খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img

পুরান ঢাকার বংশালে ভয়াবহ বিস্ফোরণ! দেয়াল ধসে ব্যবসায়ীর মৃত্যু, কীভাবে ঘটল এই দুর্ঘটনা?

পুরান ঢাকার বংশাল এলাকার মুকিম বাজারে মোটরসাইকেলের যন্ত্রাংশের একটি গুদামে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এক ব্যবসায়ীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় গুদামের একটি...
Homeস্পোটস ওয়ার্ল্ডফিফা বিশ্বকাপ স্পেশালফ্রান্সের বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের আগে দুশ্চিন্তা, এমবাপের চোট ও পেনাল্টি মিসে বাড়ল চাপ

ফ্রান্সের বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের আগে দুশ্চিন্তা, এমবাপের চোট ও পেনাল্টি মিসে বাড়ল চাপ

এমবাপে আরও বলেন, শেষ কয়েক মিনিটে মাতেতা তাঁর তুলনায় বেশি কার্যকর হতে পারতেন বলেই কোচ সেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ম্যাচ শেষে হাসিমুখে দর্শকদের শুভেচ্ছা গ্রহণ করাও ইঙ্গিত দেয় যে তিনি খুব বড় ধরনের সমস্যায় নেই।

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে আত্মবিশ্বাস নিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছে ফ্রান্স। কিন্তু জয়ের আনন্দের মধ্যেও ফরাসি শিবিরে দেখা দিয়েছে নতুন উদ্বেগ। দলের সবচেয়ে বড় তারকা কিলিয়ান এমবাপে ম্যাচ চলাকালীন গোড়ালিতে চোট পান। এর পাশাপাশি একটি গুরুত্বপূর্ণ পেনাল্টি নষ্ট করায় আলোচনা আরও তীব্র হয়েছে। যদিও এমবাপে নিজে বিষয়টি নিয়ে একেবারেই চিন্তিত নন। অন্যদিকে ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশঁ এবং ফরোয়ার্ড উসমান দেম্বেলে মনে করছেন, দলকে আগামী ম্যাচে আরও উন্নত ফুটবল খেলতে হবে।

মরক্কোর বিরুদ্ধে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছিল ফ্রান্স। ম্যাচের বড় অংশে বলের দখল এবং আক্রমণে এগিয়ে থাকলেও কাঙ্ক্ষিত ছন্দ সব সময় ধরে রাখতে পারেনি দলটি। শেষ পর্যন্ত ২-০ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হলেও সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠেন কিলিয়ান এমবাপে।

ম্যাচের শেষ দিকে গোড়ালিতে আঘাত পাওয়ার পর কয়েকবার মাঠেই বসে পড়েন তিনি। ব্যথা সত্ত্বেও খেলা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার প্রায় ১৩ মিনিট আগে কোচ দিদিয়ের দেশঁ ঝুঁকি না নিয়ে তাঁকে মাঠ থেকে তুলে নেন। তাঁর বদলি হিসেবে নামানো হয় জাঁ ফিলিপে মাতেতাকে।

ম্যাচ শেষ হওয়ার পর এমবাপে নিজেই ভক্তদের উদ্বেগ কমানোর চেষ্টা করেন। তিনি জানান, চোটটি গুরুতর নয় এবং শুধুমাত্র গোড়ালিতে সামান্য আঘাত লেগেছে। তাঁর ভাষায়, তিনি ভালো আছেন এবং দ্রুতই স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবেন।

এমবাপে আরও বলেন, শেষ কয়েক মিনিটে মাতেতা তাঁর তুলনায় বেশি কার্যকর হতে পারতেন বলেই কোচ সেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ম্যাচ শেষে হাসিমুখে দর্শকদের শুভেচ্ছা গ্রহণ করাও ইঙ্গিত দেয় যে তিনি খুব বড় ধরনের সমস্যায় নেই।

তবে ফ্রান্স ফুটবলপ্রেমীদের চোখ এখন সেমিফাইনালের আগে মেডিক্যাল দলের চূড়ান্ত রিপোর্টের দিকে। কারণ বড় ম্যাচে এমবাপের উপস্থিতি ফরাসি দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ম্যাচের ২৫ মিনিটে ফ্রান্স একটি পেনাল্টি পায়। মরক্কোর ডিফেন্ডার নৌসের মাজরাউই স্পষ্ট ফাউল করায় রেফারি পেনাল্টির নির্দেশ দেন। তবে সিদ্ধান্তটি নিশ্চিত করতে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির দীর্ঘ পর্যালোচনার কারণে তিন মিনিটেরও বেশি সময় লেগে যায়।

এই দীর্ঘ অপেক্ষার পর পেনাল্টি নিতে আসেন এমবাপে। কিন্তু তাঁর নেওয়া নিচু শট খুবই দুর্বল ছিল। মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বোনো সহজেই বলটি ধরে ফেলেন। বিশ্বের অন্যতম সেরা ফরোয়ার্ডের কাছ থেকে এমন দুর্বল শট দেখে অনেকেই বিস্মিত হন।

ম্যাচ শেষে দিদিয়ের দেশঁ বলেন, পেনাল্টির আগে অতিরিক্ত সময় অপেক্ষা করতে হওয়ায় পরিস্থিতি কঠিন হয়ে পড়েছিল। তাঁর মতে, এমবাপে প্রস্তুত ছিলেন, কিন্তু দীর্ঘ বিরতি একজন ফুটবলারের মনোযোগে প্রভাব ফেলতেই পারে।

তবে তিনি এটাও স্পষ্ট করেন যে এটিকে কোনো অজুহাত হিসেবে দেখাতে চান না। বড় মঞ্চে এমন পরিস্থিতিতে পেনাল্টি নেওয়া সহজ নয়, কিন্তু সেরা খেলোয়াড়দের এমন চ্যালেঞ্জ সামলাতেই হয়।

দেশঁর বক্তব্যে বোঝা যায়, তিনি এমবাপের ওপর আস্থা হারাননি। তবে এমন গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ কাজে লাগাতে না পারায় তিনি সন্তুষ্টও নন।

পেনাল্টি মিস করলেও এমবাপের মানসিক দৃঢ়তায় কোনো ঘাটতি দেখা যায়নি। তিনি বলেন, জয়ের মধ্যেই সবচেয়ে বড় স্বস্তি রয়েছে। তাঁর মতে, ব্যক্তিগত ভুল নিয়ে অতিরিক্ত ভাবার কোনো প্রয়োজন নেই, কারণ ফুটবল দলগত খেলা।

তিনি আরও জানান, ফ্রান্স কখনও সহজে হাল ছাড়ে না। সেমিফাইনালে ওঠা অবশ্যই আনন্দের, কিন্তু তাঁদের লক্ষ্য এখানেই শেষ নয়। বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন পূরণ করতে এখনও আরও বড় লড়াই বাকি।

এই মন্তব্য থেকেই বোঝা যায়, নিজের ব্যর্থতার চেয়ে দলের সাফল্যকেই বেশি গুরুত্ব দেন এমবাপে।

ফ্রান্সের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও উসমান দেম্বেলে নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে আত্মতুষ্ট নন। তিনি মনে করেন, মরক্কোর বিপক্ষে দল আরও ভালো ফুটবল খেলতে পারত।

দেম্বেলে বলেন, নিজের খেলায় তিনি সন্তুষ্ট হলেও পুরো দলের পারফরম্যান্স আরও উন্নত হওয়া দরকার। তাঁর মতে, বিশ্বকাপের এই পর্যায়ে সামান্য ভুলও বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে।

তিনি আরও জানান, ক্লাব এবং জাতীয় দল—দুই জায়গাতেই একই ধরনের দায়িত্ব পালন করতে তিনি অভ্যস্ত। তাই দলের প্রয়োজনে নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়াই তাঁর লক্ষ্য।

ফ্রান্স এখন বিশ্বকাপের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। সামনে অপেক্ষা করছে আরও কঠিন প্রতিপক্ষ। তাই শুধু জয় পেলেই হবে না, পারফরম্যান্সেও উন্নতি আনতে হবে।

বিশেষ করে আক্রমণে সুযোগ নষ্ট করা, পেনাল্টির মতো গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ব্যর্থ হওয়া এবং রক্ষণে ছোট ছোট ভুল—এসব দ্রুত শুধরে নিতে হবে। একই সঙ্গে এমবাপের শারীরিক অবস্থা নিয়েও সতর্ক থাকতে হবে, কারণ তাঁর গতি ও গোল করার ক্ষমতা ফরাসি দলের সবচেয়ে বড় অস্ত্র।

মরক্কোর বিরুদ্ধে জয় ফ্রান্সকে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে পৌঁছে দিয়েছে ঠিকই, কিন্তু এই ম্যাচ নতুন কিছু প্রশ্নও সামনে এনেছে। এমবাপের গোড়ালির চোট, পেনাল্টি মিস এবং দলের অসম্পূর্ণ পারফরম্যান্স নিয়ে আলোচনা এখন তুঙ্গে।

তবে ইতিবাচক দিক হলো, এমবাপে নিজে আত্মবিশ্বাসী এবং দলের সবাই এখনও বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্যেই মনোযোগ ধরে রেখেছেন। কোচ দেশঁ ও দেম্বেলের মন্তব্যেও স্পষ্ট, ফ্রান্স জানে সামনে আরও কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে। এখন দেখার বিষয়, সেমিফাইনালে তারা নিজেদের ভুল শুধরে আবারও চ্যাম্পিয়নসুলভ ফুটবল উপহার দিতে পারে কি না।