খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img

গোল করেই লাল কার্ড! VAR-এর সিদ্ধান্তে ১০ জনের সুইৎজ়ারল্যান্ড, সুবিধায় আর্জেন্টিনা

আর্জেন্টিনা ও সুইৎজারল্যান্ডের মধ্যকার রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে একের পর এক নাটকীয় ঘটনায় জমে ওঠে ম্যাচ। প্রথমে সমতা ফিরিয়ে উচ্ছ্বাসে ভাসলেও মুহূর্তের মধ্যেই বড় ধাক্কা খায়...
Homeস্পোটস ওয়ার্ল্ডফিফা বিশ্বকাপ স্পেশালআর্জেন্টিনা-সুইজারল্যান্ড: অ্যালিস্টারের গোলে এগিয়ে মেসিরা, তবে স্বস্তিতে নয় বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা

আর্জেন্টিনা-সুইজারল্যান্ড: অ্যালিস্টারের গোলে এগিয়ে মেসিরা, তবে স্বস্তিতে নয় বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা

বিশেষ করে মাঝমাঠে সুইস ফুটবলারদের আধিপত্য আর্জেন্টিনাকে বেশ অস্বস্তিতে ফেলেছে। বলের দখল ধরে রাখতে না পারলে দ্বিতীয়ার্ধে আরও বড় সমস্যায় পড়তে পারে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

প্রথমার্ধ শেষে ১-০ গোলে এগিয়ে রয়েছে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের মাত্র ১০ মিনিটেই অ্যালেক্সিস অ্যালিস্টারের দুর্দান্ত গোলে লিড নেয় লিওনেল মেসির দল। তবে স্কোরলাইন আর্জেন্টিনার পক্ষে থাকলেও মাঠের খেলায় এখনো স্বস্তিতে থাকার সুযোগ নেই। গতিশীল, আক্রমণাত্মক এবং সংগঠিত ফুটবল খেলছে সুইৎজ়ারল্যান্ড, যা বারবার চাপে ফেলছে আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগকে।

ম্যাচের শুরুটা দারুণ হলেও গোলের পর আক্রমণের ধার কিছুটা কমে যায় আর্জেন্টিনার। অন্যদিকে সমতায় ফেরার লক্ষ্যে একের পর এক আক্রমণ চালিয়ে যায় সুইসরা। ফলে দ্বিতীয়ার্ধে আরও কঠিন লড়াইয়ের অপেক্ষা করছে দুই দল।

খেলা শুরুর মাত্র ১০ মিনিটেই গোলের দেখা পায় আর্জেন্টিনা। মাঝমাঠ থেকে গড়ে ওঠা দ্রুতগতির আক্রমণে নিখুঁত ফিনিশিং করে দলকে এগিয়ে দেন অ্যালেক্সিস অ্যালিস্টার। গোলটি আর্জেন্টিনাকে আত্মবিশ্বাস দিলেও এরপর আর তেমন পরিষ্কার গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারেনি তারা।

মেসির নেতৃত্বে কয়েকটি আক্রমণ তৈরি হলেও শেষ মুহূর্তে সুইৎজ়ারল্যান্ডের ডিফেন্ডাররা সেগুলো ভেস্তে দেন।

আর্জেন্টিনার বেশিরভাগ আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। কখনো মাঝমাঠে নেমে বল বিলি করেছেন, আবার কখনো সামনে উঠে ডিফেন্ডারদের বিভ্রান্ত করেছেন নিজের অবস্থান পরিবর্তনের মাধ্যমে।

একাধিকবার মেসির পাস থেকে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হলেও শেষ পাস কিংবা ফিনিশিংয়ে সফল হতে পারেননি সতীর্থরা। ফলে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ হাতছাড়া হয়।

স্কোরলাইনে পিছিয়ে থাকলেও খেলার নিয়ন্ত্রণের জন্য নিরন্তর লড়াই করছে সুইৎজ়ারল্যান্ড। দ্রুত পাস, ফ্ল্যাঙ্ক ব্যবহার এবং একসঙ্গে ছয় থেকে সাতজন খেলোয়াড়কে আক্রমণে তুলে এনে আর্জেন্টিনার রক্ষণে চাপ সৃষ্টি করছে তারা।

বিশেষ করে মাঝমাঠে সুইস ফুটবলারদের আধিপত্য আর্জেন্টিনাকে বেশ অস্বস্তিতে ফেলেছে। বলের দখল ধরে রাখতে না পারলে দ্বিতীয়ার্ধে আরও বড় সমস্যায় পড়তে পারে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময়ে প্রায় সমতায় ফিরেই গিয়েছিল সুইৎজ়ারল্যান্ড। আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগের একটি ভুল থেকে তৈরি হয় দারুণ সুযোগ। তবে গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ এবং ডিফেন্ডারদের দ্রুত হস্তক্ষেপে সেই বিপদ কেটে যায়।

এই মুহূর্তটি আর্জেন্টিনার জন্য বড় সতর্কবার্তা হয়ে এসেছে। রক্ষণে আরও মনোযোগী না হলে দ্বিতীয়ার্ধে মূল্য দিতে হতে পারে।

বক্সের ঠিক বাইরে বাঁ দিক থেকে একটি ভালো ফ্রিকিকের সুযোগ পেয়েছিল সুইৎজ়ারল্যান্ড। কিন্তু শটটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় সমতায় ফেরার সুযোগ হাতছাড়া হয়।

যদিও সুযোগটি কাজে লাগাতে পারেনি সুইসরা, তবে তাদের ধারাবাহিক আক্রমণ আর্জেন্টিনার জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে রয়েছে।

প্রথমার্ধে সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল মাঝমাঠে নিয়ন্ত্রণ হারানো। সুইৎজ়ারল্যান্ডের প্রেসিংয়ের কারণে আর্জেন্টিনা স্বাভাবিক ছন্দে বল চালাচালি করতে পারেনি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্বিতীয়ার্ধে সফল হতে হলে আর্জেন্টিনাকে দ্রুত পাস আদান-প্রদান, বলের দখল ধরে রাখা এবং আক্রমণের গতি বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে ডিফেন্স ও মিডফিল্ডের সমন্বয়ও আরও শক্তিশালী করতে হবে।

মাত্র এক গোলের ব্যবধান হওয়ায় ম্যাচের ফল এখনো নিশ্চিত নয়। সুইৎজ়ারল্যান্ড সমতায় ফিরতে মরিয়া হয়ে উঠবে, অন্যদিকে ব্যবধান বাড়িয়ে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করবে আর্জেন্টিনা।

লিওনেল মেসি, জুলিয়ান আলভারেজ এবং অ্যালিস্টারের ওপর দ্বিতীয়ার্ধেও বড় দায়িত্ব থাকবে। অন্যদিকে সুইসদের দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণ ঠেকাতে রক্ষণভাগকে আরও সংগঠিত থাকতে হবে।

প্রথম ৪৫ মিনিট শেষে স্কোরলাইন আর্জেন্টিনার পক্ষে থাকলেও পারফরম্যান্সের বিচারে ম্যাচটি এখনো পুরোপুরি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। অ্যালিস্টারের একমাত্র গোলে এগিয়ে থাকলেও মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ হারানো এবং সুইৎজ়ারল্যান্ডের ধারাবাহিক আক্রমণ আর্জেন্টিনার জন্য সতর্ক সংকেত।

দ্বিতীয়ার্ধে যে দল নিজেদের পরিকল্পনা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে পারবে, তারাই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিতে পারবে। তাই শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত এই লড়াইয়ে উত্তেজনার কোনো কমতি থাকার সম্ভাবনা নেই।