সের বিরুদ্ধে নয়।

তিনি জানান, শৈশব থেকেই তিনি ফরাসি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করেছেন এবং ফ্রান্সের সংস্কৃতি ও মানুষের প্রতি তার গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। তাই বিষয়টিকে ফ্রান্সবিরোধী অবস্থান হিসেবে ব্যাখ্যা করা ঠিক হবে না।

আমারিলার ভাষায়, এমবাপ্পে হয়তো জানেন না তিনি কে, কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে তিনি ফরাসি সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত এবং সেই কারণেই একজন ফরাসি নাগরিকের আচরণ নিয়ে তার প্রত্যাশাও অনেক বেশি।

সিনেটর দাবি করেন, বিশ্বকাপে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচের আগে এবং ম্যাচ চলাকালে এমবাপ্পে একাধিকবার উদ্ধত আচরণ করেছেন।

তার অভিযোগ অনুযায়ী, মাঠে এমবাপ্পে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের প্রতি অবজ্ঞাসূচক মনোভাব দেখিয়েছেন এবং লাতিন আমেরিকায় ব্যবহৃত আক্রমণাত্মক গালিও দিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, ম্যাচ শেষ হওয়ার পর এমবাপ্পে প্যারাগুয়ের গোলরক্ষকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ বা করমর্দন করেননি। বরং প্রতিপক্ষের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে জয়ের উল্লাস প্রকাশ করেন, যা একজন আন্তর্জাতিক মানের ফুটবলারের কাছ থেকে প্রত্যাশিত নয়।

আমারিলার মতে, ফ্রান্সের মতো ঐতিহ্যবাহী দেশের প্রতিনিধিত্বকারী একজন খেলোয়াড়ের আচরণ আরও দায়িত্বশীল হওয়া উচিত।

পরবর্তীতে নিজের আগের পোস্ট মুছে ফেলার বিষয়টিও স্বীকার করেন প্যারাগুয়ের এই সিনেটর।

তিনি বলেন, আবেগের বশে কঠোর ভাষা ব্যবহার করেছিলেন। প্যারাগুয়ের খেলোয়াড়দের অসম্মান করা হয়েছে বলে মনে হওয়ায় তিনি ক্ষুব্ধ ছিলেন।

তবে কিছু সময় পর তিনি উপলব্ধি করেন যে তার ব্যবহৃত কিছু শব্দও বৈষম্যমূলক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। নিজের বক্তব্য পর্যালোচনা করে তিনি পোস্টটি সরিয়ে দেন।

আমারিলা জানান, তার শরীরে আদিবাসী ও স্প্যানিশ—দুই ঐতিহ্যের রক্ত প্রবাহিত হচ্ছে। তাই তিনি নিজেও বৈষম্য ও বর্ণবাদের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে সচেতন। সেই কারণেই ঘৃণার চক্র থেকে বেরিয়ে আসতে তিনি বিতর্কিত পোস্টটি মুছে ফেলেন।

এমবাপ্পে তাকে “অযোগ্য” বলার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে আমারিলা বলেন, তিনি প্যারাগুয়ের জনগণের ভোটে নির্বাচিত একজন সিনেটর। তাই তাকে না জেনে তার যোগ্যতা নিয়ে মন্তব্য করার অধিকার এমবাপ্পের নেই।

তিনি বলেন, “আপনি জানেন না আমি কে। আমি জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি। আমার দায়িত্ব জনগণের কণ্ঠস্বর তুলে ধরা।”

এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি স্পষ্ট করে দেন যে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ও দায়িত্ব সম্পর্কে তিনি আপসহীন।

পোস্টের শেষ অংশে সেলেস্তে আমারিলা আরও কঠোর অবস্থান নেন। তিনি অভিযোগ করেন, একজন নারী হওয়ায় তাকে ব্যক্তিগতভাবে অপমান করা হয়েছে।

তার দাবি, এমবাপ্পের মন্তব্য রাজনৈতিক ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার শামিল। এজন্য তিনি প্রকাশ্যে ক্ষমা দাবি করেন।

আমারিলা সতর্ক করে বলেন, এমবাপ্পে যদি প্রকাশ্যে ক্ষমা না চান, তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।

এই ঘটনাকে ঘিরে ক্রীড়া ও রাজনৈতিক দুই অঙ্গনেই ব্যাপক আলোচনা চলছে। একজন বিশ্বখ্যাত ফুটবলারের সঙ্গে একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির প্রকাশ্য বাকযুদ্ধ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও গুরুত্ব পাচ্ছে।

এখন পর্যন্ত এমবাপ্পে নতুন করে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি। ফলে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, কিংবা বিষয়টি আইনি পর্যায়ে গড়ায় কি না, তা নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে।
সূত্র: এনডিটিভি