খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আচরণবিধি ও বিধিমালা চূড়ান্তের নির্দেশ সিইসির

স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে প্রস্তুতি আরও জোরদার করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচন সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক করতে বিদ্যমান নির্বাচনি আচরণবিধি এবং নির্বাচন বিধিমালা...
Homeবাংলা নিউজ স্পেশালজাতীয়স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আচরণবিধি ও বিধিমালা চূড়ান্তের নির্দেশ সিইসির

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আচরণবিধি ও বিধিমালা চূড়ান্তের নির্দেশ সিইসির

সিইসি নির্বাচন কমিশন সচিবালয়কে দ্রুত প্রয়োজনীয় বিধিমালা ও আচরণবিধি চূড়ান্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা যায়।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে প্রস্তুতি আরও জোরদার করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচন সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক করতে বিদ্যমান নির্বাচনি আচরণবিধি এবং নির্বাচন বিধিমালা দ্রুত চূড়ান্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। কমিশনের এই পদক্ষেপকে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে এক নির্বাচন কমিশনার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, সিইসি নির্বাচন কমিশন সচিবালয়কে দ্রুত প্রয়োজনীয় বিধিমালা ও আচরণবিধি চূড়ান্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা যায়।

নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের আগে নির্বাচনি আচরণবিধি এবং নির্বাচন বিধিমালা চূড়ান্ত করা আইনি বাধ্যবাধকতা। এ কারণে কমিশন এখন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এসব নীতিমালা প্রস্তুতের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত রোডম্যাপ অনুযায়ী আগামী ১৫ আগস্টের মধ্যেই আচরণবিধি ও বিধিমালা চূড়ান্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সময়মতো এই কাজ শেষ হলে তফসিল ঘোষণা এবং ভোটগ্রহণের প্রস্তুতিও নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

এর আগে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, আগামী অক্টোবর মাস থেকে ইউনিয়ন পরিষদ অথবা পৌরসভা নির্বাচন দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কার্যক্রম শুরু করা সবচেয়ে যৌক্তিক হবে। কারণ, আইন অনুযায়ী ভোটগ্রহণের অন্তত ৪৫ দিন আগে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করতে হয়। ফলে নির্ধারিত সময় ধরে রাখতে এখন থেকেই প্রশাসনিক ও আইনি প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে।

কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, অক্টোবর থেকে ধাপে ধাপে দেশের বিভিন্ন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

নির্বাচন কমিশন নির্বাচনি আচরণবিধির একটি খসড়া ইতোমধ্যে তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকেও লিখিত মতামত আহ্বান করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, কয়েকটি রাজনৈতিক দল ইতোমধ্যে তাদের মতামত জমা দিয়েছে। এসব মতামত বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনা হবে। এরপর চূড়ান্ত করা হবে নির্বাচনি আচরণবিধি। পাশাপাশি নির্বাচন বিধিমালার কাজও দ্রুত এগিয়ে চলছে এবং চলতি জুলাই মাসের মধ্যেই সেটি সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এভাবে রাজনৈতিক দল, সংশ্লিষ্ট অংশীজন এবং কমিশনের অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে একটি গ্রহণযোগ্য ও কার্যকর নির্বাচনি কাঠামো গড়ে তোলার চেষ্টা করছে নির্বাচন কমিশন।

বর্তমানে দেশে মোট ৪ হাজার ৫৮০টি ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে। এর মধ্যে চলতি বছরে ৩ হাজার ৯৮১টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

অন্যদিকে, বাকি ইউনিয়ন পরিষদগুলোর মেয়াদ ও অন্যান্য প্রশাসনিক কারণে সেগুলো ২০২৭ এবং ২০২৮ সালে নির্বাচন উপযোগী হবে। ফলে প্রথম ধাপে অধিকাংশ ইউনিয়ন পরিষদেই ভোটগ্রহণের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

দেশের মোট ৩৩০টি পৌরসভার মধ্যে বর্তমানে ৩২০টি নির্বাচন উপযোগী রয়েছে। তবে ১০টি পৌরসভায় বিভিন্ন আইনি জটিলতার কারণে আপাতত নির্বাচন আয়োজন সম্ভব হচ্ছে না।

নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, যেসব পৌরসভায় আইনি বাধা নেই, সেখানে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী নির্বাচন সম্পন্ন করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। আদালতের নিষ্পত্তির পর বাকি পৌরসভাগুলোর নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

নতুন পাঁচটি উপজেলা যুক্ত হওয়ায় বর্তমানে দেশে মোট উপজেলার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫০০। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, সবগুলো উপজেলাই এখন নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রস্তুত।

নতুন অন্তর্ভুক্ত উপজেলাগুলো হলো বগুড়ার মোকামতলা, কক্সবাজারের মাতামুহুরী, ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া, ঠাকুরগাঁওয়ের ভুল্লী এবং লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ।

এসব নতুন উপজেলাও স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আওতায় আসবে বলে কমিশন জানিয়েছে।

নতুন বগুড়া সিটি করপোরেশন যুক্ত হওয়ার ফলে দেশে বর্তমানে মোট সিটি করপোরেশনের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩টি। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, সবগুলো সিটি করপোরেশনই নির্বাচন উপযোগী রয়েছে।

তবে বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদ ছাড়া অধিকাংশ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান প্রশাসকের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। নির্বাচনের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্বভার ফিরিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই কমিশন দ্রুত নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে চায়।

নির্বাচন কমিশনের রোডম্যাপ অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আচরণবিধি, নির্বাচন বিধিমালা, ভোটার তালিকা, প্রশাসনিক সমন্বয় এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার কাজ চলছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়মতো বিধিমালা চূড়ান্ত করা গেলে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা, প্রার্থিতা যাচাই, প্রচারণা এবং ভোটগ্রহণ—সব ধাপই নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী পরিচালনা করা সহজ হবে। এতে নির্বাচন ব্যবস্থার প্রতি জনআস্থা আরও বাড়বে।

দীর্ঘ সময় ধরে প্রশাসকের মাধ্যমে পরিচালিত অনেক স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের অপেক্ষায় রয়েছেন সাধারণ মানুষ। ফলে নির্বাচন কমিশনের দ্রুত প্রস্তুতি এবং আচরণবিধি চূড়ান্ত করার উদ্যোগ স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে নতুন প্রত্যাশা তৈরি করেছে।

সব প্রস্তুতি পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী অক্টোবর থেকেই ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ এবং সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন ধাপে ধাপে অনুষ্ঠিত হতে পারে। এজন্য এখন নির্বাচন কমিশনের প্রধান লক্ষ্য হলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় বিধিমালা সম্পন্ন করে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করা।