খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img
Homeবিজ্ঞান ও প্রযুক্তিওপেন এআইমেটার নতুন এআই মডেল ঘিরে বিতর্ক: ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য কি ঝুঁকিতে?

মেটার নতুন এআই মডেল ঘিরে বিতর্ক: ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য কি ঝুঁকিতে?

যদি কোনো ব্যবহারকারীর ছবি প্রকাশ্যে থাকে এবং সেটি এআই প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহৃত হয়, তাহলে ভবিষ্যতে সেই ধরনের মুখাবয়ব, পোশাক বা পরিবেশের সঙ্গে মিল থাকা ছবি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। যদিও এটি সরাসরি মূল ছবির কপি নয়, তবুও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

প্রযুক্তির বর্তমান যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। লেখালেখি, ছবি তৈরি, ভিডিও সম্পাদনা থেকে শুরু করে গবেষণা—সব ক্ষেত্রেই এআইয়ের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। এই প্রতিযোগিতায় নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে নতুন প্রজন্মের এআই মডেল নিয়ে এসেছে মেটা। সংস্থার নতুন ‘মিউজ’ (Muse) সিরিজ ইতোমধ্যেই প্রযুক্তি মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

তবে নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে যেমন সম্ভাবনা থাকে, তেমনি থাকে নানা প্রশ্নও। মেটার এই নতুন এআই মডেলকে ঘিরেও তৈরি হয়েছে গোপনীয়তা ও তথ্য নিরাপত্তা নিয়ে বড় বিতর্ক। অনেক ব্যবহারকারীর আশঙ্কা, তাদের অজান্তেই প্রকাশ্যে থাকা ছবি ও কনটেন্ট এআই প্রশিক্ষণে বা এআই-নির্ভর ছবি তৈরির কাজে ব্যবহৃত হতে পারে। ফলে ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

মেটার ‘মিউজ’ হলো উন্নতমানের একটি এআই ইমেজ জেনারেশন মডেল, যা ব্যবহারকারীর লিখিত নির্দেশনা বা প্রম্পট অনুযায়ী অত্যন্ত বাস্তবসম্মত ছবি তৈরি করতে পারে। এটি তৈরি করেছে মেটার গবেষণা বিভাগ ‘মেটা সুপারইন্টেলিজেন্স ল্যাবস’।

ব্যবহারকারীরা বিনামূল্যে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারছেন। শুধু কয়েকটি বাক্যে কী ধরনের ছবি চান তা লিখলেই এআই সেই অনুযায়ী নতুন ছবি তৈরি করে দেয়। বিভিন্ন আর্ট স্টাইল, ডিজাইন এবং সৃজনশীল সম্পাদনার সুবিধাও এতে যুক্ত হয়েছে। ফলে সাধারণ ব্যবহারকারী থেকে শুরু করে ডিজাইনার—সবাই এই প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

প্রযুক্তিটি জনপ্রিয় হওয়ার পাশাপাশি এর তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মেটা প্রকাশ্যে দৃশ্যমান ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের ছবি ব্যবহার করে তাদের এআই মডেলের সক্ষমতা উন্নত করছে।

এই অভিযোগ সামনে আসতেই অনেক ব্যবহারকারী উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, যদি প্রকাশ্যে থাকা ব্যক্তিগত ছবিগুলো এআই প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত হয়, তাহলে ভবিষ্যতে সেই তথ্যের অপব্যবহারের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকাশ্যে শেয়ার করা কনটেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে আইনি ও নীতিগত বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যবহারকারীদের স্পষ্টভাবে জানানো এবং তাদের সম্মতির বিষয়টি নিশ্চিত করা জরুরি।

এআই মডেল সাধারণত বিপুল পরিমাণ ছবি ও তথ্য বিশ্লেষণ করে বিভিন্ন প্যাটার্ন শেখে। এরপর সেই শেখা তথ্যের ভিত্তিতে নতুন ছবি বা ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি করে।

যদি কোনো ব্যবহারকারীর ছবি প্রকাশ্যে থাকে এবং সেটি এআই প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহৃত হয়, তাহলে ভবিষ্যতে সেই ধরনের মুখাবয়ব, পোশাক বা পরিবেশের সঙ্গে মিল থাকা ছবি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। যদিও এটি সরাসরি মূল ছবির কপি নয়, তবুও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

মেটার নীতিমালায় উল্লেখ রয়েছে যে, তাদের বিভিন্ন এআই ফিচার ব্যবহার করে কনটেন্ট তৈরি করা যায়। এছাড়া প্রকাশ্যে উপলব্ধ কিছু তথ্য ও কনটেন্ট নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে এআই উন্নয়নের কাজে ব্যবহৃত হতে পারে।

এই বিষয়টিই বর্তমানে বিতর্কের অন্যতম কারণ। অনেক ব্যবহারকারী মনে করছেন, তাদের তথ্য কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে সে বিষয়ে আরও স্বচ্ছতা থাকা উচিত। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরাও বলছেন, এ ধরনের পরিষেবায় ব্যবহারকারীদের স্পষ্টভাবে জানানো এবং নিয়ন্ত্রণের সুযোগ দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আপনার ব্যক্তিগত তথ্য ও ছবি সুরক্ষিত রাখতে কয়েকটি সহজ পদক্ষেপ অনুসরণ করতে পারেন।

১. এআই রিমিক্স অপশন বন্ধ করুন

ইনস্টাগ্রাম সেটিংসে গিয়ে AI Remix বা অনুরূপ এআই-সম্পর্কিত ফিচার বন্ধ করে দিন। এতে আপনার কনটেন্ট ব্যবহারের সুযোগ অনেকটাই সীমিত হতে পারে।

২. প্রোফাইল প্রাইভেট করুন

যদি আপনার অ্যাকাউন্ট ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য হয়, তাহলে সেটিকে Private করে রাখুন। এতে শুধুমাত্র অনুমোদিত অনুসরণকারীরাই আপনার ছবি দেখতে পারবেন।

৩. পাবলিক পোস্ট করার আগে ভাবুন

ব্যক্তিগত ছবি, পরিবারের সদস্যদের ছবি বা সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ্যে পোস্ট করার আগে একবার ভেবে নিন। ইন্টারনেটে প্রকাশিত তথ্য অনেক সময় দীর্ঘদিন পর্যন্ত বিভিন্নভাবে সংরক্ষিত থাকতে পারে।

৪. নিয়মিত প্রাইভেসি সেটিংস পরীক্ষা করুন

ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুক সময়ে সময়ে নতুন ফিচার যুক্ত করে। তাই নিয়মিত প্রাইভেসি সেটিংস পর্যালোচনা করলে অপ্রয়োজনীয় অনুমতি বন্ধ রাখা সহজ হয়।

৫. অফিসিয়াল আপডেট নজরে রাখুন

মেটা তাদের নীতিমালা ও এআই সংক্রান্ত নিয়ম প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন করতে পারে। তাই অফিসিয়াল ঘোষণাগুলো পড়ে আপডেট থাকা বুদ্ধিমানের কাজ।

মেটা অতীতেও ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছে। বিভিন্ন সময়ে ব্যবহারকারীর তথ্য ব্যবহারের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং সংস্থাটিকে ব্যাখ্যাও দিতে হয়েছে।

এই ইতিহাসের কারণেই নতুন এআই প্রযুক্তি নিয়ে অনেক ব্যবহারকারী আরও সতর্ক অবস্থান নিচ্ছেন। তাদের আশঙ্কা, ভবিষ্যতে এআই যত উন্নত হবে, ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও তত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিঃসন্দেহে ভবিষ্যতের অন্যতম শক্তিশালী প্রযুক্তি। এটি মানুষের কাজকে সহজ করছে, সৃজনশীলতার নতুন দিগন্ত খুলে দিচ্ছে এবং উৎপাদনশীলতা বাড়াচ্ছে। তবে প্রযুক্তির সুবিধার পাশাপাশি ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা সম্পর্কেও সমান সচেতন থাকা জরুরি।

যে কোনো নতুন এআই টুল ব্যবহার করার আগে তার প্রাইভেসি নীতি পড়ে নেওয়া, অপ্রয়োজনীয় অনুমতি বন্ধ রাখা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নিরাপত্তা সেটিংস নিয়মিত পরীক্ষা করা বুদ্ধিমানের কাজ। প্রযুক্তির সুবিধা তখনই সত্যিকার অর্থে উপভোগ করা সম্ভব, যখন ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্যও সমানভাবে সুরক্ষিত থাকে।