খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img
Homeস্পোটস ওয়ার্ল্ডফিফা বিশ্বকাপ স্পেশালসালাহ পেনাল্টি বিতর্ক: নতুন রিপ্লে বলছে রেফারির সিদ্ধান্তই ছিল সঠিক

সালাহ পেনাল্টি বিতর্ক: নতুন রিপ্লে বলছে রেফারির সিদ্ধান্তই ছিল সঠিক

এই রিপ্লেতে দেখা যায়, সালাহ বক্সে ঢোকার সময় হঠাৎ দিক পরিবর্তন করতে গিয়ে বলের উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। ঠিক সেই মুহূর্তেই আলভারেজ সুযোগ বুঝে বলটি কেড়ে নেন। অর্থাৎ, বলের নিয়ন্ত্রণ তখন আর সালাহর পায়ে ছিল না।

ফুটবলে একেকটা মুহূর্ত কখনও পুরো ম্যাচের গল্প বদলে দেয়। ঠিক তেমনই এক বিতর্কিত মুহূর্ত ঘিরে উত্তাল হয়ে উঠেছে আর্জেন্টিনা বনাম মিশরের ম্যাচ। ম্যাচ শেষে মিশরের পক্ষ থেকে অভিযোগ ওঠে—তাদের সঙ্গে অন্যায় হয়েছে, বিশেষ করে মোহাম্মদ সালাহকে পেনাল্টি না দেওয়ায়। কিন্তু নতুন করে প্রকাশ্যে আসা রিপ্লে ফুটেজ যেন ভিন্ন গল্প বলছে। সেখানে পরিষ্কার ইঙ্গিত মিলছে, রেফারি আসলে ভুল করেননি—বরং পরিস্থিতি ঠিকভাবেই বিচার করেছিলেন।

ম্যাচ তখন টানটান উত্তেজনায় ভরা। স্কোরলাইন ২-২, আর সংযুক্তি সময়ের শেষ ভাগ চলছে। এমন সময় মিশরের সবচেয়ে বড় ভরসা সালাহ বল নিয়ে ঢুকে পড়েন আর্জেন্টিনার পেনাল্টি বক্সে। দর্শকদের মনে তখন একটাই প্রশ্ন—এবার কি ম্যাচের ভাগ্য বদলাবে?

আর্জেন্টিনার হয়ে ডিফেন্সে সাহায্য করতে এগিয়ে আসেন ইউলিয়ান আলভারেজ। তিনি সঠিক সময়েই সালাহর কাছ থেকে বল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। ঠিক সেই মুহূর্তেই মাটিতে পড়ে যান সালাহ। সঙ্গে সঙ্গেই তিনি পেনাল্টির দাবি তোলেন। মিশরের বেঞ্চ থেকেও শুরু হয় জোরালো প্রতিবাদ।

কিন্তু রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেটেক্সিয়ের খেলা থামাননি। তিনি পরিস্থিতিকে ফাউল হিসেবে দেখেননি এবং খেলা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। এই সিদ্ধান্তই পরবর্তীতে পুরো ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

রেফারি খেলা চালিয়ে দেওয়ার পর মুহূর্তের মধ্যেই আর্জেন্টিনা পাল্টা আক্রমণে যায়। বল পৌঁছে যায় লাউতারো মার্টিনেজের কাছে। তিনি দ্রুত ক্রস বাড়ান বক্সের মধ্যে, আর সেখানে উপস্থিত এঞ্জো ফার্নান্দেজ হেড করে জয়সূচক গোল করেন।

এই গোলের পর মিশরের বেঞ্চে ক্ষোভ আরও বেড়ে যায়। কোচ হোসাম হাসান সরাসরি প্রতিবাদ জানান। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, রেফারি এসে তাকে হলুদ কার্ড দেখাতে বাধ্য হন। এমনকি দলের এক সাপোর্ট স্টাফকেও লাল কার্ড দেখতে হয়।

ম্যাচ শেষে মিশরের পক্ষ থেকে সরাসরি অভিযোগ তোলা হয় যে, সালাহকে পরিষ্কারভাবে ফাউল করা হয়েছিল এবং সেটি পেনাল্টি হওয়া উচিত ছিল। তারা দাবি করে, এই সিদ্ধান্ত ম্যাচের ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রেখেছে।

কোচ হোসাম হাসান এমনও অভিযোগ করেন যে, ইচ্ছাকৃতভাবে আর্জেন্টিনাকে সুবিধা দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তারা ফিফার কাছেও আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শুরু হয় তীব্র বিতর্ক—অনেকে রেফারির নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

বিতর্ক যখন চরমে, তখন সামনে আসে নতুন একটি রিপ্লে ভিডিও। আর এখানেই গল্পটা ঘুরে যায়।

এই রিপ্লেতে দেখা যায়, সালাহ বক্সে ঢোকার সময় হঠাৎ দিক পরিবর্তন করতে গিয়ে বলের উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। ঠিক সেই মুহূর্তেই আলভারেজ সুযোগ বুঝে বলটি কেড়ে নেন। অর্থাৎ, বলের নিয়ন্ত্রণ তখন আর সালাহর পায়ে ছিল না।

আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সালাহ পড়ে যাওয়ার সময় আলভারেজের পায়ের সঙ্গে তার পা হালকা ভাবে লাগে। কিন্তু সেটা কোনো ইচ্ছাকৃত ফাউল ছিল না। বরং দেখা যায়, সালাহ নিজেই ভারসাম্য হারিয়ে আগে থেকেই পড়ে যাচ্ছিলেন।

ফুটবলের নিয়ম অনুযায়ী, পেনাল্টি দেওয়ার জন্য স্পষ্ট ফাউল থাকতে হয়—এবং সেটা হতে হবে বলের উপর নিয়ন্ত্রণ থাকা অবস্থায়। এই ক্ষেত্রে দুটি বিষয় পরিষ্কারভাবে দেখা যায়:

প্রথমত, সালাহ তখন বলের নিয়ন্ত্রণে ছিলেন না।
দ্বিতীয়ত, আলভারেজের সঙ্গে তার সংস্পর্শটি ইচ্ছাকৃত ছিল না এবং তা ফাউল হিসেবে গণ্য করার মতো গুরুতরও ছিল না।

এই দুই কারণ মিলিয়ে রেফারির সিদ্ধান্তকে সঠিক বলেই মনে করছেন অনেক বিশ্লেষক।

অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—যদি সেই মুহূর্তে VAR ব্যবহার করা হতো, তাহলে কি সিদ্ধান্ত বদলানো সম্ভব ছিল?

বিশ্লেষকদের মতে, খুব সম্ভবত না। কারণ রিপ্লে ফুটেজেই পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে, এটি কোনো পরিষ্কার ফাউল ছিল না। বরং VAR ব্যবহার করলে রেফারির সিদ্ধান্তই বহাল থাকত।

এছাড়া, ম্যাচের গতি এবং ছন্দ বজায় রাখার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। রেফারি যদি অযথা খেলা থামাতেন, তাহলে ম্যাচের স্বাভাবিক প্রবাহ নষ্ট হতে পারত।

নতুন রিপ্লে প্রকাশের পর আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তাদের দাবি, রেফারি একদম সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তারা মনে করেন, সালাহ হয়তো পেনাল্টি আদায়ের চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু সেটি বাস্তবে ফাউল ছিল না।

অনেকেই বলছেন, ফুটবলে এমন পরিস্থিতি প্রায়ই ঘটে—যেখানে খেলোয়াড়রা সামান্য সংস্পর্শকে বড় করে দেখানোর চেষ্টা করেন। তবে এই ক্ষেত্রে ভিডিও প্রমাণ রেফারির পক্ষেই কথা বলছে।

সত্যি কথা বলতে, ফুটবলে বিতর্ক কখনও পুরোপুরি থামে না। বিশেষ করে যখন ম্যাচের ফলাফল এমন একটি সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করে, তখন আলোচনা আরও দীর্ঘস্থায়ী হয়।

এই ঘটনাতেও তাই হয়েছে। একপক্ষ এখনও মনে করছে তাদের সঙ্গে অন্যায় হয়েছে, আর অন্যপক্ষ বলছে—রেফারি নিয়ম মেনেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

ফুটবল শুধু একটা খেলা নয়, এটা আবেগের জায়গা। যখন প্রিয় খেলোয়াড় পড়ে যান, তখন স্বাভাবিকভাবেই মনে হয়—এটা পেনাল্টি হওয়া উচিত। কিন্তু বাস্তবতা অনেক সময় আবেগের চেয়ে আলাদা হয়।

এই ম্যাচের ঘটনাটাও ঠিক তেমন। প্রথম দেখায় যেটা পেনাল্টি মনে হয়েছিল, নতুন রিপ্লে সেটা ভুল প্রমাণ করেছে। আর এখানেই ফুটবলের সৌন্দর্য—প্রতিটা মুহূর্ত নতুন করে বিচার করার সুযোগ থাকে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, এই বিতর্ক হয়তো কিছুদিন চলবে, কিন্তু ভিডিও প্রমাণ স্পষ্ট করে দিচ্ছে—সেই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে রেফারি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, সেটাই ছিল সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত।