খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img
Homeস্পোটস ওয়ার্ল্ডফিফা বিশ্বকাপ স্পেশালরোনাল্ডোর বিদায়ে ভেঙে পড়লেন দেবের নায়িকা ইধিকা পাল! বিশ্বকাপ আর দেখবেন না?

রোনাল্ডোর বিদায়ে ভেঙে পড়লেন দেবের নায়িকা ইধিকা পাল! বিশ্বকাপ আর দেখবেন না?

রাউন্ড অব ১৬-এ স্পেনের বিপক্ষে পর্তুগালের ম্যাচটি নিয়ে ভীষণ আশাবাদী ছিলেন ইধিকা। ম্যাচ শুরুর আগেই তিনি বিশ্বাস করেছিলেন, রোনাল্ডোর নেতৃত্বে দলটি জয় তুলে নেবে।

ফুটবল বিশ্বকাপ শুধু একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়, এটি কোটি মানুষের আবেগ, স্মৃতি এবং উৎসবের নাম। চার বছর পরপর এই আসরকে ঘিরে পৃথিবীর নানা প্রান্তের মতো বাংলাদেশ ও ভারতের ফুটবলপ্রেমীরাও রাত জেগে প্রিয় দলের জন্য উল্লাস করেন। সাধারণ দর্শকের পাশাপাশি বিনোদন জগতের তারকারাও বিশ্বকাপের উত্তেজনায় মেতে ওঠেন। তবে প্রিয় দলের হার কিংবা প্রিয় খেলোয়াড়ের বিদায় অনেক সময় ভক্তদের মনে গভীর হতাশাও তৈরি করে। ঠিক এমনই অনুভূতির কথা জানালেন অভিনেত্রী ইধিকা পাল।

ইধিকা পালের কাছে ফুটবল বিশ্বকাপের স্মৃতি জড়িয়ে আছে শৈশবের সঙ্গে। ছোটবেলা থেকেই পরিবারের সবাই মিলে বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ দেখার রীতি ছিল তাদের ঘরে। বাবা, জ্যাঠা, কাকা এবং ভাইবোনদের সঙ্গে বসে প্রিয় দলের সমর্থনে তর্ক-বিতর্ক, উল্লাস আর হাসি-আনন্দে কেটে যেত বিশ্বকাপের রাতগুলো।

তার ভাষায়, বিশ্বকাপের সময় পরিবারের প্রত্যেকে নিজের পছন্দের দলকে সমর্থন করতেন। কখনও তর্ক হতো, কখনও রাগ-অভিমান, আবার কিছুক্ষণ পর সবাই একসঙ্গেই ম্যাচের আনন্দ উপভোগ করতেন। সেই সময়গুলো আজও তার কাছে অমূল্য স্মৃতি হয়ে রয়েছে।

ইধিকা জানান, ছোটবেলায় সব ম্যাচ দেখা সম্ভব না হলেও সেমিফাইনাল থেকে পরিবারের সবাই একসঙ্গে বসে খেলা দেখতেন। সেই সময়ের উত্তেজনা ছিল অন্যরকম। কখনও সমর্থন নিয়ে তুমুল বাকবিতণ্ডা, কখনও মজার ঝগড়া—সব মিলিয়ে বিশ্বকাপ যেন পরিবারের একটি বিশেষ উৎসবে পরিণত হতো।

আরও পড়ুন :  ইংল্যান্ড বনাম আর্জেন্টিনা ম্যাচের আগে উত্তেজনা! মায়োর্কায় ভাইরাল হামলার ভিডিও ঘিরে চাঞ্চল্য

আজও বিশ্বকাপ এলেই সেই নস্টালজিক মুহূর্তগুলো মনে পড়ে যায়। কিন্তু এবারের আসর তার জন্য অন্যরকম কষ্টের স্মৃতি হয়ে থাকবে।

বিশ্ব ফুটবলের কিংবদন্তি ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোকে নিজের সবচেয়ে প্রিয় খেলোয়াড় বলে উল্লেখ করেন ইধিকা। শুধু রোনাল্ডোই নন, তার প্রিয় জাতীয় দলও পর্তুগাল। তাই পর্তুগালের প্রতিটি ম্যাচ তিনি আলাদা আগ্রহ নিয়ে অনুসরণ করেন।

রোনাল্ডোর মাঠের লড়াই, নেতৃত্ব, আত্মবিশ্বাস এবং জয়ের ক্ষুধা তাকে বরাবরই অনুপ্রাণিত করেছে। ফলে বিশ্বকাপে পর্তুগালের প্রতিটি ম্যাচ তার কাছে ছিল আবেগের বিষয়।

রাউন্ড অব ১৬-এ স্পেনের বিপক্ষে পর্তুগালের ম্যাচটি নিয়ে ভীষণ আশাবাদী ছিলেন ইধিকা। ম্যাচ শুরুর আগেই তিনি বিশ্বাস করেছিলেন, রোনাল্ডোর নেতৃত্বে দলটি জয় তুলে নেবে।

কিন্তু ম্যাচের ফল তার প্রত্যাশার সম্পূর্ণ বিপরীত হয়। পর্তুগালের বিদায় এবং রোনাল্ডোর বিশ্বকাপ অধ্যায়ের সমাপ্তি তাকে গভীরভাবে নাড়া দেয়।

তিনি বলেন, ম্যাচ শেষ হওয়ার পর তার মনে হয়েছিল যেন হৃদয় ভেঙে গেছে। এতদিন ধরে যাকে বিশ্বকাপে দেখে এসেছেন, ভবিষ্যতে তাকে আর এই মঞ্চে দেখা যাবে না—এই বাস্তবতা মেনে নেওয়া তার জন্য অত্যন্ত কঠিন।

আরও পড়ুন :  মাত্র দেড় লাখ মানুষের দেশ কুরাসাও বিশ্বকাপে! ফুটবল ইতিহাসে নতুন রূপকথা লিখল ‘ব্লু ওয়েভ’

ইধিকার মতে, একজন প্রিয় খেলোয়াড় অনেক সময় পুরো টুর্নামেন্ট দেখার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠেন। রোনাল্ডোর বিদায়ের পর তার কাছে বিশ্বকাপের উত্তেজনাও যেন অনেকটাই ফিকে হয়ে গেছে।

তিনি স্বীকার করেন, আগামী বিশ্বকাপে একই রকম আগ্রহ নিয়ে খেলা দেখতে পারবেন কি না, তা তিনি নিজেও জানেন না। বরং নতুন করে এমন একজন ফুটবলারকে খুঁজে পাওয়া পর্যন্ত বিশ্বকাপ দেখার আগ্রহ অনেকটাই কমে থাকবে।

তার এই অনুভূতি কেবল ব্যক্তিগত নয়। বিশ্বের অসংখ্য রোনাল্ডো-ভক্তও একই ধরনের আবেগ প্রকাশ করেছেন। দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় ধরে বিশ্ব ফুটবলে নিজের প্রভাব বিস্তার করা একজন কিংবদন্তির বিদায় যে ভক্তদের মনে শূন্যতা তৈরি করবে, সেটাই স্বাভাবিক।

পর্তুগালের বিদায়ের পর ইধিকা এখনও নিশ্চিত নন যে তিনি টুর্নামেন্টের বাকি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলো দেখবেন কি না। সেমিফাইনাল এবং ফাইনালের মতো বড় ম্যাচও তার কাছে আগের মতো আকর্ষণীয় মনে হচ্ছে না।

তিনি জানান, এবারের বিশ্বকাপে প্রিয় দলের বিদায়ের ধাক্কা এতটাই গভীর যে এখনও সেই হতাশা কাটিয়ে উঠতে পারেননি।

যদিও রোনাল্ডোকে আর বিশ্বকাপে দেখতে না পাওয়ার কষ্ট রয়েছে, তবুও তার সিদ্ধান্তকে সম্মান করেন ইধিকা। তার বিশ্বাস, এত বড় মাপের একজন পেশাদার ফুটবলার নিশ্চয়ই সবকিছু বিবেচনা করেই নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

আরও পড়ুন :  মেসির কথাতেই এক হল আর্জেন্টিনা! স্বাধীনতা দিবসের প্রার্থনায় আবেগঘন মুহূর্ত ভাইরাল

তবে একজন ভক্ত হিসেবে তার একটাই আক্ষেপ—আরও কয়েক বছর যদি রোনাল্ডোকে সর্বোচ্চ পর্যায়ের ফুটবলে দেখা যেত, তাহলে সেটা ভক্তদের জন্য অসাধারণ উপহার হতো।

ফুটবল বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো মানুষের আবেগকে এক সুতোয় বেঁধে রাখা। প্রিয় দলের জয় যেমন সীমাহীন আনন্দ এনে দেয়, তেমনি বিদায় বা পরাজয় অনেক সময় ভক্তদের চোখে জলও এনে দেয়।

ইধিকা পালের অভিজ্ঞতাও সেই চিরন্তন ফুটবল আবেগেরই প্রতিফলন। একজন অভিনেত্রী হিসেবে নয়, বরং একজন সাধারণ ফুটবলপ্রেমী হিসেবে তিনি যেভাবে রোনাল্ডোর বিদায়ে কষ্ট পেয়েছেন, তা বিশ্বের কোটি সমর্থকের অনুভূতির সঙ্গে মিল খুঁজে দেয়।

বিশ্বকাপ শেষ হয়ে যাবে, নতুন আসরও আসবে। নতুন তারকারা উঠে আসবেন, নতুন গল্প লেখা হবে। কিন্তু ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর মতো কিংবদন্তিদের বিশ্বকাপ যাত্রা ফুটবল ইতিহাসে চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে। আর সেই স্মৃতির সঙ্গেই জড়িয়ে থাকবে অসংখ্য ভক্তের আবেগ, ভালোবাসা এবং অপূর্ণতার গল্প।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

আর্কাইভ