খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img

বিশ্বকাপে টিকে থাকার লড়াই! আর্জেন্টিনা বনাম সুইজারল্যান্ড ম্যাচে কী হতে পারে?

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের অন্যতম আকর্ষণীয় ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা ও সুইজারল্যান্ড। যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই হাইভোল্টেজ লড়াই শুধু...
Homeস্পোটস ওয়ার্ল্ডফিফা বিশ্বকাপ স্পেশালজুড বেলিংহ্যামের জোড়া গোলে ইংল্যান্ড সেমিফাইনালে : নরওয়েকে ২-১ হারিয়ে বিশ্বকাপে ইতিহাস!

জুড বেলিংহ্যামের জোড়া গোলে ইংল্যান্ড সেমিফাইনালে : নরওয়েকে ২-১ হারিয়ে বিশ্বকাপে ইতিহাস!

হালান্ড আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন। তাঁর শক্তিশালী হেড দুর্দান্তভাবে রুখে দেন পিকফোর্ড। এছাড়া জুলিয়ান রাইয়ারসনের একের পর এক ক্রস ইংল্যান্ডের রক্ষণে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছিল।

ফুটবল ইতিহাসে এমন কিছু ম্যাচ থাকে, যেগুলো শুধুমাত্র স্কোরলাইন দিয়ে বিচার করা যায় না। বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ড ও নরওয়ের মধ্যকার এই লড়াই ছিল ঠিক তেমনই এক নাটকীয় অধ্যায়। পুরো ম্যাচজুড়ে নরওয়ে আধিপত্য বিস্তার করলেও শেষ পর্যন্ত জুড বেলিংহ্যামের অসাধারণ জোড়া গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে সেমিফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে থমাস টুখেলের ইংল্যান্ড।

ফ্লোরিডার উত্তপ্ত আবহাওয়ায় অনুষ্ঠিত ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দল কিছুটা সতর্ক ফুটবল খেললেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে নরওয়ে আক্রমণের ধার বাড়াতে থাকে। বিশেষ করে আর্লিং হালান্ডের উপস্থিতি ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগকে বারবার সমস্যায় ফেলছিল।

ইংল্যান্ডের রক্ষণে পরিবর্তন এনে এজরি কনসাকে রাইট-ব্যাকে এবং জন স্টোনসকে মার্ক গেহির সঙ্গে খেলানো হলেও সেই পরিকল্পনা খুব একটা সফল হয়নি। ম্যাচের প্রথম ভাগেই নরওয়ে তাদের আক্রমণাত্মক মানসিকতার প্রমাণ দেয়।

প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময়ে হ্যারি কেইন মাঝমাঠে ফাউলের দাবি জানিয়ে পড়ে থাকলেও খেলা চলতে থাকে। সেই সুযোগে বাম দিক দিয়ে বল পেয়ে আন্দ্রেয়াস শেলদেরুপ দুর্দান্ত একটি শট নেন।

শটটি গোল নাকি ক্রস ছিল, তা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও বল জর্ডান পিকফোর্ডকে পরাস্ত করে দূরের পোস্টে লেগে জালে জড়িয়ে যায়। ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়রা আপত্তি তুললেও রেফারি গোলের সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন।

এই গোলের পর আত্মবিশ্বাসে ভরপুর হয়ে ওঠে নরওয়ে।

গোলের পর নরওয়ে আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠে। আলেকজান্ডার সরলথ একটি সহজ সুযোগ নষ্ট করেন। এরপর মার্টিন ওডেগার্ডের জোরালো শট দুর্দান্ত দক্ষতায় ঠেকান পিকফোর্ড।

আরেকটি আক্রমণে সরলথ যদি সঠিক সময়ে হালান্ডকে পাস দিতেন, তাহলে হয়তো ব্যবধান ২-০ হয়ে যেত। সেই মুহূর্তে ইংল্যান্ডকে বিধ্বস্তই মনে হচ্ছিল।

ঠিক যখন মনে হচ্ছিল ইংল্যান্ড প্রথমার্ধ পিছিয়ে থেকেই ড্রেসিংরুমে ফিরবে, তখনই ম্যাচে নিজের শ্রেষ্ঠত্বের পরিচয় দেন জুড বেলিংহ্যাম।

পিকফোর্ডের গোলকিকের সময় বলটি উপরের ক্যামেরা কেবলে লেগেছিল কি না, তা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। টেলিভিশন রিপ্লেতে সেটি স্পষ্ট মনে হলেও ফিফা পরে জানায়, বল কোনো কিছুর স্পর্শ করেনি।

খেলা চলতে থাকায় অ্যান্থনি গর্ডনের তৈরি করা সুযোগ থেকে বল পেয়ে বেলিংহ্যাম দ্রুত ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে গোল করেন। এই গোলে প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে সমতায় ফেরে ইংল্যান্ড।

সমতায় ফেরার পর ইংল্যান্ড আরও একটি গোলের দেখা পেয়েছিল। জুড বেলিংহ্যামের চমৎকার পাস থেকে হ্যারি কেইন বল জালে পাঠালেও সহকারী রেফারি অফসাইডের পতাকা তোলেন।

ভিএআর পর্যালোচনার পরও সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হয়নি। ফলে প্রথমার্ধ শেষ হয় ১-১ সমতায়।

বিরতির পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে তুলে নেয় নরওয়ে। ইংল্যান্ডের মাঝমাঠে ডেকলান রাইসের অনুপস্থিতি বড় প্রভাব ফেলে।

হালান্ড আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন। তাঁর শক্তিশালী হেড দুর্দান্তভাবে রুখে দেন পিকফোর্ড। এছাড়া জুলিয়ান রাইয়ারসনের একের পর এক ক্রস ইংল্যান্ডের রক্ষণে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছিল।

ম্যাচের অন্যতম বিতর্কিত মুহূর্ত আসে দ্বিতীয়ার্ধে। কর্নার থেকে সৃষ্ট আক্রমণে টরবিয়র্ন হেগেম বল জালে পাঠান।

তবে ভিএআরে দেখা যায়, বল আসার আগে আর্লিং হালান্ড ইংল্যান্ডের ডিফেন্ডার এলিয়ট অ্যান্ডারসনকে ধাক্কা দিয়েছিলেন। ফলে গোলটি বাতিল করা হয় এবং নরওয়ের হতাশা আরও বাড়ে।

এই সিদ্ধান্ত ইংল্যান্ডকে বড় বিপদ থেকে রক্ষা করে।

নরওয়ে গোলের জন্য মরিয়া হয়ে আক্রমণ চালিয়ে যায়। এক পর্যায়ে স্যান্ডার বের্গের শক্তিশালী হেড গোলরক্ষক পিকফোর্ডকে পরাস্ত করলেও বল ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে।

ভাগ্য যেন পুরোপুরি ইংল্যান্ডের পক্ষেই ছিল।

নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।

১০২তম মিনিটে মর্গান রজার্সের দূরপাল্লার শট নরওয়ের গোলরক্ষক ওরইয়ান নিয়ল্যান্ড ঠিকভাবে আটকাতে পারেননি। বল হাত ফসকে সামনে চলে এলে সবার আগে পৌঁছে যান জুড বেলিংহ্যাম।

কোনো ভুল না করে সহজ ফিনিশে নিজের দ্বিতীয় এবং টুর্নামেন্টে ষষ্ঠ গোলটি করেন তিনি।

এই গোলই শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ডকে সেমিফাইনালের টিকিট এনে দেয়।

অতিরিক্ত সময়েই ইংল্যান্ড একটি পেনাল্টি পেয়েছিল বলে মনে করা হচ্ছিল, যখন ডিজেড স্পেন্স প্রতিপক্ষের চাপে পড়ে যান।

রেফারি প্রথমে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দিলেও ভিএআর দেখে সেটি বাতিল করেন। ফলে আরেকটি বিতর্কের জন্ম হয়।

তবে শেষ পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত ম্যাচের ফল পরিবর্তন করতে পারেনি।

শেষ ১৫ মিনিটে হালান্ড মাঠ ছাড়লেও নরওয়ে আক্রমণ থামায়নি। অন্যদিকে বুকায়ো সাকা, ডিজেড স্পেন্স এবং ড্যান বার্নের নেতৃত্বে ইংল্যান্ডও পাল্টা আক্রমণ চালায়।

নিয়ল্যান্ড কয়েকটি দারুণ সেভ করে নরওয়েকে ম্যাচে রাখার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত আর সমতা ফেরানো সম্ভব হয়নি।

এই ম্যাচে জুড বেলিংহ্যাম শুধু দুটি গোলই করেননি, বরং পুরো ম্যাচজুড়ে নেতৃত্ব, আত্মবিশ্বাস এবং বড় ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দেওয়ার ক্ষমতার অসাধারণ প্রমাণ দিয়েছেন।

বিশ্বকাপে এটি তাঁর ষষ্ঠ গোল। নকআউট পর্বে ধারাবাহিকভাবে দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে গোল করে তিনি এখন ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বড় ভরসায় পরিণত হয়েছেন।

এই জয়ের মাধ্যমে থমাস টুখেলের দল বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে। পুরো ম্যাচে নরওয়ে অনেক সময়ই ভালো ফুটবল খেললেও শেষ পর্যন্ত পার্থক্য গড়ে দিয়েছেন একজন খেলোয়াড়—জুড বেলিংহ্যাম।

বড় দলের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো কঠিন পরিস্থিতিতেও ম্যাচ জিতে নেওয়ার ক্ষমতা। এই ম্যাচে সেটিই প্রমাণ করেছে ইংল্যান্ড। এখন তাদের সামনে আরও বড় চ্যালেঞ্জ—বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার লড়াই।

এক সপ্তাহের জন্য অন্তত ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ স্বপ্ন বেঁচে থাকল, আর সেই স্বপ্নের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন এক তরুণ সুপারস্টার—জুড বেলিংহ্যাম।