খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img

আর্জেন্টিনা-সুইজারল্যান্ড: অ্যালিস্টারের গোলে এগিয়ে মেসিরা, তবে স্বস্তিতে নয় বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা

প্রথমার্ধ শেষে ১-০ গোলে এগিয়ে রয়েছে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের মাত্র ১০ মিনিটেই অ্যালেক্সিস অ্যালিস্টারের দুর্দান্ত গোলে লিড নেয় লিওনেল মেসির দল। তবে স্কোরলাইন আর্জেন্টিনার পক্ষে...
Homeস্পোটস ওয়ার্ল্ডফিফা বিশ্বকাপ স্পেশালইংল্যান্ডের ঐতিহাসিক জয়! বেলিংহ্যামের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল নিশ্চিত

ইংল্যান্ডের ঐতিহাসিক জয়! বেলিংহ্যামের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল নিশ্চিত

তিনি বলেন, দল অপ্রয়োজনীয় ভুল করেছে, বল দখলে অগোছালো ছিল এবং ভাগ্যের সহায়তাও পেয়েছে। তাঁর মতে, সেমিফাইনালে আরও ভালো খেলতে না পারলে কঠিন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে সফল হওয়া কঠিন হবে।

ফিফা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে দারুণ লড়াইয়ের পর নরওয়েকে ২-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ইংল্যান্ড। মিয়ামির তীব্র গরমে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে ইংল্যান্ডের নায়ক হয়ে ওঠেন জুড বেলিংহ্যাম। তাঁর অসাধারণ জোড়া গোলই থমাস টুখেলের দলকে শেষ চারে পৌঁছে দেয়।

ম্যাচজুড়ে ইংল্যান্ড খুব একটা ছন্দে ছিল না। তবে কঠিন পরিস্থিতিতে দলকে জয়ের পথে টেনে নেওয়ার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন বেলিংহ্যাম। শেষ পর্যন্ত তাঁর দুর্দান্ত পারফরম্যান্সই ইংল্যান্ডকে আরেকটি ঐতিহাসিক বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল উপহার দেয়।

মাত্র ২৩ বছর বয়সেই ইংল্যান্ডের হয়ে এটি ছিল জুড বেলিংহ্যামের চতুর্থ বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট। বয়সের তুলনায় তাঁর অভিজ্ঞতা যেমন বিস্ময়কর, তেমনি পারফরম্যান্সও অসাধারণ।

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে টানা দুই ম্যাচে দুই বা তার বেশি গোল করে তিনি ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার হিসেবে নাম লেখান। এর আগে ১৯৫৮ সালের বিশ্বকাপে কিংবদন্তি পেলের পর আর কেউ এত অল্প বয়সে এমন কীর্তি গড়তে পারেননি।

এই অর্জনই প্রমাণ করে, বেলিংহ্যাম শুধু বর্তমান নন, ভবিষ্যতেরও অন্যতম সেরা ফুটবলার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করছেন।

ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বেলিংহ্যাম দলের লড়াইয়ের মানসিকতার প্রশংসা করেন।

তিনি বলেন, দলের সবাই শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করেছে। ৯০ মিনিট হোক কিংবা অতিরিক্ত সময়—প্রতিটি খেলোয়াড় সর্বোচ্চটা দিয়েছে। যারা বদলি হিসেবে মাঠে নেমেছে, তারাও ম্যাচের গতি বদলে দিয়েছে।

বেলিংহ্যাম আরও বলেন, এই জয় শুধু খেলোয়াড়দের নয়, পুরো দেশের। সমর্থক, কোচিং স্টাফ এবং দলের সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেকের অবদান রয়েছে এই সাফল্যের পেছনে।

নিজের জয়সূচক গোল প্রসঙ্গে তিনি জানান, সতীর্থের নেওয়া শট গোলরক্ষক ঠেকালেও বলটি তাঁর সামনে চলে আসে। সঠিক সময়ে সঠিক জায়গায় থাকায় সহজেই বল জালে পাঠাতে সক্ষম হন।

ম্যাচ শেষে ইংল্যান্ডের প্রধান কোচ থমাস টুখেল ফলাফলে সন্তুষ্ট হলেও দলের পারফরম্যান্স নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, দল অপ্রয়োজনীয় ভুল করেছে, বল দখলে অগোছালো ছিল এবং ভাগ্যের সহায়তাও পেয়েছে। তাঁর মতে, সেমিফাইনালে আরও ভালো খেলতে না পারলে কঠিন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে সফল হওয়া কঠিন হবে।

যখন সাংবাদিকরা টুখেলের মন্তব্য সম্পর্কে বেলিংহ্যামকে জানান, তখন তিনি হালকা হাসি দিয়ে বলেন, “যাই হোক।”

তিনি যোগ করেন, এমন কঠিন আবহাওয়ায় খেলোয়াড়রা নিজেদের সর্বোচ্চটা দিয়েছে। তাই পারফরম্যান্সের চেয়ে তিনি সতীর্থদের পরিশ্রমকেই বেশি মূল্য দেন।

থমাস টুখেল স্পষ্ট জানিয়ে দেন, শুধু জয় পেলেই তিনি সন্তুষ্ট নন।

তাঁর মতে, ইংল্যান্ডের জয় এসেছে মানসিক দৃঢ়তার কারণে। তবে দলকে আরও সংগঠিত হতে হবে এবং অপ্রয়োজনীয় ভুল কমাতে হবে।

তিনি বেলিংহ্যামকে “বিশ্বমানের ফুটবলার” বলে উল্লেখ করেন এবং বলেন, প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই তিনি দলের জন্য পার্থক্য গড়ে দিচ্ছেন।

টুখেল আরও বলেন, সেমিফাইনালের আগে হাতে মাত্র তিন দিন সময় রয়েছে। এই সময়ের মধ্যেই পারফরম্যান্সে উন্নতি আনতে হবে।

ফলাফল যতই ইংল্যান্ডের পক্ষে যাক, ম্যাচের বড় অংশে নরওয়েই ছিল বেশি আক্রমণাত্মক।

তারা একটি গোল করেও অফসাইডের কারণে তা বাতিল হতে দেখে। এছাড়া একাধিকবার গোলের খুব কাছাকাছি পৌঁছেও সফল হতে পারেনি। একবার পোস্টেও লেগে ফিরে আসে শট।

শেষ বাঁশি বাজার পর নরওয়ের খেলোয়াড়দের হতাশা স্পষ্ট ছিল। গোলরক্ষক অরজান নিয়ল্যান্ড নিজের ভুলের কারণে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। তাঁর ভুল থেকেই ইংল্যান্ডের জয়সূচক গোলের সুযোগ তৈরি হয়।

অন্যদিকে দলের তারকা স্ট্রাইকার এরলিং হালান্ডকেও ভীষণ হতাশ দেখায়।

তবে এই বিশ্বকাপে নরওয়ের যাত্রা তাদের ফুটবল ইতিহাসে অন্যতম সেরা সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হবে। প্রথমবারের মতো তারা এতদূর পৌঁছে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে।

এই ম্যাচে ইংল্যান্ড সুন্দর ফুটবল খেলতে পারেনি। তবে বড় দল হওয়ার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, খারাপ খেলেও জয় তুলে নেওয়া।

পুরো ম্যাচে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন অভিজ্ঞ হ্যারি কেন এবং মাঝমাঠে একাই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছেন বেলিংহ্যাম।

ম্যাচ শেষে হ্যারি কেন ক্লান্তিতে মাঠেই বসে পড়েন। অন্যদিকে বেলিংহ্যামের আবেগও ছিল চোখে পড়ার মতো। এটি প্রমাণ করে, টুখেলের অধীনে ইংল্যান্ড দল হিসেবে কতটা ঐক্যবদ্ধ হয়ে উঠেছে।

এই জয়ের মাধ্যমে ইতিহাসে মাত্র চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ চারে জায়গা করে নিল ইংল্যান্ড।

দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বকাপ শিরোপার অপেক্ষায় থাকা দেশটির সমর্থকদের স্বপ্ন আরও শক্তিশালী হয়েছে। দলের বর্তমান আত্মবিশ্বাস, লড়াই করার মানসিকতা এবং বেলিংহ্যামের অসাধারণ ফর্ম তাদের শিরোপা জয়ের অন্যতম দাবিদার করে তুলেছে।

যদিও সেমিফাইনালে আরও কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে, তবু এই ম্যাচ দেখিয়ে দিয়েছে—ইংল্যান্ডকে হারাতে হলে শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।

মিয়ামির এই কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচটি বহুদিন মনে রাখবেন ইংল্যান্ডের সমর্থকেরা। কারণ দল যখন ছন্দহীন, তখন জুড বেলিংহ্যাম নিজের প্রতিভা, দৃঢ়তা এবং নেতৃত্ব দিয়ে ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিয়েছেন।

জোড়া গোল করে তিনি শুধু সেমিফাইনালের টিকিটই নিশ্চিত করেননি, বরং ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজের নামও আরও উজ্জ্বলভাবে লিখে রেখেছেন।

এখন পুরো ইংল্যান্ডের চোখ সেমিফাইনালের দিকে। আর সমর্থকদের একটাই বিশ্বাস—জুড বেলিংহ্যাম যদি এমন ফর্ম ধরে রাখতে পারেন, তবে বহু প্রতীক্ষিত বিশ্বকাপ ট্রফি জয়ের স্বপ্ন আর কেবল কল্পনা নাও থাকতে পারে।