খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img
Homeস্পোটস ওয়ার্ল্ডফিফা বিশ্বকাপ স্পেশালশেষ বিশ্বকাপে রোনাল্ডো, প্রথম বিশ্বকাপে ইয়ামাল! আইবেরিয়ান ডার্বিতে আগুন ম্যাচ

শেষ বিশ্বকাপে রোনাল্ডো, প্রথম বিশ্বকাপে ইয়ামাল! আইবেরিয়ান ডার্বিতে আগুন ম্যাচ

বিশ্বকাপের মূল পর্বে না হলেও বাছাইপর্বে স্পেনের একটি বিশাল জয় এখনও আলোচনায় আসে। ১৯৩৪ সালের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে পর্তুগালকে ৯-০ ব্যবধানে হারিয়েছিল স্পেন। এটি দুই দলের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ব্যবধানের জয়গুলোর একটি।

ফুটবলপ্রেমীদের কাছে বিশ্বকাপ মানেই আবেগ, উত্তেজনা এবং ইতিহাস গড়ার মঞ্চ। আর সেই মঞ্চে যখন মুখোমুখি হয় স্পেন ও পর্তুগাল, তখন তা শুধু একটি ম্যাচ থাকে না; এটি পরিণত হয় মর্যাদা, ঐতিহ্য এবং দুই প্রজন্মের সংঘর্ষে। এবারের বহুল আলোচিত স্পেন বনাম পর্তুগাল ম্যাচকে ঘিরে উত্তেজনা আরও বেশি, কারণ একই মাঠে দেখা যেতে পারে দুই ভিন্ন সময়ের দুই তারকাকে—একদিকে শেষ বিশ্বকাপ খেলতে নামা ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো, অন্যদিকে প্রথম বিশ্বকাপ মঞ্চে পা রাখা তরুণ বিস্ময় লামিনে ইয়ামাল।

দুই প্রজন্মের এই প্রতীকী লড়াই ফুটবল বিশ্বের নজর কেড়েছে। অভিজ্ঞতা বনাম তারুণ্য, ইতিহাস বনাম নতুন অধ্যায়ের গল্প যেন লেখা হতে যাচ্ছে এই ম্যাচে।

ইউরোপের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলে অবস্থিত আইবেরিয়ান উপদ্বীপে পাশাপাশি অবস্থান করছে স্পেন ও পর্তুগাল। প্রতিবেশী হওয়ার কারণে দুই দেশের সম্পর্ক বহু শতাব্দী ধরে নানা রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী হয়েছে। ইতিহাসে এমন সময়ও ছিল যখন দীর্ঘ সময় পর্তুগাল স্পেনের নিয়ন্ত্রণে ছিল। পরে স্বাধীনতার সংগ্রামের মধ্য দিয়ে নিজেদের পরিচয় পুনরুদ্ধার করে দেশটি।

আরও পড়ুন :  ৫০০ বছর আগে বিলুপ্ত জায়ান্ট মোয়া ফিরতে পারে পৃথিবীতে! কৃত্রিম ডিম ফুটে জন্ম নিল ২৪টি ছানা

বর্তমানে রাজনৈতিকভাবে দুই দেশের মধ্যে সুসম্পর্ক থাকলেও ফুটবল মাঠে সেই বন্ধুত্বের কোনও প্রভাব দেখা যায় না। বরং মাঠে নামলেই দেখা যায় প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং জয়ের জন্য তীব্র লড়াই।

আন্তর্জাতিক ফুটবলে স্পেন ও পর্তুগাল বহুবার একে অপরের মুখোমুখি হয়েছে। পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে স্পেনের আধিপত্য স্পষ্টভাবে চোখে পড়ে।

দুই দলের মুখোমুখি রেকর্ড:

  • মোট ম্যাচ: ৪১টি
  • স্পেনের জয়: ১৭টি
  • পর্তুগালের জয়: ৬টি
  • ড্র: ১৮টি

১৯২১ সালে প্রথমবার আন্তর্জাতিক ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল এই দুই দেশ। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে নানা প্রতিযোগিতায় তারা লড়াই চালিয়ে গেছে। তবে বিশ্বকাপ মঞ্চে তাদের সাক্ষাৎ তুলনামূলকভাবে কম হয়েছে।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে স্পেন ও পর্তুগাল মাত্র দুইবার একে অপরের বিরুদ্ধে খেলেছে। আর সেখানেও পর্তুগালের জন্য সুখস্মৃতি খুব বেশি নেই।

দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। ম্যাচটি ছিল টানটান উত্তেজনায় ভরা। দীর্ঘ সময় গোলশূন্য থাকার পর ৬৩ মিনিটে দাভিদ ভিয়া গোল করে স্পেনকে এগিয়ে দেন।

সেই একমাত্র গোলেই জয় নিশ্চিত করে স্পেন। ম্যাচ শেষে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হয় রোনাল্ডোদের। শুধু তাই নয়, সেই বিশ্বকাপের শিরোপাও জিতে নেয় স্প্যানিশরা।

আরও পড়ুন :  মালয়েশিয়া-চীন সফরের অর্জন দেশের মানুষের: সংসদে প্রধানমন্ত্রীর

রাশিয়া বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে আবারও দেখা হয়েছিল দুই দলের। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয় উভয় দল।

ম্যাচের শুরুতে পেনাল্টি থেকে গোল করে পর্তুগালকে এগিয়ে দেন রোনাল্ডো। পুরো ম্যাচজুড়ে দারুণ পারফরম্যান্স করেন তিনি। ব্যক্তিগতভাবে হ্যাটট্রিকও পূর্ণ করেন।

কিন্তু তবুও জয় ধরা দেয়নি। ম্যাচের শেষ দিকে ফ্রি-কিক থেকে অসাধারণ গোল করে তিনি দলের হার এড়ান। নাটকীয় সেই ম্যাচ শেষ হয় ৩-৩ সমতায়।

বিশ্বকাপের মূল পর্বে না হলেও বাছাইপর্বে স্পেনের একটি বিশাল জয় এখনও আলোচনায় আসে। ১৯৩৪ সালের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে পর্তুগালকে ৯-০ ব্যবধানে হারিয়েছিল স্পেন। এটি দুই দলের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ব্যবধানের জয়গুলোর একটি।

এই রেকর্ড এখনও ফুটবল ইতিহাসে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয় এবং স্পেনের শক্তিমত্তার অন্যতম উদাহরণ হিসেবে ধরা হয়।

এই ম্যাচের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ নিঃসন্দেহে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো এবং লামিনে ইয়ামাল। একদিকে এমন একজন ফুটবলার, যিনি দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বিশ্ব ফুটবল শাসন করেছেন। অন্যদিকে এমন একজন তরুণ, যাকে ভবিষ্যতের সুপারস্টার হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আরও পড়ুন :  যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের চাপে বাংলাদেশের রপ্তানি খাত: সতর্কবার্তা এডিবির

রোনাল্ডোর জন্য এটি হতে পারে শেষ বিশ্বকাপ যাত্রার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। নিজের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি অসংখ্য রেকর্ড গড়েছেন, বহু শিরোপা জিতেছেন। তবে স্পেনের বিপক্ষে বিশ্বকাপ মঞ্চে জয় এখনও অধরা।

অন্যদিকে ইয়ামালের সামনে রয়েছে নিজের পরিচয় বিশ্বমঞ্চে প্রতিষ্ঠা করার সুযোগ। তার গতি, ড্রিবলিং এবং আক্রমণাত্মক ফুটবল ইতোমধ্যেই দর্শকদের নজর কাড়তে শুরু করেছে।

ফুটবলে পরিসংখ্যান সবসময় ভবিষ্যৎ বলে দেয় না, কিন্তু অতীত একটি ধারণা দেয়। সেই হিসেবে স্পেন কিছুটা এগিয়ে থাকলেও বড় ম্যাচে যে কোনও কিছু সম্ভব।

রোনাল্ডো কি শেষ বিশ্বকাপ মঞ্চে স্পেনের বিপক্ষে প্রথম জয় তুলে নিতে পারবেন? নাকি স্পেন আবারও নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখবে? আর ইয়ামাল কি নিজের প্রথম বিশ্বকাপেই নতুন ইতিহাসের সূচনা করবেন?

উত্তর জানা যাবে মাঠের ৯০ মিনিটেই। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত—আইবেরিয়ান ডার্বি আবারও ফুটবল বিশ্বকে উপহার দিতে চলেছে রোমাঞ্চ, নাটকীয়তা এবং স্মরণীয় কিছু মুহূর্ত।