খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img

জুলাই ২৪ স্মরণে বেনাপোলে শহীদ আব্দুল্লার কবর জিয়ারত ও দোয়া

দেশব্যাপি রাষ্ট্রীয়ভাবে জুলাই ২০২৪ পালিত হচ্ছে। শারশা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২৪শের গন অভ্যন্থনে নিহত বেনাপোলে শহীদ আবু আব্দুল্রার কবর জিয়ারত দোয়া অনুষ্টিত হয়েছে।...
Homeবাংলা নিউজ স্পেশালজাতীয়বিদ্যুত চুক্তি বাতিল হচ্ছেনা,দাম কমাতে চলছে আলোচনা: জ্বালানিমন্ত্রী

বিদ্যুত চুক্তি বাতিল হচ্ছেনা,দাম কমাতে চলছে আলোচনা: জ্বালানিমন্ত্রী

পূর্ববর্তী সরকার বেসরকারি বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলোর সঙ্গে যে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি করেছে, সেখানে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ‘সভরেইন গ্যারান্টি’ প্রদান করা হয়েছে। ফলে এসব চুক্তি একতরফাভাবে বাতিল করা আইনি ও আর্থিকভাবে অত্যন্ত জটিল।

বিগত সরকারের সময় বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি এখনই বাতিল করার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে সরকার। কারণ এসব চুক্তির সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ‘সভরেইন গ্যারান্টি’ বা রাষ্ট্রীয় নিশ্চয়তা, যা আন্তর্জাতিকভাবে বাধ্যতামূলক একটি প্রতিশ্রুতি হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে সাধারণ মানুষের জন্য বিদ্যুতের মূল্য সহনীয় রাখতে সরকার সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বিভিন্ন সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান পরিস্থিতি, চ্যালেঞ্জ এবং সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য মারদিয়া মমতাজের এক সম্পূরক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, পূর্ববর্তী সরকার বেসরকারি বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলোর সঙ্গে যে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি করেছে, সেখানে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ‘সভরেইন গ্যারান্টি’ প্রদান করা হয়েছে। ফলে এসব চুক্তি একতরফাভাবে বাতিল করা আইনি ও আর্থিকভাবে অত্যন্ত জটিল।

তিনি ব্যাখ্যা করেন, রাষ্ট্রীয় নিশ্চয়তা থাকায় চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত নিলে আন্তর্জাতিক আর্থিক ও আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই সরকার বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে বিকল্প পথ অনুসরণ করছে।

মন্ত্রী জানান, সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করছে। বিশেষ করে বিলম্বে অর্থ পরিশোধের কারণে আরোপিত ‘লেট পেমেন্ট ফি’ মওকুফ এবং অন্যান্য আর্থিক সুবিধা নিয়ে সমঝোতার চেষ্টা চলছে।

সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে বিদ্যুতের সামগ্রিক খরচ হ্রাস করা। এতে ভবিষ্যতে সাধারণ গ্রাহকদের জন্য বিদ্যুতের দাম আরও সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র যখন জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করে, তখন সেটি পুরো বিদ্যুৎ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে। এমন পরিস্থিতিতে হঠাৎ করে চুক্তি বাতিল বা কঠোর অবস্থান নেওয়া হলে বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

তিনি বলেন, দেশের শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সাধারণ মানুষের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে সরকারকে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নিতে হয়। তাই বিদ্যমান চুক্তিগুলো কার্যকর থাকা পর্যন্ত সরকার আলোচনার মাধ্যমে ব্যয় কমানোর পথেই এগোচ্ছে।

জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমানের প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে কোনো কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু নেই। একই সঙ্গে এ ধরনের কোনো কার্যকর চুক্তিও বহাল নেই।

ফলে সরকারকে এখন আর কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হচ্ছে না। এটি সরকারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক স্বস্তির বিষয়।

তবে তিনি জানান, মেয়াদ শেষ হওয়া দুটি রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে নতুন করে ‘নো ইলেকট্রিসিটি, নো পেমেন্ট’ শর্তে চুক্তি করা হয়েছে। অর্থাৎ বিদ্যুৎ উৎপাদন না হলে সরকারকে কোনো অর্থ পরিশোধ করতে হবে না। বর্তমানে এই দুটি কেন্দ্র কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেনের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী দেশের গ্যাস সংকটের চিত্র তুলে ধরেন।

তার তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে মাত্র ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট।

এই ঘাটতির কারণে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শিল্প, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং আবাসিক খাতে চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ করা যাচ্ছে না। ফলে অনেক এলাকায় স্বাভাবিক গ্যাস বিতরণ ব্যাহত হচ্ছে।

যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম রছুলের প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার সর্বশেষ তথ্য তুলে ধরেন।

তিনি জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সঞ্চালন লস ছিল ৩ দশমিক ০৪ শতাংশ এবং বিতরণ লস ছিল ৭ দশমিক ৩৮ শতাংশ।

অন্যদিকে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের এপ্রিল পর্যন্ত সঞ্চালন লস সামান্য বেড়ে ৩ দশমিক ২৭ শতাংশে পৌঁছালেও বিতরণ লস উল্লেখযোগ্যভাবে কমে ৬ দশমিক ২৯ শতাংশে নেমে এসেছে।

মন্ত্রী বলেন, বিতরণ ব্যবস্থায় প্রযুক্তির ব্যবহার, অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং তদারকি বাড়ানোর ফলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমানো সম্ভব হয়েছে।

রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করেন।

তিনি বলেন, বৈশ্বিক সংঘাত কিছুটা কমে আসায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম নিম্নমুখী হলেও তা এখনো বাংলাদেশের জন্য লাভজনক পর্যায়ে পৌঁছায়নি।

ফলে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ডিজেল, অকটেন ও পেট্রোল বিক্রি করে প্রতিদিন প্রায় ৭৮ কোটি টাকা লোকসান দিচ্ছে।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, গত মার্চ থেকে ২৩ জুন পর্যন্ত সময়ে বিপিসির মোট লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ৬৯৯ কোটি ৩১ লাখ টাকা।

মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও কমে এলে দেশের বাজারেও জ্বালানি তেলের মূল্য পুনর্বিবেচনা করা হবে, যাতে সাধারণ মানুষ কিছুটা স্বস্তি পায়।

সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য সাবিকুন্নাহারের প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী জানান, ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন, ২০১০’-এর আওতায় সম্পাদিত বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তিগুলো পর্যালোচনার জন্য গঠিত দুটি পৃথক কমিটি ইতোমধ্যে তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।

সরকার বর্তমানে সেই প্রতিবেদনের সুপারিশ বিশ্লেষণ করছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে।

সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো কেবল রাজনৈতিক নয়, বরং আর্থিক, প্রযুক্তিগত এবং আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতার সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই বিদ্যমান চুক্তিগুলো হঠাৎ বাতিল না করে আলোচনার মাধ্যমে ব্যয় কমানো, বিদ্যুতের মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করাকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

একই সঙ্গে গ্যাসের ঘাটতি কমানো, বিদ্যুৎ বিতরণে ক্ষতি হ্রাস, জ্বালানি তেলের মূল্য পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং পুরোনো চুক্তিগুলোর পুনর্মূল্যায়নের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে।