খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img

জর্ডানের সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতার মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে ইরানের দাবি। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা জর্ডানের আজরাক সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে...
Homeভ্রমণ ও পর্যটনবৈরী আবহাওয়ায় কক্সবাজারে ৫০ হাজার পর্যটকের হোটেল বুকিং বাতিল

বৈরী আবহাওয়ায় কক্সবাজারে ৫০ হাজার পর্যটকের হোটেল বুকিং বাতিল

চার দিনের মধ্যেই প্রায় ৫০ হাজার পর্যটক তাদের পূর্বনির্ধারিত হোটেল বুকিং বাতিল করেছেন। ফলে পর্যটন শিল্পে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা।

টানা চার দিনের ভারী বর্ষণ, উত্তাল সমুদ্র এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজার কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত হিসেবে পরিচিত এই পর্যটন নগরীতে পর্যটকের উপস্থিতি আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ এবং সৈকতনির্ভর ক্ষুদ্র ব্যবসায়।

সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, মাত্র চার দিনের মধ্যেই প্রায় ৫০ হাজার পর্যটক তাদের পূর্বনির্ধারিত হোটেল বুকিং বাতিল করেছেন। ফলে পর্যটন শিল্পে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ইতোমধ্যে প্রায় শত কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কক্সবাজারের পাঁচ শতাধিক হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টে সাধারণত পর্যটকদের ভিড় থাকে। কিন্তু বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের প্রায় অর্ধেক কক্ষ খালি পড়ে রয়েছে। যেসব পর্যটক আগে থেকেই বুকিং করেছিলেন, তাদের বড় একটি অংশ ভ্রমণ বাতিল করেছেন।

কক্সবাজার হোটেল-মোটেল-গেস্টহাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার জানান, টানা দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা ও যানজট সৃষ্টি হওয়ায় বাস যোগাযোগও ব্যাহত হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে গত চার দিনে প্রায় ৫০ হাজার পর্যটক তাদের রুম বুকিং বাতিল করেছেন।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে প্রায় ১০ হাজার পর্যটক কক্সবাজারে অবস্থান করলেও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে অনেকেই নির্ধারিত সময়ের আগেই ফিরে যাচ্ছেন। এতে হোটেল মালিকরা উল্লেখযোগ্য আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলী সৈকত ঘুরে দেখা গেছে, টানা বৃষ্টির কারণে পুরো সৈকতজুড়ে বিরাজ করছে নির্জন পরিবেশ। সাধারণ সময়ে যেখানে হাজারো পর্যটকের ভিড় থাকে, সেখানে এখন হাতে গোনা কয়েকজন দর্শনার্থী দেখা যাচ্ছে।

যারা সৈকতে আসছেন, তারাও বৃষ্টির কারণে বেশিক্ষণ অবস্থান করতে পারছেন না। অল্প সময়ের মধ্যেই তারা হোটেলে ফিরে যাচ্ছেন। ফলে সৈকতসংলগ্ন অধিকাংশ দোকান বন্ধ রয়েছে। খোলা থাকা দোকানগুলোতেও ক্রেতার উপস্থিতি প্রায় নেই বললেই চলে।

পর্যটকের সংখ্যা কমে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছেন সৈকতনির্ভর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। ঝালমুড়ি, চটপটি, ফুচকা, বিচ বাইক, চেয়ার-ছাতা ভাড়া, ঘোড়ায় চড়ানোসহ বিভিন্ন সেবার সঙ্গে যুক্ত মানুষ এখন কার্যত কর্মহীন।

বিচ বাইক চালক হাফিজ উদ্দিন বলেন, সমুদ্রসৈকতেই তার পরিবারের জীবিকা নির্ভর করে। কিন্তু ভারী বৃষ্টি এবং ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত জারির কারণে পর্যটক নেই। কয়েক দিন পর সৈকতে এলেও পুরো দিন কোনো আয় করতে পারেননি।

এ ধরনের শত শত ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার অবস্থাও একই রকম। প্রতিদিনের আয়ের ওপর নির্ভরশীল এসব মানুষের জন্য বর্তমান পরিস্থিতি বড় ধরনের সংকট তৈরি করেছে।

কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির মুখপাত্র আবিদ আহসান সাগর বলেন, টানা বৈরী আবহাওয়ার কারণে পর্যটকের আগমন উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। এর প্রভাব শুধু হোটেল বা রিসোর্টেই সীমাবদ্ধ নেই; বরং রেস্তোরাঁ, পরিবহন, বিনোদনকেন্দ্র এবং ক্ষুদ্র ব্যবসাসহ পুরো পর্যটন অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, মাত্র চার দিনের মধ্যেই কক্সবাজারের পর্যটন খাতে প্রায় শত কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। যদি প্রতিকূল আবহাওয়া আরও কয়েক দিন স্থায়ী হয়, তাহলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।

ঢাকার মোহাম্মদপুর থেকে পরিবার নিয়ে কক্সবাজারে আসা ব্যবসায়ী আবিদ হাসান জানান, স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে কয়েক দিনের অবকাশযাপনের পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু টানা বৃষ্টির কারণে অধিকাংশ সময় হোটেলের ভেতরেই থাকতে হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের অনুরোধে কিছু সময়ের জন্য সৈকতে এলেও বৃষ্টির কারণে বেশিক্ষণ অবস্থান করা সম্ভব হয়নি।

এমন অভিজ্ঞতার কারণে অনেক পর্যটক নির্ধারিত সময়ের আগেই কক্সবাজার ছাড়ছেন। ফলে স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায় আরও চাপ তৈরি হচ্ছে।

প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে শুধু পর্যটকের আগমনই কমেনি, যোগাযোগ ব্যবস্থাও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঢাকা-কক্সবাজার রেলপথে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় অনেক পর্যটক ভ্রমণ স্থগিত করেছেন। এছাড়া বিভিন্ন সড়কে জলাবদ্ধতা, যানজট এবং ধীরগতির যান চলাচলও ভ্রমণকে কঠিন করে তুলেছে।

ফলে যারা কক্সবাজারে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন, তাদের অনেকেই সফর বাতিল অথবা পিছিয়ে দিয়েছেন।

পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, দ্রুত আবহাওয়া স্বাভাবিক না হলে কক্সবাজারের অর্থনীতি আরও বড় ক্ষতির মুখে পড়বে। কারণ স্থানীয় অর্থনীতির একটি বড় অংশ পর্যটন শিল্পের ওপর নির্ভরশীল। পর্যটকের সংখ্যা কমে গেলে হোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহন, বিনোদন এবং ক্ষুদ্র ব্যবসাসহ প্রায় সব খাতেই নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

তাই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন পর্যটন খাতের উদ্যোক্তারা।